যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, খরচ বাড়তে পারে ৫৭০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব অর্জনের প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। দেশটির প্রশাসন নাগরিকত্ব আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কয়েকশ ডলার ব্যয় করতে হবে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) প্রস্তাবিত বিধিমালায় জানিয়েছে, নাগরিকত্বের জন্য ব্যবহৃত এন-৪০০ (N-400) ফরম কাগজে জমা দিলে আবেদন ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হবে। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এতে নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের ব্যয় গড়ে প্রায় ৫৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
প্রস্তাবে নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের জন্য বিদ্যমান ফি মওকুফ এবং ফি কমানোর সুবিধা বাতিলের কথাও বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য এ সুবিধা বহাল থাকবে।
তবে এ পরিবর্তন এখনই কার্যকর হচ্ছে না। এটি একটি প্রস্তাবিত বিধিমালা, যা বাস্তবায়নের আগে জনমত গ্রহণ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রশাসনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আবেদন যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যয়ের পূর্ণ অর্থ জোগান দিতেই ফি বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে।
অন্যদিকে অভিবাসন অধিকারকর্মী ও সমালোচকদের দাবি, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বৈধ অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব অর্জন আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব আবেদন ফি তুলনামূলকভাবে এমন পর্যায়ে রাখা হয়েছিল যাতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা নাগরিকত্ব গ্রহণে উৎসাহিত হন। নতুন প্রস্তাব সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই এই উদ্যোগ এসেছে। ফলে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মরণোত্তর পিএইচডি ডিগ্রি পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক শাশ্বত সৌম্য। ২০২৫ সালের জুনে কানাডায় রহস্যজনক নয়, বরং আকস্মিক এক মৃত্যুর ঘটনায় থেমে যায় তাঁর গবেষণাজীবন। তবে মৃত্যুর পরও স্বীকৃতি পেয়েছে তাঁর অসাধারণ গবেষণাকাজ। এমআইটির ২০২৬ সালের সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক তালিকায় তাঁর নামের পাশে উল্লেখ করা হয়েছে মরণোত্তর ডিগ্রি প্রদানের বিষয়টি। যে বন্ধুকে নিয়ে একসময় সহপাঠীরা স্বপ্ন দেখতেন, তিনিই সবার আগে পিএইচডি শেষ করবেন, সেই শাশ্বত সৌম্য এখন তাঁদের কাছে ডক্টর শাশ্বত সৌম্য। বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন শাশ্বত সৌম্য। ২০২১ সালে স্নাতক শেষ করার পর প্রথমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পরে বুয়েটে শিক্ষকতা করেন তিনি। গবেষণার প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে এমআইটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে পিএইচডি প্রোগ্রামে যোগ দেন। সেখানে গবেষণার পাশাপাশি ২০২৪ সালের মে মাসে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এমআইটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাবরেটরিতে অধ্যাপক নির শাভিতের গবেষক দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এমআইটির গবেষণাগারে সৌম্য মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ নিয়ে কাজ করতেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয় ছিল নিউরাল নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করা এবং কম্পিউটেশনাল মডেলকে আরও কার্যকর করে তোলা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনেও তাঁর কাজ স্থান পায়। এমআইটির ২০২৬ সালের সমাবর্তনের তালিকায় তাঁর গবেষণার শিরোনাম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যাখ্যাযোগ্যতা ও কম্প্রেশন। গবেষণায় মেধার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন সৌম্য। তিনি এমআইটির বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সৌম্যর বুয়েটজীবনের বন্ধু খন্দকার মুশফিকুর রহমানের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের নানা দিক। বন্ধুদের মধ্যে যখন আলোচনা হতো, কে সবার আগে পিএইচডি শেষ করবেন, তখন সবার উত্তর ছিল সৌম্য। পড়াশোনা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা বন্ধুদের প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া, সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। মুশফিকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌম্যর লক্ষ্য ছিল দ্রুত গবেষণার কাজ শেষ করে আরও বড় পরিসরে কাজ করা। পিএইচডি শেষে পোস্টডক্টরাল গবেষণার পরিকল্পনাও করেছিলেন তিনি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাগারে কাজ করার আগ্রহের কথাও বন্ধুকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের জুনে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় নিজের গবেষণা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন সৌম্য। ২ জুন ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কেলৌনা শহরের ওকানাগান লেক থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী এবং এমআইটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। এমআইটির শিক্ষার্থী পত্রিকা দ্য টেকের প্রকাশিত স্মরণলেখায় তাঁকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল গবেষক হিসেবে তুলে ধরা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট স্যালি কর্নব্লুথও সৌম্যর কমিউনিটি গড়ে তোলার ভূমিকার প্রশংসা করেন। মৃত্যুর পরও সৌম্যর গবেষণার অর্জন হারিয়ে যায়নি। এমআইটির ২০২৬ সালের আনুষ্ঠানিক ডক্টরাল ডিগ্রিপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নামের পাশে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, মরণোত্তর ডিগ্রি। এই স্বীকৃতি তাঁর গবেষণাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হয়ে থাকল। বন্ধুদের কাছে খবরটি একদিকে গর্বের, অন্যদিকে গভীর বেদনার। যাঁর সঙ্গে পিএইচডি শেষ করার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন ছিল, তিনি সেই আনন্দের মুহূর্তে উপস্থিত নেই। বন্ধু মুশফিকুর রহমান লিখেছেন, সৌম্যর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন তাঁকে নিয়ে কিছু লিখতে পারেননি। পুরোনো ছবিতে বন্ধুর হাসিমুখ দেখলে এখনো মনে হয়, সৌম্য যেন তাঁদের মাঝেই আছেন। একসময় তাঁরা যে বন্ধুকে সবার আগে পিএইচডি শেষ করতে দেখার প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়েছে। শুধু মানুষটি আর নেই। মুশফিকুরের আক্ষেপ, জীবিত থাকতে যদি একবার বন্ধুকে ডক্টর শাশ্বত সৌম্য বলে ডাকতে পারতেন! সংবাদসূত্র: এমআইটির ২০২৬ সালের সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক তালিকা, দ্য টেক
এইচএসসিতে ৩.৪১ জিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য! পেলে গ্রীন কার্ড
আগুনে দগ্ধ ৩ ইরাকি শিশুকে চিকিৎসা দিতে রাজি না হওয়ায়, কান্নায় ভেঙে পরেন মার্কিন সেনা
আমেরিকায় নতুন! জেনে নিন ক্রেডিট স্কোর গড়ার সাতটি কার্যকর উপায়
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শামীম নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছেন। সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয় বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে ব্রুকলিনের কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত ও শরীরের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে শনিবার, ৭ নভেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বাংলা আওয়ারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেহেদী হাসান শামীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সাবেক শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার জন্য পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পড়াশোনা শেষ করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু নিউইয়র্কে আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁর চিকিৎসা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় শামীম সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর গাড়ির চালক আহত শিক্ষার্থীকে সহায়তা না করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনায় শামীমের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। শরীরের অভ্যন্তরেও রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর শামীমের পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর পরিবার বাংলাদেশে থাকায় এই সংকটময় সময়ে স্বজনেরা সরাসরি পাশে থাকতে পারছেন না। দূর থেকে তাঁরা চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা একজন শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ব্যক্তিগত সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ঘটনার পর শামীম তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাটর্নি ফারহান আরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে বাংলা আওয়ার। খবর পেয়ে ফারহান আরিয়ান হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে এটি সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বর্ণবিদ্বেষমূলক কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে এ ধরনের উদ্দেশ্যের পক্ষে পুলিশের কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। দুর্ঘটনাটি ব্রুকলিনের ঠিক কোন এলাকায় এবং কখন ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। গাড়ির চালককে শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত নয়। শামীমের চিকিৎসার অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই এখন তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা। সূত্র: সিএসবি নিউজ
স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বকে বোকা বানানো সেই জলপরীর আসল পরিচয় উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
দাম আরও বাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের যে ৯ শহরে বাড়ি কেনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নগদ অর্থে পুরো মূল্য পরিশোধের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের ১০ শতাংশ কোনো মর্টগেজ লোন ছাড়াই সম্পূর্ণ নগদ অর্থে বাড়ি কিনেছেন। বাড়ির উচ্চমূল্য ও মর্টগেজের সুদের চাপের মধ্যেও এমন রেকর্ডের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাবা-মা ও পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ। একই সময়ে প্রথমবার বাড়ি কেনার মধ্যম বয়স ৪০ বছরেই রয়ে গেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের ‘২০২৬ প্রোফাইল অব হোম বায়ার্স অ্যান্ড সেলার্স’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমবার বাড়ি কেনা ক্রেতাদের মধ্যে পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের হার ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি সংস্থাটির জরিপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নগদ অর্থে বাড়ি কেনা এই ক্রেতাদের ২৮ শতাংশ বাড়ি কেনার জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে মর্টগেজ নিয়ে বাড়ি কেনা প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যে এই হার মাত্র ৯ শতাংশ। সব ধরনের প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ ব্যবহারের হারও রেকর্ড ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং মার্কেটে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে সম্পদ হস্তান্তরের প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ জেসিকা লাউটজ বলেন, পারিবারিক সম্পদের এই পরিবর্তন এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। তবে কারা প্রথম বাড়ি কিনতে পারছেন এবং জীবনের কোন পর্যায়ে বাড়ির মালিক হচ্ছেন, তার ওপর প্রভাব ফেলছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদ পাওয়া অনেক ব্যক্তিই এখন তরুণ বয়সের পরিবর্তে মধ্যবয়সে পৌঁছে প্রথম বাড়ি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। জরিপের একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, প্রথমবার সম্পূর্ণ নগদ অর্থে বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স ৫৪ বছর। বিপরীতে মর্টগেজ নিয়ে প্রথম বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম বয়স ৩৮ বছর। অর্থাৎ দুই শ্রেণির ক্রেতাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান ১৬ বছর। সামগ্রিকভাবে প্রথমবার বাড়ি কেনার মধ্যম বয়স দাঁড়িয়েছে ৪০ বছর। কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের বয়স তুলনামূলক অনেক কম ছিল। বর্তমানে বাড়ির দাম, ভাড়া, শিক্ষাঋণ এবং ডাউন পেমেন্টের অর্থ জোগাড়ের চাপ অনেকের বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে। প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্টের অর্থ সংগ্রহেও পারিবারিক সহায়তার ভূমিকা বাড়ছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রথমবারের ক্রেতাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ ব্যক্তিগত সঞ্চয় ব্যবহার করেছেন। অবসরকালীন সঞ্চয়, শেয়ার বা অন্যান্য আর্থিক সম্পদ ব্যবহার করেছেন ৩০ শতাংশ। আর পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার বা ঋণ হিসেবে অর্থ পেয়েছেন ২৫ শতাংশ। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের ডাউন পেমেন্টের জন্য অর্থ দিচ্ছেন, মর্টগেজ লোনের সহস্বাক্ষরকারী হচ্ছেন অথবা নিজেদের বিনিয়োগ সম্পত্তি বিক্রি করে সন্তানদের বাড়ি কিনতে সহায়তা করছেন। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে ন্যাশভিলের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এমিলি ওয়ার্নার জানান, সম্প্রতি তাঁর কয়েকজন প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতা পরিবারের সহায়তায় ১০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি সম্পূর্ণ নগদ অর্থে কিনেছেন। অন্যদিকে আইওয়ার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ব্র্যান্ডন উইন জানান, তিনি এমন ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, যাঁদের বাবা-মা বাজারে মর্টগেজের সুদের হার সাড়ে ৬ শতাংশ থাকার সময় মাত্র ৩ শতাংশ সুদে অর্থ ধার দিয়েছেন। এ ধরনের সহায়তা ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনার খরচ কমিয়ে আনতে পারে। নগদ অর্থে বাড়ি কেনার আরেকটি সুবিধা হলো, মর্টগেজ অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হয় না। ফলে বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত শেষ করা যায় এবং ঋণ অনুমোদন না হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট অ্যান্থনি মিয়ান বলেন, একই বাড়ি কেনার জন্য একাধিক প্রস্তাব এলে অনেক বিক্রেতা নগদ অর্থে কেনার প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেন। কারণ এতে অর্থায়নসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা কম থাকে। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ব্যয়বহুল এলাকায় পারিবারিক সম্পদ ক্রেতাদের কোন এলাকায় বাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকবে, সেটিও প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে যারা আগে থেকেই বাড়ির মালিক, তারা নতুন বাড়ি কেনার বাজারে বড় সুবিধা পাচ্ছেন। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, মোট বাড়ি ক্রেতাদের ৭৮ শতাংশই আগে বাড়ি কিনেছেন এমন ব্যক্তি। এই শ্রেণির ক্রেতাদের ৩০ শতাংশ সম্পূর্ণ নগদ অর্থে বাড়ি কিনেছেন। তাঁদের মধ্যম বয়স ৬২ বছর এবং পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৭ হাজার ডলার। বিপরীতে প্রথমবার বাড়ি কেনা পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলার। প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের মধ্যম ডাউন পেমেন্ট ছিল বাড়ির মূল্যের ৯ শতাংশ, আর আগের বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে তা ১৯ শতাংশ। এদিকে মোট বাড়ি ক্রেতাদের মধ্যে প্রথমবার বাড়ি কেনা ব্যক্তিদের অংশ ২০২৫ সালের ২১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২২ শতাংশ হয়েছে। তবে ২০০৮ সালের আগের ঐতিহাসিক গড় প্রায় ৪০ শতাংশের তুলনায় এই হার এখনো অনেক কম। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের মতে, বাড়ির ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এখনো নতুন ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। চলতি বছরের শুরুর দিকে মর্টগেজের সুদের হার সাময়িকভাবে কমে যাওয়ায় কিছু নতুন ক্রেতা বাড়ি কেনার সুযোগ পেয়েছিলেন। বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে বাড়ি বিক্রেতারা তাঁদের সম্পত্তি বিক্রির আগে মধ্যম হিসাবে ১২ বছর ধরে মালিক ছিলেন, যা নতুন রেকর্ড। বিক্রেতাদের ২২ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুদের কাছাকাছি যেতে বাড়ি বিক্রি করেছেন। অন্যদের মধ্যে বাড়ি ছোট হওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় বড় হওয়া, পারিবারিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা অবসর গ্রহণের কারণে বাড়ি বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আবাসন বাজারে নিজের সঞ্চয়ের পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ও আগে থেকে থাকা বাড়ির ইকুইটি নতুন সম্পত্তি কেনার সামর্থ্য নির্ধারণে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সংবাদসূত্র: ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস, রিয়েলটর ডটকম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে সাবেক স্ত্রীকে দুই বছর শেকল দিয়ে বেঁধে রাখলেন স্বামী
ভেটেরানস ডে উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির ২৬ স্থানে বিনামূল্যে কার ওয়াশ