- প্রচ্ছদ
- Topic
লস অ্যাঞ্জেলেস
লস অ্যাঞ্জেলেসের চালকদের জন্য দারুণ এক খবর! নিজেদের অন্তত একটি গাড়ি বাড়িতে পার্ক করে রাখলেই নগদ অর্থ দিচ্ছে শহরের কর্তৃপক্ষ। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রো (এলএ মেট্রো) সম্প্রতি তাদের ‘ওয়ান কার চ্যালেঞ্জ’ নামক একটি পাইলট প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ধাপ চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত প্রদান করা হবে, যদি তারা পাঁচ সপ্তাহের জন্য তাদের একটি গাড়ি ব্যবহার না করার শর্তে রাজি হয়। এর বদলে তাদের যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন, সাইকেল, হাঁটা বা কারপুলিংয়ের মতো বিকল্প মাধ্যমগুলো বেছে নিতে হবে। ২০২৩ সালে সান্তা মনিকায় প্রায় ৩০০টি পরিবারের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছিল। সেই সাফল্যের পর এবার পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ২,০০০ পরিবারকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো যেসব পরিবারে কেবল একটি গাড়ি রয়েছে, তারাও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই আর্থিক প্রণোদনা বাসিন্দাদের গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমাবে এবং যানজট কমানো, কার্বন নির্গমন হ্রাস ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিতে এ ধরনের কর্মসূচি কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে সাহায্য করবে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে অংশগ্রহণকারীর বয়স অন্তত ২১ বছর হতে হবে এবং তাদের একটি গাড়ি পাঁচ সপ্তাহ পার্ক করে রাখতে হবে। তাদের যাতায়াতের অভ্যাসগুলো ‘গোকারমা’ (GoCarma) নামের একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারি করা হবে, যা ট্রিপ এবং গাড়ির মাইলেজ ট্র্যাক করবে। সফলভাবে চ্যালেঞ্জটি শেষ করতে পারলে পরিবারগুলো ৬০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব গভর্নমেন্টস থেকে প্রাপ্ত ২০ লাখ ডলারের অনুদানের সাহায্যে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ফলাফল বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল এবং সেসময় মানুষের হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের হার ১৬.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এই বড় পরিসরের গবেষণার মাধ্যমে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ ট্রাফিক নীতি প্রণয়ন করা সহজ হবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনলাইনে অনেকেই নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, সমালোচকদের দাবি—লস অ্যাঞ্জেলেসের গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো এতটা ব্যবহারোপযোগী নয়। একজন মন্তব্যকারী আক্ষেপ করে বলেন, গাড়িতে যে পথ যেতে ১৫ মিনিট লাগে, বাসে সেখানে ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়; তাই কোনো অর্থের বিনিময়েই তিনি এই সুবিধা ছাড়বেন না। অন্যদিকে, অনেকেই আবার মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই অভিনব উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন। আগ্রহী বাসিন্দারা লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এই চ্যালেঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন এবং বায়ুদূষণ কমানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের অ্যাডামস-নরম্যান্ডি এলাকায় বেসবল ব্যাট দিয়ে পথচারী ও যানবাহনে হামলার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে নগর পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় জরুরি নম্বরে একাধিক ফোনকল আসে। অভিযোগে বলা হয়, এক ব্যক্তি বেসবল ব্যাট হাতে পথচারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং চলাচলকারী ও দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িতে আঘাত করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওই ব্যক্তিকে ব্যাট হাতে দেখতে পায়। পুলিশের দাবি, তাকে বারবার অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। বরং ব্যাট হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার দৃশ্যও পর্যালোচনা করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, কতজন সদস্য গুলি চালিয়েছেন এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করা আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে তিন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটার পর পুরো এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, ওই এলাকার কারও খোঁজখবর নেওয়ার জন্য (ওয়েলফেয়ার চেক) পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাহুয়েঙ্গা বুলেভার্ডের কাছে উইলকক্স অ্যাভিনিউয়ের ওই অ্যাপার্টমেন্টে যায়। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করার পরই তারা তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থল থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত নিহতদের বয়স বা পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। একসাথে তিনজনের এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকাটিতে শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তার পেছনের পরিস্থিতি উদ্ঘাটন করতে রাতভর ঘটনাস্থলে অবস্থান করে নিবিড় তদন্ত চালিয়েছেন গোয়েন্দারা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং বিস্তারিত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর অভিযানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত সহিংস বিক্ষোভে পুলিশের ওপর আগুন জ্বালানো বস্তু ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে তিন বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ৪২ বছর বয়সী ইসমাইল ভেগা। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টলেক এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ৮ জুন ডাউনটাউন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভের সময় তিনি অন্যদের সঙ্গে মহাসড়কের ওপরের সেতুতে অবস্থান করেন। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) সদস্যরা নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালানো কার্ডবোর্ড, শুকনো গাছপালা ও অন্যান্য জ্বলন্ত বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিকে নিক্ষেপ করেন। আদালতে দাখিল করা স্বীকারোক্তিতে ভেগা বলেন, তিনি জানতেন যে সেতুর নিচে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন এবং আগুন জ্বালানো বস্তু নিক্ষেপ করলে তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবুও তিনি অন্যদের সঙ্গে আগুন লাগানো বস্তু প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন এবং একটি জ্বলন্ত কার্ডবোর্ড সিএইচপির একটি গাড়ির দিকে ছুড়ে মারেন, যা গাড়িটির ওপর গিয়ে পড়ে। তদন্তে আরও উঠে আসে, বিক্ষোভ চলাকালে ভেগা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক পাথরও নিক্ষেপ করেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের কাজ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই তিনি এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলার নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত সহিংস এবং দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছিল। প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের এক সার্জেন্ট আদালতে লিখিত বিবৃতিতে জানান, ওই দিনের ঘটনা তার কর্মজীবনের অন্যতম সহিংস অভিজ্ঞতা ছিল এবং এর মানসিক প্রভাব তার পরিবারেও পড়েছে। এই মামলায় ভেগা পঞ্চম ব্যক্তি, যিনি সাজা পেলেন। একই ঘটনায় অভিযুক্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেসের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ আগস্ট। অন্যদিকে প্রধান আসামি অ্যাডাম চার্লস পালের্মোর সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা ১৪ ডিসেম্বর। তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। তদন্তে সহযোগিতা করেছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রমাগত সম্প্রসারিত শহুরে কাঠামোর মাঝে খুব কম ভবনই পুরোনো দিনের সত্যিকারের স্মৃতি বহন করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২৪১৪ ফোর্থ অ্যাভিনিউয়ের ‘অ্যালিস লিঞ্চ হাউস’। ১৯২২ সালে কবি অ্যালিস লিঞ্চের জন্য ওয়েস্ট অ্যাডামস টেরেসের ঐতিহাসিক ও অভিজাত এলাকায় নির্মিত এই সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় বাড়িটি লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘অ্যাডোবি’ বা রৌদ্রে শুকানো কাদামাটির ইট দিয়ে তৈরি সত্যিকারের স্থাপত্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত। ১৯২০-এর দশকে স্প্যানিশ কলোনিয়াল রিভাইভাল ধাঁচের কাঠ-কাঠামোর ওপর পলেস্তারা করা সাধারণ বাড়িগুলোর চেয়ে এটি সম্পূর্ণ আলাদা, কারণ এটি আক্ষরিক অর্থেই কাদামাটির ব্লক স্তরে স্তরে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে এমন আসল ‘অ্যাডোবি’ পদ্ধতির মাত্র ৪০টির মতো বাড়ি অবশিষ্ট রয়েছে, যা আজও ক্যালিফোর্নিয়ার অতীতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন বাজারের মানদণ্ডে বেশ আকর্ষণীয় দামেই, অর্থাৎ ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ ডলারে বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলা হয়েছে। স্থপতি হেনরি হারউড হিউইট এবং অ্যাডোবি বিশেষজ্ঞ জন বায়ার্সের যৌথ নকশায় মেক্সিকান কারিগরদের প্রাচীন ও দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এটি নির্মিত হয়েছিল। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এই স্থাপত্যশৈলীকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য পরিচিত বায়ার্স নিজেই ইটের ব্লক ও টাইলসসহ বাড়িটির বেশিরভাগ নির্মাণসামগ্রী সরাসরি নির্মাণস্থলে হাতে তৈরি করেছিলেন। বায়ার্সের সেই পরিশ্রমের ফসল এই দ্বিতল বাড়িটির আয়তন প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট, যা একটি কেন্দ্রীয় উঠোনকে ঘিরে ইংরেজি 'ইউ' (U) আকৃতিতে তৈরি করা হয়েছে। কাদামাটির পুরু দেয়াল, আসল কাঠের কড়িকাঠ, খিলানযুক্ত কাঁচের দরজা এবং ইটের তৈরি বিশাল অগ্নিকুণ্ড বাড়িটির অন্দরমহলকে দিয়েছে এক অনন্য সাবেকি রূপ। চারটি বেডরুম ও তিনটি বাথরুমের এই বাড়িটিতে আধুনিকতার ছোঁয়াও দেওয়া হয়েছে খুব সতর্কতার সঙ্গে। কংক্রিটের সিঙ্ক ও আধুনিক রান্নাঘরের ক্যাবিনেটগুলো এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে ম্লান না করে বরং আরও ফুটিয়ে তুলেছে। বাইরের কাদামাটির দেয়ালঘেরা উঠোনটি আজও এই শহরের বুকে এক বিরল নির্জনতার অনুভূতি দেয়। স্প্যানিশ ও মেক্সিকান শাসনামলে লস অ্যাঞ্জেলেসে শত শত এমন মাটির বাড়ি থাকলেও ভূমিকম্প, অবহেলা এবং নতুন নির্মাণের আগ্রাসনে তার বেশিরভাগই চিরতরে হারিয়ে গেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এসে এই রৌদ্রে শুকানো মাটির নির্মাণপদ্ধতি সাধারণ চর্চার বদলে এক রোমান্টিক শখে পরিণত হয়। ১৯৯৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬২১ নম্বর ‘ঐতিহাসিক-সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া অ্যালিস লিঞ্চ হাউসটি সেই পুনর্জাগরণ পর্বের টিকে থাকা অন্যতম অক্ষত একটি নিদর্শন। এটি কেবল সময়ের ফ্রেমে বন্দি কোনো জাদুকরী প্রদর্শনীর বস্তু নয়, বরং এটি এমন একটি বাসযোগ্য বাড়ি, যার কাদামাটির পুরু দেয়াল আজও সকালের শীতল বাতাস ও বিকালের উষ্ণতাকে পরম যত্নে ধরে রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে টানা দুই বছর কমার পর আবারও বেড়েছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। নতুন এই পরিসংখ্যান শহরের মেয়র ক্যারেন ব্যাসের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আসন্ন পুনর্নির্বাচনে গৃহহীনতা কমানোর প্রতিশ্রুতিকেই তিনি তার অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির চলতি বছরের বার্ষিক গণনা অনুযায়ী, শহরে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রাস্তায়, ফুটপাতে বা নিজস্ব গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা, যা এক বছরে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে প্রায় ৪৫ হাজার ১৯৪ জন গৃহহীন মানুষ রয়েছেন। মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে বলেন, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় সেবার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে তার দাবি, ২০২৩ সালের তুলনায় শহরে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এখনো প্রায় ১১ শতাংশ কম এবং তার প্রশাসন এক হাজারের বেশি গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, শহরের বর্তমান কৌশল স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। মেয়রের বহুল আলোচিত ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির আওতায় হাজারো মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়ে নেওয়া হলেও, LAHSA-এর পৃথক তথ্য অনুযায়ী মে মাসের শেষ নাগাদ তাদের প্রায় ৪১ শতাংশ আবারও গৃহহীন অবস্থায় ফিরে গেছেন। সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথ্যা রামান, যিনি মেয়র নির্বাচনে ক্যারেন ব্যাসের প্রতিদ্বন্দ্বী, বলেছেন এই ফলাফল হতাশাজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। তার অভিযোগ, সিটি হলের বর্তমান নীতিতে মানুষকে স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। গৃহহীনতা মোকাবিলা ছিল ক্যারেন ব্যাসের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। নতুন এই পরিসংখ্যান সেই দাবিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে LAHSA-ও ফেডারেল অর্থায়ন নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ায় গৃহহীনতা মোকাবিলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে কী কী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী ইতোমধ্যে কোনোভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এমন কোনো সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের সময়কাল, নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে অবস্থান এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্যতা নিশ্চিত করার পর নাগরিকত্বের জন্য ফরম এন-৪০০, অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনেক আবেদনকারী অনলাইনে এই ফরম জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও প্রস্তুত করতে হয়। পরবর্তী ধাপে ফরম এন-৪০০ জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ দেয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী নিজের মামলার অগ্রগতি ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ পাঠায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আঙুলের ছাপ, ছবি বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে। বায়োমেট্রিকস ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ধাপ শেষ হলে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এই সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্বের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ইংরেজি ও নাগরিকত্ব জ্ঞান পরীক্ষার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হতে পারে। সাক্ষাৎকারের পর ইউএসসিআইএস আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হতে পারে, অতিরিক্ত নথি বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে, অথবা আবেদনকারী যোগ্য নন বলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমবার সফল না হলে আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স গ্রহণের জন্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে ইউএসসিআইএস আলাদা নোটিশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত ফরমের প্রশ্নমালা পূরণ, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রিন কার্ড জমা দেওয়ার পর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশনের সনদ দেওয়া হয়। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্বের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নতুন নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত ফরম, নির্দেশনা এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সরকারি ব্যবস্থা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
গৃহহীন সংকট মোকাবিলায় বছরে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দুই বছরের টানা হ্রাসের পর ২০২৬ সালের নতুন তথ্য-উপাত্তে এই বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ও কাউন্টিতে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে রাস্তাঘাট, ফুটপাত এবং অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী চরম গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭.৯ শতাংশ। সংকট নিরসনে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস-এর বিশেষ কর্মসূচি 'ইনসাইড সেফ'-এর পেছনে চলতি বছরই প্রায় ১০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি গৃহহীন ব্যক্তির পেছনে শহরের প্রায় ৩৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এছাড়া 'প্রজেক্ট হোমকি' ও কাউন্টির ভোটারদের অনুমোদিত 'মেজার এ' সেলস ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারসহ সিটি ও কাউন্টি প্রশাসন যৌথভাবে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে। তবে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সংকটের গভীরতা বাড়তে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো। তাদের মতে, প্রশাসনের ব্যর্থতা, সুনির্দিষ্ট রূপরেখার অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার দায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়েছেন মেয়র ক্যারেন বাস। মেয়র কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে জ্বালানি, নিত্যপণ্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে কম আয়ের বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর তহবিল ছাঁটাইয়ের ফলে গৃহহীনদের জন্য রক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে গেছে। তবে আসন্ন মেয়র নির্বাচনের মুখে লস অ্যাঞ্জেলেসে এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রমন এই অস্থায়ী আশ্রয় ব্যবস্থার সমালোচনা করলেও, তার নিজস্ব বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার খবরও সম্প্রতি গণমাধ্যমে সামনে এসেছে। এদিকে অঞ্চলটির গৃহহীন ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী সংস্থা 'লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি' (LAHSA)-র পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সাধারণত বছরের শুরুর দিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এবার ব্যাপক বিলম্বের পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলটি প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। এমনকি চরম অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে সংস্থাটির বেশ কিছু প্রস্তাবিত বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে মার্কিন নির্দেশক কর্তৃপক্ষ। সার্বিকভাবে, বিশাল বাজেট সত্ত্বেও লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ইতিবাচক ফল না আসায় নগর প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের টহল গাড়ি দ্রুত পথ করে দিতে এবার নতুন প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি)। বিভাগটি এমন নতুন টহল গাড়ি মোতায়েন শুরু করেছে, যেগুলোর বিশেষ স্বল্প-কম্পাঙ্কের (লো-ফ্রিকোয়েন্সি) সাইরেন শুধু শোনা নয়, আশপাশের চালক ও পথচারীরা শরীরেও অনুভব করতে পারবেন। এর লক্ষ্য জরুরি সাড়া দেওয়ার সময় কমানো, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং জননিরাপত্তা আরও জোরদার করা। এলএপিডির নতুন কালো-সাদা টহল গাড়িতে যুক্ত করা হয়েছে ‘ফেডারেল সিগন্যাল রাম্বলার’ নামে পরিচিত একটি লো-ফ্রিকোয়েন্সি সতর্কতা ব্যবস্থা। এটি প্রচলিত সাইরেনের সঙ্গে একযোগে কাজ করে এমন কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ তৈরি করে, যা আধুনিক শব্দনিরোধক গাড়ির ভেতরেও সহজে পৌঁছায়। ফলে চালকেরা অনেক আগেই জরুরি যানবাহনের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সাড়া দিতে পারেন। এছাড়া নতুন টহল গাড়িতে ‘ফেডারেল সিগন্যাল সিঙ্ক মডিউল’ও যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একাধিক পুলিশ গাড়ি একই সময়ে সমন্বিতভাবে পূর্বনির্ধারিত জনসচেতনতামূলক বার্তা সম্প্রচার করতে পারবে। বড় ধরনের অভিযান, জরুরি অবস্থা কিংবা কোনো এলাকা খালি করার সময় ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একযোগে সাধারণ মানুষের কাছে একই নির্দেশনা পৌঁছে দিতে পারবেন। এলএপিডির ভাষ্য, প্রচলিত সাইরেনের তুলনায় নতুন লো-ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ আধুনিক শব্দনিরোধক যানবাহনের ভেতরে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারে। এতে জরুরি সাড়া দেওয়ার সময় চালকদের প্রতিক্রিয়া দ্রুত হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পথচারী, চালক এবং পুলিশ সদস্য—সবার নিরাপত্তা বাড়াবে। পুলিশ বিভাগ আরও জানিয়েছে, মোটর ট্রান্সপোর্ট ডিভিশন এবং সিটি ভেন্ডর অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগে টহল গাড়ির অভ্যন্তরীণ নকশা পরিবর্তন করে এই প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত করদাতার অর্থ ব্যয় ছাড়াই নতুন সুবিধাগুলো যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এলএপিডি জানিয়েছে, নতুনভাবে নকশা করা টহল গাড়িগুলো ধাপে ধাপে পুরো বহরে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বড় ধরনের অভিযান ও জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিত ঘোষণাব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করবেন ঘটনাস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর নবনির্বাচিত ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বাফলার কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সভাপতি ইলিয়াস এম. শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলের নেতৃত্বে নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সদ্যবিদায়ী কমিটির সদস্য, নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ার ড. রুবিনা নাজিব নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৯টি বাংলাদেশি সংগঠনকে নিয়ে বাফলা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করে আসছে। নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সহ-সভাপতি দাউদ বাফাতিয়া, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি খোরশেদ আলম রতন, পাবলিক রিলেশনস অফিসার মাসুক আল হোসাইন এবং কালচারাল সেক্রেটারি সায়লা রুমি। শপথ গ্রহণের পর বক্তব্যে সভাপতি ইলিয়াস এম. শিকদার সদ্যবিদায়ী কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাফলা দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুল বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেডসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কমিটি কাজ করবে। এ সময় নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দায়িত্ব নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সদ্যবিদায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বাফলা লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থ, ঐক্য, সম্প্রীতি ও সার্বিক কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের বয়েল হাইটস এলাকার একটি বিশাল কোল্ড স্টোরেজে (হিমাগার) সপ্তাহব্যাপী ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এখন এক অদ্ভুত ও মারাত্মক সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগুনে হিমাগারটির প্রায় ৪ কোটি পাউন্ড হিমায়িত খাবার (মাংস, মাছ ও সবজি) নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় এগুলো এখন প্রচণ্ড গরমে পচতে শুরু করায় পুরো এলাকা জুড়ে লাশের মতো দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই পুতিগন্ধময় পরিবেশের কারণে তাদের শ্বাস নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ১৭ জুন ৫ লাখ বর্গফুটের এই বিশাল গুদামটিতে আগুন লাগে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বলতে থাকা এই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের লাখ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহারের পর গত বুধবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে হিমাগারে থাকা সাড়ে ৮ কোটি পাউন্ড খাবারের মধ্যে অর্ধেকই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ ফ্রিজিং ব্যবস্থা না থাকায় পচে গেছে। হিমাগারের ঠিক এক ব্লক দূরে থাকা কেলভিন ভাসকুয়েজ নামের এক বাসিন্দা জানান, "এখানকার গন্ধটা একদম কোনো মরা পশুর বা লাশের গন্ধের মতো। গত কয়েকদিন ধরে এখানকার মানুষেরা মাথাব্যথা, গলাব্যথা এবং বমি বমি ভাবসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।" হিমাগারটি লিজ নিয়ে পরিচালনা করত 'লিনেজ লজিস্টিকস' নামের একটি কোল্ড-স্টোরেজ কোম্পানি। তারা এলাকা পরিষ্কার করার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিলেও এই বিপুল পরিমাণ পচা খাবার কীভাবে এবং কোথায় ফেলা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি লস অ্যাঞ্জেলেসের স্বাস্থ্য বিভাগ। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন ব্যাস এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হিমাগারের ছাদে থাকা বিশাল সোলার প্যানেলে পরীক্ষার কাজ চলার সময় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। লিনেজ লজিস্টিকস এই ঘটনার জন্য সোলার কোম্পানি 'আল্টাস পাওয়ার'-কে দায়ী করেছে। উল্লেখ্য, দুই বছর আগেও এই ভবনের সোলার প্যানেলে আগুন লেগেছিল, কিন্তু সে যাত্রায় বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশের রাস্তাঘাট এখন পুড়ে যাওয়া খাবার এবং নোংরা পানির স্রোতে ভেসে যাচ্ছে, যা দ্রুত পরিষ্কার না করলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড হিলসে অবস্থিত ১০৩ বছরের পুরোনো একটি বিলাসবহুল এস্টেট ভাড়ার জন্য বাজারে এসেছে, যা শহরটির ইতিহাসের অন্যতম দামি ভাড়াবাড়ি হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। 'পার্ক হিল এস্টেট' নামের এই সুবিশাল বাড়িটির একসময়ের মালিক ছিলেন বিখ্যাত পপতারকা কেটি পেরি। বাড়িটিতে থাকতে হলে মাসে ২ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে। এমনকি বছরের নির্দিষ্ট সময় এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের উৎসবের ওপর ভিত্তি করে এই ভাড়া মাসে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্রোকাররা। ৩ একর জমির ওপর নির্মিত এই মনোরম বাড়ি থেকে শহরের দিগন্ত ও মহাসাগরের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ১৯২৩ সালে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার সি.এফ. ডিউইটের হাত ধরে নির্মিত ৮১৫৯ হলিউড বুলেভার্ডের এই বাড়িটির ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। পরবর্তীকালে এটি কিংবদন্তি সংগীত প্রযোজক রালফ পিয়ারের মালিকানায় ছিল, যার আমন্ত্রণে ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা বা ডিন মার্টিনের মতো তারকারা এখানে আসতেন। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাডেল, ড্রেক, কেভিন হার্ট, ড্যানিয়েল কালুয়া ও লুইস হ্যামিল্টনের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা এখানে সময় কাটিয়েছেন। জানা যায়, ২০১১ সালে কেটি পেরি ও তার তৎকালীন স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড সাড়ে ৬ মিলিয়ন ডলারে বাড়িটি কিনলেও তারা কখনোই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি। তবে কেটি পেরি ইয়োগা ও পাইলেটিসের জন্য বাড়ির ভেতরের একটি গ্রিনহাউস ব্যবহার করতেন। ২০১৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তারা বাড়িটি বর্তমান মালিক ও লাস ভেগাসের হোটেল ডেভেলপার লরেঞ্জো ডউমানির কাছে ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে পুরোপুরি সংস্কার করা এই বাড়িটিকে আধুনিক বিলাসবহুল জীবনযাপনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এখানে ৯টি বেডরুম, ১১টি বাথরুম, একটি ভূমধ্যসাগরীয় ধাঁচের মূল বাড়ি, দ্বিতল পুল হাউস এবং একটি বিচ্ছিন্ন কাসিটা রয়েছে। ইতালির ফ্লোরেন্স থেকে আমদানি করা মার্বেল পাথর এবং ৪৫ ফুট উঁচু ক্যাথেড্রাল-স্টাইলের লিভিং রুম বাড়িটির আভিজাত্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে রিসোর্ট-স্টাইলের ইনফিনিটি পুল, স্পা, ইনডোর-আউটডোর জিম, ইনফ্রারেড সনা, স্টিম রুম, হোম থিয়েটার এবং একটি পিকলবল কোর্ট। ব্রোকাররা জানিয়েছেন, যদিও বেভারলি হিলস বা বেল-এয়ারে এর চেয়েও বেশি ভাড়ার বাড়ি রয়েছে, তবে হলিউড হিলস এলাকার জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন রেকর্ড।
উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম সম্মেলন ফোবানা ২০২৬ এ অংশগ্রহণে আগ্রহী সদস্য সংগঠনগুলোর নিবন্ধনের শেষ সময় আগামী ৩০ জুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ। খালেদ রউফ বলেন, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল ও অংশগ্রহণমূলক করতে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং কানাডার সদস্য সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য যেসব সংগঠন এখনো নিবন্ধন সম্পন্ন করেনি, তাদের দ্রুত নিবন্ধন করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তিনি জানান, সংগঠন নিবন্ধনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আগ্রহীদের কালচারাল মেম্বারশিপ নবায়ন, হাউস রেজিস্ট্রেশন এবং নির্ধারিত সাংস্কৃতিক স্লট নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলছে। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি বলেন, সময়মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। তিনি আরও জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে ঘিরে প্রস্তুতি ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন, হোটেল বুকিং, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন কমিউনিটি কার্যক্রমের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। খালেদ রউফ বলেন, “ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়, এটি উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। তাই সকল সদস্য সংগঠনকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তম সম্মেলন ফোবানা ২০২৬ কে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৪ থেকে ৬ তারিখ ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ। খালেদ রউফ বলেন, চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী ফোবানার ৪০তম কনভেনশনকে স্মরণীয় ও ফলপ্রসূ করতে বিভিন্ন বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দুপুর ১টায় ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলের বলরুমে একটি বিশেষ বিজনেস নেটওয়ার্কিং লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন ব্যাস। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ আরও বলেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, কানাডা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করাই এই নেটওয়ার্কিং আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি জানান, সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম, হোটেল বুকিং এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা ২০২৬ এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, সাহিত্য আড্ডা, ইয়ুথ ফোরাম, স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সংযোগমূলক নানা আয়োজন থাকবে। খালেদ রউফ আশা প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের কনভেনশনে অংশ নেবেন। ৪০তম ফোবানা কনভেনশন উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বৈশ্বিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় চুরি করে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩১৭ কোটি টাকা) মূল্যের এক বিশাল চিকিৎসা বা হসপিস জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ওয়াশিংটনে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি জাতীয় চিরুনি অভিযানের অংশ হিসেবে এই লস অ্যাঞ্জেলেসের বৃহৎ জালিয়াতি চক্রটিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই জালিয়াতির অর্থ দিয়ে চক্রের মূল হোতা একটি বিলাসবহুল রোলস রয়েসসহ একাধিক দামি গাড়ি কিনে আলিশান জীবনযাপন করছিলেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এই করদাতাদের অর্থ চুরির মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের ভ্যান নাইসের একজন হসপিস মালিকসহ আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, চলতি বছর দেশজুড়ে চালানো এই বিশেষ অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৫টি রাজ্য থেকে রেকর্ডসংখ্যক ৪৫৫ জন চিকিৎসা খাতের প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রগুলো সব মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার অন্তত চারটি হসপিস বা সেবা কেন্দ্রের মালিক ৫৯ বছর বয়সী ওরেন ডেভিড শ্যাচার নামের এক ব্যক্তিকে এই জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি মূলত একটি স্থানীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের (funeral home) কর্মচারীদের ঘুষ দিয়ে মৃত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে সেই মৃত ব্যক্তি অথবা গুরুতর অসুস্থ নন এমন সাধারণ মানুষদের নামে ভুয়া হসপিস সেবার বিল তৈরি করে সরকারি ‘মেডিকেয়ার’ তহবিল থেকে লাখ লাখ ডলার তুলে নিতেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওরেন ডেভিড শ্যাচার জালিয়াতি করা এই সরকারি অর্থ নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাচার করতেন। এমনকি নিজের হসপিস ব্যবসার তহবিল থেকে সরাসরি ১৫ হাজার ডলার তুলে নিয়ে ৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল ‘রোলস রয়েস ফ্যান্টম’ গাড়ি লিজ নেওয়ার জন্য ডাউন পেমেন্ট বা অগ্রিম অর্থ হিসেবে প্রদান করেছিলেন। এই জালিয়াতি চক্রে তাকে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগে আব্রাহাম শিন এবং জেনি চই নামের আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ক্যালিমোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসায়লি এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলো মূলত সমাজের বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ এবং অসহায় মানুষদের সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই প্রতারকদের পকেট ভারী করার বা ধনী হওয়ার জায়গা নয়।" এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের এই জালিয়াতির সমান্তরালে ক্রিস্টিনা মারেক নামের অন্য এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি জাল প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে প্রায় ১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সরকারি ‘মেডি-ক্যাল’ তহবিল আত্মসাৎ করেছেন। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, আমেরিকান করদাতাদের অর্থ এভাবে আর কাউকে লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। যারা দেশের নাগরিকদের ঠকানোর চেষ্টা করবে, তাদের খুঁজে বের করে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাসহ আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই বিপুল পরিমাণ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অপরাধে লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে আসামিদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালত লস অ্যাঞ্জেলেসের ‘সাংকচুয়ারি সিটি’ নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছিল যে লস অ্যাঞ্জেলেসের সাংকচুয়ারি সিটি নীতি ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা সীমিত করছে এবং এর ফলে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি এবং মামলাটি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে সংশোধিত অভিযোগ দাখিলের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সাংকচুয়ারি সিটি নীতির আওতায় অনেক শহর ও স্থানীয় প্রশাসন ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নির্দিষ্ট তথ্য বিনিময় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ সীমিত রাখে। এ ধরনের নীতির সমর্থকদের দাবি, এতে অভিবাসী সম্প্রদায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বেশি আস্থা রাখতে পারে এবং অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত হয়। অন্যদিকে নীতির সমালোচকদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এ ধরনের সীমাবদ্ধতা ফেডারেল অভিবাসন আইন কার্যকর করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় কমিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও আইনি লড়াই নতুন নয়। বিশেষ করে সাংকচুয়ারি সিটি নীতি নিয়ে ফেডারেল সরকার ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কিংবা শহর প্রশাসনের মধ্যে বহুবার বিরোধ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু লস অ্যাঞ্জেলেসের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সাংকচুয়ারি সিটি নীতি অনুসরণকারী শহর ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন ইস্যুতে ফেডারেল ও স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে চলমান বিতর্কেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যানোগা পার্ক এলাকায় এক ব্যক্তি ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এলএএফডি) তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে ওউয়েনসমাউথ অ্যাভিনিউয়ের ৮০০০ নম্বর ব্লকের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স থেকে গুলির ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তারা তিনজনকে মৃত অবস্থায় পান। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি একটি সম্ভাব্য পারিবারিক হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। পুলিশের ধারণা, মৃত ব্যক্তিটি দুই শিশুর বাবা হতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত দুই শিশুর বয়স ১৫ বছরের নিচে। তবে তাদের সঠিক বয়স এবং পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বেসবল মাঠের পাশের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সজুড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ঘটনাস্থলের বাইরে উদ্বিগ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড়ও দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালান। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটেছে বা এর পেছনে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা নিহতদের পারিবারিক সম্পর্ক, সাম্প্রতিক পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে প্রতিবেশী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। ক্যানোগা পার্ক লস অ্যাঞ্জেলেসের সান ফার্নান্দো ভ্যালি অঞ্চলের একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। সেখানে এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে কর্তৃপক্ষ তা জনসম্মুখে প্রকাশ করবে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।" পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC) জানিয়েছে, এবারের কনভেনশনকে স্মরণীয় করে তুলতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি আলোচনা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হবে। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” থিমকে সামনে রেখে এবারের ফোবানার আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের অন্যতম লক্ষ্য। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো ইকবাল সহ আয়োজক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের আয়োজন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের পর্যটন আকর্ষণ, বিনোদন কেন্দ্র এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ কনভেনশনকে ভিন্নমাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ। সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী কমিউনিটিতে। নিহত সাকিব আলি (২৯) জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক ডাঃ মুহম্মদ আলি মানিক-এর ছেলে। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) লস অ্যাঞ্জেলেস-এর ম্যারিনা ডেল রে এলাকায় নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাকিব আলি জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে অ্যামাজন মিউজিক-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও তিনি পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তবে গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচিত এক ব্যক্তিকে খোঁজ নিতে বলা হয়। তিনি বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান এবং বারবার ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সাকিবের নিথর দেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে সাকিবের বাবা-মা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। লস অ্যাঞ্জেলসে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ আটলান্টা-এ নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় দফা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে। এই অকাল মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ইরানের নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাতিজি ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইস সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অবস্থান করলেও, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে তাদের স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়। এরপরই তাদের আটক করা হয় এবং বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন কাস্টডিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উল্লেখ্য, জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে তীব্র উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।