সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ায় আমেরিকার জর্জিয়ায় এক আইনজীবীর ১ বছরের জেল

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১১:৪৫
আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম | ছবি: সংগৃহীত
আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় চার বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আমজাদ ইব্রাহিম নামের এক লাইসেন্সধারী আইনজীবীকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস হার্টজবার্গ জানান, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা সত্ত্বেও আমজাদ ইব্রাহিম সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের বিপুল আয় গোপন করেছিলেন।

 

মার্কিন কর বিভাগ বা আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখার বিশেষ কর্মকর্তা ডিমেট্রিয়াস হার্ডেম্যান এই বিষয়ে বলেন, এই মামলার রায় দেশের সব কর ফাঁকিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। কেউ যদি অবৈধভাবে আয় গোপন করে কর ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইআরএস-এর দক্ষ গোয়েন্দারা জটিল সব জালিয়াতি উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

 

আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সাল থেকে ওকালতি পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ কর বছরে জর্জিয়ার জনস ক্রিক এলাকায় বসবাসকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেন। যার ফলে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত ট্যাক্স বকেয়া পড়ে যায়, যা তিনি পরিশোধ করেননি।

 

তদন্তে দেখা গেছে, কর ফাঁকি দেওয়া ওই চার বছরে আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম অন্তত সাতটি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এই কোম্পানিগুলো থেকে নিজের আসল আয় গোপন করার জন্য তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নামে কমপক্ষে ৭০টি চেক ইস্যু করেছিলেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার।

 

গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন জেলা আদালতের প্রধান বিচারক লেই মার্টিন মে এক শুনানির মাধ্যমে আমজাদ ইব্রাহিমকে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাভোগের পর আরও দুই বছর তাঁকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বা সুপারভাইজড রিলিজে থাকতে হবে। একই সাথে আদালত তাঁকে আইআরএস-এর বকেয়া বাবদ ১৯ লাখ৩৪ হাজার১১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আলাদাভাবে ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন।

 

এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমজাদ ইব্রাহিম আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর কর ফাঁকির তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় করা অপরাধ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে আমজাদ ইব্রাহিম ২০১৬ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত বকেয়া ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা এই পুরো জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সেনেটে আটকে যাওয়ায় আইস প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস
সেনেটে আটকে যাওয়ায় আইস প্রধানের মনোনয়ন প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) পরিচালক পদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোনীত রিচার্ড শ্রয়ারের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন সেনেটে তার মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে আটকে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় গত জুনে শ্রয়ারকে আইস-এর প্রধান তথা ডিএইচএস-এর সহকারী মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন ট্রাম্প।     মিনেসোটায় এজেন্ট-জড়িত গোলাগুলির ঘটনার তদন্তের বিস্তারিত তথ্য দাবি করে শ্রয়ারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া আটকে দেন রিপাবলিকান সেনেটর র্যান্ড পল।   ফলে সেনেটের 'হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গভর্নমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স' কমিটিতেই আটকে যান শ্রয়ার। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেছে।   গত এপ্রিলে টড লায়ন্স আইস-এর শীর্ষ পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বর্তমানে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড ভেনচুরেলা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।   উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সেনেট কর্তৃক অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক পায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:২৯
ব্রেকআপ মেনে নিতে না পেরে প্রাক্তন প্রেমিকাকে গুলি করে হ ত্যা, বিচারের মুখোমুখি অভিযুক্ত

ব্রেকআপ মেনে নিতে না পেরে প্রাক্তন প্রেমিকাকে গুলি করে হ ত্যা, বিচারের মুখোমুখি অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ের পাশে প্রায় ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টা বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে ৩৩ হাজার গ্যালন পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়ল

এড শিরানের 'লুপ ট্যুর' থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলারের পুরো অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত

এড শিরানের সফরের ১০ লাখ ডলার ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করবেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য এখন সবচেয়ে কঠিন লস অ্যাঞ্জেলেস, নতুন রিপোর্টে গ্রেড 'এফ'

লস অ্যাঞ্জেলেস যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে বাড়ি কেনার দিক থেকে সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে। রিয়েলটর ডটকমের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির মধ্যম তালিকামূল্য প্রায় ১১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, যেখানে মধ্যম পরিবারের বার্ষিক আয় ৯১ হাজার ৩৮০ ডলার। আয় ও বাড়ির দামের এই ব্যবধানের কারণে অঞ্চলটির আবাসন বাজারে ক্রেতাদের জন্য বড় চাপ তৈরি হয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রিয়েলটর ডটকমের ‘মেট্রো আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও বাড়ি নির্মাণ মূল্যায়ন’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টি বৃহত্তম মেট্রোকে বাড়ির সাশ্রয়যোগ্যতা এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে লস অ্যাঞ্জেলেস-লং বিচ মেট্রো সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছে। অঞ্চলটির মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ১২, যার মধ্যে সাশ্রয়যোগ্যতার স্কোর মাত্র ০.৯ এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের স্কোর ২৩.১।   প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ প্রাথমিক জমা এবং ৩০ বছরের ৬.৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সুদের গৃহঋণ ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি সাধারণ বাড়ির মাসিক গৃহঋণের কিস্তি দিতে মধ্যম আয়ের একজন ক্রেতাকে তার আয়ের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশ ব্যয় করতে হবে। সাধারণভাবে আবাসন ব্যয়ের ক্ষেত্রে আয়ের ৩০ শতাংশের মধ্যে গৃহঋণের কিস্তি রাখাকে সাশ্রয়যোগ্যতার একটি প্রচলিত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   রিয়েলটর ডটকমের হিসাব বলছে, মাসিক গৃহঋণের কিস্তিকে ওই ৩০ শতাংশ সীমার মধ্যে আনতে একজন ক্রেতার প্রায় ৬৮ শতাংশ প্রাথমিক জমা প্রয়োজন হবে। ১১ লাখ ২৯ হাজার ৪১৫ ডলারের বাড়ির ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক জমার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। অর্থাৎ মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার পথে শুধু গৃহঋণের সুদ নয়, প্রাথমিক জমাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতার পাশাপাশি নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতিও লস অ্যাঞ্জেলেসের অবস্থানকে প্রভাবিত করেছে। মেট্রো এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ির নির্মাণ অনুমোদন দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের অর্ধেকেরও কম। রিয়েলটর ডটকমের হিসাবে লস অ্যাঞ্জেলেসের জনসংখ্যার তুলনায় নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদনের অনুপাত ০.৪৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বাড়ির দাম এবং সীমিত নতুন সরবরাহ একসঙ্গে ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস একমাত্র বড় মেট্রো নয় যেখানে আবাসন ব্যয় নিয়ে বড় চাপ রয়েছে। প্রতিবেদনে ১৩টি মেট্রোপলিটন এলাকা এফ গ্রেড পেয়েছে। তালিকায় লস অ্যাঞ্জেলেসের পর রয়েছে প্রভিডেন্স, নিউইয়র্ক, হনোলুলু, বোস্টন, অক্সনার্ড-থাউজ্যান্ড ওকস-ভেনচুরা, সান ফ্রান্সিসকো, ওরচেস্টার, সান ডিয়েগো, স্টকটন, সান হোসে, মিয়ামি এবং রিভারসাইড।   প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে নতুন বাড়ির সরবরাহের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, দেশজুড়ে ৪০ লাখের বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এই সরবরাহ সংকট নতুন পরিবার গঠন, বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ার পথে বাধা তৈরি করছে।   রিয়েলটর ডটকমের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল হেল বলেন, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়াতে হলে বাড়ি নির্মাণও বাড়াতে হবে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যেসব মেট্রোতে বর্তমান আয়ের সঙ্গে বাড়ির দাম তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং একই সঙ্গে পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে, সেসব এলাকায় ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন।   অন্যদিকে ডেস ময়নেস, আইওয়া এই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৩ ডলার এবং মধ্যম পরিবারের আয়ের তুলনায় মাসিক গৃহঋণের কিস্তির চাপ প্রায় ২৭.৫ শতাংশ। র‍্যালে, নর্থ ক্যারোলাইনাও নতুন বাড়ি নির্মাণের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে শীর্ষ অবস্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের এই অবস্থান মূলত রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির ফল, যেখানে আবাসন সাশ্রয়যোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এটি শুধু বাড়ির দাম কত, সেই হিসাব নয়; স্থানীয় মানুষের আয় অনুযায়ী সেই বাড়ি কেনার সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার তুলনায় কতটা নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে, দুটিই এতে বিবেচনা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১১:৫০
জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ গোপন নথি প্রকাশ ঠেকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্প সরাসরি এপস্টেইন ফাইল গোপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন, দাবি ফক্স নিউজের সাবেক উপস্থাপকের

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে এক টাউন হল সভায় কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে ভিনেগার ছোড়ার ঘটনায় সাজা পাচ্ছেন অ্যান্থনি কাজমিয়ারচাক। ছবি: সংগৃহীত

সভায় একটি সিরিঞ্জ থেকে ওমরের দিকে তরল ছোড়া ব্যক্তি আজ পাবেন সাজা

পৃথিবীর কক্ষপথ ও চাঁদের আশপাশের মহাকাশে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের আশপাশেও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! মার্কিন সেনাদের সতর্ক করে ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা

সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামবিরোধী’, বিতর্কিত হান্টকেই সৌদির রাষ্ট্রদূত করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ওয়েসলি হান্টকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া এ মনোনয়ন এখন সিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায়। সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যখন ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে, তখন হান্টের অতীতের ইসলাম ও শরিয়াহবিষয়ক মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    হান্ট সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার পাইলট। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেওয়া তার জীবনী অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি আট বছর সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাকে একবার যুদ্ধ মোতায়েনের সময় তিনি ৫৫টি যুদ্ধ মিশনে অংশ নেন। পরে সৌদি আরবে দুই দফা ডিপ্লোম্যাটিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।    সৌদি আরবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হান্ট গত বছরের নভেম্বরে বলেছিলেন, তিনি শরিয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীনে জীবন কেমন হতে পারে, তা কাছ থেকে দেখেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজের বক্তব্যের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যারা তার ইসলামবিষয়ক সতর্কতাকে ভয় ছড়ানো হিসেবে দেখছেন, তারা এমন ব্যবস্থার মধ্যে বসবাস করেননি। সৌদি আরবে থাকার সময় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড এবং নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।    জানুয়ারি ২০২৬-এ স্টেকলবেক টুনাইট অনুষ্ঠানে হান্ট ইসলাম সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমেরিকানদের ইসলাম নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তার দাবি ছিল, ইসলামের একটি লক্ষ্য হলো অন্য দেশে প্রবেশ করে সেখানে বড় জনগোষ্ঠী তৈরি করা এবং শেষ পর্যন্ত ওই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা কেয়ার হান্টের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ধারাবাহিক নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।    কেয়ার ১৬ সেপ্টেম্বর সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির সদস্যদের কাছে হান্টের মনোনয়ন অনুমোদন না করার আহ্বান জানায়। সংগঠনটি তার অতীতের বক্তব্যের মধ্যে ইসলামকে সমাজে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা, শরিয়াহ নিষিদ্ধ করার আহ্বান এবং মুসলিম ধর্মীয় চর্চা নিয়ে মন্তব্যের বিষয়গুলো তুলে ধরে। এগুলো কেয়ারের নিজস্ব অভিযোগ ও মূল্যায়ন, হান্টের বিরুদ্ধে সংগঠনটির রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।    হান্টের এসব বক্তব্য নিয়ে ২০২৬ সালের টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হিউস্টন ক্রনিকলের কলামিস্ট ক্রিস টমলিনসন অভিযোগ করেন, হান্টসহ কয়েকজন রিপাবলিকান প্রার্থী তাদের প্রচারে ইসলাম নিয়ে ভয় তৈরি করছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কারও টেক্সাসের নির্বাচনী রাজনীতিতে মুসলিমদের নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরেছিল।    সৌদি রাষ্ট্রদূত পদে হান্টের মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় তার ইসরাইলপন্থী অবস্থানও গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে কথা বলেন তিনি। একই সময়ে তিনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। কংগ্রেসে থাকাকালে হান্ট আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের পক্ষে একটি প্রস্তাবেও সমর্থন জানিয়েছিলেন।    হান্ট ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২০২৪ সালের একটি সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ইসরাইলকে ‘জুডিও-ক্রিশ্চিয়ান’ পরিচয়ের ‘জুডিও’ অংশের সঙ্গে যুক্ত করেন। তার এই অবস্থানও সৌদি আরবে সম্ভাব্য দায়িত্বের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে।    তবে হান্টের মনোনয়নের পেছনে তার মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে দুই দফা দায়িত্ব পালন এবং ইরাকে সামরিক অভিজ্ঞতার কারণে অঞ্চলটি সম্পর্কে তার পূর্বপরিচিতি রয়েছে। হান্ট নিজেও মনোনয়ন পাওয়ার পর বলেছেন, সেনা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনের পর এবার কূটনীতিক হিসেবে সেখানে ফেরার আহ্বান পেয়েছেন।    সৌদি রাষ্ট্রদূতের পদটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে খালি ছিল। হান্টের মনোনয়ন সিনেটে অনুমোদিত হলে তিনি রিয়াদে দায়িত্ব নেবেন এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব ইরান যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুথি হামলা এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।    হান্টের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতসহ প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন। ফলে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে হান্টকে সিনেটের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১০:৩২
পাওয়ারবল লটারিতে ১.০৪ বিলিয়ন ডলারের বিশাল জ্যাকপট জিতে অবশেষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন ইলিনয়ের এক ভাগ্যবতী বিজয়ী। ছবি: সংগৃহীত

ইলিনয়ে ২ ডলারের টিকিট কিনে ১.০৪ বিলিয়ন ডলার জিতলেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি, অবশেষে নিলেন পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন ধরনের অস্বাভাবিক শব্দকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ির এই শব্দগুলো শুনলে সতর্ক হোন, না হলে বাড়তে পারে মেরামতের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভারতের পুরো কাস্টমার সাপোর্ট টিমকে মাত্র পাঁচ মিনিটের অনলাইন বৈঠকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ৫ মিনিটের কলে ৮০ কর্মী ছাঁটাই! ভারতীয় পুরো টিমকে চাকরিচ্যুত

0 Comments