যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় চুরি করে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা) মূল্যের এক বিশাল চিকিৎসা বা হসপিস জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ওয়াশিংটনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি জাতীয় চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে এই লস অ্যাঞ্জেলেসের বৃহৎ জালিয়াতি চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই জালিয়াতির অর্থ দিয়ে চক্রের মূল হোতা একটি বিলাসবহুল রোলস রয়েসসহ একাধিক দামি গাড়ি কিনে আলিশান জীবনযাপন করছিলেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এই করদাতাদের অর্থ চুরির মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ভ্যান নাইসের একজন হসপিস মালিকসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, চলতি বছর দেশজুড়ে চালানো এই বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৫টি রাজ্য থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৪৫৫ জন চিকিৎসা খাতের প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রগুলো সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার অন্তত চারটি হসপিস বা সেবা কেন্দ্রের মালিক ৫৯ বছর বয়সী ওরেন ডেভিড শ্যাচার নামের এক ব্যক্তিকে এই জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মূলত একটি স্থানীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের (funeral home) কর্মচারীদের ঘুষ দিয়ে মৃত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে সেই মৃত ব্যক্তি অথবা গুরুতর অসুস্থ নন এমন সাধারণ মানুষদের নামে ভুয়া হসপিস সেবার বিল তৈরি করে সরকারি ‘মেডিকেয়ার’ তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার তুলে নিতেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওরেন ডেভিড শ্যাচার জালিয়াতি করা এই সরকারি অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচার করতেন। এমনকি নিজের হসপিস ব্যবসার তহবিল থেকে সরাসরি ১৫ হাজার ডলার তুলে নিয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল ‘রোলস রয়েস ফ্যান্টম’ গাড়ি লিজ নেওয়ার জন্য ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম অর্থ হিসেবে প্রদান করেছিলেন। এই জালিয়াতি চক্রে তাকে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগে আব্রাহাম শিন এবং জেনি চই নামের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যালিমোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসায়লি এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলো মূলত সমাজের বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ এবং অসহায় মানুষদের সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই প্রতারকদের পকেট ভারী করার বা ধনী হওয়ার জায়গা নয়।" এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের এই জালিয়াতির সমান্তরালে ক্রিস্টিনা মারেক নামের অন্য এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি জাল প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে প্রায় ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সরকারি ‘মেডি-ক্যাল’ তহবিল আত্মসাৎ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, আমেরিকান করদাতাদের অর্থ এভাবে আর কাউকে লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। যারা দেশের নাগরিকদের ঠকানোর চেষ্টা করবে, তাদের খুঁজে বের করে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাসহ আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অপরাধে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংকচুয়ারি সিটি নীতি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সীমিত করছে এবং এর ফলে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সংশোধিত অভিযোগ দাখিলের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সাংকচুয়ারি সিটি নীতির আওতায় অনেক শহর ও স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্য বিনিময় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রাখে। এ ধরনের নীতির সমর্থকদের দাবি, এতে অভিবাসী সম্প্রদায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেশি আস্থা রাখতে পারে এবং অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত হয়। অন্যদিকে নীতির সমালোচকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের সীমাবদ্ধতা ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কমিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইনি লড়াই নতুন নয়। বিশেষ করে সাংকচুয়ারি সিটি নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কিংবা শহর প্রশাসনের মধ্যে বহুবার বিরোধ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সাংকচুয়ারি সিটি নীতি অনুসরণকারী শহর ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্কেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যানোগা পার্ক এলাকায় এক ব্যক্তি ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এলএএফডি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ওউয়েনসমাউথ অ্যাভিনিউয়ের ৮০০০ নম্বর ব্লকের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তারা তিনজনকে মৃত অবস্থায় পান। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি একটি সম্ভাব্য পারিবারিক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। পুলিশের ধারণা, মৃত ব্যক্তিটি দুই শিশুর বাবা হতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত দুই শিশুর বয়স ১৫ বছরের নিচে। তবে তাদের সঠিক বয়স এবং পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বেসবল মাঠের পাশের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ঘটনাস্থলের বাইরে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়ও দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালান। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে বা এর পেছনে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা নিহতদের পারিবারিক সম্পর্ক, সাম্প্রতিক পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। ক্যানোগা পার্ক লস অ্যাঞ্জেলেসের সান ফার্নান্দো ভ্যালি অঞ্চলের একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। সেখানে এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তা জনসম্মুখে প্রকাশ করবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।" পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC) জানিয়েছে, এবারের কনভেনশনকে স্মরণীয় করে তুলতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি আলোচনা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হবে। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” থিমকে সামনে রেখে এবারের ফোবানার আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের অন্যতম লক্ষ্য। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো ইকবাল সহ আয়োজক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের আয়োজন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের পর্যটন আকর্ষণ, বিনোদন কেন্দ্র এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ কনভেনশনকে ভিন্নমাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ। সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী কমিউনিটিতে। নিহত সাকিব আলি (২৯) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক ডাঃ মুহম্মদ আলি মানিক-এর ছেলে। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) লস অ্যাঞ্জেলেস-এর ম্যারিনা ডেল রে এলাকায় নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাকিব আলি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে অ্যামাজন মিউজিক-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তবে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচিত এক ব্যক্তিকে খোঁজ নিতে বলা হয়। তিনি বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সাকিবের নিথর দেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে সাকিবের বাবা-মা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। লস অ্যাঞ্জেলসে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ আটলান্টা-এ নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে। এই অকাল মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ইরানের নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাতিজি ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইস সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অবস্থান করলেও, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে তাদের স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়। এরপরই তাদের আটক করা হয় এবং বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন কাস্টডিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উল্লেখ্য, জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে তীব্র উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরান, বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড ইরানের মুখোমুখি হবে। নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ খেললেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ম্যাচ সরানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব বিবেচনা করবে না বলে জানিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদী তাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।” তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে ইরান। দুইটি প্রীতি ম্যাচও তারা খেলবে। নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান টমাস বলেন, “আমাদের যদি মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়ে ইরানের বিপক্ষে খেলতে হয়, আমরা সেখানেই খেলব। এটি আমাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়।” ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নিউজিল্যান্ডের মূল বেস ক্যাম্প দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরে হবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, দেশটি ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার ওপর নির্ভর করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।