আমেরিকা

নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি নির্বাচনে উত্তাপ, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখোমুখি মামদানি ও প্রথাগত নেতৃত্ব

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১৪:৪৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চলছে। সোমবার প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেন। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে দলটির ভেতরে প্রগতিশীল বামপন্থী ধারা এবং প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।

 

নির্বাচনটি নিউইয়র্ক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র যোরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তরুণ ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট নেতা মামদানি গত বছর যে জনসমর্থন তৈরি করেছিলেন, তা এবার কংগ্রেস নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে। তিনি তার সমর্থিত তিনজন হাউস প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছেন এবং একাধিক প্রচারণামূলক ভিডিওতে অংশ নিয়েছেন। গত সপ্তাহে তিনি সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে এক সমাবেশেও অংশ নেন।

 

প্রচারণায় মামদানি বলেন, “অতীতের দল ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে পারবে না। আমাদের এমন একটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি দরকার, যার মেরুদণ্ড আছে।” অন্যদিকে ম্যানহাটনের একটি আসনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির নাতি জ্যাক শ্লসবার্গ প্রার্থী হয়েছেন। পারিবারিক পরিচিতি এবং সামাজিকমাধ্যমে জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

 

তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য অ্যালেক্স বোরিস, মাইকা ল্যাশার এবং আইনজীবী জর্জ কর্নওয়ে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় শ্লসবার্গ সাবেক টক শো উপস্থাপক ডেভিড লেটারম্যানের সঙ্গে সমাবেশ করেন এবং তার মা ক্যারোলিন কেনেডি তার পক্ষে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। অন্যদিকে মামদানি এখনো এই আসনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেননি। তিনি আরও তিনটি কংগ্রেস আসনের প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন, যার মধ্যে দুটি বর্তমান ডেমোক্র্যাট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

 

এর মধ্যে ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের সঙ্গে আদ্রিয়ানো এসপায়াতের এবং সাবেক নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার ব্র্যাড লেন্ডারের সঙ্গে ড্যান গোল্ডম্যানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আরেকটি আসনে ক্লেয়ার ভালদেজ ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও রেইনোসোর বিরুদ্ধে লড়ছেন।

 

ভালদেজ নিজেকে মামদানির ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও রেইনোসোও প্রগতিশীল অবস্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রাইমারি নির্বাচন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
অভিযুক্ত আফিফ । ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টা জর্জিয়ায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আফিফ মিজান নামে এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহৎ আটলান্টার গুইনেট কাউন্টিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং একাধিক ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আফিফ ইবনে মিজান জিশান রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   গুইনেট কাউন্টি জেলের প্রকাশিত রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৯ মে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে কাউন্টি জেলে নিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, গাড়ির ভেতরে খোলা অবস্থায় অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় রাখাসহ নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।   জেল কর্তৃপক্ষের নথিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ঘটনার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুক করা হয় এবং অভিযোগগুলো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য নথিভুক্ত করা হয়। তবে মামলাটির বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগকে গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমন অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে জরিমানা, ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত হওয়া কিংবা অন্যান্য আইনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং গাড়িতে খোলা অ্যালকোহল কন্টেইনার বহনের অভিযোগও পৃথকভাবে আইনগত গুরুত্ব বহন করে।   গুইনেট কাউন্টি জেল রেকর্ডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতে শুনানি ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।   উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তির গ্রেপ্তার বা জেলে বুক হওয়া মানেই তিনি অপরাধে দোষী—এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১৬:৮
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিলামে কেনা গাড়ির ভেতরে দুই ব্যক্তির পচনধরা মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি নির্বাচনে উত্তাপ, শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মুখোমুখি মামদানি ও প্রথাগত নেতৃত্ব

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে ২০ মাস বয়সী শিশুকে অনাহারে রেখে হত্যার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত
ইরান চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন যাচ্ছেন রুবিও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন সফর করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (২২ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উচ্চপর্যায়ের সফরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এই মধ্যপ্রাচ্য সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে তিনি ইরানের সাথে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক, হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়গুলোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেবেন।   সফরের অংশ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থানকালে রুবিও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) প্রতিনিধিদের সাথে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট আরও জানান, এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে এমন প্রধান প্রধান নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।   বিগত সপ্তাহে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এটিই হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো গত চার মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধটির স্থায়ী অবসান ঘটানো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ১২:৫৩
ছবি: সংগৃহীত

ভিসার মেয়াদ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে কাজ করায় কিউবার শীর্ষ জেনারেলের কন্যা গ্রেপ্তার

ছবি: ফাইল ফটো

আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলেই কি নাগরিকত্ব মিলবে, ট্রাম্পের নতুন নিয়মে বাড়ছে বিতর্ক

মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফাইটার জেট | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভিআইপি নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়া বেসরকারি বিমানকে তাড়া করল যুদ্ধবিমান এফ-১৬

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে আবারও হামলার বড় চেষ্টা ব্যর্থ, অস্ত্রসহ চালক গ্রেফতার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর একটি বিশিষ্ট মসজিদে ভয়াবহ এক গণগুলিবর্ষণের ঘটনার ঠিক এক মাস পূর্তির দিনে আবারও হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তবে সেখানে নিয়োজিত একজন অত্যন্ত সতর্ক নিরাপত্তা প্রহরীর বুদ্ধিমত্তা এবং দূরদর্শিতার কারণে এবার এক বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। গত মে মাসে কেইনি ক্লার্ক এবং ক্যালেব ভাজকুয়েজ নামের দুই কিশোর উগ্রবাদীর ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ওই উপাসনালয়ে তিনজন মুসল্লি নিহত হয়েছিলেন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে মসজিদটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রাখা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) মার্কিন গণমাধ্যমের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো নামের ওই মসজিদে গত বৃহস্পতিবার এই উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটে। মসজিদের ইমাম তাহা হাসান জানান, তাদের একজন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রহরী লক্ষ্য করেন যে একটি সন্দেহভাজন গাড়ি মসজিদের চারপাশ দিয়ে বারবার চক্কর দিচ্ছে। বিষয়টি দেখে তার মনে সন্দেহ জাগলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে তথ্যটি দেওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অ্যাকশনে যান এবং আশেপাশের অন্যান্য পুলিশ ইউনিটকে ওই নির্দিষ্ট গাড়ির বিবরণ ও নম্বর জানিয়ে দেন।   সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, মসজিদ থেকে কিছুটা দূরেই পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন ওই গাড়িটিকে আটক করতে সক্ষম হন এবং গাড়ির চালককে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেন। আটককৃত চালকের গাড়িটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ সদস্যরা একটি নাৎসি উগ্রবাদী আদর্শের পতাকা এবং অত্যন্ত রহস্যময় একটি ক্যানিস্টার বা সিলিন্ডার পাত্র উদ্ধার করেন। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের বিশেষ বোমা ও অগ্নিসংযোগ বিষয়ক তদন্তকারী দল ‘মেট্রো আর্সন স্ট্রাইক টিম’-কে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। ক্যানিস্টারটি পরীক্ষার সময় নিরাপত্তার খাতিরে আশেপাশের সমস্ত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে খালি করে দেওয়া হয়েছিল।   মসজিদের ইমাম তাহা হাসান এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "ঠিক এক মাস আগের হামলার বার্ষিকীর দিনে এই ঘটনাটি ঘটায় আমাদের পুরো মুসলিম কমিউনিটি এবং আশেপাশের সব মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ যে সেই সময় পুলিশ কর্মকর্তারা মসজিদের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সাড়া দিয়েছেন।" গত মে মাসের ১৮ তারিখে ঘটে যাওয়া ওই প্রথম হামলায় মসজিদের বীর নিরাপত্তা প্রহরী এবং আট সন্তানের জনক আমিন আবদুল্লাহ নিজের জীবন দিয়ে অনেক মুসল্লির প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। ওই হামলায় নাদের আওয়াদ এবং মনসুর কাজিহা নামের আরও দুই মুসল্লি নিহত হন।   পূর্বের ওই হামলায় দুই বন্দুকধারী কিশোর নিজেরা একটি উগ্রবাদী ইশতেহার লিখেছিল এবং হামলার ঘটনাটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভস্ট্রিম করেছিল। সেই লাইভ ভিডিওতে হামলাকারী ক্লার্কের গায়ে নাৎসি প্রতীক দেখা গিয়েছিল এবং শেষ মুহূর্তে সে তার সহযোগী ভাজকুয়েজকে গুলি করার পর নিজে আত্মহত্যা করে। পুলিশ পরবর্তীতে তাদের গাড়ি থেকে ইসলামভীতি বা মুসলিম বিদ্বেষী বিভিন্ন ধরণের লেখা উদ্ধার করেছিল। পূর্বের সেই ভয়াবহ স্মৃতি কাটিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার এই মুসলিম সমাজ যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই এই নাৎসি পতাকাসহ নতুন করে গাড়ি আটকের ঘটনাটি পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   সান ডিয়েগো পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে বর্তমানে ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর ওপর আর কোনো সরাসরি বা সক্রিয় হুমকি নেই এবং পুরো ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। এদিকে মসজিদের পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার স্বার্থে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সাথে কাজ শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই মসজিদে আসা সমস্ত দর্শনার্থীদের জন্য এখন থেকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শরীর তল্লাশি করা এবং মসজিদে প্রবেশের পূর্বে সমস্ত ব্যাগ বা বড় ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার মতো কঠোর নিয়মাবলী কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৯:৫০
ছবি: সংগৃহীত

বস্টন বিমানবন্দরে মুখোমুখি দুই বিমান, শেষ মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আভাসে কমল মার্কিন বাড়ির ঋণের সুদ

ছবি: সংগৃহীত

চাকরি পেয়েও বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন তরুণরা, যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড

0 Comments