যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ইস্ট রিভারে একটি যাত্রীবাহী ছোট সি-প্লেন (পানিতে নামতে ও উড়তে পারা বিমান) ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌভাগ্যবশত বিমানে থাকা দুই আরোহীর কেউই আহত হননি, তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে।
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, সকাল সাড়ে নয়টার ঠিক আগে কুইন্সের হোয়াইটস্টোন এবং থ্রগস নেক ব্রিজের কাছাকাছি নদীতে একটি ছোট বিমান ভেঙে পড়ার খবর আসে। খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকারী দল বড় ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি পানিতে আছড়ে পড়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভেতরে থাকা দুই যাত্রীকে ফায়ার সার্ভিসের নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। উদ্ধার করার পর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, তারা দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং কোনো আঘাত পাননি।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিকে নদী থেকে টেনে তোলা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, বিমানটিকে টেনে হোয়াইটস্টোনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা দপ্তরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থী রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন জয় করলেও একই সময়ে রাজ্যের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্প সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনে কংগ্রেস সদস্য মাইক কলিন্স ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গভর্নর নির্বাচনে ট্রাম্প ও কেম্প উভয়ের সমর্থন থাকা প্রার্থী জনসন পরাজিত হয়েছেন স্ব-অর্থায়িত ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনের কাছে। জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রাইমারি রানঅফ মূলত ট্রাম্প ও গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেম্প সমর্থন দিয়েছিলেন সাবেক ফুটবল কোচ ডেরেক ডুলিকে, যিনি তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি অবস্থান থেকে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে, ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে মাইক কলিন্সকে সমর্থন দেন। কলিন্স নিজেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা MAGA আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ট্রাম্প এক ফোনালাপে বলেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে জর্জিয়ায় তার পরাজয় নিয়ে কেম্পের অবস্থান নিয়ে তিনি এখনো অসন্তুষ্ট, যা এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ আগামী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের জন্য শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তার প্রচার তহবিলে বর্তমানে প্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার রয়েছে, যা রিপাবলিকান প্রার্থী কলিন্সের তুলনায় অনেক বেশি। অসফকে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী নভেম্বরে এই নির্বাচনের ফলাফলই তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গভর্নর নির্বাচনে বড় ধরনের চমক দেখা গেছে। ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন স্ব-অর্থায়নে ৯১ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রচারণা ব্যয় করে রিপাবলিকান মনোনয়ন জয় করেন। তিনি ট্রাম্প ও কেম্প সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করেন। জ্যাকসন নিজেকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একজন ‘আউটসাইডার’ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং প্রচারণায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি এখন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক আটলান্টা মেয়র কেশা ল্যান্স বটমসের মুখোমুখি হবেন। চলতি বছরে ট্রাম্প সমর্থিত একাধিক প্রার্থীর পরাজয়ের প্রবণতা সামনে এসেছে। এর আগে আইওয়া ও টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় হেরে যান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন এখনো রিপাবলিকান ভোটারদের বড় অংশে প্রভাব ফেললেও সব ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জয় এনে দিচ্ছে না। জর্জিয়ার এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য সমীকরণেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার মতো সুইং স্টেটগুলোতে ভোটার বিভাজন এবং দলীয় প্রভাব ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি বহুল আলোচিত ইউএফসি অনুষ্ঠানে ড্রোন ও স্নাইপার ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারবিরোধী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ একটি নেটওয়ার্কের সদস্যরা এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন ব্রায়ান ওমর রোয়া এবং মাইকেল অ্যালান থমাস। তারা দুজনই ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কাউন্টির বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তারা আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হন। ফেডারেল তদন্ত নথি অনুযায়ী, এই ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রথমে এফবিআইয়ের কাছে পৌঁছে দেন ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী টাইসেন সি. প্রোপার। তার বাবা-মা স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানালে ১১ জুন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রোপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে রোয়া ও থমাসকে শনাক্ত করেন এবং তাদেরকে পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন। তদন্তকারীরা প্রোপারের আইফোন থেকে বিভিন্ন স্ক্রিনশট উদ্ধার করেন। সেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্যের একটি গোপন অনলাইন নেটওয়ার্কের কথোপকথনের তথ্য পাওয়া যায়। সদস্যরা এনক্রিপটেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ডিসি ও হোয়াইট হাউসের মানচিত্র, সম্ভাব্য অবস্থান এবং হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ১৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ নামের বিশেষ আয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানটিতে বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা এতে অংশ নেয় এবং দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বিনোদন জগতের তারকারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের সময়ও অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের অনলাইন আলোচনায় স্নাইপারদের অবস্থান নির্ধারণ, ড্রোন উড্ডয়নের সম্ভাব্য স্থান এবং হামলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির নির্দিষ্ট দায়িত্ব কী ছিল, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কর্মকাণ্ডের পেছনে সরকারবিরোধী আদর্শিক অবস্থান কাজ করছিল। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড’ নামের একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে তারা সংগঠিত হতে শুরু করে। সেখানে ধর্মীয় উগ্রতা, সরকারের প্রতি অসন্তোষ এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক আলোচনার বিষয় উঠে আসে। প্রোপার তদন্তকারীদের বলেছেন, পরিকল্পিত হামলার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে একটি বৃহত্তর আন্দোলন বা বিদ্রোহের সূচনা করা। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে ওহাইও, মিসৌরি, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন বহু অঙ্গরাজ্যজুড়ে পরিচালিত একটি তদন্তে পরিণত হয়েছে। এদিকে প্রোপারের পরিবারের সদস্যরা স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ হস্তান্তর করেছেন। এর মধ্যে আধুনিক রাইফেল এবং হাজার হাজার গুলি ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে রোয়া ও থমাসের কাছ থেকে কী ধরনের অস্ত্র বা সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। আদালতের নথি অনুযায়ী, ব্রায়ান ওমর রোয়া এখনো হেফাজতে রয়েছেন। আগামী ৭ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে মাইকেল অ্যালান থমাসের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ জুলাই। ফেডারেল তদন্তকারীরা বলছেন, হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়ানো গেছে। তবে অনলাইনে সংগঠিত উগ্রপন্থী ও সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফ্লোরিডার বিলাসবহুল আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে মিয়ামির উপকূলবর্তী অভিজাত এলাকা কী বিসকেইন। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে একই এলাকায় বিক্রির জন্য উঠে এসেছে দুটি অতি-বিলাসবহুল জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ, যার সম্মিলিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা দক্ষিণ ফ্লোরিডার উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে নতুন করে গতি সঞ্চার করেছে। প্রথমে বাজারে আসে বহুল আলোচিত ‘স্কারফেস ম্যানশন’। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুটের এই প্রাসাদটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ মিলিয়ন ডলার। বিশাল আয়তনের জমি, ব্যক্তিগত জলপথ সুবিধা এবং বিলাসবহুল নকশার কারণে সম্পত্তিটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজারের নজর কেড়ে নেয়। এর দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে পাশের আরেকটি জলসীমা-সংলগ্ন প্রাসাদ বিক্রির খবর সামনে আসে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা ব্যবসায়ী নিকোলাস এস্ট্রেলা সিনিয়রের মালিকানাধীন এই সম্পত্তির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১২৫ মিলিয়ন ডলার। যদিও এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়নি, তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তিটি ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সম্পত্তিটির বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে ডগলাস এলিম্যানের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লুর্দেস আলাত্রিস্তে ও কার্স্টেন স্মিথ। তবে তারা বিক্রেতার পরিচয় সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ামি ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চল গত কয়েক বছরে বিশ্বের ধনী ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং তারকাদের অন্যতম পছন্দের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়কর না থাকা, তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রা এবং উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ধনীদের এই অঞ্চলের প্রতি আকৃষ্ট করছে। দক্ষিণ ফ্লোরিডার কিছু আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ‘বিলিয়নিয়ার বাঙ্কার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এসব এলাকায় বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বসবাস ক্রমেই বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উচ্চ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অতিধনীদের জন্য নির্মিত সম্পত্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে। রিয়েল এস্টেট খাতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ২৩৭ মিলিয়ন ডলারের ‘স্কারফেস ম্যানশন’ এবং ১২৫ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রাসাদ—এই দুই সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য ৩৬২ মিলিয়ন ডলার হওয়ায় কী বিসকেইন আবারও আন্তর্জাতিক আবাসন বাজারের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দুটি সম্পত্তির যেকোনো একটি বিক্রি হলেও তা চলতি বছরের সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যয়বহুল আবাসন লেনদেনের তালিকায় স্থান করে নিতে পারে। বিলাসবহুল আবাসনের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করছে, মিয়ামির অভিজাত এলাকাগুলো এখনও বিশ্বের ধনকুবেরদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে রয়েছে।