মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স (ডিএসটি) আরোপ করলে সংশ্লিষ্ট দেশের সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ডিজিটাল কর আরোপের পরিকল্পনা করছে এবং কিছু দেশ তা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি বলেন, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর বাণিজ্যিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি এ ধরনের কর চালু করে, তাহলে সেই দেশের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত সব পণ্যের ওপর সঙ্গে সঙ্গে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। শুধু তাই নয়, বিদ্যমান যেকোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিও সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের যেসব দেশ নতুন করে ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্স চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে—মূলত তাদের লক্ষ্য করেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাজ্যকে ঘিরে, যেখানে ২০২০ সাল থেকেই এ ধরনের কর কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে চালু থাকা ২ শতাংশ ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্সের আওতায় রয়েছে বিশ্বের শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান—অ্যাপল, গুগল, মেটা ও অ্যামাজন। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই খাত থেকে ৮০ কোটি পাউন্ডের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল করকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করে, প্রযুক্তি জায়ান্টরা তাদের বাজারে বিপুল আয় করলেও যথাযথ কর দিচ্ছে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই এই করকে বৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই হুঁশিয়ারি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক বাজারেও।
গাজা যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন—এমন চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে একটি নতুন বইয়ে। বইটির তথ্য অনুযায়ী, এক গোপন ফোনালাপে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন, “সবাই তোমার ওপর বিরক্ত, বিবি। সব ইহুদিই তোমার ওপর বিরক্ত।” যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ শিরোনামের এই বইটি লিখেছেন দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জনাথন সোয়ান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বইটি প্রকাশের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বইটির বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ফোনালাপের সময় ট্রাম্পের পাশে উপস্থিত ছিলেন তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ—যারা দুজনই ইহুদি। তাদের উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনেই ট্রাম্প মন্তব্যটি করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পটভূমি হিসেবে বইয়ে বলা হয়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাজা সংকট নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন একটি ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করে। এর আগে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সেই ঘটনার পর কুশনার ক্ষোভ প্রকাশ করে নিকটজনদের কাছে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে ‘অতিরিক্ত আগ্রাসী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। পরবর্তীতে কুশনার এই পরিস্থিতিকে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগান এবং একটি শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়। বইয়ের দাবি অনুযায়ী, সেই খসড়া পরিকল্পনা নিয়েই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং তাকে কড়া ভাষায় জানান, “তুমি এখন আর পিছু হটতে পারবে না। ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু আমি। সবাই তোমার সমালোচনা করছে, কিন্তু আমি তোমার পাশে থেকেছি। এটি ইসরায়েলের জন্য একটি ভালো চুক্তি।” এর মাত্র দুই দিন পর, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ওই শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এই পরিকল্পনাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেয়। বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে নেতানিয়াহু ইরানে সরকার পরিবর্তনের উপযুক্ত সময় এসেছে বলে মত দেন। তবে পরবর্তী আলোচনায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই মূল্যায়নকে সরাসরি খারিজ করে দেন বলে দাবি করা হয়েছে। গোপন বৈঠক, সংবেদনশীল নথি এবং ইরান-সংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ আলোচনা ফাঁস হয়ে বইটিতে প্রকাশ পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিশেষ করে সিচুয়েশন রুমের আলোচনার মতো উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা তথ্য প্রকাশ পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফের বরাতে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্তরালের টানাপোড়েন এই বইয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে সামনে এসেছে।
ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তিচুক্তি রোববার (১৪ জুন) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তবে এই দাবিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যারা বলছে—চুক্তি এখনো চূড়ান্ত নয়, ফলে ওই দিন স্বাক্ষরের কোনো বাস্তব সম্ভাবনাও নেই। শনিবার (১৩ জুন) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি আগামীকাল স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত।” তার মতে, এই চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, তেহরান থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছালেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ফলে স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট অমিল দেখা যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কার্যকর করার আগে আরও অন্তত ৬০ দিনের আলোচনা প্রয়োজন হবে। এই সময়ে চুক্তির বাস্তবায়ন কাঠামো ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলবে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘অকাল’ ও ‘বাস্তবতাবর্জিত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের আলোচক দল স্পষ্ট করে জানিয়েছে—সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং রোববার কোনো স্বাক্ষরের প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই ধরনের ঘোষণা আলোচনার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি কৌশল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। আইআরজিসির টেলিগ্রাম বার্তায় আরও বলা হয়, ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিন হওয়ায় তিনি প্রতীকীভাবে এই দিনটিকে ব্যবহার করতে চাইছেন। কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এই সময়সূচি সামনে এনেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে এই আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির শর্ত, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা নিশ্চিত করা এই আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই চুক্তি সফল হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও স্বাক্ষরের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি—এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে সর্বশেষ পরিস্থিতি।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট জানিয়েছেন, বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে তিনি এই ভাষণ দেবেন। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ভাষণটি সম্প্রচারিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেভেট উল্লেখ করেন, ইরান ইস্যুতে সর্বশেষ পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরতেই এই ভাষণের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হতে পারে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য একটি সমঝোতার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে ইরান পাল্টা হামলা শুরু করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। যদিও শুরুতে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, সময় গড়ালেও সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সংঘাতের শুরুর দিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। জানা গেছে, কেবল মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করাকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।