আমেরিকা

নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলি, আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটলেন পর্যটকরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৯:৫৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র ও ব্যস্ততম এলাকা টাইম স্কয়ারের প্রাণকেন্দ্রে ভরদুপুরে একদল যুবকের মধ্যে চলা পারস্পরিক বিরোধের জেরে হঠাৎ করেই শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। বৃহস্পতিবার বিকেলের এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেখানে উপস্থিত শত শত পর্যটক এবং নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ চরম আতঙ্কে ও প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।

 

আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার একটি নাটকীয় ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বন্দুকের তীব্র আওয়াজের মুখে সাধারণ মানুষের প্রাণপণ দৌড়ে পালানোর শিউরে ওঠা দৃশ্য ধরা পড়েছে।

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে ৩টার ঠিক পর পর ওয়েস্ট ৪৪ নম্বর স্ট্রিট এবং সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে অন্তত একজন বন্দুকধারী এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো মানুষ সরাসরি গুলিবিদ্ধ বা আহত হননি। কিন্তু ছিটকে আসা একটি বুলেটের আঘাত সরাসরি গিয়ে লাগে রাস্তায় থাকা একটি প্রাইভেট কারের ওপর।

 

ক্ষতিগ্রস্ত ওই গাড়ির মালিক বনি হোয়াইট সংবাদমাধ্যম 'দ্য পোস্ট'-কে তাঁর ক্ষোভ ও আতঙ্কের কথা জানিয়ে বলেন, "হঠাৎ করেই গুলির শব্দ শুনতে পাই এবং আমি বন্দুকধারীকেও দেখতে পেয়েছিলাম। এর মধ্যেই একটি গুলি এসে সরাসরি আমার গাড়ির হুডে আঘাত করে। আমি এই ঘটনায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত, বুঝতে পারছি না এখন আমার গাড়িটির কী হবে"।

 

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন যুবকের মধ্যে শুরু হওয়া একটি সাধারণ মারামারি ও হাতাহাতি একপর্যায়ে হিংসাত্মক রূপ নেয় এবং তা সরাসরি গোলাগুলিতে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে পরপর প্রায় পাঁচটি গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠা ওই এলাকা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং এই সহিংসতার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নিয়েছে।

 

ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে ভারতীয় তরুণের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্ক ভ্রমণে এসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল অব্যাহত রাখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।   স্থানীয় পুলিশ, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে সেন্ট্রাল পার্কের জনপ্রিয় ট্যাভার্ন অন দ্য গ্রিন এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা ঘোড়ার গাড়িতে পুনরায় উঠছিলেন। ঠিক সেই সময় ‘স্যাম্পসন’ নামের ঘোড়াটি হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই ছিল না। নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি ছুটে যাওয়ার সময় ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণটি গাড়ি থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ম্যানহাটনের ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ি থেকে একজন যাত্রী ছিটকে পড়ছেন। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুর্ঘটনার সময় গাড়িচালক গাড়ির ভেতরে ছিলেন না। ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) লোকাল ১০০-এর প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চালক যাত্রীদের ছবি তুলতে গিয়ে ঘোড়ার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।   তিনি বলেন, মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে পার্কে কাজ শুরু করা ঘোড়াটি কেন হঠাৎ ভয় পেয়েছিল, সেটি এখনও তদন্তাধীন। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর গাড়িটি আরেকটি ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ওই সময় গাড়িতে আরও কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।   দুর্ঘটনার পর ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চালককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এক বিবৃতিতে আলেকজান্ডার কেম্প বলেন, একজন যাত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তার মতে, কোনো চালকেরই যাত্রীদের ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইক, পেডিক্যাব, ডেলিভারি যান এবং ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ফলে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।   এদিকে সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সি, যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্কে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে, তারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, একজন তরুণ পর্যটক আনন্দময় সময় কাটাতে পার্কে এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন। এমন ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নগর পার্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই তারা নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের কাছে দ্রুত ‘রাইডার্স ল’ পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটাও (পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস) এ ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। জননিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের স্বার্থে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সেন্ট্রাল পার্কে যাত্রী পরিবহনের সময় ‘ডেনিজ’ নামের আরেকটি ঘোড়ার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, বিষাক্ত উদ্ভিদ খাওয়ার কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা বাড়িয়েছিল।   সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ২০:৪৯
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি সমঝোতার পর কমল মর্টগেজ সুদহার, স্বস্তিতে মার্কিন গৃহক্রেতারা

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে প্রকাশ্য দিবালোকে গোলাগুলি, আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটলেন পর্যটকরা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের নজিরবিহীন পদক্ষেপ, অভিবাসন নীতির কড়াকড়িতে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ভরদুপুরে এলোপাথাড়ি গুলিতে আহত ৭৯ বছরের বৃদ্ধা, তদন্তে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকায় ভরদুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে দুই পক্ষের মধ্যে চলা বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে এক বৃদ্ধা ও এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই এলাকায় ছিটকে আসা এলোপাথাড়ি বুলেটের (স্ট্রে বুলেট) আঘাতে ওই প্রবীণ নারী মারাত্মকভাবে জখম হন। এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ম্যাথিউ বনিলা নামের ২৬ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, গত বুধবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রঙ্কসের ওই রাস্তায় হঠাৎ করেই বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। দুই পক্ষের গোলাগুলির এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে ভুল সময়ে ভুল স্থানে উপস্থিত থাকায় ৭৯ বছর বয়সী এক নির্দোষ বৃদ্ধা ক্রসফায়ারের মুখে পড়েন। ড্রোনের মতো ছুটে আসা একটি গুলি ওই বৃদ্ধার বাম পায়ে গিয়ে আঘাত করে।   একই সময়ে সেখানে উপস্থিত ২৬ বছর বয়সী এক যুবকও বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, যাকে পুলিশ এই হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু (ইনটেন্ডেড টার্গেট) বলে ধারণা করছে। সূত্র জানায়, ওই আহত যুবকটি সম্ভবত অন্য কোনো পক্ষের সাথে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল।   ভয়াবহ এই ঘটনার পরপরই রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে দ্রুত সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের দুজনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল রয়েছে। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ম্যাথিউ বনিলা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র এক ব্লক দূরের একটি বাড়িতে বসবাস করেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ট্রাফিক আইন অমান্য করায় পুলিশ তাকে প্রথম আটকেছিল এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়িতে একটি চুরি হওয়া লাইসেন্স প্লেট পাওয়া যায়।   এই ডবল-শুটিংয়ের ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আদালতের আনুষ্ঠানিক শুনানি প্রক্রিয়াধীন ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুরের এই রণক্ষেত্রে দুই পক্ষই গুলি চালিয়েছিল কি না তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং এই সহিংসতার সাথে জড়িত আরও একজন সন্দেহভাজনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।    সূত্রঃ  নিউইয়র্ক পোস্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৮:৩৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় দুই শিশুসন্তানের জননীকে গুলি করে হত্যা, এলাকায় শোকের ছায়া

ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অনুমোদন পেল স্থায়ী ক্রিকেট মাঠ

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে ৩০ লাখ গৃহস্থ ও প্রবীণদের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স রিলিফ দিবে রাজ্য সরকার

নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে সমর্থকদের উৎসবমুখর পরিবেশ । ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় মুখর নিউইয়র্ক, উৎসবে মেতেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও

নিজেদের জনপ্রিয় বাস্কেটবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ক্রীড়া উন্মাদনায় ভাসছে নিউইয়র্ক। একদিকে এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দ, অন্যদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের খেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকানদের পাশাপাশি বাঙালিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষও অংশ নিচ্ছেন এই উৎসবে।   জানা গেছে, গত ১৩ জুন এনবিএ ফাইনাল সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে ৯৪-৯০ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসানে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আবেগ ও আনন্দ।   ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় উদযাপন। ম্যানহাটন, টাইমস স্কয়ার এবং ব্রুকলিনে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের ঘিরে তৈরি হয় নতুন ক্রীড়া নায়কত্বের আবহ। শহরের বাস্কেটবল ইতিহাসে এই সাফল্যকে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য প্যারেডও।   একই সময়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ১১ জুন শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই ভেন্যু নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে।   আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নকআউট রাউন্ডের খেলা এবং টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সে গড়ে তোলা হয়েছে ফ্যান জোন। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা এবং ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে শহরটি এখন এক বৈশ্বিক ক্রীড়া মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।   তবে এই বৃহৎ আয়োজনের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে প্রশাসনকে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।   ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকে জার্সি, পতাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ফুটবল সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশ্বকাপের আমেজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়েছে।   মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং ইয়ামালের মতো তারকা ফুটবলারের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক দোকানে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সিতে নাম ও নম্বর সংযোজনের সেবাও দেওয়া হচ্ছে।   নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার জ্যাকসন হাইটসে জার্সির দোকান পরিচালনাকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জার্সির এমন চাহিদা আমরা আগে কখনও দেখিনি। বিশেষ করে মেসি, রোনালদো আর এমবাপ্পের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।”   একই এলাকার ফুটবল সমর্থক রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। খেলা শুরু হলেই পুরো এলাকা যেন উৎসবের মাঠে পরিণত হবে।”   প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠক নাজনীন আক্তার বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমাদের নতুন প্রজন্মকে একত্র করছে। তারা খেলা দেখার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নিজেদের সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করছে।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১৫:৪৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদে ক্রুশ পোড়ানোয় গ্রেপ্তার ২১ বছরের ছাত্র

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মায়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ভারতীয় কিশোর

নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি। ফাইল ছবি: এএফপি

মামদানির সমর্থনে নতুন মোড় নিচ্ছে নিউইয়র্কের প্রাইমারি লড়াই

0 Comments