যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে কর সংক্রান্ত বিষয়, সাবেক সহযোগীদের ভূমিকা এবং রাজ্য প্রশাসনের কিছু কর্মীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এবং দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এই তদন্ত পরিচালনা করছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন গভর্নর নিউজম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এফবিআই এবং ডিওজে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই গ্যাভিন নিউজম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০০৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র পদে নির্বাচন করার সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের বড় অংশ আসে ওয়াইন ও হসপিটালিটি ব্যবসা থেকে।
তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু হয় প্লাম্পজ্যাক (PlumpJack) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যা তিনি গর্ডন গেটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে তোলেন। বিলি গেটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে তিনি বালবোয়া ক্যাফে এবং প্লাম্পজ্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই ব্যবসা ওয়াইনারি, রেস্তোরাঁ এবং হোটেল খাতে বিস্তৃত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ব্যবসাগুলো সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ে। নিউজম দম্পতির মালিকানায় ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ার ওকসে ১২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি রয়েছে। এটি ২০১৮ সালে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়, যার বড় অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টির কেন্টফিল্ড এলাকায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের একটি বাড়ি কেনেন। পরিবারটি তাদের চার সন্তানের শিক্ষার সুবিধার্থে এই এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। গ্যাভিন নিউজম একাধিক বই লিখেছেন। তার সাম্প্রতিক আত্মজীবনী “ইয়াং ম্যান ইন আ হারি” থেকে তিনি এক লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি তার নিজের বই প্রচারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, বই প্রকাশনা ও রয়্যালটি থেকে তার আয় এক লাখ ডলারের বেশি। তবে সরকারি দায়িত্বে থাকার কারণে তার পডকাস্ট থেকে কোনো আয় হয়নি।
তদন্তে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে জেনিফার সিবেল নিউজমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আয় কাঠামোর ওপর। তিনি “রিপ্রেজেন্টেশন প্রজেক্ট” নামের একটি নারীবাদী অলাভজনক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি। এছাড়া তিনি “গার্লস ক্লাব এন্টারটেইনমেন্ট” নামের একটি মিডিয়া প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানটি তার নন-প্রফিট সংস্থা থেকে বার্ষিক প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অর্থ পেয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিউজম “ক্যালিফোর্নিয়া পার্টনারস প্রজেক্ট” নামের একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অনুদান প্রবাহে সহায়তা করেছেন। এসব অর্থ তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ওভারল্যাপ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আর্থিক কার্যক্রম আইনগতভাবে বৈধ হলেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে নিউসম এবং তার স্ত্রী উভয়েই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। গভর্নর নিউজম অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তদন্ত ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি প্রাইভেট বিমান হাইওয়ের ওপর বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে লারেডো শহরের লুপ ২০ হাইওয়ের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি উল্টে গিয়ে হাইওয়ের ওপর পড়ে আছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুনে পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণের আশঙ্কাও তৈরি হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। ল্যারেডো পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং বাকি পাঁচজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতরা বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় দুই ব্যক্তি, একজন হাতুড়ি এবং অন্যজন শাবল ব্যবহার করে বিমানের ককপিটের কাঁচ ভেঙে ভেতরে আটকে পড়াদের বের করার চেষ্টা করেন। বিমানটি নেটজেটস পরিচালিত একটি সেসনা সাইটেশন ল্যাটিচিউড মডেলের প্রাইভেট জেট ছিল। এটি মেক্সিকোর সান হোসে দেল কাবো থেকে উড্ডয়ন করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনের দিকে যাচ্ছিল। পরে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বিমানটি লারেডোর দিকে ডাইভার্ট করা হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লারেডো বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছানোর সময় পাইলট যান্ত্রিক ত্রুটির কথা জানান এবং কিছুক্ষণ পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিমানটি লুপ ২০ হাইওয়ের ওপর জরুরি অবতরণের চেষ্টা করে। এ সময় এটি চলন্ত একটি গাড়িকে আঘাত করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাটিকে “হলিউড সিনেমার দৃশ্যের মতো” বলে বর্ণনা করেন। তারা জানান, আগুন ও ধ্বংসাবশেষের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ল্যারেডো পুলিশের মুখপাত্র জোসে বায়েজা বলেন, “দুঃখজনকভাবে এই ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এটি একটি ট্র্যাজিক ঘটনা।” পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং পরিবারের সদস্যদের জানানো না পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা হবে না। বিমান কোম্পানি নেটজেটস জানিয়েছে, তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। লারেডো শহরের মেয়র ড. ভিক্টর ত্রেভিনো বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমান থেকে বিরত থাকা উচিত।যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (FAA) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। দুর্ঘটনার পর লুপ ২০ হাইওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন সড়কের একটি অংশ আংশিকভাবে বন্ধ থাকবে।
নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ২৪ লাখ ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের জন্য ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত বা ‘রেন্ট ফ্রিজ’ করার দাবিতে মঙ্গলবার ম্যানহাটনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লক, CAAAV এবং ম্যানহাটনের বিভিন্ন ভাড়াটিয়া সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। সমাবেশের আগে জোয়ান অব আর্ক পার্কে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ড্রামলাইন ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সিম্ফনি স্পেসে পৌঁছে সমাবেশ করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ভাড়া না বাড়ানোই সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ। আয়োজকদের দাবি, গত মাসে নিউইয়র্ক সিটির রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের প্রাথমিক ভোটে এক ও দুই বছরের নবায়নযোগ্য লিজের ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির বিকল্প বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, দুই বছরের লিজেও প্রথমবারের মতো ভাড়া না বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার বলেন, ভাড়াটিয়ারা বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল সামাজিক সুবিধা কমে যাওয়া এবং অভিবাসন অভিযানের মতো নানা চাপে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বাড়িওয়ালার পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। এ কারণে এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আয়োজক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ম্যানহাটনের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বাসস্থান নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য উচ্ছেদ এবং অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভাড়া স্থগিত রাখলে অধিকাংশ বাড়িওয়ালার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। পাশাপাশি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়িওয়ালাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিও বিদ্যমান রয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন চায়নাটাউনের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা এবং CAAAV-এর ভাড়াটিয়া নেতা শুঝেন লিউ। তিনি বলেন, গত ৩১ বছরে তাঁর ভবনের মালিক একাধিকবার পরিবর্তিত হলেও ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহিতা বাড়ানোর পরিবর্তে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করে। তাই তিনি সব ধরনের লিজে ‘রেন্ট ফ্রিজ’ কার্যকর করার আহ্বান জানান। সংগঠনগুলোর দাবি, নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়ারা শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে ভাড়া বাড়লেও অনেক ভবনে বসবাসের পরিবেশের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং গরম পানি ও তাপ সরবরাহের মতো মৌলিক সেবা নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। তারা আরও অভিযোগ করে, কিছু বাড়িওয়ালা ভবন সংস্কারের পরিবর্তে ভাড়ার অর্থ ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনার কাজে ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, বাড়িওয়ালাদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ভবন রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সম্পত্তি কর, বীমা এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া ভবন পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে থাকে। এখন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা নাবিলাহ পার্কসের জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পাওয়ার স্বপ্ন আপাতত থেমে গেছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রানঅফ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয়ের পথে রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ৮২ শতাংশ প্রিসিঙ্কটের ফল গণনা শেষে জশ ম্যাকলরিন ১ লাখ ৭০ হাজার ৯২১ ভোট পেয়ে মোট ভোটের ৫৫ শতাংশ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে নাবিলাহ পার্কস পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ১৭৮ ভোট, যা মোট ভোটের ৪৫ শতাংশ। নাবিলাহ পার্কস জর্জিয়ার রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। ২০২২ সালে তিনি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তার রাজনৈতিক উত্থান শুধু জর্জিয়ায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দেয়। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রার্থী হয়ে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, ভোটাধিকার সুরক্ষা, নারীদের প্রজনন অধিকার এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোকে প্রচারণার মূল ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন। যদিও এবারের রানঅফ নির্বাচনে তিনি পিছিয়ে পড়েছেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নাবিলাহ পার্কস ইতোমধ্যে জর্জিয়ার রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করার পথে থাকা জশ ম্যাকলরিন আগামী সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, পরাজয় সত্ত্বেও নাবিলাহ পার্কসের এই প্রচারণা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সুযোগের ভিত্তি তৈরি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্বের পথকে আরও সুদৃঢ় করেছে।