যুক্তরাষ্ট্রে শত কোটি টাকার স্বাস্থ্য কেলেঙ্কারি, মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় টেক্সাসের নারী
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক নারীকে প্রায় ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা) মূল্যের এক বিশাল স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির দায়ে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই-এর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টার’ (শীর্ষ অপরাধী) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এফবিআই-এর হিউস্টন কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম এমিলি থাই, যিনি চিকিৎসার নামে ভুয়া বা অপ্রয়োজনীয় জিনগত পরীক্ষা (জেনেটিক টেস্টিং) এবং ঘুষ বা কিকব্যাক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১১ জুলাই এমিলি থাইয়ের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র, মার্কিন সরকারের সাথে প্রতারণা এবং ফেডারেল স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির অধীনে অবৈধ ঘুষ লেনদেনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে একটি ল্যাবরেটরির মালিক এমিলি থাই বিভিন্ন মার্কেটিং এজেন্টের সাথে চুক্তি করেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, সরকারি লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে এজেন্টরা চিকিৎসকদের ভুয়া সুপারিশপত্র এবং সাধারণ মানুষের ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করে তাঁর ল্যাবে পাঠাতেন।
এফবিআই জানিয়েছে, ওই জেনেটিক পরীক্ষার বিপরীতে মার্কিন সরকারের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার’ থেকে প্রতিটি টেস্টের জন্য হাজার হাজার ডলার তুলে নেওয়া হতো। অথচ প্রকৃতপক্ষে রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই ধরনের জটিল ও ব্যয়বহুল পরীক্ষার কোনো ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তাই ছিল না। এভাবে জালিয়াতি করে এমিলির ল্যাবরেটরি থেকে সরকারি তহবিলে প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিল পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেই ভুয়া দাবির বিপরীতে মার্কিন সরকার ল্যাবটিকে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা শত কোটি টাকা পরিশোধ করে।
এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির পর এমিলি থাইকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে আদালত থেকে জামিন পান তিনি। জামিনের প্রধান শর্ত ছিল তাঁর পায়ে একটি সার্বক্ষণিক লোকেশন ট্র্যাকিং বা অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী ডিভাইস লাগানো থাকবে। তবে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর লাস ভেগাসের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ডিভাইসটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে পালিয়ে যান এমিলি। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে না পেয়ে পরদিনই তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে মার্কিন প্রশাসন।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এমিলি একটি ভুয়া বা জাল পরিচয়পত্র এবং ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট বিমান ব্যবহার করে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এফবিআই হিউস্টন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পলাতক এমিলি থাই বর্তমানে ভিয়েতনামে আত্মগোপন করে আছেন। এর আগে ২০২৩ সালের ৫ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের সরকারি নথি ও রেকর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস এবং পরিবর্তনের জন্য আরেকটি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
এমিলি থাইকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এফবিআই হিউস্টন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক এমিলিকে গ্রেপ্তারে সাহায্য করতে পারে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষকে এই তথ্য দিতে এফবিআই-এর নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যারা ইংরেজিতে ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দিতে কমফোর্ট ফিল করেন না বা ইংরেজিতে পরীক্ষা দিতে চান না, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা রয়েছে। নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের সব সেক্রেটারি অব স্টেট অফিসে ড্রাইভার নলেজ পরীক্ষার অনূদিত সংস্করণ দেওয়া হয়। এই পরীক্ষার ভাষার তালিকায় বাংলা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট দেওয়ার সময় বাংলা ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড্রাইভিং নলেজ টেস্টে ট্রাফিক আইন, সড়কের নিয়ম, ট্রাফিক সাইন, নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চালকের করণীয় নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ইংরেজিতে প্রশ্ন পড়া বা বোঝার ক্ষেত্রে যাদের অসুবিধা রয়েছে, তারা বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ভাষাগত বাধা কিছুটা কমাতে পারেন। মিশিগানে বাংলা ছাড়াও আরবি, চীনা, হিন্দি, ফরাসি, কোরিয়ান, স্প্যানিশ, উর্দু, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ভাষায় ড্রাইভার নলেজ পরীক্ষার ভাষা-সুবিধা রয়েছে। তবে সব ধরনের ড্রাইভিং পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই ভাষার তালিকা প্রযোজ্য নয়। চাফার, মোপেড ও মোটরসাইকেলসহ কিছু বিশেষ পরীক্ষার ভাষার তালিকা আলাদা। নিউ ইয়র্কেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্লাস ডি লার্নার পারমিট পরীক্ষা ২০টি ভাষায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলা রয়েছে। ফলে নিউ ইয়র্কে সাধারণ ক্লাস ডি লার্নার পারমিটের নলেজ টেস্টও বাংলায় দেওয়া যায়। (এনআই ডিএমভি) নিউ ইয়র্ক ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ছাড়াও স্প্যানিশ, আরবি, চীনা, ফরাসি, কোরিয়ান, নেপালি, উর্দুসহ আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। (এনওআই ডিএমভি ) তবে নলেজ টেস্ট এবং রোড টেস্ট এক বিষয় নয়। বাংলায় পরীক্ষার সুবিধাটি ড্রাইভিং নলেজ পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গাড়ি চালানোর বাস্তব দক্ষতা যাচাইয়ের রোড টেস্টের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আলাদা নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বাংলাভাষী প্রবাসীদের জন্য তাই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে পরীক্ষার ভাষা সম্পর্কে এই তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে নলেজ টেস্ট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগানেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সরকারি সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কে অবৈধভাবে আদায় করা ট্রাফিক জরিমানার ৬০ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছেন চালকরা
ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে ৮,৬০০ গ্যালন জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য বাঁচলেন চালকরা
নিউইয়র্কের সাবওয়ে লাইনে পড়ে বাবার শেষ বিদায়টুকুও জানাতে পারলেন না মার্কিন সেনাসদস্য
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ বা শুল্ক রিফান্ড চেক পেতে শুরু করার পর, সাধারণ মার্কিন ক্রেতাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই বিশাল অর্থের কোনো অংশ সরাসরি তাদের পকেটে আসবে কি না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত শুল্ককে 'অবৈধ' ঘোষণা করার পর মার্কিন শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ (সিবিপি) ব্যবসায়ীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুরু করে। এক আদালত নথিতে জানা গেছে, ট্যারিফ প্রদানকারী হাজার হাজার মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে মোট ১৬৬ বিলিয়ন ডলার দেনা ছিল সরকারের, যার অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ফেরতের আওতায় বড় বড় করপোরেট জায়ান্টদের মধ্যে অ্যাপল প্রায় ২.২ বিলিয়ন ডলার, আমাজন ৬০০ মিলিয়ন ডলার এবং নাইকি ৩০০ মিলিয়ন ডলার রিফান্ড পাচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক থেকে অর্জিত রাজস্ব ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকদের ২০০০ ডলারের উদ্দীপনা বা ‘স্টিমুলাস চেক’ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। তবে প্রশাসন কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে এই ধরনের চেক বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা পাওয়া অত্যন্ত দূরহ। অন্যদিকে, গবেষণা সংস্থা ‘ট্যাক্স ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে অতিরিক্ত ১,০০০ ডলার বেশি খরচ করতে হয়েছে এবং ২০২৬ সালে এটি পরিবারপ্রতি করের বোঝা প্রায় ৯০০ ডলার বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত চাপ সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতারা সরকারের কাছ থেকে এই রিফান্ডের টাকা সরাসরি পাবেন না, কারণ নিয়মানুযায়ী কেবল যেসব আমদানিকারক বা অনুমোদিত কাস্টমস ব্রোকার সরাসরি শুল্ক পরিশোধ করেছেন, তারাই এই রিফান্ড পাওয়ার যোগ্য। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউপিএস (UPS) বা ফেডেক্স (FedEx)-এর মতো আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহনকারী মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আনিয়ে যারা সরাসরি শুল্ক প্রদান করেছিলেন, তারা ট্র্যাকিং নম্বরের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে পারেন। এসব পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান সরকার থেকে রিফান্ড পেলে তা গ্রাহকদের ফেরত দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন জানিয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট আমদানি শুল্ক সরাসরি আদায় করেছিল, কেবল সেই সীমিত ক্ষেত্রেই তারা রিফান্ড ইস্যু করবে। অন্যদিকে ওয়ালমার্টের মতো খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ফেরত পাওয়া শুল্কের টাকা তারা সরাসরি গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে না পাঠিয়ে স্টোরের বিভিন্ন পণ্যের দাম কমানোর কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
বিমানে ওঠার আগে সাবধান! বাড়তি তল্লাশি এড়াতে ক্যারি-অন ব্যাগে কী রাখছেন, সেদিকে নজর দিন
বাড়িতে ফ্রি থাকতে চাইলে মেয়েকে মানতে হবে মায়ের ১০ শর্ত, না হলে দিতে হবে ৫০০ ডলার ভাড়া
জরুরি প্রয়োজনে নয়, নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ব্যবহার করছেন ৫৬% মার্কিনি
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা 'মাংসখেকো' বা ফ্লেশ-ইটিং ব্যাকটেরিয়ার প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। চলতি বছর এই ভয়ংকর ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার লুইজিয়ানার স্বাস্থ্য বিভাগ 'ভিব্রিও ভালনিফিকাস' (Vibrio vulnificus) নামক এই সংক্রমণ সম্পর্কে এক বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নয়জন এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। গত দশ বছরের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, লুইজিয়ানায় প্রতি বছর নির্দিষ্ট এই সময়ে গড়ে মাত্র সাতজন আক্রান্ত হতেন এবং মৃত্যু হতো একজনের। সেই তুলনায় এবারের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, চলতি বছর আক্রান্ত হওয়া সব কটি ঘটনার সাথেই সমুদ্রের পানির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। যাদের শরীরে খোলা ক্ষত ছিল এবং তারা সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এসেছেন, তারাই এতে সংক্রমিত হয়েছেন। তাছাড়া, আক্রান্ত প্রত্যেক রোগীরই আগে থেকেই শারীরিক কোনো না কোনো অসুস্থতা ছিল। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্যমতে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবেই উপকূলীয় এলাকার পানিতে বাস করে এবং গ্রীষ্মকালে পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এদের প্রাদুর্ভাব অনেক বেড়ে যায়। কাঁচা বা কম সেদ্ধ করা সামুদ্রিক খাবার, বিশেষ করে ঝিনুক খেলে অথবা শরীরের কোনো কাটা অংশ বা খোলা ক্ষত উপকূলীয় লোনা পানির সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। সিডিসি সতর্ক করে বলেছে, ভিব্রিও ভালনিফিকাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়। যে কেউ এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারলেও বিশেষ কিছু মানুষের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, যারা লিভারের রোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, এইচআইভি বা থ্যালাসেমিয়ায় ভুগছেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া যারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর চিকিৎসা নিচ্ছেন, পাকস্থলীর অ্যাসিড কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন বা সম্প্রতি যাদের পাকস্থলীতে অস্ত্রোপচার হয়েছে, তাদেরও অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলে পাতলা পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর এবং শীত শীত ভাব অনুভব করার মতো উপসর্গগুলো দেখা দেয়। লোনা বা সামুদ্রিক পানির সংস্পর্শে আসার পর যদি শরীরের কোনো ক্ষতস্থান লাল হয়ে যায়, ফুলে যায়, ব্যথা বাড়ে, গরম অনুভূত হয় বা ক্ষতের রং পরিবর্তন হয়ে যায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কঠোর পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি চিকিৎসকের কাছে সাগরের পানির সংস্পর্শে আসার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরও লুইজিয়ানায় এই ভিব্রিও সংক্রমণের মারাত্মক ঊর্ধ্বগতি দেখা গিয়েছিল; সেবার রাজ্যে অন্তত ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত বছর ফ্লোরিডা, লুইজিয়ানা এবং নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকস এলাকায় এই ফ্লেশ-ইটিং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে কমপক্ষে দশজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীদের জন্য ড্রাইভিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? সাক্ষাৎকারে তিন নারীর তিন অভিজ্ঞতা
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বিস্ফোরণে ধসে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল তৃতীয় ম রদেহ