আমেরিকা

৬.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৯:১৪
গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা
গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ রয়েছে।

 

বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিপণনকর্মী এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দেশটির ৪৫টি অঙ্গরাজ্য এবং একাধিক ফেডারেল জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পৃথক মামলার তদন্ত করা হয়েছে।

 

ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত প্রতারণার বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।

 

ডিওজে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে বিল আদায়, রোগীদের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া দাবি দাখিল, অবৈধ কমিশন গ্রহণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম।

 

সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে অ্যারিজোনাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রতারণামূলক বিলিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কেনা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট পণ্য নতুনভাবে বাজারজাত করে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে মেডিকেয়ারে বিল করত। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

বিচার বিভাগের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। তদন্তে উচ্চমূল্যের গাড়ি, দামি গয়না, বিলাসবহুল আবাসন এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।

 

এদিকে ফ্লোরিডার একটি মামলায় এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া পরিচালনার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের প্রতারণা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের প্রকৃত চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও তাদের বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছিল।

 

মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তা ও জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

 

বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন দমনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের পক্ষে রায় দিয়েছে একটি ফেডারেল আপিল আদালত। এর ফলে দেশজুড়ে দ্রুত প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের বহিষ্কারের নীতি কার্যকর করার পথে বড় বাধা দূর হলো।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের বেঞ্চ ২-১ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) ‘এক্সপেডাইটেড রিমুভাল’ বা দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারিত সংস্করণ বাস্তবায়ন করতে পারবে। এই নীতির আওতায় অভিবাসন কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আদালতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ছাড়াই কিছু ব্যক্তিকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে পারবেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগে এই ব্যবস্থা মূলত সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণত যেসব ব্যক্তি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন এবং দেশে অন্তত দুই সপ্তাহ অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে পারেননি, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হতো।   তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে প্রণীত নতুন নীতির মাধ্যমে এর পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো স্থানে থাকা এমন অভিবাসীর বিরুদ্ধে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যাবে, যিনি দেশে টানা দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন না।   এই নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন ‘মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক’-এর করা মামলায় এক ফেডারেল বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন। তিনি রায়ে বলেন, এই নীতি অভিবাসীদের ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।   কিন্তু আপিল আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকরা সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হননি। ট্রাম্প মনোনীত বিচারক জাস্টিন ওয়াকার ও নিওমি রাও রায়ে বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা রয়েছে এবং আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রায়ে বিচারকরা উল্লেখ করেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এমন মাত্রার তথ্য প্রদান প্রত্যাশা করা যায় না যা কার্যত আইনি পরামর্শ দেওয়ার সমতুল্য হয়ে যায়।   তবে বেঞ্চের তৃতীয় সদস্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মনোনীত বিচারক রবার্ট উইলকিনস ভিন্নমত পোষণ করেন। তাঁর মতে, নীতিটি বাস্তবে অভিবাসীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারে।   উইলকিনস বলেন, বর্তমান নিয়মে কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে জানতে চাওয়ার প্রয়োজন নেই যে কোনো ব্যক্তি কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এমনকি দুই বছর অবস্থানের প্রমাণ বহিষ্কার ঠেকানোর একটি সম্ভাব্য আইনি ভিত্তি হতে পারে, সে বিষয়েও অনেককে জানানো হয় না। ফলে অনেক অভিবাসী তাদের অধিকার সম্পর্কে না জেনেই দ্রুত বহিষ্কারের মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।   রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে। ডিএইচএসের প্রধান আইনজীবী জেমস পারসিভাল বলেন, আদালতের আদেশ প্রমাণ করেছে যে সরকার আইনের বিধান অনুসারেই পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন। বর্তমানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেলে আর্থিক সহায়তা ও বিমান টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।   অন্যদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আনন্দ বালাকৃষ্ণন বলেন, এই সিদ্ধান্ত এমন একটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে যেখানে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি রয়েছে এবং অনেক মানুষ ন্যায্য সুযোগ পাওয়ার আগেই বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে পারেন।   ‘মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক’-এর উপপরিচালক ইয়ারিৎসা মেন্দেজও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই নীতি কার্যকর হলে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে এবং ভুল বহিষ্কারের ঘটনাও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত বহিষ্কার নীতির সম্প্রসারণ ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন কৌশলের অংশ। প্রশাসন অভিবাসন মামলার জট কমানো এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   সম্প্রতি সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাচের অভিবাসন বিচারক নিয়োগ দিয়েছে। একই সঙ্গে আটক অভিবাসীদের জামিন শুনানি ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা চলছে।   অভিবাসন প্রশ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও মানবাধিকার অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমর্থকদের দাবি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন আইন কার্যকরে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, দ্রুত বহিষ্কার নীতি ন্যায়বিচার ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতিকে দুর্বল করতে পারে।   ফলে আদালতের সর্বশেষ এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ২০:৩৩
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমাতে ঐতিহাসিক বিল পাস

গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা

৬.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ার লাইব্রেরিতে ১৮ বছরের বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, নিহত ২

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ার সেকুইয়া ন্যাশনাল পার্কে নদীর স্রোতে ভেসে গিয়ে ১৭ বছরের কিশোরীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত সেকুইয়া ন্যাশনাল পার্কে বেড়াতে গিয়ে নদীর স্রোতে ভেসে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আন্দ্রেয়া দিয়াজ মন্ড্রাগন নামের ওই কিশোরীর আজীবন স্বপ্ন ছিল একজন সেবিকা বা নার্স হওয়ার। সান্তা মারিয়ার বাসিন্দা আন্দ্রেয়া গত শুক্রবার তার বড় ভাই এবং বন্ধুদের একটি দলের সাথে জীবনের প্রথমবারের মতো এই ন্যাশনাল পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আনন্দঘন এই সফরটি যে মুহূর্তেই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হবে, তা কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পার্কে ঘোরার সময় হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যায় আন্দ্রেয়া। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে নদীর তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই ও এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দিলেও স্রোতের কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উপস্থিত লোকজন কাপড় বেঁধে দড়ি তৈরি করে উদ্ধারকারী ওই দুজনকে কোনোমতে তীরে তুলে আনতে পারলেও, আন্দ্রেয়াকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবার চোখের সামনেই তীব্র স্রোতে তলিয়ে যায় তার নিথর দেহ।   আগামী আগস্ট মাসেই সান্তা মারিয়ার পাইওনিয়ার ভ্যালি হাইস্কুলে সিনিয়র বর্ষে ওঠার কথা ছিল সদ্য জুনিয়র বর্ষ শেষ করা আন্দ্রেয়ার। অর্থ সংগ্রহের জন্য খোলা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজে তার পরিবার জানিয়েছে, মানুষের সেবা করার নীতিকেই সে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিল। অত্যন্ত প্রাণবন্ত, সাহসী ও যত্নশীল এই কিশোরী অবসর সময়ে নাচতে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসত। মা, বাবা ও বড় ভাইদের পাশাপাশি ছোট বোনকে সবসময় আগলে রাখা এই মেয়েটির আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ও বন্ধুমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, এই বছর ফ্রেসনো ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এখন পর্যন্ত নদীতে ১৫টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে পানিতে ডুবে মোট ৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৭:২৭
ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে আইস কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ‘আন্তিফা’ নেতার ১০০ বছরের কারাদণ্ড

ছবিঃ ইয়াহু নিউজ

২৭০০ ডলারের লটারি টিকিট চুরির অভিযোগে ফ্লোরিডায় ওয়ালমার্ট ক্যাশিয়ার গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মুক্তির পরও কাটছে না ট্রমা, টেক্সাসের ডিটেনশন ক্যাম্পে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ গ্রিন কার্ডধারীর

৫৩ বছর বয়সী জেসন ফিনকেলস্টেইন l ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে ৮৯ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ডিওজের মামলা

কলেজ অ্যাথলিটদের অপ্রয়োজনীয় কার্ডিওভাসকুলার বা হার্ট স্ক্রিনিং টেস্ট করিয়ে ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ৮৯ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে টেক্সাসের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযোগ উঠেছে, ওই চিকিৎসক কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই টেস্ট রিপোর্টগুলোতে 'স্বাভাবিক' বা 'নরমাল' সিল মেরে দিতেন। এই জালিয়াতির কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।   ৫৩ বছর বয়সী জেসন ফিনকেলস্টেইন নামের ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি এবং দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকে গত বছরের শেষভাগ পর্যন্ত ফিনকেলস্টেইন ও তার দুই অজ্ঞাত সহযোগী মিলে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি কার্ডিওভাসকুলার টেস্টিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অভিনব জালিয়াতি চালিয়েছিলেন। হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মাঠে মারা যাওয়ার যে ভয় অ্যাথলিটদের মধ্যে কাজ করে, মূলত সেটাকেই পুঁজি করেছিলেন তারা। পূর্বের কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও সুস্থ অ্যাথলিটদের ভুল বুঝিয়ে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো হতো।   যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের জালিয়াতির বিরুদ্ধে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের যে দেশব্যাপী জোরালো অভিযান চলছে, ফিনকেলস্টেইনের মামলাটি তারই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রধান এবং স্বনামধন্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. মেহমেত ওজ এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি শুধু অর্থই চুরি করে না, এটি মানুষের জীবনও কেড়ে নিতে পারে।” তবে গত সোমবার ফ্লোরিডার আদালতে এক সংক্ষিপ্ত শুনানিতে ফিনকেলস্টেইন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।   জালিয়াতির সুকৌশল সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানান, ফিনকেলস্টেইন এবং তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাথলেটিক ট্রেইনারদের ইমেইল পাঠিয়ে বিনামূল্যে হার্ট স্ক্রিনিংয়ের প্রলোভন দেখাত। এমনকি শিক্ষার্থীদের তাদের কাছে পাঠাতে স্কুল কর্মকর্তাদের অবৈধ আর্থিক সুবিধাও বা কমিশন দেওয়া হতো। ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো যেহেতু অকারণে এসব টেস্টের খরচ বহন করে না, তাই টাকা আদায়ের জন্য ফিনকেলস্টেইন রোগীদের উচ্চ রক্তচাপের মতো ভুয়া শারীরিক কারণ দেখিয়ে ইনস্যুরেন্স বিল জমা দিতেন। এর জন্য তিনি এমন সব টেকনিশিয়ানদের ব্যবহার করতেন যাদের এই ধরনের পরীক্ষা করার বৈধ যোগ্যতাই ছিল না।   সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক বিষয় হলো, ফিনকেলস্টেইন টেস্টের রিপোর্টগুলো না পড়েই তা চূড়ান্ত করতেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে এক রোগীর প্রায় ৬৩টি টেস্ট ইমেজে মাত্র ১১ সেকেন্ডের মধ্যে স্বাক্ষর করে তাকে ‘ফিট’ বা স্বাভাবিক ঘোষণা করেছিলেন তিনি। অথচ সেই টেস্টের রিপোর্টে একাধিক কার্ডিয়াক সমস্যা স্পষ্ট ছিল। সেগুলো ধরা না পড়ায় বিনা চিকিৎসায় পরবর্তীতে ওই অ্যাথলিটের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিচার বিভাগ এই নির্মম জালিয়াতি চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ১৫:২০
ছবি: সংগৃহীত

১২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি সত্ত্বেও শিক্ষাখাতে বিশাল বিনিয়োগ জোহরান মামদানির

৩ বছরের নিষ্পাপ শিশু l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তীব্র গরমে বদ্ধ গাড়ির ভেতরেই নিভে গেল ৩ বছরের শিশুর জীবন

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে গৃহপরিচারিকার চাকরির প্রলোভন, ফ্লোরিডায় নিয়ে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ

0 Comments