যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তীব্র দাবদাহের মধ্যে বাড়ি থেকে বহুদূরে পথ হারিয়ে ফেলা এক বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে ১৪ বছরের এক কিশোর। রয়্যাল ক্যাথরান নামের ওই কিশোরের সময়োচিত পদক্ষেপ ও মানবিকতার কারণে ৭৫ বছর বয়সী ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রম) রোগে আক্রান্ত থেরেসা মরগান নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা কিশোরের এই দায়িত্বশীল আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। অ্যারিজোনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৫ (ABC 15) এবং দ্য গার্ডিয়ান এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাটি ঘটে অ্যারিজোনার গিলবার্ট শহরে। গত মাসে ১৪ বছরের কিশোর রয়্যাল বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় ৭৫ বছর বয়সী থেরেসা মরগানকে একাকী হেঁটে যেতে দেখে। বৃদ্ধার হাতে একটি শপিং ব্যাগ ও পার্স ছিল এবং তিনি ভীষণ ঘামছিলেন। তীব্র রোদে তাকে বেশ দিশেহারা ও বিভ্রান্ত দেখাচ্ছিল।
রয়্যাল তার পরিহিত স্মার্ট চশমায় (Smart Glasses) পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে, যা পরবর্তীতে এবিসি ১৫-এ প্রকাশিত হয়। ফুটেজে দেখা যায়, কিশোরটি বাইক থামিয়ে বৃদ্ধার কাছে গিয়ে জানতে চায় তিনি কোথায় যাচ্ছেন এবং তাকে সতর্ক করে বলে, "আমার মনে হয় না আশেপাশে কোনো অ্যাপার্টমেন্ট আছে।"
পরে রয়্যাল গণমাধ্যমকে জানায়, "উনাকে দেখে মনে হয়েছিল কোনো একটা সমস্যা হয়েছে। প্রচণ্ড গরম ছিল এবং উনি খুব ঘামছিলেন। তা দেখে আমি বুঝতে পারি উনার সাহায্যের প্রয়োজন।"
পরিস্থিতি অনুধাবন করে কিশোরটি আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। সে বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে একটি ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে বসায় এবং তার শরীর ঠাণ্ডা করার ব্যবস্থা করে। এরপর অত্যন্ত ধৈর্য ধরে বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে তার ছেলে জেফের ফোন নম্বর মনে করানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বৃদ্ধা তার ছেলের নম্বরটি স্মরণ করতে সক্ষম হলে রয়্যাল দ্রুত যোগাযোগ করে এবং জেফ ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত বৃদ্ধার পাশেই অবস্থান করে। খবর পেয়ে গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ টিমের সদস্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
বৃদ্ধার ছেলে জেফ জানান, তার মা সম্প্রতি ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রম রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সেদিন তিনি কেনাকাটার জন্য মুদি দোকানে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং ঘুরতে ঘুরতে বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে চলে আসেন। জেফের মতে, রয়্যাল যদি সঠিক সময়ে এগিয়ে না আসত, তবে তার মায়ের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "কিশোরটি যা করেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ভাগ্য ভালো যে সে আমার মায়ের সামনে পড়েছিল এবং মা নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত তার যত্ন নিয়েছে।"
ছেলের এই মহানুভবতায় একটুও অবাক হননি রয়্যাল ক্যাথরানের মা। তিনি বলেন, "রয়্যাল সবসময়ই অন্যদের সাহায্য করতে ভালোবাসে। ঘটনার সময় সে অত্যন্ত শান্ত ও সমবেদনশীল ছিল। একজন মা হিসেবে আমি তার জন্য ভীষণ গর্বিত।"
গিলবার্ট ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের ব্যাটালিয়ন চিফ রায়ান ম্যাকহিউ জানান, অ্যারিজোনার তীব্র গরমের মধ্যে এমন ঘটনা প্রাণঘাতী হতে পারত। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, "রয়্যাল সময়মতো না দাঁড়ালে পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।" তিনি আরও জানান, রয়্যালের এই দ্রুত বুদ্ধিমত্তা ও মানবিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১১ আগস্ট গিলবার্ট টাউন কাউন্সিলের একটি বিশেষ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করা হবে।
অ্যারিজোনার ৫ নম্বর ডিস্ট্রিক্টের কংগ্রেস সদস্য অ্যান্ডি বিগস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরটির প্রশংসা করে লিখেছেন, "বিপদের মুখে একজন বৃদ্ধাকে সাহায্য করার জন্য রয়্যাল ক্যাথরানকে অশেষ ধন্যবাদ। সমাজের অসহায় ও বয়স্ক মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, রয়্যালের এই দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের সবার শিক্ষা নেওয়া উচিত।"
অ্যারিজোনায় গ্রীষ্মকালীন তীব্র দাবদাহের কারণে সাধারণ মানুষের হিট স্ট্রোকসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে এক কিশোরের এমন সংবেদনশীলতা ও সচেতনতা পুরো কমিউনিটির কাছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার স্ত্রী ও আট বছরের কন্যাসন্তান গুরুতর আহত হওয়ার আট মাস পর অভিযুক্ত চালক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের তোলা ছবির (মাগশট) জন্য পোজ দিতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জিভ বের করে এক অদ্ভুত ও বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিমা করেন, যা ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত করেছে। আদালত ও স্থানীয় মেট্রোপলিটন ন্যাশভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নথির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ চ্যানেল ৫ ন্যাশভিল এ খবর প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চালকের নাম জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র (৬১)। গত বছরের নভেম্বরে ক্লার্কসভিল পাইকে একটি বেপরোয়া ওভারটেকিং করতে গিয়ে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটান। ব্রিউইংটন তার নিসান টাইটান পিকআপ ট্রাকটি নিয়ে আরেকটি গাড়ির পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জিপকে সজোড়ে ধাক্কা দেন। জিপটিতে ডাস্টিন ম্যাকলিওড (৪১), তার স্ত্রী অ্যাশলে এবং তাদের ৮ বছর বয়সী মেয়ে ডাকোটা চড়ে এক বয়স্ক স্বজনের বাড়িতে ক্রিসমাসের আলো জ্বালাতে যাচ্ছিলেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় স্মিথভিলের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী ডাস্টিন ম্যাকলিওড ঘটনাস্থলেই আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী অ্যাশলে ও কন্যা ডাকোটা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে অ্যাশলে জানান, দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার সময় পাননি তারা। লাল রঙের একটি গাড়ির ঝিলিক দেখার পরপরই যেন সবকিছু ধীরগতিতে ঘটতে শুরু করে। তিনি বলেন, "হঠাৎ দেখতে পেলাম আমার মেয়ের শরীর সিটবেল্টের মধ্যে পেঁচিয়ে যাচ্ছে, আমার স্বামী সামনের দিকে ছিটকে পড়লেন। এয়ারব্যাগটি আমার বুকে এসে সজোড়ে আঘাত করে।" অ্যাশলে আরও বলেন, "গাড়িটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল, ডাস্টিন কোনো সাড়া দিচ্ছিল না, আর পেছনের সিটে আমার ছোট মেয়েটা ভয়ে চিৎকার করছিল।" দুর্ঘটনায় অ্যাশলের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায়, হাঁটুর মালাইচাক ভেঙে যায় এবং শরীরে বহু গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তার একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়েছে। অন্যদিকে, আট বছরের ডাকোটার বুকের খাঁচার হাড়, কলারবোন ও ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কের গোড়ালি সংলগ্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার দীর্ঘ আট মাস পর অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন আত্মসমর্পণ করার পর যখন পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে, তখন তা দেখে শিউরে ওঠেন নিহত ডাস্টিনের বিধবা স্ত্রী। এলমেলো দাড়ি ও বিশৃঙ্খল চেহারার ব্রিউইংটন পুলিশের ক্যামেরার সামনে অসংবেদনশীলভাবে জিভ বের করে রেখেছিলেন। ছবিটি দেখে অ্যাশলে বলেন, "আমি আজই প্রথমবার এই লোকটার মুখ দেখলাম। গ্রেপ্তারের খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও তার এই ছবিটি দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও মানসিক যন্ত্রণার।" আহত মা ও মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিপুল খরচ বহন করতে গিয়ে ডাস্টিনের পরিবার বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে তাদের ঘর ভাড়া পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের সহযোগিতায় একটি গোফান্ডমি (GoFundMe) ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা, বেপরোয়া জীবন বিপন্ন করা এবং মারাত্মক আক্রমণের তিনটি অভিযোগে জেমস ব্রিউইংটনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এর আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এতদিন তাকে সরাসরি হাজতে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার বন্ডে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নতুন জাতীয় মূল্যায়নে একেবারে নিচের সারিতে জায়গা পেয়েছে জর্জিয়া। স্বাস্থ্যসেবার খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ এবং রোগীদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম বলে জানিয়েছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার খরচের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার অবস্থান ৩৭তম হলেও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যটি নেমে গেছে ৪৯তম স্থানে। স্বাস্থ্যগত ফলাফলে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৩তম। এসব সূচকের সম্মিলিত মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে রাজ্যটির অবস্থান হয়েছে ৪৯তম। ওয়ালেটহাবের গবেষণায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকে তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা মানুষের হার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে জর্জিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। মাথাপিছু হাসপাতালের শয্যার সংখ্যায় রাজ্যটির অবস্থান ৪২তম। মাথাপিছু চিকিৎসকের সংখ্যাতেও জর্জিয়া ৪২তম এবং দন্তচিকিৎসকের সংখ্যায় ৪৬তম। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কভারেজ থাকা মানুষের হারে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম। শিশুদের ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে অবস্থান ৪২তম। তবে সব সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান একই রকম খারাপ নয়। গড় মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে রাজ্যটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান ২২তম। ওয়ালেটহাবের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে একজন আমেরিকান বছরে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। বিপুল এই ব্যয়ের পরও দেশের সব এলাকায় সমানভাবে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। রাজ্যভেদে এসব ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা থাকা রাজ্যগুলো উচ্চমানের চিকিৎসাকে মানুষের আর্থিক নাগালের মধ্যে রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসকের বিকল্প এবং সহজে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে। জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যটিতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস রাজ্যের জন্য ১০টি স্টেট ডিরেক্টেড পেমেন্ট কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এর লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা। স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনতেও জর্জিয়ায় ‘জর্জিয়া পাথওয়েজ টু কভারেজ’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল সরকার কর্মসূচিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। জর্জিয়া গভর্নরের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত কর্মসূচিটির মাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছিলেন। তবে ওয়ালেটহাবের নতুন মূল্যায়ন বলছে, এসব উদ্যোগের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ এবং ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে জর্জিয়া এখনো দেশের অধিকাংশ রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এবারের মূল্যায়নে দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার। শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মিনেসোটা ও আইওয়াও রয়েছে। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচের দিকের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া। তবে এই র্যাঙ্কিংয়ের অর্থ জর্জিয়ার প্রতিটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের, এমন নয়। ওয়ালেটহাবের গবেষণাটি কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের মান নির্ধারণ না করে পুরো রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে খরচ, সেবা পাওয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে তুলনা করেছে। ফলে একজন রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার অবস্থান, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ, চিকিৎসার ধরন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তারপরও ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের হার, মাথাপিছু চিকিৎসক, হাসপাতালের শয্যা এবং দন্তচিকিৎসকের প্রাপ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান রাজ্যটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে সামনে এনেছে।
মিশিগানে রোগীদের সেবা না দিয়েও মেডিকেয়ারের কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের বেশি ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন একটি প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কেন্দ্রের মালিক। জালিয়াতির মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর নামে সাইকোথেরাপির বিল, চাকরি ছেড়ে দেওয়া সমাজকর্মীদের নামে ভুয়া বিল এবং এমনকি মারা যাওয়া ব্যক্তির নামেও চিকিৎসাসেবা দেখিয়ে অর্থ দাবি করার ঘটনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সোমবার, ২৭ জুলাই জানিয়েছে, অভিযুক্ত ইয়োলান্ডা ম্যাথিউসের বয়স ৫৮ বছর। মিশিগানের ফার্মিংটন হিলসের বাসিন্দা ম্যাথিউস স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ম্যাথিউস তার প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কেন্দ্রে থাকা মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের সাইকোথেরাপি সেবা দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে নিয়মিত ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিতেন। অথচ যেসব সেবার জন্য সরকারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই বাস্তবে দেওয়া হয়নি। জালিয়াতির ধরনও ছিল একাধিক। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, কোনো মেডিকেয়ার সুবিধাভোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায়ও তাকে দিবাযত্ন কেন্দ্রে সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে বিল করা হতো। এ ছাড়া যেসব সমাজকর্মী ওই প্রতিষ্ঠানে আর চাকরি করতেন না, তাদের নাম ব্যবহার করেও মেডিকেয়ারের কাছে ভুয়া বিল জমা দেওয়া হয়েছে। আরও গুরুতরভাবে, কিছু সুবিধাভোগীর মৃত্যুর পরও তাদের সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। সব মিলিয়ে ম্যাথিউস মেডিকেয়ারের কাছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ডলারের বেশি ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাথিউসের বিরুদ্ধে মামলাটি ২০২৬ সালের দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আনা হয়। তিনি স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ১৮ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তাকে কত বছরের সাজা দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফেডারেল আদালতের বিচারক সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। মামলাটির তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের ডেট্রয়েট কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের জালিয়াতি শাখার বিচারিক আইনজীবী জেফরি এ. ক্র্যাপকো মামলাটি পরিচালনা করছেন। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল বিচারিক এলাকায় বর্তমানে নয়টি বিশেষ দল কাজ করছে। ২০০৭ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার ২০০ জনের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্মিলিতভাবে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মেডিকেয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যা মূলত ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কিছু কম বয়সী ব্যক্তিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় মেটাতে সহায়তা করে। এই কর্মসূচির অর্থায়নে সরকারি অর্থ ব্যবহৃত হওয়ায় ভুয়া চিকিৎসাসেবা দেখিয়ে বিল করা, সেবা না দিয়েও অর্থ দাবি করা কিংবা মৃত ব্যক্তির নামে বিল জমা দেওয়ার মতো জালিয়াতির বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।