সমুদ্রসৈকত

বাংলাদেশি মা-মেয়ে I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে সাগরে ডুবে প্রাণ গেল বাংলাদেশি মা-মেয়ের

যুক্তরাজ্যের এসেক্সে সমুদ্রসৈকতে জোয়ারের প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া এক শিশুকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী ও তাঁর কিশোরী মেয়ে। গত বুধবার বিকেলে এসেক্সের ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।   পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ওয়েস্ট মার্সি সৈকতে বেড়াতে গিয়ে হঠাৎ সাত বছর বয়সী এক শিশু জোয়ারের তোড়ে সাগরে ভেসে যেতে থাকে। এ সময় শিশুটিকে বাঁচাতে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন মা সেলিনা রহমান এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ে। কিন্তু শিশুটিকে স্রোতের মুখ থেকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে তারা দুজনই সাগরের পানিতে তলিয়ে যান।   দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে কোস্টগার্ড, লাইফবোট, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং জরুরি সেবার একাধিক দল। এসেক্স পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী থেকে থাকলে অথবা কারও কাছে ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও চিত্র সংরক্ষিত থাকলে তা দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার, শেষ বিদায়ের সব খরচ বহন করলেন অজ্ঞাত দাতা

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বেলিংহামের ছয় বছর বয়সী কিলিয়ান গনজালেসের মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এক অজ্ঞাত দাতা। সমুদ্রসৈকতে ড্রিফটউডের ভারী গুঁড়ির আঘাতে প্রাণ হারানো শিশুটির শেষকৃত্যের সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।    কিলিয়ানের মা সোনজা ম্যাককার্টনি জানান, অজ্ঞাত এই সহায়তা তাদের জন্য গভীর স্বস্তির। তিনি বলেন, “কিলিয়ান সবাইকে জড়িয়ে ধরতে ভালোবাসত, সবার মুখে হাসি ফোটাত। সে ছিল ভীষণ মেধাবী এবং সবকিছু শিখতে আগ্রহী একটি শিশু।”    গত ৮ জুলাই বেলিংহামের লিটল স্কোয়ালিকাম বিচে বন্ধুদের তৈরি একটি ড্রিফটউডের কাঠামোর পাশে খেলছিল কিলিয়ান। এ সময় একটি বড় কাঠের গুঁড়ি ভেঙে তার মাথায় পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিয়াটলের হারবারভিউ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যায় থাকার পর রোববার তার মৃত্যু হয়।    কিলিয়ান সম্প্রতি অ্যাল্ডারউড এলিমেন্টারি স্কুলে কিন্ডারগার্টেন শেষ করেছিল। দুর্ঘটনার সময় তার বড় বোন ঘটনাস্থলে ছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক ঘটনার মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে উঠতে তাকে কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হবে।    পরিবারের এক বন্ধুর উদ্যোগে প্রথমে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছিল। এখন কিলিয়ানের মৃত্যুর পর সেই অর্থ চিকিৎসা-সংক্রান্ত বকেয়া বিল এবং পরিবারের অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে। কারণ শেষকৃত্যের পুরো ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন অজ্ঞাত সেই দাতা।    কিলিয়ানের বাবা মার্কোস গনজালেস বলেন, তারা এখনও জানেন না কে এই সহায়তা করেছেন। তবে তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এটি আমাদের কাছে অনেক বড় সহায়তা। যিনি পরিচয় গোপন রেখে এই কাজ করেছেন, তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”    ঘটনাটি বেলিংহামজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ড্রিফটউড দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা সৈকতে পর্যটকদের তাড়া করছে সি লায়ন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ উঠে এলো দুই সি লায়ন, আতঙ্কে দৌড়ে পালালেন পর্যটকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লা জোলা (La Jolla) সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ সমুদ্র থেকে উঠে আসা দুটি বিশাল সি লায়নের তাড়া খেয়ে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে দেখা গেছে পর্যটকদের। পুরো ঘটনাটি একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ভিডিওতে ধরা পড়েছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম The California Post-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন ডিওন রুজিচকা নামে এক ব্যক্তি। ভিডিওতে দেখা যায়, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সৈকতে অবস্থানরত মানুষের দিকে সমুদ্র থেকে উঠে আসে দুটি বড় সি লায়ন। প্রথমে একটি সি লায়ন দ্রুত বালুর ওপর উঠে পর্যটকদের দিকে ছুটে যায়। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সৈকতে থাকা মানুষজন আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি সি লায়নও একইভাবে তীরে উঠে এলে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।   ভিডিওতে দেখা যায়, কেউ সৈকতের উঁচু স্থানে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ সি লায়নের পথ এড়াতে সমুদ্রের দিকেই ছুটছেন। উপস্থিত শিশু, বয়স্কসহ প্রায় সবাই প্রাণভয়ে দৌড়াতে থাকেন। এক পর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ওহ মাই গড!"। পরে কিছুক্ষণ তাড়া করার পর দুটি সি লায়ন আবার দ্রুত সমুদ্রে ফিরে যায়। এটি লা জোলা এলাকায় এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক বছর আগেও একই সৈকতে দুটি সি লায়ন পর্যটকদের তাড়া করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনার পর সান দিয়েগো সিটি প্রশাসন আবারও পর্যটকদের বন্যপ্রাণী থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পয়েন্ট লা জোলা এলাকায় সি লায়নের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে প্রাণীগুলোকে কাছ থেকে দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড়ও বাড়ছে। এর ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শের ঘটনাও আগের তুলনায় বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অনেক পর্যটক সি লায়নের খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের স্পর্শ করতে চান কিংবা সেলফি তুলতে যান। এসব আচরণ শুধু মানুষের জন্যই নয়, প্রাণীগুলোর জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।   যদিও সর্বশেষ ঘটনায় ঠিক কী কারণে সি লায়ন দুটি পর্যটকদের দিকে ধেয়ে গিয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকাল সি লায়নের প্রজনন ও শাবক লালন-পালনের মৌসুম। এ সময় মা ও বাবা সি লায়ন তাদের শাবকের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকে। আশপাশে মানুষকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে মনে করলে তারা আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।   সান দিয়েগো কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে এ ধরনের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই বাড়ায় না, এটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ম্যামাল প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এরও লঙ্ঘন হতে পারে। তাই পর্যটকদের সি লায়ন দেখার জন্য সৈকতের বোর্ডওয়াক বা নির্ধারিত নিরাপদ স্থান ব্যবহার এবং প্রাণীগুলোর কাছ থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
বাহামায় হাঙরের ভয়াবহ হামলা, বড় ভাইয়ের সাহসিকতায় প্রাণে বাঁচল ১২ বছরের ছোট ভাই

পরিবার নিয়ে সমুদ্রসৈকতে আনন্দময় ছুটি কাটানোর মুহূর্তটি হঠাৎ করেই পরিণত হলো এক বিভীষিকায়। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর হাঙরের ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। তবে বড় ভাইয়ের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার কারণে প্রাণে বেঁচে গেছে ওই কিশোর। টেক্সাসের ফ্রেন্ডসউডের বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী পার্কার রোল তার ১৬ বছর বয়সী ভাই জ্যাকের সঙ্গে গত মঙ্গলবার এক্সুমা কে-তে একটি নৌকায় ভ্রমণ করছিল। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।   স্ট্যানিয়েল কে দ্বীপের একটি উপসাগরে পরিবারের বাকি সদস্যদের রেখে দুই ভাই যখন একটু দূরে যায়, তখন পার্কার একটি বিশাল হাঙর দেখতে পায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ক্লিক-টু-হিউস্টনকে পার্কার জানায়, সে প্রথমে হাঙরটিকে একটি বড় পাথর ভেবে তার ভাই জ্যাককে দেখতে বলেছিল। হাঙরটি খুব কাছাকাছি চলে আসায় জ্যাক ভেবেছিল এটি হয়তো ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই হাঙরটি পার্কারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জ্যাকের ভাষ্যমতে, হঠাৎ এক কানে তালা লাগানো চিৎকার শুনতে পায় সে এবং তাদের চারপাশের পরিষ্কার নীল জলরাশি নিমিষেই গাঢ় লাল রঙে পরিণত হয়।   যন্ত্রণায় কাতর পার্কার কোনোমতে সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। হাঙরের কামড়ে তার পায়ের হাড় পর্যন্ত বেরিয়ে গিয়েছিল, যা তার কাছে বারবার ছুরি চালানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক মনে হচ্ছিল। এই অবস্থায় জ্যাক একটুও সময় নষ্ট না করে ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যায়। সে আশেপাশের সবাইকে দ্রুত পানি থেকে উঠে আসতে বলে এবং পার্কারের সুইমস্যুট খুলে সেটি দিয়ে তার ক্ষতস্থান শক্ত করে বেঁধে দেয়, যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।   এ সময় দলের আরেক সদস্য নৌকার ক্রুরা না পৌঁছানো পর্যন্ত হাঙরটিকে দূরে রাখতে সাহায্য করেন। হাঙরটি কোন প্রজাতির ছিল তা জানা না গেলেও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলে টাইগার, হ্যামারহেড এবং বুল হাঙরের মতো আক্রমণাত্মক প্রজাতির আনাগোনা থাকে বলে জানা গেছে।   দুর্গম ওই দ্বীপে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা রেডিও সিগন্যাল না থাকায় উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর নৌকার ক্রুরা সিগন্যাল ফিরে পান এবং বন্দরে পৌঁছালে একটি অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্স পার্কারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার পা ও পায়ের পাতায় মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি সেলাই দিতে হয়েছে।   চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্যাক যদি তাৎক্ষণিকভাবে রক্তপাত বন্ধের ব্যবস্থা না করত, তবে এই হামলা প্রাণঘাতী হতে পারত। বর্তমানে পার্কার ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। উপকূল থেকে এত দূরে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির পরও অঙ্গহানি বা মৃত্যু ছাড়াই প্রাণে বেঁচে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে পার্কার ও তার পরিবার।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় হাঙ্গরের কামড়ে তরুণী গুরুতর আহত, বাঁচালেন লাইফগার্ড

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটার সময় এক তরুণী হাঙ্গরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছেন একজন স্থানীয় লাইফগার্ড।   পলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ওই তরুণীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। গত শনিবার সকালে কুজি সৈকতে এই হাঙ্গরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে তার হাত ও পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা মাইকেল কর্লিস জানান, ওই তরুণী সমুদ্রের তীর থেকে প্রায় একশত ফুট দূরে তার দুই বন্ধুর সাথে সাঁতার কাটছিলেন। ঠিক তখনই হাঙ্গরটি আকস্মিকভাবে তার ওপর আক্রমণ করে বসে। লাইফগার্ড টনি ওয়ালার জানান, হাঙ্গরটি প্রায় এগারো ফুট লম্বা ছিল।   প্রথম উদ্ধারকারী হিসেবে এগিয়ে যাওয়া লাইফগার্ড চার্লি ভার্কো জানান, তিনি নিজের প্যাডেলবোর্ডে থাকার সময় হাঙ্গরটিকে পানি থেকে ওপরে উঠতে দেখেন। হাঙ্গরটির বিশাল আকৃতি দেখে তিনি পুরোপুরি চমকে গিয়েছিলেন।   চার্লি ভার্কো আরও জানান, তিনি তরুণীর দিকে প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই হাঙ্গরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ওই তরুণী আবার পানির ওপরে ভেসে ওঠেন।   সেই সময় সমুদ্রসৈকতে নিজের পরিবারের সাথে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ইয়ান ফার্গুসন নামের একজন অফ-ডিউটি চিকিৎসক। তিনি জানান, আক্রমণের সাথে সাথেই সমুদ্রের পানির একটি বিশাল অংশ রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল।   লাইফগার্ড চার্লি জানান, আহত তরুণী এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের শক্তিতে প্যাডেলবোর্ডে উঠতে পারছিলেন না। তখন চার্লি তার হাত ধরে টেনে সমুদ্রের তীরের দিকে নিয়ে আসতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তীরে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।   সৈকতে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক ফার্গুসন এবং উপস্থিত অন্যান্যরা মিলে দ্রুত ওই তরুণীর ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা করেন। ফার্গুসন জানান, তরুণীর উরুতে প্রায় বারো ইঞ্চি চওড়া কামড়ের দাগ ছিল এবং ভেতরের হাড় দেখা যাচ্ছিল। তার হাতেও একই ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে।   গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ক্ষত সারাতে অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। এই ঘটনার পর ওই এলাকার সব সৈকত আগামী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা থাকবে না

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত রাখার জন্য কোনো স্থাপনা অনুমোদন করা হবে না। রবিবার (২২ মার্চ) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদকৃত স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান।   মন্ত্রী জানান, নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চলমান থাকবে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।   পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন, সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় বালিয়াড়িতে কোনো স্থাপনা রাখা যাবে না এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।   এর আগে, ৯ মার্চ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট দখলমুক্ত করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০