- প্রচ্ছদ
- Topic
পর্যটক
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ কমাতে স্পেনের জনপ্রিয় শহর বার্সেলোনা নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পথে হাঁটছে। শহর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা, আবাসন ব্যবস্থা এবং নগর পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ জাহাজে আসা পর্যটকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, পর্যটন কর বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত পর্যটনপ্রবণ এলাকায় চাপ কমানোর উদ্যোগ। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য বার্সেলোনায় প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় করেন। শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনা, সমুদ্রসৈকত, খাবার ও সংস্কৃতির আকর্ষণে পর্যটকের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, রাস্তায় ভিড়, শব্দদূষণ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ক্রুজ পর্যটন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অল্প সময়ের জন্য হাজার হাজার পর্যটক শহরে প্রবেশ করলেও তারা একই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় তৈরি করেন। ফলে অবকাঠামো ও স্থানীয় পরিষেবার ওপর চাপ পড়ে। বার্সেলোনা এর আগেও পর্যটন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহরটি স্বল্পমেয়াদি ভাড়া বাসার সংখ্যা সীমিত করা, পর্যটন কর ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং কিছু এলাকায় পর্যটকের চাপ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
পর্যটক সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিদেশি ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুবাই। ‘Dubai Invite’ নামে চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাসিন্দারা যদি বিদেশে থাকা বন্ধু বা আত্মীয়দের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করে আনতে পারেন, তাহলে তারা ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহামেরও বেশি মূল্যের বিশেষ সুবিধা পাবেন। দুবাইয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজম পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত বাসিন্দাদের জন্য হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় ছাড়, বিনোদনকেন্দ্রের টিকিটসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পর্যটন খাতে দেখা দেওয়া বড় ধাক্কা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের একটি বড় অংশ দুবাই সফর থেকে সরে দাঁড়ায়। এর প্রভাব পড়ে বিমান চলাচল, হোটেল ব্যবসা এবং পর্যটননির্ভর সেবাখাতে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিচালিত অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত হওয়ায় যাত্রী সংখ্যাও কমে যায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলতে শুরু করে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অনেক হোটেলে কক্ষ খালি পড়ে আছে এবং পর্যটননির্ভর কিছু প্রতিষ্ঠানের আয় ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। বিশ্বের অন্যতম পরিচিত বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবও নির্ধারিত সময়ের আগেই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারকাজে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হোটেল ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়, অতিরিক্ত ফ্রি নাইটসহ বিভিন্ন অফার ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কর্মসূচি চালুর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা উদ্যোগটির প্রতি বাসিন্দাদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পর্যটন খাত দুবাইয়ের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ২০২৫ সালে শহরটি প্রায় ২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাবলীল করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দুবাই। বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য স্পনসর বা আয়োজক ছাড়াই পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা চালু করা হয়েছে। এই নতুন সুবিধার ফলে পর্যটকরা এখন থেকে একটিমাত্র ভিসার মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছর ধরে একাধিকবার দুবাইসহ পুরো আরব আমিরাতে অবাধে প্রবেশের দারুণ এক সুযোগ পাবেন। দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) সম্প্রতি এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ভিসার আওতায় একজন দর্শনার্থী প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে পর্যটকরা চাইলে এই মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের একমাত্র শর্ত হলো, কোনোভাবেই এক বছরের মধ্যে মোট অবস্থানের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি অতিক্রম করা যাবে না। জিডিআরএফএ আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকরাই এই আকর্ষণীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দাখিল করতে হবে। আবেদনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর সদ্য তোলা রঙিন ছবি এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ন্যূনতম চার হাজার মার্কিন ডলার বা তার সমপরিমাণ ব্যালেন্স দেখাতে হবে। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আবেদনকারীর বৈধ স্বাস্থ্য বীমা এবং দেশে ফেরার কনফার্মড রিটার্ন বিমান টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করে যে কেউ দীর্ঘমেয়াদে আমিরাত ভ্রমণের সুবিধা নিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লা জোলা (La Jolla) সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ সমুদ্র থেকে উঠে আসা দুটি বিশাল সি লায়নের তাড়া খেয়ে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে দেখা গেছে পর্যটকদের। পুরো ঘটনাটি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ভিডিওতে ধরা পড়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The California Post-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন ডিওন রুজিচকা নামে এক ব্যক্তি। ভিডিওতে দেখা যায়, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সৈকতে অবস্থানরত মানুষের দিকে সমুদ্র থেকে উঠে আসে দুটি বড় সি লায়ন। প্রথমে একটি সি লায়ন দ্রুত বালুর ওপর উঠে পর্যটকদের দিকে ছুটে যায়। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সৈকতে থাকা মানুষজন আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি সি লায়নও একইভাবে তীরে উঠে এলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ সৈকতের উঁচু স্থানে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ সি লায়নের পথ এড়াতে সমুদ্রের দিকেই ছুটছেন। উপস্থিত শিশু, বয়স্কসহ প্রায় সবাই প্রাণভয়ে দৌড়াতে থাকেন। এক পর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ওহ মাই গড!"। পরে কিছুক্ষণ তাড়া করার পর দুটি সি লায়ন আবার দ্রুত সমুদ্রে ফিরে যায়। এটি লা জোলা এলাকায় এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক বছর আগেও একই সৈকতে দুটি সি লায়ন পর্যটকদের তাড়া করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনার পর সান দিয়েগো সিটি প্রশাসন আবারও পর্যটকদের বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পয়েন্ট লা জোলা এলাকায় সি লায়নের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রাণীগুলোকে কাছ থেকে দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ছে। এর ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শের ঘটনাও আগের তুলনায় বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনেক পর্যটক সি লায়নের খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের স্পর্শ করতে চান কিংবা সেলফি তুলতে যান। এসব আচরণ শুধু মানুষের জন্যই নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও সর্বশেষ ঘটনায় ঠিক কী কারণে সি লায়ন দুটি পর্যটকদের দিকে ধেয়ে গিয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকাল সি লায়নের প্রজনন ও শাবক লালন-পালনের মৌসুম। এ সময় মা ও বাবা সি লায়ন তাদের শাবকের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। আশপাশে মানুষকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে মনে করলে তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। সান দিয়েগো কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, এটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ম্যামাল প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এরও লঙ্ঘন হতে পারে। তাই পর্যটকদের সি লায়ন দেখার জন্য সৈকতের বোর্ডওয়াক বা নির্ধারিত নিরাপদ স্থান ব্যবহার এবং প্রাণীগুলোর কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ, সাবলীল ও আনন্দদায়ক করতে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই অনন্য উদ্যোগের আওতায় দর্শনার্থীরা এখন থেকে একটি সমন্বিত ট্রাভেল প্যাকেজের অংশ হিসেবেই ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন। এই প্যাকেজের ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে ফ্লাইট, আবাসন এবং ভ্রমণের অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিষেবা। দেশটিতে পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা এবং তাদের অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য থেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) তথ্যমতে, নির্বাচিত কয়েকটি দেশের অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম পরিষেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এই পাইলট প্রকল্পটি চালু করা হচ্ছে। এই প্যাকেজের সুবিধা নিয়ে ভ্রমণকারীরা রাউন্ড-ট্রিপ বা যাওয়া-আসার ফ্লাইট, লাইসেন্সপ্রাপ্ত হোটেলে থাকার ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ভিসার আবেদন—সবকিছু একটিমাত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে খুব সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, দর্শনার্থীরা চাইলে তাদের এই ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিভিন্ন ইভেন্ট, বিশেষ কার্যক্রম বা পর্যটন আকর্ষণও যুক্ত করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে আলাদাভাবে ফ্লাইট বুকিং, হোটেল খোঁজা বা ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার মতো ঝক্কি আর পোহাতে হবে না। তবে শর্ত হলো, কেবল সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সিই এই সুবিধা দিতে পারবে, যাদের নিজস্ব আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহক সেবা দেওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। মূলত ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে পর্যটন খাতের প্রসারে সৌদি আরবের যে বৃহত্তর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, এই প্যাকেজ ভিসা তারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বীমা কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নতুন এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেছে। উল্লেখ্য, ট্যুরিস্ট ই-ভিসা প্রোগ্রাম চালুর পর থেকেই সৌদি আরব ‘অন-অ্যারাইভাল ভিসা’ এবং ‘স্টপওভার ট্রানজিট ভিসা’র মতো বেশ কয়েকটি সহজ প্রবেশাধিকার বিকল্প চালু করে। এসব যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলেই দেশটিতে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে ২ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি বিদেশি দর্শনার্থী সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন। নতুন এই উদ্যোগকে দর্শনার্থীদের জন্য এক অভাবনীয় ও সহজ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির পরবর্তী ধাপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সৌদি আরবের পর্যটন মন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব। এসপিএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবের পর্যটনের গল্পটি সর্বদা উচ্চাকাঙ্ক্ষা, উন্মুক্ততা এবং অবিচ্ছিন্ন অগ্রগতির। প্যাকেজ ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে পর্যটন খাতের যাত্রায় পরবর্তী ধাপে পা রাখা হলো। এটি ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের অংশীদারদের ক্ষমতায়ন করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাত্রাকে করবে আরও সহজ, স্মার্ট ও নির্বিঘ্ন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো মনে করছে, আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের জন্য সহজ প্রবেশাধিকার ও বেসরকারি খাতের সাথে শক্তিশালী অংশীদারিত্বের এই উদ্যোগ পর্যটকদের দেশটিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে এবং পর্যটন খাতে ব্যয় বাড়াতে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।
পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা একটি পর্যটক পরিবারের অসাবধানতায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকে রেস্তোরাঁয় ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় এই ঘটনা ঘটে। পরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর শিশুটি তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে পায়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাকিস্তানি ওই পরিবারের সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার করাচি থেকে ১১ সদস্যের একটি পাকিস্তানি পরিবার বাংলাদেশে ভ্রমণে আসে। ঢাকায় একদিন থাকার পর আজ শনিবার ভোরে দুটি গাড়ি নিয়ে তারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি দিয়ে সকালের নাশতা করে। এ সময় তারা গল্প ও আড্ডায় মেতে ছিলেন। নাশতা শেষ করে সবাই আবার যাত্রা শুরু করলেও ভুলে দুই বছরের শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরেই ফেলে রেখে চলে যান। রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চালকসহ অন্তত ১৪ জন দুটি গাড়িতে করে এসে সেখানে নাশতা করছিলেন। দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে মা ছিলেন। গাড়ি আলাদা হওয়ায় মা ভেবেছিলেন শিশুটি তার বাবার কাছে আছে, আর বাবা ভেবেছিলেন সে মায়ের সাথে আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা শিশুটিকে ছাড়াই রওনা হন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার পর চা পানের জন্য আবার যাত্রাবিরতি দিলে তারা বুঝতে পারেন যে শিশুটি তাদের সাথে নেই। এদিকে শিশুটি রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়ার পর প্রথমে কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দ্রুত তাকে সামলে নেন। তারা শিশুটিকে একমুহূর্তের জন্যও আতঙ্কিত হতে দেননি এবং মোবাইলে ভিডিও ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত ও হাসিখুশি রাখেন। এর পাশাপাশি জাইতুন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করে। একই সাথে তারা রেস্তোরাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটি জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। চট্টগ্রামে গিয়ে শিশুটির পরিবার যখন নিখোঁজের বিষয়টি টের পায়, তখন তারা ফেসবুকে জাইতুন রেস্তোরাঁর ওই পোস্টটি দেখতে পায়। পরে তারা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভিডিও কলে শিশুর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন। এরপর তারা দ্রুত কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে রেস্তোরাঁয় এসে শিশুটিকে বুঝে নেন। পাকিস্তানি পরিবারটির ১২ দিন বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই যাত্রাপথেই তারা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র ও ব্যস্ততম এলাকা টাইম স্কয়ারের প্রাণকেন্দ্রে ভরদুপুরে একদল যুবকের মধ্যে চলা পারস্পরিক বিরোধের জেরে হঠাৎ করেই শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেখানে উপস্থিত শত শত পর্যটক এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ চরম আতঙ্কে ও প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার একটি নাটকীয় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বন্দুকের তীব্র আওয়াজের মুখে সাধারণ মানুষের প্রাণপণ দৌড়ে পালানোর শিউরে ওঠা দৃশ্য ধরা পড়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার ঠিক পর পর ওয়েস্ট ৪৪ নম্বর স্ট্রিট এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে অন্তত একজন বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো মানুষ সরাসরি গুলিবিদ্ধ বা আহত হননি। কিন্তু ছিটকে আসা একটি বুলেটের আঘাত সরাসরি গিয়ে লাগে রাস্তায় থাকা একটি প্রাইভেট কারের ওপর। ক্ষতিগ্রস্ত ওই গাড়ির মালিক বনি হোয়াইট সংবাদমাধ্যম 'দ্য পোস্ট'-কে তাঁর ক্ষোভ ও আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, "হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং আমি বন্দুকধারীকেও দেখতে পেয়েছিলাম। এর মধ্যেই একটি গুলি এসে সরাসরি আমার গাড়ির হুডে আঘাত করে। আমি এই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত, বুঝতে পারছি না এখন আমার গাড়িটির কী হবে"। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন যুবকের মধ্যে শুরু হওয়া একটি সাধারণ মারামারি ও হাতাহাতি একপর্যায়ে হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং তা সরাসরি গোলাগুলিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে পরপর প্রায় পাঁচটি গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা ওই এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং এই সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে। ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।