চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ, আজ তিনি গ্রিন কার্ডধারী উদ্যোক্তা
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো অভিবাসীর মতোই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল নেপালে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি পেশাজীবী প্রতীক কার্কিকে। চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ।
গুগলের প্রায় তিন লাখ ডলার বার্ষিক বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছিলেন প্রতীক। সেই সিদ্ধান্তের দুই বছর পর তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী, পাশাপাশি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই যাত্রার গল্প শেয়ার করেন প্রতীক। তার সেই পোস্ট ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি মানুষের নজর কেড়েছে।
তবে এই গল্পের শুরু তার নিজের নয়, বরং তার বাবাকে দিয়ে। প্রতীকের বাবা যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে দুই সন্তানকে একা বড় করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ছেড়ে নেপালে ফিরে যেতে হয়।
প্রতীক লেখেন, “নেপাল ছাড়ার পর থেকে আমার প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।”
পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলে চাকরি পান। কিন্তু তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নির্ভর করছিল এইচ-১বি ভিসা লটারির ওপর। এই ব্যবস্থায় প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক কর্মভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়।
একবার নয়, টানা চারবার আবেদন করেও নির্বাচিত হতে পারেননি প্রতীক। তখন তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, অন্য দেশে চলে যাওয়া অথবা নেপালে ফিরে যাওয়া।
সেই সময়ের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি লেখেন, “আমার সঙ্গী এখানে ছিল, আমাদের গড়ে তোলা জীবন এখানে ছিল। অথচ একটি লটারির ফল সবকিছু বদলে দিতে পারত।”
প্রতীক জানান, সেদিন রাতে স্ত্রী তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাদের কিছু সঞ্চয় ছিল এবং স্ত্রী তাকে মনে করিয়ে দেন, এটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
এরপর মাত্র ২৭ বছর বয়সে বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গুগলের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন।
চাকরি ছাড়ার পরের সময়টা সহজ ছিল না। সান ফ্রান্সিসকোতে বন্ধু, পরামর্শক ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
গুগলে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে নির্ভরযোগ্য মানব-তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়েই এক সহ-প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে মিলে তিনি ‘অ্যানথ্রোমাইন্ড’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
গুগলের চাকরি ছাড়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। প্রচলিত এইচ-১বি পথ বাদ দিয়ে তিনি ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করেন। অসাধারণ দক্ষতা বা বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভিসা দেওয়া হয়।
প্রতীক জানান, গুগলে কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ভূমিকা এবং তার প্রকাশিত লেখাগুলো আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত তার আবেদন অনুমোদিত হয়।
এরপর তিনি ইবি-১ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ডও লাভ করেন। সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই গ্রিন কার্ড হাতে পেয়েছেন।
নিজের সাফল্যের কথা জানাতে গিয়ে প্রতীক লেখেন, “দুইজন অভিবাসী, একটি কোম্পানি এবং রান্নাঘরের টেবিলে হওয়া একটি কথোপকথন সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাবা, এই অর্জন তোমার জন্য।”
প্রযুক্তি খাতে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য প্রতীকের গল্প এখন অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভিসা অনিশ্চয়তা, কর্মজীবনের ঝুঁকি এবং নতুন উদ্যোগের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, ব্যর্থতা কখনও কখনও নতুন পথেরও সূচনা হতে পারে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করা নিউজিল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে জোরপূর্বক নির্বাসন নথিতে সই করানোর অভিযোগ উঠেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা জজ নোয়েল ওয়াইজ আইসিই-এর এই বেআইনি পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং ওই তরুণকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নির্বাসন ব্যবস্থার ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের দ্বারা মৌলিক আইনি সুরক্ষা লঙ্ঘনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আদালতের তিন পৃষ্ঠার আদেশে বলা হয়েছে, কর্নেলিয়াস কাইহাউ হোলানি নামের ওই তরুণ টোঙ্গান বংশোদ্ভূত নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। তার বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধ বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের রেকর্ড নেই। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বাইডেন প্রশাসনের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের অধীনে ১৭ বছর বয়সে তিনি বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। হোলানি সিয়াটলে বসবাস করেন, তার বয়স্ক দাদির যত্ন নেন এবং স্থানীয় চার্চে ঐতিহ্যবাহী টোঙ্গান নাচ শেখান। তা সত্ত্বেও গত ৩১ জুলাই ওকল্যান্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় চারজন সাদা পোশাকের আইসিই এজেন্ট তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে এবং সান ফ্রান্সিসকোর একটি অফিসে নিয়ে যায়। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, সান ফ্রান্সিসকোর অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর হোলানিকে একটি নথিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। তিনি এটি নির্বাসন সংক্রান্ত কোনো কাগজ কি না তা জানতে চাইলে একজন কর্মকর্তা তাকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলেন যে এটি তেমন কিছু নয়। না জেনেই হোলানি নথিতে সই করেন এবং পরবর্তীতে এই সই করা নথিটিকেই সরকার তার নির্বাসন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের অধিকার বাতিলের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে। বিচারক ওয়াইজ তার রায়ে জানান, হোলানিকে কোনো আইনি শুনানি ছাড়াই আটক করা হয়েছিল এবং তাকে আটকে রাখা হলে তা 'অপূরণীয় ক্ষতি'র কারণ হতে পারে। আদালত সরকারকে ৪ আগস্ট রাত ১১টার মধ্যে হোলানিকে ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফিরিয়ে এনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, আদালতের পরবর্তী শুনানি ছাড়া তাকে পুনরায় আটক বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ এবং মার্কিন ফেডারেল আদালতের মধ্যে চলমান আইনি লড়াইয়ের আরেকটি প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রশাসন প্রায়শই অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়া বিচারকদের 'অ্যাক্টিভিস্ট বিচারক' হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। আগামী ১৩ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
ব্রেস্ট ইমপ্লেন্ট সার্জারির পর মৃত্যু এনওয়াইপিডি অফিসারের, তদন্ত চায় পরিবার
ডিপোর্টেশনের কাগজে জোর করে সই করিয়েছে আইসিই, বৈধ অভিবাসীর পক্ষে রায় দিল মার্কিন আদালত
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়, ইন্ডিয়ানায় গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া সহজ করতে জনপ্রিয় শিক্ষা প্ল্যাটফর্মগুলো এখন “ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন” পদ্ধতি চালু করছে। এই ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে আলাদা করে আবেদন করার আগেই কলেজ থেকে ভর্তি ও স্কলারশিপের প্রাথমিক অফার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আবেদন ফি, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং জটিল আবেদন প্রক্রিয়ার চাপ কমতে পারে। বর্তমানে এনআইচি এবং কমন অ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক তথ্য, গ্রেড পয়েন্ট গড় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করলে অংশগ্রহণকারী কলেজগুলো সেই তথ্য মূল্যায়ন করে সরাসরি ভর্তি ও স্কলারশিপের অফার পাঠাতে পারে। তবে এসব অফার চূড়ান্ত ভর্তি নয়। শিক্ষার্থীকে পরে অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্টসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে কলেজের শর্ত পূরণ করতে হয়। শিক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো অনেক শিক্ষার্থী আগে থেকেই জানতে পারেন কোন কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ এবং কী পরিমাণ স্কলারশিপ পেতে পারেন। ফলে অপ্রয়োজনীয় আবেদন কমে আসে এবং কলেজ বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডাইরেক্ট অ্যাডমিশনের অফার পেলেই সেটি গ্রহণ করতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শিক্ষার্থীরা চাইলে একাধিক কলেজের অফার তুলনা করে নিজেদের জন্য উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে স্কলারশিপের পরিমাণও শিক্ষার্থীর ফলাফল, বিষয় নির্বাচন, আবাসন পরিকল্পনা বা অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের পর পরিবর্তিত হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে ভর্তির খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর ডাইরেক্ট অ্যাডমিশন ব্যবস্থা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের কলেজগামী এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হতে আরও উৎসাহিত হবেন।
পেন্টাগনের নতুন হিসাব, ৭ জুলাইয়ের পর বিদেশি অভিযানে আহত ২৩৮ মার্কিন সেনা
বার পরীক্ষার হলে লুটিয়ে পড়ে নীল হয়ে যাচ্ছিলেন তরুণী, তবুও অন্যদের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ
৪ জনের বাংলাদেশি পরিবারের মাসিক বাজারে কত খরচ? যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ চিত্র
মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে জয় পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন প্রগতিশীল নেতা ও চিকিৎসক ডা. আবদুল এল-সায়েদ। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হবেন। এনবিসি নিউজের প্রজেকশন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে এল-সায়েদ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসওম্যান হেইলি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। ভোট গণনার প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হওয়ার সময় এল-সায়েদ পান ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট, আর স্টিভেন্স পান ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট। চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল প্রকাশের পর এ সংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। এই প্রাইমারি ছিল ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ডেমোক্র্যাটিক সিনেট নির্বাচনের একটি। দলীয় প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়া হেইলি স্টিভেন্সের বিপরীতে এল-সায়েদকে সমর্থন দেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের প্রভাবশালী নেতারা। শেষ পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ের সমর্থন ও জোরালো প্রচারণার মাধ্যমে তিনি বিজয় অর্জন করেন। ৪১ বছর বয়সী আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য পরিচালক। ২০১৮ সালে তিনি মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় এবং স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় আলোচনায় পরিচিতি লাভ করেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ বাস্তবায়ন, ধনীদের ওপর বেশি কর আরোপ, অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিলুপ্তির পক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান। এই অবস্থান তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে এবং প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন এনে দেয়। মিশিগানে বাংলাদেশি ভোটারদের মতে, মিশিগানে আরব-আমেরিকান ও মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থন এল-সায়েদের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটিও এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচন। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করতে পারলে আবদুল এল-সায়েদ শুধু মিশিগানের নতুন সিনেটরই হবেন না, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছরেরও বেশি রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত মুসলিম সিনেটর হিসেবেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবেন।
‘বার্বি’ ও ‘ব্রিজারটন’-এর মেকআপ আর্টিস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত! ২৬ বছরেই থেমে গেল সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য সতর্কবার্তা: ১০টি সাধারণ ভুলেই গুনতে হতে পারে হাজার ডলারের জরিমানা