মেডিকেয়ার

মেডিকেয়ারে ৫৪৭ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন খালিদ সাতারি। ছবি: সংগৃহীত
৫৪ কোটি ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, ৩ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’ থেকে অর্ধবিলিয়ন বা ৫৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দীর্ঘ তিন বছর ধরে পলাতক থাকা এক শীর্ষ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ (ডিঅ্যান্ডজে) জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম খালিদ সাতারি (৫৪)। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির তদন্তের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতারণার ঘটনা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা যায়, খালিদ সাতারি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বেশ কয়েকটি মেডিকেল ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার পরিচালনা করতেন। এই পরীক্ষাগারগুলোর মাধ্যমে তিনি রোগীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও ব্যয়বহুল বংশাণুক্রমিক (জেনেটিক) পরীক্ষার ভুয়া বিল তৈরি করে মেডিকেয়ার কর্মসূচির কাছে পাঠাতেন। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য তিনি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করতেন।   এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি পরিচালনা করতে সাতারি একাধিক রোগী সংগ্রহকারী এজেন্ট, টেলিমার্কেটিং কল সেন্টার এবং অনলাইন চিকিৎসাসেবা (টেলিমেডিসিন) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করেছিলেন। লোভনীয় বিপণন কৌশল, বিপুল অর্থ ঘুষ এবং অবৈধ কমিশন বা ‘কিকব্যাক’ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এই চক্র সচল রাখতেন। তিনি চিকিৎসক ও এজেন্টদের কোটি কোটি ডলার ঘুষ দিয়েছেন বলে তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।   আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রাথমিক অভিযোগের পর তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে জামিনে থাকা অবস্থাতেই তিনি হিউস্টন ও টেক্সাসভিত্তিক কয়েকটি ল্যাবরেটরির সঙ্গে পুনরায় হাত মিলিয়ে একই ধরনের জালিয়াতি চালিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে বিচারিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে তিনি জালিয়াতির বিপুল অর্থ নিয়ে গোপনে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পালিয়ে যান।   দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ২০ জুলাই ২০২৬ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সাতারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি ভুয়া মেক্সিকান পাসপোর্ট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাকে উন্নত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।   খালিদ সাতারির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা, তারযোগে জালিয়াতি, রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা, অবৈধ ঘুষ লেনদেন এবং অর্থ পাচারের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক ডা. ভায়োলেটা মাইলিয়ান I ছবি: সংগৃহীত
রোগী না দেখিয়েই বিল, ৪৫ মিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক দোষী সাব্যস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মেডিকেয়ারকে লক্ষ্য করে সংঘটিত সবচেয়ে বড় বোটক্স জালিয়াতির একটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার চিকিৎসক ভায়োলেটা মাইলিয়ান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ফেডারেল জুরির রায়ে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি অপ্রয়োজনীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কখনোই দেওয়া হয়নি এমন বোটক্স ইনজেকশনের নামে মেডিকেয়ারের কাছে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়েছিলেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভায়োলেটা মাইলিয়ান ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেলে অবস্থিত ‘হেলদি ওয়ে মেডিকেল সেন্টার’-এর মালিক ও পরিচালনাকারী ছিলেন। মেডিকেয়ার দীর্ঘস্থায়ী মাইগ্রেনের মতো নির্দিষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজনে বোটক্সের খরচ বহন করলেও, তিনি হাজার হাজার রোগীর নামে এমন চিকিৎসার বিল করেন যা হয় কখনো দেওয়া হয়নি, নয়তো চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজনীয় ছিল না। এ ছাড়া কেবল সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে দেওয়া বোটক্স চিকিৎসার বিলও মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।     বিচার চলাকালে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা যায়, মাইলিয়ান বিদেশ ভ্রমণ ও বিলাসবহুল ছুটিতে থাকা অবস্থাতেও রোগীদের বোটক্স ইনজেকশন দেওয়ার দাবি করে বিল করেছেন। এমনকি যেসব দিনে তার ক্লিনিক বন্ধ ছিল, সেদিনও চিকিৎসা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে ফেডারেল কারাগারে বন্দি থাকা একজন মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর নামেও বোটক্স চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়েছিল।     তদন্তকারীরা আরও জানান, ফেডারেল তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনি রোগীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, সম্মতিপত্র এবং অন্যান্য মেডিকেল রেকর্ড জাল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জুরি তাকে নয়টি ওয়্যার ফ্রড এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তে বাধা দেওয়ার তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।     বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই জালিয়াতির সূত্রপাত ধরা পড়ে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে। স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন বিভাগের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম লক্ষ্য করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার থেকে বোটক্স চিকিৎসার বাবদ সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছেন মাইলিয়ান। গত চার বছরে তিনি ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ পেয়েছিলেন, যা একই খাতে পরবর্তী সর্বোচ্চ অর্থপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ছিল। এই অস্বাভাবিক তথ্যই তদন্তের ভিত্তি তৈরি করে।     মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি জুরি তার বেশ কয়েকটি সম্পদ জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি টেসলা মডেল এক্স, একটি সাইবারট্রাক, একাধিক ব্যাংক ও বিনিয়োগ হিসাব এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কয়েকটি মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি, যেগুলো জালিয়াতির অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে প্রসিকিউটরদের দাবি।     ভায়োলেটা মাইলিয়ানের সাজা আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি ওয়্যার ফ্রড অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল আদালতের বিচারক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মেডিকেয়ারে জালিয়াতির টাকায় সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট, ফেরারি ও হীরার গহনা; অভিযুক্ত নার্স প্র্যাকটিশনার

যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না এমন ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যালোগ্রাফট (Allograft) প্রয়োগ করে তিনি মেডিকেয়ারের কাছে বিপুল অঙ্কের ভুয়া বিল জমা দেন এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মামলায় ওই নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোগীর নামে গড়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিল মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যদিও এসব অ্যালোগ্রাফট চিকিৎসার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না।   তদন্তে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত ফিলিপাইনে ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি এবং দামি গয়না কেনেন।   তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়া ৫৯৪ হাজার ডলার মূল্যের একটি Ferrari 296 GTS, আরও সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি, ৮৬৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি কাস্টম Bulgari হীরার নেকলেস এবং প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের অন্যান্য বিলাসবহুল গহনাও জব্দ করা হয়েছে।   একই সময়ে ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি অ্যালোগ্রাফট জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেখানে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতারণার অর্থ দিয়ে একটি এনএফএল স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুট ভাড়া নেন এবং ৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন ইউনিটের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ার থেকে অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধের প্রবণতা শনাক্ত করার পর এই তদন্ত শুরু হয়।   এদিকে, Centers for Medicare & Medicaid Services (CMS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ারের পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১২৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে শুধু অ্যালোগ্রাফট খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর মাসিক পার্ট-বি প্রিমিয়াম গড়ে ১১ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত।   বিচার বিভাগ বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির পরিকল্পনাকারীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মেডিকিয়ার প্রতারণা মামলায় সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হিলমি l ছবিঃ এফ বি আই মিয়ামি
৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাইপ্রাসে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার নাগরিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকিয়ার জালিয়াতির একটি বড় চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম হিলমি নামের এক ব্যক্তিকে সাইপ্রাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, হিলমি দক্ষিণ ফ্লোরিডার ডেলরে বিচ এলাকায় 'সানশাইন সিনিয়র সলিউশনস' নামক একটি মেডিকেল সাপ্লাই স্টোর এবং এর পাশাপাশি আরও একটি কোম্পানি পরিচালনা করতেন। এই জালিয়াতির খবরটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য মেডিকিয়ারের কাছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া বিল বা ক্লেম জমা দেওয়া হয়েছিল। অথচ বাস্তবে রোগীরা এসব চিকিৎসা সামগ্রী কখনোই পাননি। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হংকং-ভিত্তিক একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে।   হিলমির এই গ্রেপ্তার মূলত মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক দেশব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি বিরোধী চলমান বড় মাপের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে মোট ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জ গঠন করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোতে সব মিলিয়ে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার ঘটনা এই মামলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।   মার্কিন বিচার বিভাগের মতে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা বিরোধী সর্ববৃহৎ অভিযানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতারক চক্রের শেকড় এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা
৬.৫ বিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) মঙ্গলবার জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া দাবি দাখিলের অভিযোগ রয়েছে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিপণনকর্মী এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। দেশটির ৪৫টি অঙ্গরাজ্য এবং একাধিক ফেডারেল জেলাজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত পৃথক মামলার তদন্ত করা হয়েছে।   ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিগুলোকে লক্ষ্য করে সংঘটিত প্রতারণার বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত আইন প্রয়োগকারী অভিযান। তিনি বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।   ডিওজে জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে বিল আদায়, রোগীদের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া দাবি দাখিল, অবৈধ কমিশন গ্রহণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেবার অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ আদায়ের মতো বিভিন্ন অনিয়ম।   সবচেয়ে আলোচিত মামলাগুলোর একটিতে অ্যারিজোনাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রতারণামূলক বিলিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি কম দামে কেনা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট পণ্য নতুনভাবে বাজারজাত করে অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে মেডিকেয়ারে বিল করত। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ।   বিচার বিভাগের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে। তদন্তে উচ্চমূল্যের গাড়ি, দামি গয়না, বিলাসবহুল আবাসন এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্যও উঠে এসেছে।   এদিকে ফ্লোরিডার একটি মামলায় এক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া পরিচালনার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের প্রতারণা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের প্রকৃত চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলেও তাদের বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা ও চিকিৎসা পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছিল।   মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি শুধু সরকারি অর্থের ক্ষতিই করে না, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের নিরাপত্তা ও জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং অন্যান্য সম্পদ মিলিয়ে শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ বা জব্দের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান এবং ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ দায়ের হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে | ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনে গ্রেপ্তার ১.২ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার এক পলাতক আসামিকে ফিলিপাইন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়সী হারবার্ট লিওন কিম্বলকে ফিলিপাইনে আটক করা হয়েছে। তিনি গত বছর নির্ধারিত সাজা ঘোষণার শুনানিতে হাজির না হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।   এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কিম্বল একটি জটিল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার মাধ্যমে ১.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিল সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, এই প্রতারণামূলক কার্যক্রমে মূলত বয়স্ক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পরিচালিত এই চক্র বিভিন্ন কল সেন্টার, টেলিমেডিসিন সেবা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোগীদের কাছে অর্থোপেডিক ব্রেস ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য বিপুল পরিমাণ দাবি জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সরঞ্জামের বড় একটি অংশ ছিল চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় বা যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই বিল করা।   কিম্বল ২০১৯ সালে জালিয়াতি-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে তার সাজা ঘোষণার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তাকে পলাতক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।   সম্প্রতি এফবিআই “মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার্স” নামে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করে, যেখানে দেশের সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক ও স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলার পলাতক আসামিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিম্বল ওই তালিকার অন্যতম সদস্য ছিলেন। তার গ্রেপ্তার এ তালিকা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিম্বলকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে আদালতের মুখোমুখি হয়ে তাকে সাজা শুনতে হবে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতি বছর মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রতারণার অভিযোগ উঠে আসে। এসব অপরাধ দমনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করেছে।   কর্তৃপক্ষের মতে, কিম্বলের গ্রেপ্তার শুধু একটি বড় মামলার অগ্রগতি নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে গেলেও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০