পাকিস্তানের করাচি থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা একটি পর্যটক পরিবারের অসাবধানতায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকে রেস্তোরাঁয় ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় এই ঘটনা ঘটে। পরে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহায়তায় দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পর শিশুটি তার বাবা-মায়ের কোলে ফিরে পায়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পাকিস্তানি ওই পরিবারের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার করাচি থেকে ১১ সদস্যের একটি পাকিস্তানি পরিবার বাংলাদেশে ভ্রমণে আসে। ঢাকায় একদিন থাকার পর আজ শনিবার ভোরে দুটি গাড়ি নিয়ে তারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে আটটার দিকে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি দিয়ে সকালের নাশতা করে। এ সময় তারা গল্প ও আড্ডায় মেতে ছিলেন। নাশতা শেষ করে সবাই আবার যাত্রা শুরু করলেও ভুলে দুই বছরের শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরেই ফেলে রেখে চলে যান।
রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চালকসহ অন্তত ১৪ জন দুটি গাড়িতে করে এসে সেখানে নাশতা করছিলেন। দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে মা ছিলেন। গাড়ি আলাদা হওয়ায় মা ভেবেছিলেন শিশুটি তার বাবার কাছে আছে, আর বাবা ভেবেছিলেন সে মায়ের সাথে আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা শিশুটিকে ছাড়াই রওনা হন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার পর চা পানের জন্য আবার যাত্রাবিরতি দিলে তারা বুঝতে পারেন যে শিশুটি তাদের সাথে নেই।
এদিকে শিশুটি রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়ার পর প্রথমে কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দ্রুত তাকে সামলে নেন। তারা শিশুটিকে একমুহূর্তের জন্যও আতঙ্কিত হতে দেননি এবং মোবাইলে ভিডিও ও খেলাধুলার মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত ও হাসিখুশি রাখেন। এর পাশাপাশি জাইতুন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করে। একই সাথে তারা রেস্তোরাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটি জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।
চট্টগ্রামে গিয়ে শিশুটির পরিবার যখন নিখোঁজের বিষয়টি টের পায়, তখন তারা ফেসবুকে জাইতুন রেস্তোরাঁর ওই পোস্টটি দেখতে পায়। পরে তারা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ভিডিও কলে শিশুর সাথে কথা বলে নিশ্চিত হন। এরপর তারা দ্রুত কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে রেস্তোরাঁয় এসে শিশুটিকে বুঝে নেন। পাকিস্তানি পরিবারটির ১২ দিন বাংলাদেশে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এই যাত্রাপথেই তারা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
সূত্র: প্রথম আলো
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দাম্পত্য জীবনের নানা জটিলতার সমাধান দেওয়া জনপ্রিয় চিকিৎসক দম্পতি ডা. সুষমা রেজা ও ডা. সায়েদুল আশরাফ কুশালের আকস্মিক বিবাহবিচ্ছেদের খবরটি নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া একটি যৌথ পোস্টের মাধ্যমে তারা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আলাদা হয়ে যাওয়ার এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান ‘লাইফস্প্রিং’-এর এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বিচ্ছেদের পেছনে কোনো নাটকীয় বা নেতিবাচক কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে কোনো ব্যক্তিগত বিবাদ বা গোপন কারণ নেই বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই দম্পতি। দীর্ঘ দুই দশকের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর তারা দুজনেই উপলব্ধি করেছেন যে, সময়ের সাথে সাথে ব্যক্তি হিসেবে তারা বদলে গেছেন। সম্পর্কের যে ভিত্তি নিয়ে তারা বিশ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিলেন, বর্তমান বাস্তবতায় সেই মানসিকতার বড় পরিবর্তন এসেছে। কোনো জোরপূর্বক বা তিক্ত সম্পর্কের টানাপোড়েন বয়ে বেড়ানোর চেয়ে জীবনের এই পর্যায়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে আলাদা হয়ে যাওয়াকেই তারা দুজনের জন্য সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছেন। যৌথ ফেসবুক পোস্টে তারা জানান, তাদের এই দীর্ঘ পথচলায় যেমন আনন্দ ও সুসময় ছিল, তেমনি ছিল নানামুখী সংগ্রাম ও সীমাবদ্ধতাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসারীরা তাদের জীবনের যেসব মুহূর্ত দেখেছেন, সেগুলো কোনো নিখুঁত বা কৃত্রিম সম্পর্কের প্রদর্শন ছিল না। ওগুলো ছিল তাদের জীবনের বাস্তব কিছু অভিজ্ঞতা, যা তারা আন্তরিকভাবেই যাপন করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় সম্পর্কের ভেতরের সমীকরণগুলো বদলে যাওয়ায়, কোনো প্রকার তিক্ততা তৈরি না করে পরস্পরের প্রতি সম্মান ধরে রেখে এই ২০ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তি টানছেন তারা। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে এই ব্যক্তিগত ঘটনাটি নিয়ে যেন কোনো ধরনের মনগড়া অনুমান, গুজব বা বিচার-বিশ্লেষণ করা না হয়, সে জন্য তারা সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা মনে করিয়ে দেন, কোনো ভাইরাল সংবাদের আড়ালে কিছু বাস্তব মানুষ থাকে, যারা জীবনের অত্যন্ত কঠিন একটি মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। বিশেষ করে তাদের সন্তান, বাবা-মা ও ভাইবোনদের মানসিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই বিষয়টি নিয়ে চারপাশের মানুষকে সংবেদনশীল ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন এই চিকিৎসক দম্পতি। নিজেদের জীবন থেকে নেওয়া এক মূল্যবান শিক্ষা পাঠকদের সাথে শেয়ার করে তারা এই অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন। বিদায়লগ্নে তারা সবাইকে নিজের পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার এবং প্রিয় মানুষের হাত শক্ত করে ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। জীবন যে অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং আজকের একটি সাধারণ মুহূর্তও যে আগামী দিনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হতে পারে, সেই সত্যটি মনে করিয়ে দিয়ে তারা সবাইকে প্রতিটি মুহূর্ত সচেতনভাবে ও কৃতজ্ঞতার সাথে বাঁচার তাগিদ দিয়েছেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
দেশে মাদক ব্যবহারের যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করছেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা এবং এককভাবে গাঁজাসেবীর সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের আট বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবহারের হার বিবেচনায় ময়মনসিংহ শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। এর পরেই রয়েছে রংপুর (৬ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫ দশমিক ৫০ শতাংশ) বিভাগ। তবে সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে এই সংখ্যা প্রায় ২২ লাখ ৯০ হাজার। গাঁজার পাশাপাশি ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ ও হেরোইনের মতো মাদকের ব্যাপক উপস্থিতিও গবেষণায় নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এই গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক হারে মাদকাসক্ত হয়ে পড়া। তথ্যমতে, ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছেন। এছাড়া ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের হার ৫৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা ও মানসিক চাপের পাশাপাশি মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের এই অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ মাদকসেবী স্বীকার করেছেন যে, তাদের কাছে মাদক সংগ্রহ করা অত্যন্ত সহজ। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গবেষণায় বড় ধরনের ঘাটতির চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্যানুযায়ী, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সুবিধা পেয়েছেন। অধিকাংশ মাদকসেবীই চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও গবেষণাভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে এবং পরিবার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।