সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হিউস্টন

হিউস্টনে গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ঘটনাস্থলে হিউস্টন পুলিশ, পুলিশের গাড়ি ও নিরাপত্তা বেষ্টনী দেখা যাচ্ছে। ছবি:সংগৃহীত
হিউস্টনে গাড়িতে গুলি চালিয়ে তিনজনকে আহত, পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজনও আহত হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে চলন্ত গাড়ি লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি রাইফেল দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব হিউস্টনের নর্থ ওয়েসাইড ড্রাইভের ৬৩০০ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।   হিউস্টন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশের কোঠায় বয়সী এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী গাড়িগুলো লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা তিনজন আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।   স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর কর্মী ডেভিড ডেভিস জানান, তিনি ওই ব্যক্তিকে গাড়িগুলোর দিকে গুলি ছুড়তে দেখেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি ও তার সহকর্মীরা চালকদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন এবং পরে নিরাপত্তার জন্য রেস্তোরাঁর ভেতরে আশ্রয় নেন।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সন্দেহভাজনকে অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে তিনি পুলিশের নির্দেশ মানেননি। পরে হিউস্টন পুলিশের তিন কর্মকর্তা এবং টেক্সাস জননিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।   সন্দেহভাজন একাধিক গুলিতে আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, একপর্যায়ে সন্দেহভাজন সেন্ট লুইস স্ট্রিটের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পুলিশকে জানান, বাড়িটি সম্ভবত ওই ব্যক্তির নিজের বাসা। ঘটনার সময় তার হাতে থাকা অস্ত্র একপর্যায়ে আটকে গিয়েছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়। গুলিবর্ষণের কারণ এবং সন্দেহভাজনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে আহত তিন ব্যক্তি কীভাবে গুলির শিকার হয়েছেন, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।   ঘটনাটির পৃথক তদন্ত পরিচালনা করছে হিউস্টন পুলিশ বিভাগ, স্থানীয় জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং টেক্সাস রেঞ্জার্স। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের
মেয়ের জন্য ২০০ ডলার বাড়তি আয়ের খোঁজে নেমে, এখন মাসে ৩২ হাজার ডলার আয় নাসার ইঞ্জিনিয়ারের

দিনের বেলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের একজন 'হিউম্যান পারফরম্যান্স ইঞ্জিনিয়ার'। মহাকাশচারীরা যাতে স্পেসস্যুটে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করেন তিনি। কিন্তু দিনের কাজ শেষে এরিন অ্যান্ড্রুস নামের ৪১ বছর বয়সী এই নারীর জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিজের বেডরুমের ক্লোজেটে (দেয়াল-আলমারি) তৈরি করা একটি অস্থায়ী সাউন্ড বুথে ভয়েসওভার আর্টিস্ট বা কণ্ঠশিল্পী হিসেবে 'সাইড হাসল' করেন তিনি। আর চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এই খণ্ডকালীন কাজ থেকে তিনি এখন মাসে গড়ে ৩২ হাজার ৪০০ ডলার আয় করছেন!   ২০২২ সালের মার্চ মাসে স্বামীবিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একজন 'সিঙ্গেল মাদার' হিসেবে এরিন চেয়েছিলেন মাসে অন্তত ২০০ ডলার বাড়তি আয় করতে, যাতে খরচের চিন্তা ছাড়া তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকে আইসক্রিম খাওয়াতে বা শিশু জাদুঘরে নিয়ে যেতে পারেন। ইন্টারনেটে 'সিঙ্গেল মম সাইড হাসল' লিখে খুঁজতেই তিনি ভয়েসওভারের আইডিয়াটি পান। এরপর মাত্র ২০০ ডলার খরচ করে একটি ভয়েসওভার কোর্স করেন, একটি মাইক্রোফোন কেনেন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওয়ালমার্ট থেকে ম্যাট্রেস টপার কিনে নিজের ক্লোজেটকে মিনি-রেকর্ডিং বুথে পরিণত করেন। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে, তাকে বসে বসে রেকর্ডিং করতে হতো।   অনলাইন ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ফাইভার-এ (Fiverr) প্রোফাইল খুলে কাজ শুরু করেন এরিন। বর্তমানে তিনি অ্যাপল, কোকা-কোলা, পেটস্মার্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির মতো বড় বড় ক্লায়েন্টদের হয়ে করপোরেট ঘোষণা ও ট্রেনিং ভিডিওর ভয়েসওভার দিচ্ছেন। এরিন জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে মানুষ এখন অতি-নিখুঁত কণ্ঠের বদলে আসল মানুষের একটু অমসৃণ ও স্বাভাবিক কণ্ঠ শুনতে বেশি পছন্দ করে, যা তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। চলতি ২০২৬ সালে ইতিমধ্যেই এই সাইড হাসল থেকে তিনি ২ লাখ ২৭ হাজার ডলারের বেশি আয় করেছেন, যা গত ২০২৫ সালের গ্রীষ্মেই নাসায় তার মূল বেতনের অঙ্ককে ছাড়িয়ে গেছে।   বর্তমানে ভয়েসওভারের কাজ থেকে পাওয়া অর্থে তিনি ভ্রমণ করছেন, গাড়ি কিনেছেন এবং মেয়ের কলেজের পড়াশোনার জন্য সঞ্চয় করছেন। তবে নাসার চ্যালেঞ্জিং চাকরিটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছে তার আপাতত নেই। বরং সম্প্রতি তিনি ভিডিও গেম এবং অ্যানিমেটেড কমিকসে চরিত্রভিত্তিক ভয়েসওভারের কাজও শুরু করেছেন এবং ২০২৫ সালের আগস্টে ডালাসে একটি ভিডিও গেমে কণ্ঠ দিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। একসময় নিজেকে কেবল বিজ্ঞান ও অঙ্কের মানুষ ভাবা এরিন এখন নিজের এই শৈল্পিক সত্তা এবং অভাবনীয় আর্থিক স্বাধীনতা নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইর গুলিতে নিহত লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। ছবি: সংগৃহীত
হিউস্টনে আইসিইর গুলিতে নিহত ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন মোড়, ভ্যানে মাদক থাকার দাবি এফবিআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ৫২ বছর বয়সী লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মামলায় নতুন মোড় এসেছে। এফবিআই আদালতে দাখিল করা এক অনুসন্ধানী পরোয়ানায় দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি যে ভ্যানটি চালাচ্ছিলেন, সেখানে অবৈধ মাদক থাকার সম্ভাব্য কারণ পাওয়া গেছে।   ফেডারেল আদালতে দাখিল করা ওই ওয়ারেন্ট আবেদনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ, উৎপাদন, বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ অথবা অবৈধভাবে মাদক রাখার অভিযোগ তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া সন্দেহভাজন মাদক কার ছিল, সে বিষয়ে নথিতে কোনো নির্দিষ্ট দাবি করা হয়নি।   ওয়ারেন্টে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট ডেভিড ম্যাকনিলি ভ্যানের বাইরে থেকে ড্যাশবোর্ডে ছোট প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাদা স্ফটিকসদৃশ পদার্থ দেখতে পান। তার ভাষ্য, প্যাকেটগুলোর ধরন ও উপস্থাপনা মেথঅ্যামফেটামিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। তবে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর থেকেই আইসিইর দাবি ছিল, আত্মরক্ষার্থে তাদের এক এজেন্ট গুলি চালিয়েছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের কারও শরীরে বডি-ক্যামেরা না থাকায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গুলির ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভ্যানটিতে কোনো তল্লাশি চালায়নি। পরে এফবিআই আদালতের অনুমতি নিয়ে গাড়িটি তল্লাশি করে।   এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, যাতে বোঝা যায় গুলি চালানোর সময় আইসিই কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতরে সম্ভাব্য মাদক থাকার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন। ময়নাতদন্তে বলা হয়েছে, সালগাদো আরাউহোর মৃত্যু হয়েছে শরীরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে। তবে ঘটনার সময় তার শরীরে কোনো মাদকদ্রব্যের উপস্থিতি ছিল কি না, সে সম্পর্কিত টক্সিকোলজি রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে লাতিনো সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সংগঠন লুলাক অ্যাডেলান্তে প্যাকের সভাপতি ডোমিঙ্গো গার্সিয়া অভিযোগ করেছেন, নতুন এই ওয়ারেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে তদন্তের মূল বিষয় থেকে জনমত অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তার ভাষায়, পুরো বিষয়টি একটি 'কলঙ্ক ছড়ানোর প্রচারণা' ও 'ধামাচাপার চেষ্টা' বলে মনে হচ্ছে। টেক্সাসের আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)ও বলেছে, পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি সংস্থার দাবিগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।   ঘটনার সময় ভ্যানে সালগাদো আরাউহোর সঙ্গে থাকা আরও তিনজনকে এখনো আটক রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিহতের ভাই ভিক্টর সালগাদোও রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনই ইউ-ভিসা সনদ পেয়েছেন, যা তদন্তে সহযোগিতাকারী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কার থেকে সাময়িক সুরক্ষা দেয়।   এদিকে হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধানী পরোয়ানা দাখিল বা কার্যকর করেনি। তবে এফবিআইয়ের অনুমতিতে তারা ভ্যানটি পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছে।   গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। কী পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়েছিল এবং ভ্যানে পাওয়া সন্দেহভাজন মাদকের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর ছেলে রোনালদো সালগাদো। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই এজেন্টের গুলিতে প্রবাসী মেক্সিকান নিহত, ভিডিওতে বাবার মৃত্যু দেখলেন সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী শ্রমিক লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। পরিবারের দাবি, তিনি প্রতিদিনের মতোই নির্মাণকাজে যাচ্ছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দেখে তার বড় ছেলে রোনালদো সালগাদো বুঝতে পারেন, নিহত ব্যক্তিই তার বাবা।   দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে রোনালদোর মা ফোন করে জানান, তার বাবা কাজে যাওয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং কিছু একটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে বলে আশঙ্কা করছেন। এরপর রোনালদো দ্রুত হিউস্টনের উত্তরাঞ্চলে নির্মাণস্থলের দিকে রওনা হন, যেখানে তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তিনি দেখতে পান, আইসের অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকা ব্যক্তিটি তার বাবা।   পরিবারের সদস্যরা জানান, লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিন ছেলেকেই কলেজে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন। রোনালদো বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন পরিশ্রমী ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, বাবার পিছু নেওয়া চিহ্নবিহীন (Unmarked) সরকারি গাড়িগুলো দেখে তিনি ভয় পেয়ে থাকতে পারেন। তার ধারণা, যারা তাকে অনুসরণ করছিল তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এটি হয়তো তার বাবা বুঝতে পারেননি।   পরিবারের দাবি, লোরেঞ্জোর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। তিনি আশা করেছিলেন, একদিন হয়তো বৈধ অভিবাসন মর্যাদা পাবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণ হবে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ধরন এবং আইসের অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে অভিযানে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   এদিকে আইসের পক্ষ থেকে ঘটনাটির তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গুলির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, একজন পরিশ্রমী শ্রমিক, যিনি তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে পরিবারের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
ঘটনাকে ঘিরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে অভিবাসন অভিযানের সময় আইসিই (ICE) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন অভিযান চলাকালে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত ব্যক্তি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবার এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।   মঙ্গলবার হিউস্টনে পরিচালিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। আইসিই জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। সংস্থাটির দাবি, তিনি মেক্সিকোর নাগরিক ছিলেন এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মকর্তারা তার গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। বরং একটি আইসিই গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং গাড়িটিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে এক কর্মকর্তা গুলি চালান বলে ডিএইচএসের দাবি।   তবে নিহতের ছেলে রোনালদো সালগাদো স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল টেলেমুন্ডো হিউস্টন-কে জানান, তার বাবা ওই এলাকায় দিনমজুর নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমিক খুঁজতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি ও সরকারি বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাদা ভ্যানের পাশে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাকে ঘিরে রয়েছেন একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তবে ভিডিওটিতে গুলি চালানোর মুহূর্তটি দেখা যায়নি।   এ ঘটনার পর টেক্সাস থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ঘটনার সব ভিডিও, যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)-এর প্রধান নির্বাহী হুয়ান প্রোয়ানোও একই দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, শুধু ডিএইচএসের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও প্রকাশ করা উচিত।   সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করার পর থেকে আইসিই বা অন্যান্য ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর আগে মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড নামে এক মার্কিন নাগরিকও আইসিই অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন। সে সময়ও ডিএইচএস দাবি করেছিল, তিনি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।   এ ধরনের কয়েকটি ঘটনার পর আইসিই তাদের কিছু বিতর্কিত অভিযান সীমিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে আইসিই।   হিউস্টনের এই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিকে গুলি করার পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবিই আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হওয়া বাকি রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০