রিপাবলিকান পার্টি

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। ছবি: সংগৃহীত
সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যু, শোকের মাঝেই শূন্য আসন নিয়ে রিপাবলিকানদের তোড়জোড়, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের আকস্মিক মৃত্যুর পর শোকের আবহ কাটতে না কাটতেই তাঁর শূন্য হওয়া সিনেট আসনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। একই সময়ে গ্রাহামের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চললেও এফবিআই জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহায়তা করছে।   গ্রাহামের দপ্তর জানায়, ৭১ বছর বয়সী এই সিনেটর শনিবার রাতে স্বল্প সময়ের অসুস্থতার পর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবরে ওয়াশিংটন ও নিজ অঙ্গরাজ্য সাউথ ক্যারোলাইনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর আগে তিনি এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।   সাউথ ক্যারোলাইনার আইন অনুযায়ী, গ্রাহামের শূন্য আসনে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য দ্রুত বিশেষ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ১১ আগস্ট রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ২৫ আগস্ট রান-অফ নির্বাচন হবে। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুরু হবে ২১ জুলাই।   এদিকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কয়েকজন রিপাবলিকান নেতার নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাউথ ক্যারোলাইনার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পামেলা ইভেট, কংগ্রেস সদস্য ন্যান্সি মেস, রাসেল ফ্রাই এবং রালফ নরম্যান। এছাড়া ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকেও নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি। তবে তিনি আপাতত ট্রেজারি সেক্রেটারির দায়িত্বেই থাকতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।   রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতাদের একটি অংশ চাইছেন, প্রতিনিধি পরিষদের কোনো সদস্যকে সিনেটে না পাঠাতে। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বর্তমানে খুবই অল্প ব্যবধানে রয়েছে। কোনো সদস্য সিনেটে চলে গেলে সেই ব্যবধান আরও কমে যেতে পারে।   গ্রাহামের মৃত্যু সিনেটেও বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ইউক্রেন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।   এই সফরের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের একটি অংশে তাঁর মৃত্যু নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপরাধমূলক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জরুরি চিকিৎসা সেবার অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বুকে ব্যথার অভিযোগে তাঁর ক্যাপিটল হিলের বাসভবনে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য ফোন করা হয়েছিল।   রাশিয়াবিষয়ক কর্মী বিল ব্রাউডার প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা উচিত। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা বা আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়নি। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল রোববার জানান, গ্রাহামের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে এফবিআই তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রেখেছে। তবে তদন্তের প্রকৃতি বা কোনো নির্দিষ্ট অনুসন্ধান চলছে কি না—সে বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।   লিন্ডসি গ্রাহাম সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে টানা পঞ্চম মেয়াদের জন্য সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু শুধু সাউথ ক্যারোলাইনায় নয়, ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর নির্বাচনে দুই প্রার্থীকে সমর্থন ট্রাম্পের

সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে নিজের সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রিপাবলিকান প্রার্থী—লেফটেন্যান্ট গভর্নর পামেলা এভেট ও অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যালান উইলসন—উভয়কেই সমর্থন দিয়েছেন।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “দুজনের যেকোনো একজন জিতলেও ভুল হবে না।” অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ৯ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনের আগে তিনি শুধু এভেটকে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন, তার প্রতি ট্রাম্পের “পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন” রয়েছে।   প্রাইমারিতে এভেট সামান্য ব্যবধানে উইলসনের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সরাসরি মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি। ফলে আগামী মঙ্গলবার দুই প্রার্থীর মধ্যে রানঅফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রাথমিক সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উইলসনের পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। রানঅফে না ওঠা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী, যার মধ্যে কংগ্রেস সদস্য রালফ নরম্যান ও ন্যান্সি মেস রয়েছেন, ইতোমধ্যে উইলসনকে সমর্থন দিয়েছেন। শুক্রবার দক্ষিণ ক্যারোলিনার সিনেটর টিম স্কটও তার পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন।   ট্রাম্পের নতুন সমর্থন ঘোষণার পর উইলসন বলেন, তিনি শুরু থেকেই ট্রাম্পের পাশে ছিলেন এবং প্রেসিডেন্টের সমর্থন পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তার ভাষায়, তিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।   অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন এভেটের প্রচারণার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান ভিত্তিই ছিল তিনি ট্রাম্পের একমাত্র পছন্দের প্রার্থী। তবে এভেট প্রকাশ্যে হতাশা দেখাননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “৯ জুন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আমি প্রথম হয়েছিলাম। ২৩ জুনও সেটি পুনরাবৃত্তি করার অপেক্ষায় আছি।”   এভেট এখনও মেয়াদসীমার কারণে আর নির্বাচন করতে না পারা গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টারের সমর্থন পাচ্ছেন। ম্যাকমাস্টার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন এসেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনী ধাক্কার পর।   আইওয়ার গভর্নর প্রাইমারিতে তার সমর্থিত প্রার্থী র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করেন ব্যবসায়ী জ্যাক লান। এরপর জর্জিয়ার গভর্নর প্রাইমারিতেও ট্রাম্প-সমর্থিত লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোন্স পরাজিত হন স্বাস্থ্যসেবা খাতের নির্বাহী রিক জ্যাকসনের কাছে। জোন্সের পরাজয়ের পর ট্রাম্প রিক জ্যাকসনের প্রচারণাকেও “ট্রাম্পধারার প্রচারণা” বলে উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় দুই প্রার্থীকে একসঙ্গে সমর্থন দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত নিশ্চিত করেছেন যে রানঅফের ফল যাই হোক, বিজয়ী প্রার্থীকে তার সমর্থিত প্রার্থী হিসেবেই উপস্থাপন করা যাবে।   উল্লেখ্য, গত মাসেও দক্ষিণ ক্যারোলিনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছিলেন ট্রাম্প। রাজ্যের একমাত্র ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসনাল আসন বিলুপ্ত করতে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আইনসভায় পাস হয়নি। এতে ট্রাম্পপন্থী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যর্থ হয়।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের মিশ্র চিত্র জর্জিয়া নির্বাচনে, রিপাবলিকান রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জয় করলেও একই সময়ে রাজ্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্প ও কেম্প উভয়ের সমর্থন থাকা প্রার্থী জনসন পরাজিত হয়েছেন স্ব-অর্থায়িত ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনের কাছে।   জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ মূলত ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেম্প সমর্থন দিয়েছিলেন সাবেক ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে প্রচারণা চালান।   অন্যদিকে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। কলিন্স নিজেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প এক ফোনালাপে বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় তার পরাজয় নিয়ে কেম্পের অবস্থান নিয়ে তিনি এখনো অসন্তুষ্ট, যা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচার তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী কলিন্সের তুলনায় অনেক বেশি।   অসফকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচনের ফলাফলই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   গভর্নর নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন স্ব-অর্থায়নে ৯১ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রচারণা ব্যয় করে রিপাবলিকান মনোনয়ন জয় করেন। তিনি ট্রাম্প ও কেম্প সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন।   জ্যাকসন নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একজন ‘আউটসাইডার’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রচারণায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক আটলান্টা মেয়র কেশা ল্যান্স বটমসের মুখোমুখি হবেন।   চলতি বছরে ট্রাম্প সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবণতা সামনে এসেছে। এর আগে আইওয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় হেরে যান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশে প্রভাব ফেললেও সব ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জয় এনে দিচ্ছে না।   জর্জিয়ার এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটার বিভাজন এবং দলীয় প্রভাব ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাথে যুদ্ধ নিয়ে নিজের দলের নেতাদের ক্ষোভের মুখে ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই বড় ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের অধীনে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে হোয়াইট হাউসকে ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন সিনেটেও এই সংক্রান্ত বিলটি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট পড়ে।   বিগত সময়ের ব্যর্থ চেষ্টাগুলোর চেয়ে এবারের ভোটাভুটি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এবার ট্রাম্পেরই দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। নিজের দলের এই দলছুট বা বিদ্রোহীদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে একটি 'অর্থহীন ভোট' এবং আইনপ্রণেতাদের এই পদক্ষেপকে 'অদেশপ্রেমিক কাজ' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর আগে ভেনিজুয়েলা ইস্যুতেও দলের বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।   তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই হুমকির কৌশল এবার আর কাজ করবে না, কারণ ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মার্কিন সামরিক হামলায় ইরানের ক্ষতি হলেও তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করাসহ মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে তেরো জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে।   আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ মার্কিনি ইরানের সাথে দ্রুত শান্তি চুক্তি চান। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়েই মূলত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এখন ট্রাম্পের পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই প্রস্তাবটি আইনিভাবে ট্রাম্পকে বাধ্য করতে না পারলেও, এর মাধ্যমে স্পষ্ট যে দেশের মাটিতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ইরানের ওপর তাঁর প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০