যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ঘাতক পিকআপ ভ্যানের নারী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে ভুল লেনে ঢুকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটান ওই নারী। কলোরাডো ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডো এই দুঃখজনক খবরটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৪টার দিকে আইডাহোর কুসকিয়া এলাকার ইউএস হাইওয়ে ১২-এ এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তদন্তের পর আইডাহো স্টেট পুলিশ জানায়, নিল ব্রিউয়ার (৬০) নামের ওই নারী চালক তার ২০১৯ মডেলের 'ফোর্ড এফ-১৫০' পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে হাইওয়ে ধরে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ জোনে (নো-পাসিং জোন) তিনি সামনের অন্য একটি গাড়িকে টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ আরও জানায়, ওভারটেক করার সময় তার পিকআপ ভ্যানটি সড়কের মাঝখানের 'ডাবল হলুদ দাগ' (সেন্টারলাইন) অতিক্রম করে সম্পূর্ণ ভুল লেনে চলে যায়। ঠিক তখনই বিপরীত দিক (পূর্ব দিক) থেকে সারিবদ্ধভাবে আসতে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলের সাথে পিকআপ ভ্যানটির মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।
ধাক্কার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মোটরসাইকেল আরোহী তিনজনই ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। আইডাহো কাউন্টি কর্নার অফিস নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তারা সবাই কলোরাডোর বাসিন্দা। নিহতরা হলেন—টিমনাথের বাসিন্দা ইথান পাওয়ার্স (৩৫), বার্থউডের জেরেমি কোলম্যান (৪৫) এবং লাভল্যান্ডের নাথান ম্যাককরমিক (২৬)।
দুর্ঘটনার পর কলোরাডো স্প্রিংসের বাসিন্দা ঘাতক চালক নিল ব্রিউয়ারকে প্রথমে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সুস্থ ঘোষণা করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আইডাহো কাউন্টি জেলে পাঠায়। তার বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত গাড়ি চাপা দিয়ে ৩ জনকে হত্যার (ভেহিকুলার ম্যানস্লটার) অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার পর হাইওয়েতে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রেখে তদন্ত ও উদ্ধারকাজ চালায় পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরে অবস্থিত ৮০ বছরেরও বেশি পুরনো এবং ঐতিহাসিক একটি গ্যাস স্টেশন ও সার্ভিস সেন্টার (গ্যারেজ) বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক পক্ষ। 'বনি ব্রে কোনোকো' নামের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ আট দশক ধরে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের হাত ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছিল। ডেনভারের ইউনিভার্সিটি বুলেভার্ড এবং বনি ব্রে বুলেভার্ডের মোড়ে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্টেশনটি বিক্রির খবরটি বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডো তাদের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গ্যাস স্টেশনটির বর্তমান মালিক কেন উইলসন হলেন তাদের পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম। তার দাদা কেন উইলসন ১৯৪২ সালে এই জায়গাটি ইজারা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে কেন-এর বাবা তার দাদার কাছ থেকে এই ব্যবসাটি কিনে নেন এবং তার চাচাও পুরো জীবন এই স্টেশনেই কাজ করে গেছেন। বর্তমান মালিক কেন নিজে ১৯৭৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে এখানে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে পড়াশোনা শেষ করে গত ১৫ বছর ধরে সম্পূর্ণভাবে এই ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন। দীর্ঘ ৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পারিবারিক ব্যবসার সমাপ্তি টানার ঘোষণা দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্টেশনটির সামনে বিক্রির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মালিক কেন উইলসন জানান, "আমরা স্টেশনটি বিক্রি করার জন্য ভালো ক্রেতা খুঁজছি, তবে আমাদের কোনো তাড়া নেই। আমরা আমাদের মনের মতো দাম পেলেই কেবল এটি বিক্রি করব, প্রয়োজনে যদি কয়েক বছর সময় লাগে তাও ভালো।" ছোটবেলা থেকে এই স্টেশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে কেন বলেন, "আগে ডেনভারের প্রতিটি ব্লকে প্রচুর গ্যারেজ দেখা যেত, এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। যখন আমি ছোট ছিলাম, এই এক ব্লকেই চারটি গ্যারেজ ছিল।" স্টেশনটি বিক্রি করার পর কোন জিনিসটি তিনি সবচেয়ে বেশি মিস করবেন জানতে চাইলে কেন আবেগাপ্লুত হয়ে তার গ্রাহকদের কথা বলেন। তিনি জানান, "এখানে এমন অনেক কাস্টমার আছেন যাদের দাদা-দাদী এবং বাবা-মায়ের গাড়ি আমরা মেরামত করেছি এবং এখন তারা নিজেরাও আমাদের নিয়মিত কাস্টমার।" পূর্বপুরুষদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারায় তার দাদা বেঁচে থাকলে আজ তাদের নিয়ে গর্ব করতেন বলেও কেন মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর কাউন্টিতে ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিবিড় চিকিৎসা শেষে বুধবার (১৭ জুন) রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই বীর কর্মকর্তাকে বিদায় জানাতে হাসপাতালের বাইরে সমবেত হন সহকর্মী পুলিশ সদস্য, বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা, যারা তাকে স্যালুট জানিয়ে এক আবেগঘন ও বীরোচিত সংবর্ধনা দেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বাল্টিমোর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে এই খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা পি. কাতালফামো গত ৭ জুন মেরিল্যান্ডের পাইকসভিল এলাকার মিলফোর্ড মিল গুইন ফলস ট্রেইলে একটি পাবলিক নোংরামির (অশালীন এক্সপোজার) অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বাল্টিমোরের ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারের 'আর অ্যাডামস কাউলি শক ট্রমা সেন্টারে' ভর্তি করা হয়েছিল। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ৩৮ বছর বয়সী শাকা কামারা নামের এক অপরাধী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি মাথায় গুলি করে। এরপর সে পার্কের এক সাধারণ নাগরিকের কাছ থেকে জোরপূর্বক বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তাদের গুলিতে কামারা আহত হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এই সংঘর্ষের সময় বন্দুকের আসল মালিকও পায়ে গুলিবিদ্ধ হন, তবে তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, মাথায় গুলি লাগার আকস্মিকতায় কর্মকর্তা কাতালফামো নিজের অস্ত্র থেকে কোনো গুলি ছুড়তে পারেননি। বর্তমানে হামলাকারী শাকা কামারাকে জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার চেষ্টা ও অস্ত্র ছিনতাইসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করা হবে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা কাতালফামো গত প্রায় দেড় বছর ধরে এই বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। বাল্টিমোর কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "কর্মকর্তা কাতালফামো বর্তমানে সুস্থতার পথে রয়েছেন। এই মুহূর্তে আমরা সবার কাছে তার এবং তার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে তার পরবর্তী চিকিৎসা বা শারীরিক অবস্থার আর কোনো তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হবে না।"
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একটি সমুদ্রসৈকতে ঢেউয়ের কবলে পড়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন ২০ বছর বয়সী মাহিয়াল স্রান, যিনি সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন, এবং হর্ষিতা নায়ার, যিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলেতে অধ্যয়ন করতেন। দুজনই সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিও-টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সান্তা ক্রুজ কাউন্টির উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানকালে হঠাৎ সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সান্তা ক্রুজ কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের ক্যাপ্টেন কাইল ব্রেটন জানান, উদ্ধার অভিযানে আটজন প্রশিক্ষিত সাঁতারু অংশ নেন। এছাড়া তীরবর্তী এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীও উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন এবং নিখোঁজদের অবস্থান শনাক্ত করতে সাহায্য করেন। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত দুই শিক্ষার্থীকে সমুদ্র থেকে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, তারা হয়তো সৈকতে ঘুমিয়ে ছিলেন এবং জোয়ারের পানিতে ভেসে যান। তবে পরে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের ভিত্তিতে সেই ধারণা ভুল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। মাহিয়াল স্রানের বাবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তার মেয়ের ব্যাগ ও মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ শুকনো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ থেকে তার ধারণা, তারা পানির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং হঠাৎ একটি শক্তিশালী ঢেউ এসে তাদের আঘাত করে সমুদ্রে টেনে নিয়ে যায়। ক্যাপ্টেন ব্রেটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার পরিবর্তনশীল জোয়ার-ভাটার পরিস্থিতি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, পান্থার বিচ ও ইয়েলো ব্যাংক বিচের মাঝখানে একটি সরু পথ রয়েছে, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘কিহোল’ বলা হয়। জোয়ারের পানি বাড়তে শুরু করলে এই পথ দ্রুত অচল হয়ে যায় এবং অনেক দর্শনার্থী বুঝে ওঠার আগেই বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে যান। তিনি জানান, অনেকেই সুন্দর একটি দিন কাটানোর আশায় ওই পথে সৈকতে প্রবেশ করেন। কিন্তু জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ে যান। কর্তৃপক্ষের ধারণা, তথাকথিত ‘স্নিকার ওয়েভ’ বা হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে তীরে আছড়ে পড়া বড় ঢেউও এই দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের ঢেউ অনেক সময় কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই আসে এবং মানুষকে সমুদ্রে টেনে নিতে সক্ষম হয়। হর্ষিতা নায়ারের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের শিক্ষার্থী সমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংসদের সভাপতি অ্যাবিগেইল ভেরিনো বলেন, হর্ষিতা ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও সমাজসেবামূলক মানসিকতার একজন মানুষ। তিনি বলেন, “অন্যদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সবসময় এগিয়ে থাকতেন। বিশেষ করে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করার বিষয়ে তার গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের চেয়ে বৃহত্তর একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়ার অর্থ সত্যিকারভাবে ধারণ করতেন।” এদিকে দুর্ঘটনার পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রের অস্বাভাবিক ঢেউ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে ‘বিচ হ্যাজার্ড স্টেটমেন্ট’ এখনও কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ক্যাপ্টেন ব্রেটন জানান, মাত্র এক মাইল দীর্ঘ এই উপকূলীয় এলাকায় গত এক মাসেই পাঁচটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অথচ সাধারণত পুরো বছরে এই অঞ্চলে ছয় থেকে আটটি সমুদ্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষ সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিশেষ করে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি, আবহাওয়ার অবস্থা এবং হঠাৎ সৃষ্ট বড় ঢেউয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।