আমেরিকা

চিপসের প্যাকেটের খেলনা বল গলায় আটকে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৫:১৫
মৃত্যু হওয়া মুকুন্দ ময়ূর। ছবি সংগৃহীত
মৃত্যু হওয়া মুকুন্দ ময়ূর। ছবি সংগৃহীত

ভারতের কর্ণাটকের মাইসুরু জেলায় চিপসের প্যাকেটে থাকা একটি প্লাস্টিকের খেলনা বল গলায় আটকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

 

নিহত শিশুটির নাম মুকুন্দ ময়ূর। সে মাইসুরু জেলার গৌরিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। বাবা সন্তোষ ও মা ঐশ্বর্যার একমাত্র সন্তান ছিল সে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিপসের একটি প্যাকেটের সঙ্গে উপহার হিসেবে পাওয়া ছোট প্লাস্টিকের বল নিয়ে খেলছিল মুকুন্দ। খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত বলটি তার মুখে চলে যায় এবং পরে গলায় আটকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

 

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিকের খেলনা বলটি কুরকুরে ব্র্যান্ডের একটি চিপসের প্যাকেটের সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খেলনাটি শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

 

ঘটনার পর ছোট শিশুদের জন্য খাদ্যপণ্যের সঙ্গে দেওয়া ক্ষুদ্রাকৃতির খেলনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হাতে ছোট আকারের খেলনা বা সহজে গিলে ফেলা যায় এমন বস্তু তুলে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের বস্তু শ্বাসনালিতে আটকে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শিশুদের খেলাধুলার সময় অভিভাবকদের সর্বক্ষণ নজরদারিতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

 

ভারতে এর আগেও ছোট খেলনা, মুদ্রা, ব্যাটারি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র বস্তু গিলে ফেলার কারণে শিশুদের মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর শিশুদের জন্য তৈরি পণ্য ও উপহারসামগ্রীর নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত
‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’ ইরানের সাথে আজই নতুন আলোচনা: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পথ বেছে নিতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, “আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।” একই সঙ্গে তিনি জানান, সোমবার থেকেই ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্পের দাবি, সম্ভাব্য একটি সমঝোতার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।   স্থানীয় সময় রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল এবং ইরানও সে বিষয়ে অবগত ছিল। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, “আগামীকাল বিকেল থেকেই আলোচনা শুরু হবে। দেখা যাক কী হয়। আমরা যখন চাই, তখনই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না।”   এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাকে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। কারণ, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তার মতে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—উভয় বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারসহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক অংশীদাররা সপ্তাহান্তে তাকে সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যদিও দেশটির আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা মেহর ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তেহরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানায়নি। সংস্থাটি ট্রাম্পের বক্তব্যকে “আরেকটি নতুন মিথ্যা” বলে আখ্যায়িত করেছে।   অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে সোমবারের বৈঠক কোথায় হবে বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।   ট্রাম্প দাবি করেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের একটি হতে পারত। তবে সম্ভাব্য হামলায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।   এদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, তেহরান প্রতিপক্ষের প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, “আমরা কখনোই অপ্রস্তুত থাকব না, আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।”   ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। সোমবার এশীয় বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়।   হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের আশাই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার প্রধান কারণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৬:২৭
ট্রাফিক সিগনাল। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভারদের জন্য নতুন সতর্কতা, লাল বাতিতে ডান দিকে মোড় নেওয়া হতে পারে নিষিদ্ধ

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ছবি সংগৃহীত

এক ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা বরখাস্ত

মৃত্যু হওয়া মুকুন্দ ময়ূর। ছবি সংগৃহীত

চিপসের প্যাকেটের খেলনা বল গলায় আটকে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু

২০২৯ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হবে যুক্তরাষ্ট্রের! ট্রাম্পের নতুন দাবি
বাজি ধরুন’, ২০২৯ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড হবে যুক্তরাষ্ট্রের! ট্রাম্পের নতুন দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-নীতি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই, অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে—এমন দাবি করে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক দ্বীপটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। তার প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা, আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার এবং বিরল খনিজ সম্পদের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় থাকায় এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা-ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটি মূলত একটি বিশ্লেষণ ও সম্ভাবনার মূল্যায়ন; যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি।    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির সরকার ও ডেনমার্ক বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। সাম্প্রতিক সময়েও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।    বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এবং উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে এর কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এছাড়া বিরল খনিজ সম্পদ ও সামরিক গুরুত্বের কারণে বহু বছর ধরেই এটি আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।   নিউজউইকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে আগের চেয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নিলেও বাস্তবে এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হলে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং আন্তর্জাতিক আইনের জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই বিষয়টি এখনো মূলত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৪:৫১
ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল

ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানল: ৬০০ স্থাপনা ছাই, ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি

ঘুমন্ত শিশুকে হত্যায় কারাগার থেকে মুক্ত খুনি! পরিরারের ক্ষোভ, নতুন করে প্রশ্নের মুখে বিচারব্যবস্থা

আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি?

আমেরিকার কোন স্টেটে বসবাস করলে সিরিয়াল কিলারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা বিক্রির পরিকল্পনা? আগে জেনে নিন কেন ৭০% বাড়ির মালিক বিক্রি করছেন না

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাড়ির দাম এখনও তুলনামূলক বেশি থাকলেও বিক্রির জন্য বাজারে বাড়ির সরবরাহ সীমিত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘লক-ইন ইফেক্ট’—অর্থাৎ কম সুদের মর্টগেজ ধরে রাখতে বাড়ির মালিকদের অনীহা।   সাম্প্রতিক আবাসন বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাদের সক্রিয় হোম মর্টগেজ রয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নেওয়া ঋণের সুবিধা ভোগ করছেন। সে সময় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ঐতিহাসিকভাবে কম, অনেক ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। এমনকি অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার সুদের হার এখনও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।   অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে কেউ যদি এখন নিজের পুরনো বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কেনেন, তবে তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। এতে মাসিক কিস্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   এই কারণেই অনেক বাড়ির মালিক বর্তমান বাড়ি বিক্রি না করে সেটিতেই বসবাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবাসন বাজারে এই প্রবণতাকে ‘লক-ইন ইফেক্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। এর ফলে বিক্রির জন্য নতুন বাড়ির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের ওপর। বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ি কম থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় মূল্যও উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে।   অন্যদিকে, যাদের আগে থেকেই কম সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তারা নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ ধরে রাখছেন। অনেক পরিবার নতুন বাড়ি কেনার বদলে বর্তমান বাড়ি সংস্কার বা সম্প্রসারণের পথ বেছে নিচ্ছেন।   অর্থনীতিবিদদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমালে আবাসন বাজারে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে ২০২১-২২ সালের মতো ৩ থেকে ৪ শতাংশের অত্যন্ত কম মর্টগেজ সুদের হার অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা এখন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই স্থানীয় ঋণদাতার কাছ থেকে প্রি-অ্যাপ্রুভাল নিয়ে রাখুন এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন। এতে অনুকূল সুদে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ০:২৬
ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসিফিকা সৈকতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ডগ সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে কুকুরদের বিশ্ব সার্ফিং প্রতিযোগিতা

অভিযোগ অনুযায়ী, এই সাদা নিসান সেন্ট্রা গাড়ির চালক ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীকে ধাওয়া করেন। ছবি: সংগৃহীত

'ভারতে ফিরে যাও': যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী ও তার সন্তানকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া

লেকে পরিবারের সঙ্গে ক্যাম্পিংয়ে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন মিলার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী

0 Comments