তথ্যপ্রযুক্তি

এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৫:৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাব এবার সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছে, মেমোরি চিপের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যয় নিজস্বভাবে বহনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর টেকসই নয়।

 

কুক বলেন, “আমরা গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ না দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরবরাহ সংকট এবং মেমোরি চিপের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।”

তবে ঠিক কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে বা কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার সম্ভাব্য আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার এবং উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামোর ব্যাপক চাহিদার কারণে এসব চিপের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

 

বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে র‍্যামের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও চিপ শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়।

 

ওমডিয়ার স্মার্টফোন বাজার বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ান বিবিসিকে বলেন, অ্যাপলের নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে উন্নত এআই সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় নতুন মডেলগুলোর দাম সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

 

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমূলক ছাড় কমিয়েছে অথবা খরচ নিয়ন্ত্রণে কিছু ফিচার সীমিত করেছে। তার ভাষায়, “এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের নতুন বাস্তবতা।”

 

শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে তারাও মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে পারে।

 

টিএসএমসি অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক চিপ তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও আগে জানিয়েছিল, মেমোরি চিপের সরবরাহ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সনি তাদের প্লেস্টেশন ৫ কনসোলের দাম যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িয়েছে। একইভাবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নিনটেন্ডোও তাদের সুইচ ২ গেমিং কনসোলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।

 

চলতি বছরের শুরুতে অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় ম্যাক মিনি কম্পিউটারের সবচেয়ে কমদামি সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। এর ফলে ডিভাইসটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, চিপ সংকট ও এআই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

তথ্যপ্রযুক্তি

View more
ছবি: সংগৃহীত
এআই চাহিদায় চিপের দাম বেড়েছে, বাড়তে পারে আইফোনসহ অ্যাপলের পণ্যের দাম

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের প্রভাব এবার সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল জানিয়েছে, মেমোরি চিপের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিম কুক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ব্যয় নিজস্বভাবে বহনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর টেকসই নয়।   কুক বলেন, “আমরা গ্রাহকদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ না দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরবরাহ সংকট এবং মেমোরি চিপের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।” তবে ঠিক কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে বা কোন কোন পণ্যের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে আসার সম্ভাব্য আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার এবং উন্নত কম্পিউটিং অবকাঠামোর ব্যাপক চাহিদার কারণে এসব চিপের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।   বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে র‍্যামের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাও চিপ শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক হিলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে শিল্প বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির প্রক্রিয়ায় হিলিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর সংকট উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।   বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়।   ওমডিয়ার স্মার্টফোন বাজার বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ান বিবিসিকে বলেন, অ্যাপলের নতুন প্রজন্মের স্মার্টফোনে উন্নত এআই সুবিধা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় নতুন মডেলগুলোর দাম সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।   তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে, বিভিন্ন প্রচারমূলক ছাড় কমিয়েছে অথবা খরচ নিয়ন্ত্রণে কিছু ফিচার সীমিত করেছে। তার ভাষায়, “এটি সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের নতুন বাস্তবতা।”   শুধু অ্যাপল নয়, বিশ্বের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে যে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলে তারাও মূল্য সমন্বয়ের পথে যেতে পারে।   টিএসএমসি অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং এএমডির মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক চিপ তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্যামসাংও আগে জানিয়েছিল, মেমোরি চিপের সরবরাহ সংকটের কারণে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সনি তাদের প্লেস্টেশন ৫ কনসোলের দাম যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িয়েছে। একইভাবে বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে নিনটেন্ডোও তাদের সুইচ ২ গেমিং কনসোলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ১৭ সিরিজের বিক্রি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চীনে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অ্যাপলের ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।   চলতি বছরের শুরুতে অ্যাপল তাদের জনপ্রিয় ম্যাক মিনি কম্পিউটারের সবচেয়ে কমদামি সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে নেয়। এর ফলে ডিভাইসটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের ধারণা, চিপ সংকট ও এআই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৫:৯
ইলন মাস্কের আগেই বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন পেল চীন। ছবি: রয়টার্স

চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের যুগ? বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক মস্তিষ্ক-চিপ অনুমোদন

ছবি:  আমেরিকা বাংলা অনলাইন গ্রাফিক্স

সামাজিক মাধ্যমের ছবির ‘ভিক্টরি সাইন’ থেকে যেভাবে চুরি হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত

মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।   কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা।   কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে।   অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।   আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৭, ২০২৬ ১৫:৫০
ছবি: রয়টার্স

সার্চ ইঞ্জিনে স্বয়ংক্রিয় এআই ‘এজেন্ট’ ও নতুন স্মার্ট চশমা আনছে গুগল

ছবি: সংগৃহীত

নতুন এআই মডেল বাজারে আনার আগে সরকারের সঙ্গে শেয়ার করবে গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সএআই

ছবি: সংগৃহীত।

গাড়িতেও যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা, বড় চমক গুগলের

শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা
শুধু কঠিন, তরল ও বায়বীয় নয়: এআই খুঁজে পেল পদার্থের চতুর্থ অবস্থা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিজ্ঞান জগতের দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন কেবল তথ্য বিশ্লেষণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির নতুন নিয়ম উন্মোচনেও ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি এমোরি ইউনিভার্সিটির একদল পদার্থবিজ্ঞানী এবং এআই গবেষক মিলে পদার্থের চতুর্থ অবস্থা বা 'প্লাজমা'র (Dusty Plasma) মধ্যে এমন কিছু ভৌত নিয়ম বা 'ফিজিক্স' খুঁজে পেয়েছেন যা আগে কখনো বিজ্ঞানীদের নজরে আসেনি।   বিজ্ঞান সাময়িকী 'পিএনএএস'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা নিউরাল নেটওয়ার্ক প্লাজমার ক্ষুদ্র কণাগুলোর থ্রি-ডি ট্র্যাকিং বিশ্লেষণ করে কণাগুলোর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার লুকানো ধরণ বের করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষণার সবচাইতে চমকপ্রদ দিক হলো, এআই মডেলটি কণাগুলোর মধ্যকার জটিল ও একমুখী বল ৯৯ শতাংশেরও বেশি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করেছে।   গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক অধ্যাপক জাস্টিন বার্টন বলেন, "আমরা দেখিয়েছি যে এআই ব্যবহার করে নতুন পদার্থবিজ্ঞান আবিষ্কার করা সম্ভব। আমাদের এই পদ্ধতিটি কোনো 'ব্ল্যাক বক্স' নয়; এটি কীভাবে কাজ করে তা আমরা জানি এবং এটি মহাবিশ্বের অন্যান্য জটিল সিস্টেমের রহস্য উন্মোচনেও ব্যবহার করা যেতে পারে।"   মহাকাশ থেকে শুরু করে দাবানল—সবখানেই এই প্লাজমার অস্তিত্ব রয়েছে। এআই-এর এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনে জটিল জৈবিক সিস্টেম এবং পদার্থের গূঢ় রহস্য বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ২০:১৩
ছবি: সংগৃহীত।

তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

ছবি: সংগৃহীত।

‘ডার্ক ম্যাটার’ অনুসন্ধানে নাসার নতুন বিস্ময় 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান' টেলিস্কোপ

ছবি: সংগৃহীত।

মেটা-আলিবাবাকে টেক্কা দিতে হুয়াওয়ের নতুন চমক এআই স্মার্ট গ্লাস

0 Comments