পরিবার নিয়ে সমুদ্রসৈকতে আনন্দময় ছুটি কাটানোর মুহূর্তটি হঠাৎ করেই পরিণত হলো এক বিভীষিকায়। বাহামা দ্বীপপুঞ্জের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর হাঙরের ভয়াবহ হামলার শিকার হয়। তবে বড় ভাইয়ের তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার কারণে প্রাণে বেঁচে গেছে ওই কিশোর। টেক্সাসের ফ্রেন্ডসউডের বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী পার্কার রোল তার ১৬ বছর বয়সী ভাই জ্যাকের সঙ্গে গত মঙ্গলবার এক্সুমা কে-তে একটি নৌকায় ভ্রমণ করছিল। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
স্ট্যানিয়েল কে দ্বীপের একটি উপসাগরে পরিবারের বাকি সদস্যদের রেখে দুই ভাই যখন একটু দূরে যায়, তখন পার্কার একটি বিশাল হাঙর দেখতে পায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ক্লিক-টু-হিউস্টনকে পার্কার জানায়, সে প্রথমে হাঙরটিকে একটি বড় পাথর ভেবে তার ভাই জ্যাককে দেখতে বলেছিল। হাঙরটি খুব কাছাকাছি চলে আসায় জ্যাক ভেবেছিল এটি হয়তো ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই হাঙরটি পার্কারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জ্যাকের ভাষ্যমতে, হঠাৎ এক কানে তালা লাগানো চিৎকার শুনতে পায় সে এবং তাদের চারপাশের পরিষ্কার নীল জলরাশি নিমিষেই গাঢ় লাল রঙে পরিণত হয়।
যন্ত্রণায় কাতর পার্কার কোনোমতে সাঁতরে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। হাঙরের কামড়ে তার পায়ের হাড় পর্যন্ত বেরিয়ে গিয়েছিল, যা তার কাছে বারবার ছুরি চালানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক মনে হচ্ছিল। এই অবস্থায় জ্যাক একটুও সময় নষ্ট না করে ভাইকে বাঁচাতে ছুটে যায়। সে আশেপাশের সবাইকে দ্রুত পানি থেকে উঠে আসতে বলে এবং পার্কারের সুইমস্যুট খুলে সেটি দিয়ে তার ক্ষতস্থান শক্ত করে বেঁধে দেয়, যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়।
এ সময় দলের আরেক সদস্য নৌকার ক্রুরা না পৌঁছানো পর্যন্ত হাঙরটিকে দূরে রাখতে সাহায্য করেন। হাঙরটি কোন প্রজাতির ছিল তা জানা না গেলেও গ্রীষ্মকালে ওই অঞ্চলে টাইগার, হ্যামারহেড এবং বুল হাঙরের মতো আক্রমণাত্মক প্রজাতির আনাগোনা থাকে বলে জানা গেছে।
দুর্গম ওই দ্বীপে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা রেডিও সিগন্যাল না থাকায় উদ্ধারকারীদের বেশ বেগ পেতে হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর নৌকার ক্রুরা সিগন্যাল ফিরে পান এবং বন্দরে পৌঁছালে একটি অপেক্ষমাণ অ্যাম্বুলেন্স পার্কারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার পা ও পায়ের পাতায় মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি সেলাই দিতে হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জ্যাক যদি তাৎক্ষণিকভাবে রক্তপাত বন্ধের ব্যবস্থা না করত, তবে এই হামলা প্রাণঘাতী হতে পারত। বর্তমানে পার্কার ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে। উপকূল থেকে এত দূরে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির পরও অঙ্গহানি বা মৃত্যু ছাড়াই প্রাণে বেঁচে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে পার্কার ও তার পরিবার।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে শিশু পর্নোগ্রাফির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার পর সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সন্ধান করছে দ্য ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) আটলান্টা ফিল্ড অফিস। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে জর্জিয়ার একাধিক কাউন্টিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের লক্ষ্য করে গোপনে ভিডিও ধারণ করতেন। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন পার্ক, মুদি দোকান এবং উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিক মাঠের সাধারণ শৌচাগারে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে কর্তৃপক্ষ এখনও অভিযুক্তের নাম বা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত কারণ জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার, যিনি গোপনে এসব অশ্লীল ভিডিও ধারণের সাথে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জর্জিয়ার পাঁচটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে এসব আপত্তিকর ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লরেন্সভিলের মাউন্টেন ভিউ হাই স্কুল (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে ২০ মার্চ ২০২৬), ড্যাকুলার র্যাবিট হিল পার্ক (২১ মে এবং ১৭ অক্টোবর ২০২৫), ওয়াটকিনসভিলের বাটলারস ক্রসিং পাবলিক্স গ্রোসারি স্টোর (৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), হোশটনের মিল ক্রিক হাই স্কুল (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং জেফারসনের ওল্ড পেন্ডারগ্রাস রোডের ক্রোগার স্টোর (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫)। এই ভয়ানক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি বা তার সন্তান এই অপরাধীর দ্বারা সম্ভাব্য হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন বা তদন্তে সহায়ক কোনো তথ্য দিতে পারেন, তবে তাদের অবিলম্বে সংস্থাটির নির্ধারিত একটি অনলাইন ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাটি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করেছে যে, সকল ভুক্তভোগীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নাইলস টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মেক্সিকোতে শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী টমাস নিল গত ১৭ জুন শিকাগোর ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মেক্সিকো সিটির বেনিটো জুয়ারেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর মেক্সিকান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দ্বিতীয় ধাপের তল্লাশিতে তার মোবাইল ফোনে শিশু পর্নোগ্রাফির অসংখ্য ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। মেক্সিকো সীমান্তরক্ষীরা তাৎক্ষণিকভাবে তার ফোন এবং লাগেজ বাজেয়াপ্ত করে। তল্লাশিতে তার লাগেজের ভেতর থেকে দুটি ল্যাপটপ এবং ছয়টি ইলেকট্রনিক স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে ওই লাগেজসহ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের জর্জ বুশ আন্তঃমহাদেশীয় বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়। হিউস্টনে পৌঁছানোর পরপরই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের গোয়েন্দারা নিলের ফোনে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে শিশু পর্নোগ্রাফির শত শত ফাইলের সন্ধান পান বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত টমাস নিল যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ইলিনয়ের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২১৯-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার তারা এই অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং চলমান তদন্তে কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন। এক বিবৃতিতে ওই মুখপাত্র বলেন, "তদন্তাধীন ওই কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট ২১৯ যেকোনো কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং স্কুল কমিউনিটিকে নিরাপদ রাখতে আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।" অভিযুক্ত টমাস নিল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ২৯ জুন তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিশু পর্নোগ্রাফি বহনের এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ফেডারেল কারাগারে ন্যূনতম ৫ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত সাজা ভোগ করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী সকল মার্কিন নাগরিককে সেদেশে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাস দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করা ব্যক্তিদের জন্য এই বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে। এই নিয়মটি শিশুসহ এমন প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য কোনো দেশেরও নাগরিকত্ব বহন করছেন। মার্কিন আইন পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে যে, কোনো নাগরিক নিজের দেশে প্রবেশের জন্য বিদেশি পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনো দেশের ভ্রমণ অনুমতিপত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। দূতাবাস তাদের নির্দেশনায় আরও স্পষ্ট করেছে যে, কোনো মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার যোগ্য নন। এমনকি দ্বৈত জাতীয়তা সম্পন্ন মার্কিন নাগরিকরা অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে ‘ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন’ বা ইএসটিএ (ESTA) সুবিধার জন্যও আবেদন করতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দ্বৈত নাগরিকদের করা এই ধরনের ইএসটিএ আবেদনগুলো নিয়মিতভাবে প্রত্যাখ্যান বা বাতিল করে দেয়। তাই যেকোনো জটিলতা এড়াতে নিজস্ব পাসপোর্ট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যারা বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের অবশ্যই একটি বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট সাথে রাখতে হবে। ভ্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগেই পাসপোর্টের মেয়াদ পরীক্ষা করে নেওয়ার জন্য নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়ে থাকে অথবা খুব দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে, তবে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগেই তা নবায়ন করে নেওয়া আবশ্যক। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বের অনেক দেশেই প্রবেশের শর্ত হিসেবে পাসপোর্টের ন্যূনতম আরও ছয় মাসের মেয়াদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়ে থাকে। এই কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে পাসপোর্ট নবায়ন না করলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে ভ্রমণকারীদের যাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা আইনি ও প্রশাসনিক ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয়। নাগরিকদের সুবিধার্থে দূতাবাস কিছু করণীয় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে। যাদের প্রথম মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা প্রয়োজন কিংবা যাদের বর্তমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ বা শেষের কাছাকাছি, তাদের দ্রুত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেখানে যোগাযোগ করে পাসপোর্ট অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় নির্ধারণ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ভ্রমণের আগেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। দ্বৈত জাতীয়তা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং আইনি নিয়মকানুন জানতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপারে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা এড়াতে এবং একটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে দূতাবাস এই আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রতিটি নাগরিককে এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মার্কিন দূতাবাস