ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে কাজ করায় কিউবার শীর্ষ জেনারেলের কন্যা গ্রেপ্তার
কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবের অন্যতম শীর্ষ নায়ক বা ‘হিরো’র কন্যা আলিনা রোসালেস আগুয়েরেতাকে (৩৭) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও সীমান্ত এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টরা। ট্যুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করে একটি ক্লিনিকে প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কাজ করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত আলিনা কিউবার অত্যন্ত সম্মানিত ও প্রভাবশালী জেনারেল উলিসেস রোসালেস দেল তোরোর কন্যা।
আইসিই এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলিনা রোসালেস আগুয়েরেতা পেশায় একজন প্রশিক্ষিত প্লাস্টিক সার্জন। তিনি ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর বি-২ ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ওরাল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের মে মাসে তার সেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যান। গত ২৬ মে মিয়ামির একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকে সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টরা তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
আলিনার বাবা ৮৪ বছর বয়সী জেনারেল উলিসেস রোসালেস দেল তোরো কিউবার ইতিহাসের একজন অন্যতম প্রভাবশালী কমিউনিস্ট ব্যক্তিত্ব। ১৯৫০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি কিউবান বিপ্লবের সময় ফিদেল কাস্ত্রো এবং রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে যুদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দেশটির বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাকে ‘হিরো অব দ্য রিপাবলিক অব কিউবা’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এছাড়া তিনি কিউবার কৃষিমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য হিসেবেও শীর্ষ দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থা আইসিই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলিনা রোসালেস আগুয়েরেতার বিরুদ্ধে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিই হেফাজতে রয়েছেন এবং অভিবাসন আদালতের বিচারকের সামনে শুনানির জন্য অপেক্ষা করছেন। এই বিষয়ে আরও তথ্য হাতে এলে তা পরবর্তীতে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হয়েছে, যার অংশ হিসেবে কিউবার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আত্মীয়-স্বজনদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আলিনা গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক দিন আগেই আদিস লাস্ট্রেস মোরেরা নামের আরেক কিউবান নারীকে গ্রেপ্তার করে লুইজিয়ানার একটি আইসিই ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়। ওই নারী কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত এবং দেশটির অর্থনীতির সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণকারী গোপন প্রতিষ্ঠান ‘গায়েসা’র (GAESA) প্রেসিডেন্ট তথা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিয়া গুইলারমিনা লাস্ট্রেসের আপন বোন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে চলমান আলোচনায় প্রায় পাঁচ দশক আগের একটি হিসাব আবারও সামনে এসেছে। ১৯৭৮ সালে ফেডারেল মিনিমাম ওয়েজে একটি পূর্ণকালীন সামার জব করে একজন শিক্ষার্থী প্রায় ১ হাজার ৩৭৮ ডলার আয় করতে পারতেন। অথচ সেই সময় চার বছর মেয়াদি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে নিজ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের গড় বার্ষিক টিউশন ও বাধ্যতামূলক ফি ছিল প্রায় ৬৮৮ ডলার। অর্থাৎ গড় হিসাবে এক গ্রীষ্মের উপার্জন দিয়েই পুরো বছরের টিউশন মিটিয়ে কিছু অর্থ হাতে রাখা সম্ভব ছিল। ১৯৭৮ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল মিনিমাম ওয়েজ ঘণ্টায় ২ দশমিক ৬৫ ডলারে উন্নীত হয়েছিল। একজন শিক্ষার্থী যদি গ্রীষ্মে ১৩ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতেন, তাহলে কর কাটার আগে তার মোট আয় দাঁড়াত প্রায় ১ হাজার ৩৭৮ ডলার। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এডুকেশন স্ট্যাটিসটিকসের ঐতিহাসিক তথ্য ব্যবহার করে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৭৮-৭৯ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ অঙ্গরাজ্যের শিক্ষার্থীদের গড় টিউশন ও প্রয়োজনীয় ফি ছিল প্রায় ৬৮৮ ডলার। ফলে গড় হিসাবে সামারের উপার্জন টিউশন ও ফি-এর প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে এই তুলনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ওই ৬৮৮ ডলারের হিসাবের মধ্যে বাসস্থান, খাবার, বই, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওই সময় টিউশন, ফি এবং রুম ও বোর্ড মিলিয়ে গড় ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১৪৫ ডলার। ফলে শুধু একটি সামার জবের আয় দিয়ে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার সব খরচ মেটানো সম্ভব ছিল, এমন দাবি সঠিক নয়। আরেকটি বিষয় হলো, ৬৮৮ ডলার ছিল জাতীয় গড় এবং তা নিজ অঙ্গরাজ্যের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশ্ববিদ্যালয় ও অঙ্গরাজ্যভেদে টিউশনের অঙ্ক আলাদা ছিল। অন্য অঙ্গরাজ্যের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গেলে একজন শিক্ষার্থীকে বেশি টিউশন দিতে হতে পারত। তারপরও ঐতিহাসিক এই তুলনা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পরিবর্তন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। ১৯৭৮ সালে মিনামাম ওয়েজে কয়েক মাসের পূর্ণকালীন কাজের আয় এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক টিউশনের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, পরবর্তী কয়েক দশকে সেটি ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু টিউশন নয়, বাসস্থান, খাবার, বই, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচও উচ্চশিক্ষার মোট ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে কলেজের খরচ মেটাতে স্কলারশিপ, ফিন্যান্সিয়াল এইড, শিক্ষাঋণ, পার্টটাইম চাকরি কিংবা পরিবারের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীকে। ১৯৭৮ সালের হিসাব তাই শুধু পুরোনো দিনের একটি আকর্ষণীয় পরিসংখ্যান নয়। এটি দেখায়, একসময় সামারের একটি মিনামাম ওয়েজ চাকরির আয় দিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো বছরের গড় টিউশন মেটানো সম্ভব ছিল, যে বাস্তবতা আজকের অনেক মার্কিন শিক্ষার্থীর কাছে অনেকটাই দূরের স্মৃতি।
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ঋণ খেলাপির নতুন রেকর্ড: কিস্তি পরিশোধে হিমশিম ৯৫ লাখ আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ড এলাকার অ্যাডামস হাই স্কুলের জনপ্রিয় এক শিক্ষিকা এবং তার ছোট ভাই লেক মিশিগানে ডুবে মারা গেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএনডিইউ (WNDU)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষিকার নাম হান্নাহ জভেইগ (২১)। তিনি সাউথ বেন্ডের অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনদক্ষতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে লেকে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। পানিতে ডুবে দুজনই মারা যান। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। কী পরিস্থিতিতে তারা পানিতে ডুবে যান, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। অ্যাডামস হাই স্কুলের অধ্যক্ষ জিম সাইটজ হান্নাহকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, নিবেদিতপ্রাণ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে হান্নাহ তাকে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে যাচ্ছেন এবং অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। সেই ই-মেইল থেকেই তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। গত বছর শিক্ষকতা শুরু করার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। অধ্যক্ষের ভাষায়, একজন ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষককে সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলবাস থেকে নামার পর থেকে বিকেলে বাসে ওঠা পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হান্নাহ এ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন। জিম সাইটজ বলেন, হান্নাহ তার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য যেকোনো শিক্ষকের তুলনায় তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন, যাতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ বেন্ড কমিউনিটি স্কুল করপোরেশন তাকে ‘রুকি টিচার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হান্নাহ সব সময় অন্যদের এগিয়ে নিতে কাজ করতেন। স্কুলে বিভিন্ন উদ্যোগ আয়োজনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সাফল্যও তিনি সবার সামনে তুলে ধরতেন। নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার স্বভাব। পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোট ভাই ইয়োসেফ ছিলেন হান্নাহর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবাসার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাই অনেকের মতে, জীবনের শেষ যাত্রাতেও ভাই-বোন একসঙ্গেই রয়ে গেলেন। ঘটনার পর অ্যাডামস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হান্নাহকে একজন মানবিক, কর্মঠ এবং শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দিতে নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, একটি বাড়ি কিনতে এখনো দরকার লাখ ডলারের বেশি আয়
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে বাগদত্তা আটক, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত সমর্থক
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৯০ শতাংশই পেয়েছেন নারীরা, কারণ জানালেন অর্থনীতিবিদ
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে প্রতিবেশীর করা শব্দের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক মা ও তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী প্রতিবেশী রবার্ট উইঙ্কেলম্যানের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি নিজেকেও গুলি করেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউওডব্লিউটি (WOWT), কেএসডিকে (KSDK) এবং জেফারসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই রাতে মিসৌরির জেফারসন কাউন্টির হাউস স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ৩৮ বছর বয়সী জেসিকা ল্যাশলি এবং তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে জার্সি গ্রিয়ার। দুজনকেই মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে দুই দিন পর তাদের মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা গেছে, রবার্ট উইঙ্কেলম্যান নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে গিয়ে সেখানে চলা কর্মকাণ্ড ও শব্দ নিয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে জেসিকা ল্যাশলিকে গুলি করেন। মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন জার্সি গ্রিয়ার। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও মাথায় গুলি করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তিকে ধাওয়া করা হলেও তিনি গুলিবিদ্ধ হননি। শেরিফের দপ্তর জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি নিজের মাথায় গুলি করেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ২ আগস্ট তিনি মারা যান। জীবিত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং সশস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। নিহত জার্সির যমজ বোন জাস্টিস গ্রিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসডিকেকে বলেন, তার বোন ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তিনি বলেন, "ওর শেষ মুহূর্তেও সে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। এটাই প্রমাণ করে সে কতটা সাহসী ছিল।" দুই বোনেরই ভবিষ্যতে কলেজ পর্যায়ে ল্যাক্রোস খেলার স্বপ্ন ছিল বলেও জানান তিনি। পরিবারের প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, জার্সি গ্রিয়ার হাউস স্প্রিংসের নর্থওয়েস্ট হাই স্কুলে শেষ বর্ষে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। অন্যদিকে জেসিকা ল্যাশলি ছিলেন একজন পরিশ্রমী একক মা। তিনি একটি ট্রি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে অফিস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন এবং দুই মেয়েকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতেন। এ ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের ব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটনাটি গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
টেক্সাসে ১১২ মাইল গতির বিএমডব্লিউর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত প্রবীণ দম্পতি
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার