নিউইয়র্কে মামদানির ঢেউ: বদলে যাচ্ছে কি ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ?
নিউইয়র্কের রাজনীতি অনেক কিছু দেখেছে- তামানি হলের দিন, রুজভেল্টের নিউ ডিল, কেনেডি যুগের উদারপন্থা, কুওমো পরিবারের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাব, এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের অভিঘাতও। কিন্তু মঙ্গলবারের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলাফল যে বার্তা দিয়েছে, তা কেবল কয়েকটি আসনের জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; এটি একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রজন্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
রাজনীতিতে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন নির্বাচনের ফলাফল সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে। এবারের নির্বাচন তেমনই একটি মুহূর্ত। কয়েক বছর আগেও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির সমীকরণ ছিল মোটামুটি নির্ধারিত। দলের প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব যাকে সমর্থন দিত, বড় অর্থদাতা, ইউনিয়ন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় সংগঠনের সমর্থন নিয়ে তিনি এগিয়ে থাকতেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ফলাফল দেখিয়েছে, সেই পুরোনো সমীকরণ আর আগের মতো কার্যকর নয়।
মেয়র জোহরান মামদানির রাজনৈতিক প্রভাব এখন আর শুধু সিটি হলের দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সমর্থিত প্রার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নিউইয়র্কে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে। এটি শুধু একজন জনপ্রিয় নেতার ব্যক্তিগত প্রভাব নয়; বরং এমন একটি আদর্শিক প্রবাহ, যা তরুণ ভোটার, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিকভাবে হতাশ অনেক নাগরিককে একত্রিত করছে।
ব্র্যাড ল্যান্ডারের জয়, ক্লেয়ার ভালদেজের বিজয় কিংবা দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ারের উত্থান—প্রতিটি ফলাফলের মধ্যে একটি সাধারণ বার্তা রয়েছে। ভোটারদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে নয়, বরং স্থবিরতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূলধারার নেতৃত্ব ধরে নিয়েছিল যে ট্রাম্পবিরোধিতা নিজেই একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। তবে নিউইয়র্কের ভোটারদের একটি অংশ যেন এবার জানিয়ে দিয়েছে, শুধু ট্রাম্পের বিরোধিতা যথেষ্ট নয়; নিজেদের পক্ষেও স্পষ্ট অবস্থান থাকতে হবে। বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, গাজা যুদ্ধ এবং আয় বৈষম্যের মতো প্রশ্নে তারা আরও নির্দিষ্ট উত্তর চায়।
এখানেই মামদানির রাজনীতির শক্তি। তিনি এমন ভাষায় কথা বলেন, যা প্রচলিত রাজনৈতিক বক্তব্যের তুলনায় অনেক বেশি সরাসরি। তাঁর সমর্থকদের মতে, তিনি সমস্যাগুলোকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে পিছপা হন না। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর কিছু অবস্থান অতিরিক্ত আদর্শিক। তবে উভয় পক্ষই একমত যে তিনি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এই নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গেছে ডেমোক্র্যাটিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। হাকিম জেফ্রিস, ক্যাথি হকুলসহ দলের মূলধারার নেতারা এখনো শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থানে রয়েছেন। কিন্তু মঙ্গলবারের ফলাফল দেখিয়েছে, তাদের সমর্থন আর আগের মতো নিরঙ্কুশ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পছন্দের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে; বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গাজা ইস্যুর প্রভাবও এবারের নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়েছে। একসময় বিদেশনীতি স্থানীয় নির্বাচনে খুব বেশি গুরুত্ব পেত না। কিন্তু আজকের নিউইয়র্কে অভিবাসী, মুসলিম, আরব, লাতিনো এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। গাজা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
তবে এই ফলাফলকে শুধুমাত্র মতাদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি একই সঙ্গে সাংগঠনিক রাজনীতিরও সাফল্য। মামদানির সমর্থকেরা শুধু সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন না; তারা মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন, ফোন ব্যাংকিং করেছেন, স্বেচ্ছাসেবক সংগঠিত করেছেন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়িয়েছেন। শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রে ভোট গণনা হয়, সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নয়।
বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। নিউইয়র্কের রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্ব কম থাকার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। সেই অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি থাকলেও রাজনৈতিক শক্তি শুধু জনসংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। সংগঠন, ধারাবাহিক অংশগ্রহণ এবং ভোটদানের মাধ্যমেই রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়। যেসব সম্প্রদায় আজ প্রভাবশালী অবস্থানে পৌঁছেছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভোটার সংগঠিত করেছে, নেতৃত্ব তৈরি করেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থেকেছে।
পিয়া রহমানের মতো বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর পরাজয় অনেকের জন্য হতাশাজনক হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সাফল্য খুব কম ক্ষেত্রেই প্রথম প্রচেষ্টায় আসে। প্রতিনিধিত্বের পথ সাধারণত দীর্ঘ, ধৈর্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল। সবশেষে, মঙ্গলবারের নির্বাচন একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। মামদানির ঢেউ কি সাময়িক, নাকি এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?
ইতিহাস বলে, বিদ্রোহী আন্দোলন ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছালে তার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিবাদ করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু শাসন করা কঠিন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ, কিন্তু বাজেট পাস করা কঠিন। আন্দোলন গড়ে তোলা সহজ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জোট ধরে রাখা কঠিন। মামদানি এবং তাঁর সমর্থিত প্রার্থীরা এখন সেই কঠিন পথের শুরুতে দাঁড়িয়ে আছেন। মঙ্গলবার তারা নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা শুধু পরিবর্তনের প্রতীক নন, পরিবর্তন বাস্তবায়নের সক্ষমতাও রাখেন। নিউইয়র্কের ভোটাররা তাদের জন্য একটি দরজা খুলে দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রজন্ম সেই দরজা দিয়ে ইতিহাসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreশনিবার রাতে নিউইয়র্ক হারবারে একটি যাত্রীবাহী নৌযান উল্টে গিয়ে ২৭ বছর বয়সী এক নারী এবং তার ৫ মাস বয়সী কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনা কবলিত নৌযানটি বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের জন্য অবৈধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানায়, শনিবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে লিবার্টি আইল্যান্ডের কাছে নৌযানটি উল্টে যাওয়ার খবর পায় তারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হারবার ইউনিটের পাশাপাশি স্কুবা ও এভিয়েশন টিম মোতায়েন করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পানি থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই মা ও তার শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার হওয়া বাকি যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কোস্ট গার্ড সেক্টর নিউইয়র্কের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ডরিন ম্যাকার্থি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "গত রাতের মর্মান্তিক প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।" একইসঙ্গে উদ্ধারকাজে দ্রুত সাড়া দেওয়া ও জীবিতদের উদ্ধারে সহায়তার জন্য তিনি অংশীদারি সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই মারাত্মক দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান করছে। এদিকে, এনওয়াইপিডি-এর এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনায় রবিবার নিউইয়র্কের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী ম্যানুয়েল হার্নান্দেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বেপরোয়াভাবে অন্যের জীবন বিপন্ন করার ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, যথাযথ ছাড়পত্র, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং বৈধ শংসাপত্র ছাড়া ভাড়ায় চালিত যেকোনো যাত্রীবাহী নৌযানকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নিজ বাড়ির সুইমিংপুলে ডুবে অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি চিফের মৃত্যু
নিউইয়র্ক সাবওয়েতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিরসনে এমটিএর উদ্যোগ, সংস্কারের তালিকায় ২৫ স্পট
আইস হেফাজতে জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ভেনেজুয়েলার তরুণীর
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি ও ভারতীয়সহ হাজারো এইচ-১বি কর্মীর জন্য চাকরি হারানোর পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বর্তমান নিয়মে এইচ-১বি কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যেতে পারে। এই সময়ে কর্মী নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিলের সুযোগ নিতে পারেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে পরিবর্তনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করতে পারেন। তবে ৬০ দিন সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। কর্মীর আই-৯৪-এর অনুমোদিত মেয়াদ আগে শেষ হলে সেই সময়সীমাই প্রযোজ্য হবে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রেস পিরিয়ড সর্বোচ্চ ৬০ দিন বা কর্মীর অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, ততদিন পর্যন্ত হতে পারে। যোগ্য এইচ-১বি কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা নির্ধারিত সময়ে নতুন এইচ-১বি পিটিশন দাখিল করলে কর্মী পিটিশন গ্রহণের পরই নতুন চাকরিতে কাজ শুরু করার সুযোগও পেতে পারেন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি বাস্তবায়িত হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর এই ৬০ দিনের স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা আর থাকবে না। তখন চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর এইচ-১বি স্ট্যাটাস নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নতুন নিয়োগকর্তায় যাওয়ার বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইউএসসিআইএস স্ট্যাটাসের ঘাটতি ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ডিএইচএসের এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নিয়ম বর্তমানে প্রস্তাব তৈরির পর্যায়ে রয়েছে এবং আগস্ট ২০২৬-এ প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশের সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। কোনো এইচ-১বি কর্মী আজ চাকরি হারালে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী তিনি যোগ্য হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা নিতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে বর্তমান ব্যবস্থাই বহাল থাকবে। এই প্রস্তাব ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের সংখ্যা বড় হওয়ায় চাকরি হারানোর পর গ্রেস পিরিয়ড কমে গেলে বা বাতিল হলে তাদের ওপর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে। একই নিয়ম বাংলাদেশি এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। ডিএইচএস প্রস্তাবিত নিয়ম প্রকাশ করার পর সাধারণত জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া থাকে। এরপর চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ এবং কার্যকর হওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে। ফলে এই মুহূর্তে এইচ-১বি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়েছে এমন নয়, বরং সেটি বাতিলের একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন ভিসায় ফেডারেল আদালতের গুরুত্বপূর্ণ রায়, স্বস্তির সম্ভাবনা বাংলাদেশিদেরও
সান ফ্রান্সিসকোতে সন্তানদের টেনিস শেখাতেই বাবাকে ১৯২ ডলারের জরিমানার সতর্কতা
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে জিম্বাবুয়ের নারীকে আইসের হাতে আটক করানোর অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের টিকিটের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের শুরুতে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া প্রায় ৪২৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। ফলে দেশের ভেতরে যাতায়াত করা যাত্রীদের জন্য বিমানভাড়া এখন বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বছরের শুরুর সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ার গড় ছিল প্রায় ৪২৮ ডলার। তবে সব বিমানবন্দর বা রুটে ভাড়া সমান নয়। কোনো কোনো শহর থেকে ফ্লাইট তুলনামূলক সস্তা হলেও বড় হাব বিমানবন্দর কিংবা নির্দিষ্ট কিছু রুটে যাত্রীদের অনেক বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়ার হিসাব প্রতি তিন মাসে প্রকাশ করা হয়। এতে বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইটের গড় ভাড়া তুলে ধরা হয়। এই হিসাবের মধ্যে টিকিটের মূল ভাড়া, কর এবং বিমানবন্দর ফি অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে লাগেজ, আসন পরিবর্তন বা অতিরিক্ত সেবার চার্জ এতে ধরা হয় না। পরিবহন বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রায় ৭ হাজার অভ্যন্তরীণ শহরভিত্তিক রুটের ভাড়ার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোন কোন রুটে ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বা কমেছে, তারও আলাদা তথ্য রাখা হয়েছে। বিমানভাড়া বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজ সরবরাহে বিলম্ব, বিমানবন্দরভিত্তিক ফ্লাইট সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মী সংকটও ফ্লাইট সংখ্যা ও আসন সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত আরেক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিমানভাড়া এক বছর আগের তুলনায় ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হয়েছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের পাশাপাশি ফ্লাইটের সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ভ্রমণের চাহিদা শক্তিশালী থাকাও ভাড়া বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করা পরিবারগুলোকে এখন একই রুটের জন্য আগের তুলনায় বেশি বাজেট রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে থ্যাঙ্কসগিভিং, ক্রিসমাস ও অন্যান্য ছুটির মৌসুমে ভাড়া আরও বাড়তে পারে। তবে একই রুটের টিকিটের দাম সময়, বিমানবন্দর, এয়ারলাইন এবং ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টিকিট কেনার আগে কাছাকাছি একাধিক বিমানবন্দর এবং ভিন্ন দিনের ভাড়া তুলনা করা যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগও সতর্ক করেছে যে তাদের প্রকাশিত গড় ভাড়া বর্তমান সময়ের নির্দিষ্ট টিকিটের দামের সঙ্গে সরাসরি মিলবে না, কারণ বিমানভাড়া নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।
স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির তিনজনকে হত্যার পরও হাল ছাড়েননি খুনি ভারতীয় আসামি, যুক্তরাষ্ট্রে চাইলেন নতুন বিচার
নিউইয়র্ক হারবারে নৌকা উল্টে ৫ মাসের শিশুসহ নারী নিহত, উদ্ধার ১২ জন