রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠিত, সভাপতি ধ্রুব ও সম্পাদক জিসান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ৩৬তম কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৬-২৭ সেশন) গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুব সভাপতি এবং ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে।   সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে নতুন নেতৃত্বের নাম প্রকাশ করা হয়।   কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন এবং দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এনটিভি ও দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিনিধি আবু ছালেহ শোয়েব। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ।   সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক এবং ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন।   কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার এবং জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি মো. রাফাসান আলম।   ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসেন মাহিন এবং রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি ও মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত।   নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটি, শিক্ষক ফোরাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে তিন সাংবাদিক ও দুই রাকসু নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের সভাপতির উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।   মারধরের শিকার হয়েছেন রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক, রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর।   অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, তাহমিদ সোবহান সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, মাহমুদুল হাসান জিহাদ, সামির ও আতিকসহ কয়েকজন।   প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাদের মিট-আপের নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রেখে র‍্যাগিং করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে একজন সহকারী প্রক্টর ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান।   সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সারিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করলে উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ভিডিও মুছে ফেলার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তবে তারা ভিডিও মুছে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   সাংবাদিকদের দাবি, একপর্যায়ে তাদের ঘিরে রাখা হয়, গালাগালি করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও রাকসুর দুই নেতা ঘটনাস্থলে গেলে তারাও উত্তেজনার মুখে পড়েন।   ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আলোচনা শেষে প্রক্টর অফিসে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়।   তবে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার জন্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সাংবাদিক আবু বকর অনিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও লাথি মারেন। একই সময়ে অন্য সাংবাদিক এবং রাকসুর দুই নেতাকেও মারধর করা হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর দুইজনকে নিজের গাড়িতে তুলে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।   ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও অন্যদের মারধর করা হয়। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।   অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল বলেন, “এটা ভুল তথ্য। সেখানে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।”   তবে একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মাহির বলেন, মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যদিও তিনি এতে অংশ নেননি। রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনিও আঘাতের শিকার হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।   মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভাগে এসে সরাসরি কথা বললে ভালো হবে।” সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, “কাউকে মারধরের অধিকার কারও নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন। দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।”   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধর করা হয়েছে। এটি জঘন্য অন্যায়। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি, তাতে র‍্যাগিংয়ের সব লক্ষণই ছিল।”  

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাবিতে বিশ্বকাপ ম্যাচ প্রদর্শনী ঘিরে সংঘর্ষ, হল সংসদের জিএস আহতের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ। ফেসবুক পোস্টে শহিদ দাবি করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি ও তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান।   খেলার প্রায় ৩০-৩১ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।   তিনি আরও জানান, খেলা দেখার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি সেখানে আসেন। ওই সময় ভিপি একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে স্থান ত্যাগ করলে আম্মার তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ থাকতে পারবে না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।   পোস্টে শহিদ আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভিপি ঘটনাস্থলে ফিরে আসেন। তখন তিনি ভবিষ্যতে রাকসুর কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অনাগ্রহের কথা জানান। পরে ভিপি তাকে অন্যত্র নিয়ে যান।   এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী রাকসুর সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ নূন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তবে মূল ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তার ভাষ্য, তিনি স্ক্রিনের পাশে বক্সের একদম সামনে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কী কথা হয়েছে বা কোনো গালাগালির ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তিনি স্পষ্টভাবে শুনতে পাননি। পরে তিনি অভিযোগকারীর ফেসবুক পোস্টটি দেখেন বলে জানান।   অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি দাবি করেন, খেলা প্রদর্শনীতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় দর্শকদের, বিশেষ করে নারী দর্শকদের খেলা দেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্য পাশে গিয়ে বসতে বলেন।   তিনি আরও বলেন, তাকে কোনো ধরনের শারীরিকভাবে স্পর্শ করা হয়নি এবং অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি, ঘটনাটির সময় ওই শিক্ষার্থী অশালীন ভাষা ব্যবহার করে স্থান ত্যাগ করেন। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।   এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
যোগ্যতায় নাকি বিতর্কে? বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন রাবির প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম

রাবি প্রতিনিধি: গবেষণা, শিক্ষা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে নিজ বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৫৩৫তম সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।   এর আগে, ২০১৩ সালের ৪ জুলাই ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সোমনাথ ভট্টাচার্য বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির আলোচনায় সভায় প্রস্তাব করেছিলেন। এসময় সভায় প্লানিং কমিটির ৭জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় প্লানিং কমিটির আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে ড. আজহারুল ইসলামকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগদানের জন্য সুপারিশ করে উপাচার্যের কাছে প্রেরণ করেন বিভাগীয় প্লানিং কমিটি। তবে আওয়ামী প্রশাসন সেই সময় বিভাগীয় প্লানিং কমিটির সকল সদস্যের মতামতকে উপেক্ষা করে ড. আজহারুলের বিষয়টি আমলে নেয়নি। এদিকে ৫ই আগস্টের পর নতুন করে বিভাগের আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও সবার সামনে আসে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে তাকে এ পদে মনোনীত করা হয়।   বিশ্বমানের এই পদার্থবিজ্ঞানীর ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি শুধু একজন গবেষকের সম্মানই নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধিরও কারণ।   তবে এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক মনে করছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব তাঁর ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম হলেন উপাচার্য নকীবের আপন শ্বশুর। তবে কি তিনি শ্বশুর কোটায় প্রফেসর ইমেরিটাস হয়েছেন, নাকি নিজ যোগ্যতায়? চলুন বিষয়টি দেখে নেওয়া যাক।   প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা: প্রফেসর ইমেরিটাস হতে হলে অবসরপ্রাপ্ত স্বনামধন্য অধ্যাপক হতে হয়, যিনি শিক্ষকতা ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননা হিসেবে এই উপাধি লাভ করেন। এটি সাধারণত অবসরের পর দেওয়া একটি সম্মানসূচক উপাধি। তাহলে প্রশ্ন আসে—এই যোগ্যতা কি প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের রয়েছে? শিক্ষা ও গবেষণায় ড. আজহারুলের অসাধারণ সাফল্য:  ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ও এমএসসি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬৯ সালে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিআইসি এবং ১৯৭২ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।   তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র প্রাথমিক কণা পদার্থবিদ্যা, অতিপরিবাহিতা, পদার্থের বৈদ্যুতিক কাঠামো এবং ম্যাক্স ফেজ-সংক্রান্ত বিষয়। জাপানি পদার্থবিজ্ঞানীদের সঙ্গে পেরোভস্কাইট-টাইপ অক্সাইড সুপারকন্ডাক্টরের সহ-আবিষ্কার তাঁর গবেষণা জীবনের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই বিজ্ঞানী বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের অধ্যাপনা: অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত টানা ৪৪ বছর অধ্যাপনা করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভাগীয় সভাপতি, বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার: অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম আইএসইএসসিও (ISESCO) লরিয়েট হোন ২০০১ সালে। ছাত্রজীবনে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এমএসসি পর্যায়ে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের জাতীয় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তিনি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ১৯৭২ সালে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে গবেষণা করেছেন এবং রয়্যাল সোসাইটির ফেলোশিপে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইতালিতে ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে গবেষণা করেছেন। তিনি লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্স এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের নির্বাচিত ফেলো। প্রকাশনা ও গবেষণা তত্ত্বাবধান: অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলামের মোট প্রকাশনার সংখ্যা ৫ শতাধিক। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে ৩১৫টি গবেষণা নিবন্ধ এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রায় ১৮০টি সাধারণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি দেশে-বিদেশে প্রকাশিত ২৩টি গ্রন্থের রচয়িতা এবং একাধিক আন্তর্জাতিক কর্মশালার প্রসিডিংস সম্পাদনা করেছেন।   এছাড়া তিনি ১৪১ জন গবেষকের এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালের প্রধান সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও রিভিউয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ৩০টি দেশে একাডেমিক সফর এবং ৫৪টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁর বৈশ্বিক একাডেমিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ বহন করে। প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটি গঠন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দীন খানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এম. শমশের আলী ও রাবির বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. নাসিমা আক্তার। এছাড়াও দুইজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন জাপান এডভান্স ইন্সটিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (JAIST) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রিও মিজোনো এবং মালয়েশিয়া পার্লিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ চিক। নিজের আপন শ্বশুর হওয়ায় সেই কমিটিতে থাকেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব।   পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের দিকে প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার জন্য ড. এ.কে.এম. আজহারুল স্যারের পক্ষে তৎকালীন বিভাগের সভাপতি অ্যাকাডেমিক কমিটিতে প্রস্তাব করেছিলেন। তখন তাঁর গবেষণা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং একাডেমিক অবদান পর্যালোচনা করে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে প্রফেসর ইমেরিটাসের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে তখন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয়করণের কারণে তাঁর সেই ফাইল আর এগোতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ছাত্রজনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তন আসে। তখন তাঁর ফাইলটি পুনরুদ্ধার করে বিধি অনুযায়ী তাঁকে যথাযথ প্রাপ্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এত বছর তাঁকে প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।   প্রফেসর ইমেরিটাস নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ড. আজহারুল ইসলামের গবেষণা, প্রকাশনা ও সাইটেশনের সংখ্যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর সমান সাইটেশন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষকের আছে কি না, আমার জানা নেই। ইমেরিটাস অধ্যাপক নির্বাচনের বোর্ডে থাকা দুইজন বিদেশি বিশেষজ্ঞও তাঁর কাজের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ও বর্তমান ইমেরিটাস অধ্যাপকদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে, তাঁর আশেপাশেও কেউ নেই। তাঁর এই নিয়োগ কেবল ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা পরিমণ্ডলের জন্যও এক গর্বের।   ড. আজহারুল ইসলাম প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা জানতে চাইলে একই বিভাগের স্বনামধন্য প্রফেসর ইমেরিটাস ড. অরুণ কুমার বসাক বলেন, ড. আজহারুল ইসলামকে আমি আমার ছাত্র হিসেবে পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তাকে ছাত্র জীবন থেকেই দেখছি তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আরও অনেক আগেই তার প্রফেসর ইমেরিটাস হওয়া উচিত ছিল কিন্তু যেভাবেই হোক তিনি হননি। ইমেরিটাস প্রফেসর হওয়ার জন্য ড. আজহারুল শুধু যোগ্যই নন–যথেষ্ট যোগ্য বলে আমি মনে করি। তাকে প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ দেওয়ায় আমি অত্যান্ত আনন্দিত এবং খুশি হয়েছি। এতে কেউ যদি সমালোচনা করে, সেটি তাদের ব্যাপার।   জানতে চাইলে ইমেরিটাস প্রফেসর ড. এ.কে.এম. আজহারুল ইসলাম বলেন, "আমি মাত্র ২১ বছর ২ মাস বয়সে লেকচারার হিসেবে শিক্ষকতা জীবনে প্রবেশ করি। আমার মূল লক্ষ্য ছিল দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করা। আমার তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা বহু ছাত্র-ছাত্রী আজ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত আছে এবং দেশের কল্যাণে কাজও করে যাচ্ছে। আমাদের বিভাগের গবেষণায় সফলতার কারণে আমরা বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকেও অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছি। আমি সবসময় আমার ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা ও দেশপ্রেমের প্রতি অনুপ্রাণিত করি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
তিন বছর পর ফিরছে রাবির বৈশাখ, চারুকলায় চলছে রঙ, মোটিফ আর স্বপ্নে ভরা প্রস্তুতি

তিন বছর পর পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে জোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ক্যাম্পাসে ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ।   বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা বর্ণিল মোটিফ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে সমসাময়িক বিশ্ব বাস্তবতার প্রতিফলন। এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়।   শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির মোটিফ, যা শক্তি, গতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। পাশাপাশি জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশও স্থান পাচ্ছে এবারের আয়োজনে। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, লোহা ও রঙিন কাগজ দিয়ে এসব মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রংতুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে সেগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।   এবার কেন্দ্রীয় কোনো প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামেই আয়োজনটি করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই অনুষ্ঠান শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   জানা গেছে, রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই শোভাযাত্রা উপভোগ করতে ক্যাম্পাসে আসবেন। শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন থাকবে। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলেন, গত বছর রমজান মাসসহ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে বড় পরিসরে আয়োজন হয়নি। তবে এবার নতুন উদ্যমে কাজ করছেন তারা।   তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। নিজেদের হাতে সবকিছু তৈরি করে শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন শিক্ষার্থীরা।   চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রতিফলন তুলে ধরতে এমন মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ পুরোনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি সেই বাস্তবতার প্রতীক।   অন্যদিকে অর্থায়নের বিষয়ে অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শ্রম ও অর্থায়নে এই প্রস্তুতি চলছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা নেওয়া হয়নি।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
শিশির মনিরকে লাল কার্ড দেখালো রাবি শিক্ষার্থীদের একাংশ, নেপথ্যে ছাত্রদল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। একই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীকেও অংশ নিতে দেখা গেছে।   সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে পরিবহন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। প্রতিবাদ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘শিশির মনির ভূয়া ভূয়া’, ‘রাকসু ভূয়া ভূয়া’, ‘ফুয়াদ ভূয়া ভূয়া’ এবং ‘রাবিয়ানদের পক্ষ থেকে লাল কার্ড’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।   কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এ ধরনের আয়োজনের সমালোচনা করেন এবং তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।   আরেক শিক্ষার্থী বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই করা ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানোকে তারা মেনে নিতে পারছেন না। এ ধরনের ব্যক্তিদের রাবি ক্যাম্পাসে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি।   উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর আমন্ত্রণে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে: সংকট পথে দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিতে ক্যাম্পাসে আসেন আইনজীবী শিশির মনির ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এ আয়োজন ঘিরেই শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব
জনগণের অভিপ্রায় অস্বীকার মানে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান: সাবেক রাবি উপাচার্য

শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার 'হ্যা'-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে। কোনভাবেই এই সত্য মোছা যাবে না। দেশের মানুষের অভিপ্রায় হচ্ছে সংবিধানের ভিত্তি। এটাই শেষ কথা। এই অভিপ্রায় অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে, জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) সকালে ফেসবুকের এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।   অধ্যাপক নকীব বলেন, ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট 'হ্যা'-এর পক্ষে প্রচারণা করেছে। করতেই হবে। ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট ছিল ২৪-এর গনঅভ্যুত্থানের ফসল। এই গনঅভ্যুত্থানের সকল আকাঙ্খা তাদের ধারণ করতে হবে। সেই জায়গা থেকেই 'হ্যা'-এর পক্ষ নেওয়া। বড় রাজনৈতিক দলগুলো প্রকাশ্যে 'হ্যা'-এর পক্ষ নিয়েছে। এখন কথা পাল্টানো যাবে না।   সংবিধানে গণভোটের প্রভিশান নেই। এটাও যোগ করতে হবে। সংসদে থার্ড রেইট পলিটিশিয়ানদের আধিক্য। শুধুমাত্র এদের হাতে দেশ ছাড়া যাবে না। যেকোনো বড় পরিবর্তনের জন্য দেশের মালিক, আপামর মানুষের মতামত নিতে হবে। গণভোটে নেই, গণভোট যুক্ত করতে হবে।   তিনি আরো বলেন, যখনই শুনবেন 'পবিত্র সংবিধান' নিয়ে কথা হচ্ছে, তখনই বুঝবেন ধান্দাবাজ। সংবিধানের একটি লাইনও পবিত্র নয়। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা। প্রয়োজনে শতবার সংবিধানে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু প্রত্যেক পরিবর্তন হতে হবে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে। দলীয় স্বার্থের সাথে সংবিধান মেলানো হচ্ছে প্রতারনা এবং ছোটলোকি।   রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বিষয় মোটেই কঠিন নয়। বুদ্ধি-বিবেক ঠিক থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ স্বার্থেই এসব নিয়ে 'তেনা প্যাচানো' বন্ধ করতে হবে।পাগলেও নাকি নিজের ভালো বোঝে, সংসদের কিছু ধান্দাবাজ দেখলে এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। গণমানুষের রায় মেনে নিন। তাতেই সবার জন্য কল্যাণ।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাবির উপাচার্য ড. ফরিদুল ইসলাম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ সার্চ কমিটির সদস্য

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সার্চ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়।   পরিপত্র অনুযায়ী, সার্চ কমিটি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোর্শেদ হাসান। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব।   কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী তারা: ১. ভিসি প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন, ২. প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবেন, ৩. বাছাইকৃত তিন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন।   রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “এই কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
রাবি ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপন করবেন প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী, থাকছে বিশেষ আয়োজন

চাকরির প্রস্তুতি ও পরীক্ষাসহ ব্যক্তিগত নানা কারণে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী এবার ক্যাম্পাসেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা এসব শিক্ষার্থীর ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) যৌথভাবে বিশেষ উপহার ও গণভোজের আয়োজন করেছে।   রাকসু সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাস অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ঈদ উপহার হিসেবে ছাত্রদের জন্য পাঞ্জাবি এবং ছাত্রীদের জন্য থ্রি-পিসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ঈদের দিন সকল শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্যও থাকছে বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। রাকসু নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে তারা পালাক্রমে ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদের দিন সকালে প্রশাসন ও হলের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে ছুটির সময়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। প্রিয়জনদের ছেড়ে ক্যাম্পাসে থাকা এসব শিক্ষার্থীর মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতেই এই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদকঃ রাফাসান আলম

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0