আমেরিকা

আটলান্টা জর্জিয়ায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আফিফ মিজান নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১৬:৮
অভিযুক্ত আফিফ । ছবি: সংগৃহীত
অভিযুক্ত আফিফ । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহৎ আটলান্টার গুইনেট কাউন্টিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আফিফ ইবনে মিজান জিশান রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

গুইনেট কাউন্টি জেলের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৯ মে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে কাউন্টি জেলে নিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, গাড়ির ভেতরে খোলা অবস্থায় অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় রাখাসহ নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

জেল কর্তৃপক্ষের নথিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুক করা হয় এবং অভিযোগগুলো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলাটির বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

 

যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগকে গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা, ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত হওয়া কিংবা অন্যান্য আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং গাড়িতে খোলা অ্যালকোহল কন্টেইনার বহনের অভিযোগও পৃথকভাবে আইনগত গুরুত্ব বহন করে।

 

গুইনেট কাউন্টি জেল রেকর্ডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে শুনানি ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

 

উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তির গ্রেপ্তার বা জেলে বুক হওয়া মানেই তিনি অপরাধে দোষী—এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের বাড়ি বিক্রিতে বড় ধাক্কা, দুই মাসে দুই দফা কমল দাম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুখ্যাত সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের আসামি জোয়েল রিফকিনের সাবেক বাড়িটি বিক্রির জন্য বাজারে আসার পর দ্বিতীয়বারের মতো মূল্য কমানো হয়েছে। মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাড়িটির দাম কয়েক দফায় হ্রাস পাওয়ায় বিষয়টি দেশটির আবাসন বাজারে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   লং আইল্যান্ডের ইস্ট মেডো এলাকার একটি শান্ত আবাসিক সড়কে অবস্থিত চার শয়নকক্ষের বাড়িটি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। তখন এর মূল্য ধরা হয়েছিল ৮ লাখ ২৫ হাজার ডলার। তবে বাজারে আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।   পরে ২৬ মে বাড়িটি আবার বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হলে দাম কমিয়ে ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ আরও ২০ হাজার ডলার কমিয়ে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।   রিয়েল এস্টেট তালিকায় বাড়িটিকে একটি সুপরিচর্যিত ও প্রশস্ত আবাসন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রায় ৭ হাজার বর্গফুট আয়তনের কোণার জমির ওপর নির্মিত বাড়িটিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো, আধুনিকায়ন করা রান্নাঘর, বড় আকারের শয়নকক্ষ এবং অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   বর্তমান মালিকরা ২০১১ সালে জোয়েল রিফকিনের পরিবারের কাছ থেকে বাড়িটি ৩ লাখ ২২ হাজার ডলারে কিনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা সেখানে বসবাস করেছেন।   জোয়েল রিফকিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ ইতিহাসে বহুল আলোচিত একটি নাম। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্ক অঞ্চলে একাধিক নারী হত্যার ঘটনায় তিনি গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড পান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে তার নাম যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কুখ্যাত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের মামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাড়ির সঙ্গে আলোচিত অপরাধের ইতিহাস জড়িত থাকলে তা অনেক সময় সম্পত্তির বাজারমূল্য এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের আগ্রহের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও বাড়িটির অবস্থান, আয়তন ও রক্ষণাবেক্ষণের মানকে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবুও এর অতীত ইতিহাস বিক্রয় প্রক্রিয়াকে কিছুটা জটিল করে তুলতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে, যেগুলো ঐতিহাসিক বা আলোচিত ঘটনার কারণে সাধারণ আবাসনের চেয়ে বেশি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে। ইস্ট মেডোর এই বাড়িটিও বর্তমানে সেই ধরনের সম্পত্তির তালিকায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১৭:১
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি মামলার অভিযুক্তকে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনল এফবিআই

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

নতুন পৃথিবীর জন্মে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল-সমর্থিত সুপার পিএসিগুলো: জোহরান মামদানি

অভিযুক্ত আফিফ । ছবি: সংগৃহীত

আটলান্টা জর্জিয়ায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আফিফ মিজান নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিলামে কেনা গাড়ির ভেতরে দুই ব্যক্তির পচনধরা মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি অটো বডি শপে নিলামে কেনা একটি গাড়ির ভেতর থেকে দুই পুরুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।   হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকায় অটো বডি শপের কর্মীরা বিষয়টি টের পান এবং পরে গাড়ির ভেতরে মরদেহ দুটি খুঁজে পান। পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হয়।   হ্যারিস কাউন্টি শেরিফ এড গঞ্জালেজ জানান, ডেপুটিরা 13600 ব্লক রিভেস্টন রোডে পৌঁছান, যেখানে গাড়িটি একটি টো ট্রাকের মাধ্যমে বডি শপে আনা হয়েছিল।   তদন্তকারীরা জানায়, গাড়িটি হ্যারিস কাউন্টির বাইরে অনুষ্ঠিত একটি নিলাম থেকে কেনা হয়েছিল। নতুন মালিক মেরামতের উদ্দেশ্যে গাড়িটি অটো বডি শপে পাঠান, কারণ এটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য ছিল।   কর্তৃপক্ষের ধারণা, গাড়িটি বডি শপে আনার পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মরদেহ দুটি সেখানে ছিল এবং ধীরে ধীরে পচন শুরু হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সার্জেন্ট মাইকেল রিচি, যিনি এবিসি হিউস্টনের সহযোগী চ্যানেল KTRK-কে বিষয়টি জানান।   তবে এখনো পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, টো ট্রাক চালক যিনি গাড়িটি বডি শপে পৌঁছে দেন, তার সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১৫:৫৯
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি নির্বাচনে উত্তাপ, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখোমুখি মামদানি ও প্রথাগত নেতৃত্ব

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে ২০ মাস বয়সী শিশুকে অনাহারে রেখে হত্যার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত

ইরান চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন যাচ্ছেন রুবিও

ছবি: সংগৃহীত
ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে কাজ করায় কিউবার শীর্ষ জেনারেলের কন্যা গ্রেপ্তার

কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম শীর্ষ নায়ক বা ‘হিরো’র কন্যা আলিনা রোসালেস আগুয়েরেতাকে (৩৭) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও সীমান্ত এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা। ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করে একটি ক্লিনিকে প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কাজ করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আলিনা কিউবার অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী জেনারেল উলিসেস রোসালেস দেল তোরোর কন্যা।   আইসিই এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলিনা রোসালেস আগুয়েরেতা পেশায় একজন প্রশিক্ষিত প্লাস্টিক সার্জন। তিনি ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর বি-২ ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ওরাল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের মে মাসে তার সেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান। গত ২৬ মে মিয়ামির একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকে সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টরা তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।   আলিনার বাবা ৮৪ বছর বয়সী জেনারেল উলিসেস রোসালেস দেল তোরো কিউবার ইতিহাসের একজন অন্যতম প্রভাবশালী কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ব। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি কিউবান বিপ্লবের সময় ফিদেল কাস্ত্রো এবং রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে যুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দেশটির বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে ‘হিরো অব দ্য রিপাবলিক অব কিউবা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি কিউবার কৃষিমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবেও শীর্ষ দায়িত্ব পালন করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থা আইসিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলিনা রোসালেস আগুয়েরেতার বিরুদ্ধে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিই হেফাজতে রয়েছেন এবং অভিবাসন আদালতের বিচারকের সামনে শুনানির জন্য অপেক্ষা করছেন। এই বিষয়ে আরও তথ্য হাতে এলে তা পরবর্তীতে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।   হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে কিউবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আলিনা গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক দিন আগেই আদিস লাস্ট্রেস মোরেরা নামের আরেক কিউবান নারীকে গ্রেপ্তার করে লুইজিয়ানার একটি আইসিই ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। ওই নারী কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত এবং দেশটির অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণকারী গোপন প্রতিষ্ঠান ‘গায়েসা’র (GAESA) প্রেসিডেন্ট তথা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিয়া গুইলারমিনা লাস্ট্রেসের আপন বোন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১২:৬
ছবি: ফাইল ফটো

আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলেই কি নাগরিকত্ব মিলবে, ট্রাম্পের নতুন নিয়মে বাড়ছে বিতর্ক

মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফাইটার জেট | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভিআইপি নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়া বেসরকারি বিমানকে তাড়া করল যুদ্ধবিমান এফ-১৬

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে আবারও হামলার বড় চেষ্টা ব্যর্থ, অস্ত্রসহ চালক গ্রেফতার

0 Comments