সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে আর্মেনিয়া

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:২০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আর্মেনিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইউরোপপন্থী দল। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে দেশটির চূড়ান্তভাবে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। বুথফেরত ও চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের 'সিভিল কন্ট্রাক্ট' পার্টি অল্প ব্যবধানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, রুশ-আর্মেনীয় বিলিয়নেয়ার সামভেল কারাপেতিয়ানের নেতৃত্বাধীন 'স্ট্রং আর্মেনিয়া' জোট ২৫ শতাংশ আসন পেয়েছে।

 

এই বিজয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আজারবাইজানের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং তুরস্কের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ২০১৮ সালের 'ভেলভেট রেভল্যুশন'-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সাবেক সাংবাদিক পাশিনিয়ান দাবি করেন, প্রতিবেশীদের সাথে শত্রুতার অবসান ঘটলে আর্মেনিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে।

 

পাশিনিয়ানের এই জয়কে ব্রাসেলস স্বাগত জানালেও মস্কো বেশ অসন্তোষের সাথে দেখছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এই বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে একে 'গণতান্ত্রিক আর্মেনিয়ার' প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাশিনিয়ানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁকে একজন 'মহান বন্ধু ও নেতা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ২০২৩ সালে আজারবাইজানের কাছে নাগর্নো-কারাবাখ হারানোর পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলো পাশিনিয়ানকে তুলোধুনো করার চেষ্টা করেছিল।

 

এই নির্বাচনের আগে থেকেই রাশিয়ার সাথে আর্মেনিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়। নাগর্নো-কারাবাখ সংকটে রুশ শান্তিরক্ষীরা এগিয়ে না আসায় আর্মেনিয়ার জনগণ রাশিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এর জবাবে পাশিনিয়ান রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সিএসটিও থেকে আর্মেনিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সতর্ক করেছিলেন যে আর্মেনিয়া ইউক্রেনের পথেই হাঁটছে। নির্বাচনের আগে রাশিয়া আর্মেনিয়ার ওপর বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল।

 

তবে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা ও বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ এনে পাশিনিয়ানের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বৈরাচারী আচরণেরও সমালোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির সাধারণ ভোটাররা রাশিয়ারপন্থী দলগুলোর চেয়ে পাশিনিয়ানকেই কম ক্ষতিকর বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে আর্মেনিয়াকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
রক্তে বিরল অ্যান্টিবডির উপস্থিতির কারণে ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে পরিচিত জেমস হ্যারিসন। ছবি: সংগৃহীত
৬০ বছরে ১,১৭৩ বার রক্তদান! শরীরের বিরল রক্তে বাঁচিয়েছেন ২৪ লাখ শিশু

অস্ট্রেলিয়ার রক্তদাতা জেমস হ্যারিসন বিরল এক অ্যান্টিবডির কারণে পরিচিত ছিলেন ‘গোল্ডেন আর্ম’ নামে। তাঁর রক্তের প্লাজমায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি দিয়ে এমন একটি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ তৈরি করা হতো, যা গর্ভাবস্থায় আরএইচজনিত জটিলতা থেকে অনাগত শিশুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস লাইফব্লাডের হিসাবে, তাঁর দানের মাধ্যমে প্রায় ২৪ লাখ শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।   মাত্র ১৪ বছর বয়সে বড় ধরনের বক্ষ অস্ত্রোপচারের সময় জীবন বাঁচাতে ১৩ ইউনিট রক্ত নিতে হয়েছিল হ্যারিসনকে। সেই অভিজ্ঞতার পর ১৮ বছর বয়সে তিনি রক্তদান শুরু করেন। পরে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর রক্তে অ্যান্টি-ডি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল অ্যান্টিবডি রয়েছে। এরপর নিয়মিত প্লাজমা দানকে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে নেন তিনি।   ১৯৫৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ছয় দশকের বেশি সময়ে মোট ১ হাজার ১৭৩ বার রক্ত ও প্লাজমা দান করেন হ্যারিসন। অস্ট্রেলিয়ার বয়সসীমার কারণে ৮১ বছর বয়সে তাঁকে দান বন্ধ করতে হয়। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি শেষবার রক্ত দেন।   অ্যান্টি-ডি চিকিৎসা মূলত আরএইচ-নেগেটিভ মায়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মা আরএইচ-নেগেটিভ এবং অনাগত শিশু আরএইচ-পজিটিভ হলে মায়ের শরীর শিশুর রক্তকে ক্ষতিকর হিসেবে শনাক্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। এর ফলে পরবর্তী গর্ভধারণে শিশুর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যান্টি-ডি এই প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে সহায়তা করে।   লাইফব্লাড জানিয়েছে, অ্যান্টি-ডি কর্মসূচিতে হ্যারিসনের রক্ত থেকে তৈরি ওষুধের মাধ্যমে ২৪ লাখ শিশুকে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাঁর রক্তের বিশেষ অ্যান্টিবডি এতটাই বিরল ছিল যে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্টি-ডি সরবরাহ ব্যবস্থায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   জেমস হ্যারিসন ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নিউ সাউথ ওয়েলসে ঘুমের মধ্যে ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পরও তাঁর অবদান নিয়ে গবেষণা চলছে। অস্ট্রেলিয়ান রেড ক্রস লাইফব্লাড ও গবেষকেরা তাঁর এবং অন্য দাতাদের রক্ত ব্যবহার করে ল্যাবে অ্যান্টি-ডি অ্যান্টিবডি তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের জন্য এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহজলভ্য করা যায়।   ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত রক্তদান করে হ্যারিসন দেখিয়ে গেছেন, একজন মানুষের শরীরে থাকা বিরল একটি বৈশিষ্ট্য কীভাবে লাখ লাখ অনাগত শিশুর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর ১ হাজার ১৭৩ বার রক্তদানের রেকর্ডও অস্ট্রেলিয়ার রক্তদানের ইতিহাসে বিশেষ দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১০:৪৭
ফিলিস্তিনি দুই নারী যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিতে অস্বীকৃতি জানালেন তুর্কি ট্যাক্সিচালক। ছবি: সংগৃহীত

'আপনারা আমার বোন', ফিলিস্তিনি দুই নারীর কাছ থেকে ভাড়া নিলেন না ট্যাক্সিচালক

সিগারেটের নেশা ছাড়তে মাথায় তামার তারের খাঁচা পরেন ইব্রাহিম ইউজেল। ছবি: সংগৃহীত

সিগারেট ছাড়তে মাথায় তালাবদ্ধ লোহার খাঁচা, চাবি ছিল শুধু মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে

আল-কায়েদা সদস্যকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতায় ইয়াসমিন

আল-কায়েদা সদস্যকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এখন উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতায় ইয়াসমিন

কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম
প্রতিবেশীর গোপন খবর বিক্রি করে দুই বাড়ির মালিক কলম্বিয়ার নারী

কলম্বিয়ার আর্মেনিয়া শহরের ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত খবর, পারিবারিক বিরোধ ও সম্পর্কের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, এই অদ্ভুত ব্যবসা থেকে আয় করেই তিনি দুটি বাড়ি কিনেছেন। তবে বাড়ি দুটির অর্থ পুরোপুরি এই ব্যবসা থেকেই এসেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।    মিরিয়ামের এই গল্প প্রথম আলোচনায় আসে কনটেন্ট ক্রিয়েটর লেডি দানিয়েলার একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। সেখানে মিরিয়াম নিজেকে পেশাদার গসিপ বিক্রেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, প্রতিদিন বাড়ির সামনে বসে আশপাশের মানুষের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে তিনি একটি নোটবুকে নাম, ঘটনা ও বিভিন্ন বিবরণ লিখে রাখেন।    সাধারণ ধরনের খবরের জন্য তিনি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কলম্বিয়ান পেসো নেন। তবে কারও সম্পর্ক, পরকীয়া বা ব্যক্তিগত জীবনের স্পর্শকাতর তথ্যের দাম অনেক বেশি হতে পারে বলে জানান তিনি।   মিরিয়ামের দাবি, একবার এক ব্যক্তির পরকীয়ার তথ্য গোপন রাখার বিনিময়ে তিনি ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু তথ্য বিক্রি নয়, অনেক সময় গোপন তথ্য প্রকাশ না করার জন্যও তাকে টাকা দেওয়া হয়।    নিজের বাড়িতে সাক্ষাৎকারদাতাকে তিনি এমন একটি বোর্ডও দেখিয়েছেন, যেখানে প্রতিবেশীদের ছবি ও বিভিন্ন তথ্য রাখা ছিল। মিরিয়ামের দাবি, এসব নথি তাকে বিভিন্ন ঘটনা মনে রাখতে এবং তার কাছে আসা তথ্য যাচাই করতে সহায়তা করে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।    মিরিয়াম বলেন, তিনি গুজব ছড়াতে চান না এবং কোনো তথ্য বলার আগে তার কাছে প্রমাণ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ কারণেই তিনি নিজেকে ‘গসিপের রানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   তার এই কর্মকাণ্ড অবশ্য সবাই ভালোভাবে দেখছেন না। প্রতিবেশীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তা অর্থের বিনিময়ে প্রকাশ বা গোপন রাখার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ বিষয়টিকে মজার ও অভিনব ব্যবসা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করছেন।    তবে মিরিয়ামের দাবি, বহু বছর ধরে এই কাজ করেই তিনি নিজের আয় গড়ে তুলেছেন এবং শেষ পর্যন্ত দুটি বাড়ির মালিক হয়েছেন। তার অস্বাভাবিক ব্যবসার গল্প নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ‘গসিপ’ও যে কারও কাছে আয়ের উৎস হতে পারে, তা নিয়েই চলছে নানা আলোচনা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ০:৭
১৬ বছর বয়সী মুহাম্মদ ইসমাইল আলুম

লন্ডনে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির ধাক্কায় নি হত হাফেজ কিশোর

সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

সুইজারল্যান্ডের মার্কেটে খালি গায়ে দাঁত ব্রাশ করতে করতে বাজার, বাংলাদেশিকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা

শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের

শিক্ষার্থীদের আনন্দভ্রমণ শেষ হলো শোকে, ৩০ মিটার গভীর খাদে বাস পড়ে প্রাণ গেল ২৫ জনের

চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক
চিকিৎসার টাকা দিতে পারেননি, কৃতজ্ঞতায় জীবন বাঁচানো চিকিৎসককে নিজের পোষা দুটি মুরগিই দিলেন কৃষক

চিকিৎসা সেবায় অর্থই যে সব নয়, মানবিকতাই যেখানে মুখ্য—এমনই এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো বলিভিয়া। গুরুতর প্রস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত এক বয়স্ক কৃষকের জীবন বাঁচাতে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এক মানবিক চিকিৎসক।   সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মুহূর্তে সেই চিকিৎসককে উপহার দেওয়ার মতো কোনো টাকা বা মূল্যবান সম্পদ কৃষকের ছিল না। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্বল দুটি পোষা মুরগি চিকিৎসকের হাতে তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   অসুস্থতার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই কৃষক যখন হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন চিকিৎসকরা জানান অবিলম্বে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে জর্জরিত কৃষকের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানো একেবারেই অসম্ভব ছিল।   অসহায় কৃষকের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। বরং নিঃস্বার্থভাবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই সফলভাবে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক।   হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ধন্যবাদ জানাতে দুটি পোষা মুরগি নিয়ে চিকিৎসকের সামনে হাজির হন তিনি। কৃষকের এই সরল ও অকৃত্রিম উপহার দেখে চিকিৎসকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।   স্মৃতিচারণ করে চিকিৎসক জানান, তার প্রয়াত বাবাও একসময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করতেন। তখন অনেক রোগী অর্থের সংস্থান করতে না পেরে পরম ভালোবাসায় মুরগি, ডিম কিংবা নিজেদের ফলানো কৃষিপণ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন।   দুটি মুরগির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু নিঃস্ব একজন কৃষকের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কাছে তা যেকোনো মূল্যবান উপহারের চেয়েও অনন্য হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৯:৫৯
যুক্তরাজ্যের প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির চিকিৎসক হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন আলেকজান্দ্রা অ্যাডামস। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধী বলে যাকে চিকিৎসক হওয়া অসম্ভব বলা হয়েছিল, তিনিই গড়লেন ইতিহাস

পাঁচ দিনের বন্দর সফর শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকন। ছবি: সংগৃহীত

৫ দিন পর থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের দুই অধ্যাপক নিখোঁজ রয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার দুই অধ্যাপক

0 Comments