যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না এমন ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যালোগ্রাফট (Allograft) প্রয়োগ করে তিনি মেডিকেয়ারের কাছে বিপুল অঙ্কের ভুয়া বিল জমা দেন এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মামলায় ওই নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোগীর নামে গড়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিল মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যদিও এসব অ্যালোগ্রাফট চিকিৎসার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত ফিলিপাইনে ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি এবং দামি গয়না কেনেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়া ৫৯৪ হাজার ডলার মূল্যের একটি Ferrari 296 GTS, আরও সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি, ৮৬৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি কাস্টম Bulgari হীরার নেকলেস এবং প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের অন্যান্য বিলাসবহুল গহনাও জব্দ করা হয়েছে।
একই সময়ে ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি অ্যালোগ্রাফট জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেখানে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতারণার অর্থ দিয়ে একটি এনএফএল স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুট ভাড়া নেন এবং ৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন ইউনিটের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ার থেকে অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধের প্রবণতা শনাক্ত করার পর এই তদন্ত শুরু হয়।
এদিকে, Centers for Medicare & Medicaid Services (CMS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ারের পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১২৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে শুধু অ্যালোগ্রাফট খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর মাসিক পার্ট-বি প্রিমিয়াম গড়ে ১১ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত।
বিচার বিভাগ বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির পরিকল্পনাকারীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নিজের মাকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অর্টনভিল এলাকার বাসিন্দা অ্যারন হুটিরা (৩৪) নামের ওই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে হামলা, বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ, পারিবারিক সহিংসতা এবং আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত দুটি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি ফায়ারআর্ম) অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত হুটিরা অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় তার মায়ের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, সে নিজের পাশাপাশি তার বাবা-মাকেও হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি একপর্যায়ে সে তার সন্তানদের মায়ের দিকেও বন্দুক তাক করে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্বরোচিত এই হামলায় হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ওই মায়ের নাক ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ (ব্রেন ব্লিড) শরীরের বিভিন্ন স্থানে তিনি গুরুতর জখম হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত হুটিরাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মারাত্মক হামলার জন্য তাকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৫ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে। পাশাপাশি বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ড এবং/অথবা ৩ হাজার ডলার জরিমানা, পারিবারিক সহিংসতার জন্য ৯৩ দিনের জেল এবং/অথবা ৫০০ ডলার জরিমানা এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অপরাধে আরও দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ঘটনায় ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি ভুক্তভোগীদের জন্য পরিস্থিতিকে অনেক বেশি ভয়ংকর করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্যাতনকারীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকলে নারীদের খুন হওয়ার ঝুঁকি প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে যায়। আহত মায়ের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার পাশাপাশি অভিযুক্তকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম দুই সপ্তাহে লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক মন ভরে উপভোগ করছেন বার্গার, বার্বিকিউসহ হরেক রকমের খাঁটি আমেরিকান খাবার ও পানীয়। তবে ভুরিভোজ শেষে রেস্তোরাঁ বা বারে বকশিশ বা ‘টিপস’ দেওয়ার চেনা আমেরিকান সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে এই দর্শকদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীদের এই বকশিশ-বিমুখতায় চরম বিপাকে পড়েছেন আমেরিকার ১১টি আয়োজক শহরের রেস্তোরাঁ ও বারের কর্মীরা। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির এক বারে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচ চলাকালীন একটি বড় দল প্রায় ৩০০ ডলারের বিল করার পর মাত্র ৪ ডলার বকশিশ রেখে যায়। এই ঘটনাটিকে চরম হতাশাজনক ও আপত্তিকর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই বারের কর্মী জেসিকা ওর্দেনিয়ানা। আমেরিকার বকশিশ সংস্কৃতির এই মারপ্যাঁচ বিদেশিদের কাছে প্রায়শই গোলমেলে ঠেকে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক রেস্তোরাঁ কর্মী বা বারটেন্ডারদের মূল মজুরি ঘণ্টায় মাত্র ২ দশমিক ১৩ ডলারের মতো নগণ্য হতে পারে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য তারা পুরোপুরি গ্রাহকদের দেওয়া বকশিশের ওপর নির্ভর করেন। এই কারণেই দেশটিতে যেকোনো বিলের ওপর অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ দেওয়া একপ্রকার বাধ্যতামূলক সামাজিক নিয়ম। অপরদিকে ইউরোপ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশে খাবারের মূল্যের সঙ্গেই সার্ভিস চার্জ যুক্ত থাকে এবং সেখানকার রেস্তোরাঁ কর্মীরা সাধারণ নিয়মে ভালো বেতন পান। ফলে সেসব দেশে বকশিশ দেওয়াটা সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং সর্বোচ্চ এক বা দুই ইউরো দিলেই চলে। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণেই মূলত বাঁধছে যত বিপত্তি। অবশ্য অনেক পর্যটকই ইচ্ছে করে এমনটা করছেন না, বরং তারা স্থানীয় নিয়মটি বুঝতে না পেরে কর্মীদের কাছে জানতে চান কীভাবে বকশিশের হিসাব করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজেদের কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে অনেক বার ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এখন মোট বিলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বকশিশ (অটো গ্র্যাচুইটি) জুড়ে দিচ্ছে। তবে ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেক সময় এই নিয়ম কার্যকর করতে ভুল হয়ে যাচ্ছে। আবার কানসাস সিটির মতো কিছু শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা এই স্বয়ংক্রিয় বকশিশের নিয়ম চালু করে উল্টো লোকসানের মুখে পড়েছেন; কারণ অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেক গ্রাহক শহরের কেন্দ্রস্থলের রেস্তোরাঁগুলো এড়িয়ে চলছেন, আবার কেউ কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তি টাকা কাটায় অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। আমেরিকার এই বহু পুরনো বকশিশ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন সমাজকর্মী ও বিশ্লেষকরা। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ইউরোপীয় সামন্তবাদী প্রথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই বকশিশ ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছিল। কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে খাটিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁ মালিকরা বকশিশের নিয়ম চালু করেন, যা মূল বেতনের পরিপূরক না হয়ে কালক্রমে বেতনের বিকল্প হিসেবে রূপ নেয়। বিশ্বকাপ ফুটবলের এই মহোৎসবে বিদেশি পর্যটকদের বকশিশ দেওয়ার অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সেই শতবর্ষী বিতর্ক সূত্রঃ ইয়াহু নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে বাড়ি ফেরার পথে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় মর্মান্তিক প্রাণহানির শিকার হয়েছেন দুই নারী। গত শনিবার নিউজার্সির নেওয়ার্ক এলাকার পার্ক অ্যাভিনিউ এবং নর্থ সেভেনথ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এই ভয়াবহ 'হিট-অ্যান্ড-রান' বা গাড়িচাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত ওই দুই নারীর নাম মারিয়ানা এলিজাবেথ ভালভার্দে বেলট্রান (৫৮) এবং মারিয়া ইসাবেল দেলসঅ্যাঞ্জেলেস সালগাদো আয়ালা (৬১)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৬ বছর বয়সী ডেভিড জে. জাপাতা-ভেরা নামের এক যুবক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে ওই দুই নারীকে সজোরে ধাক্কা দেন, যার তীব্রতায় তারা ছিটকে শূন্যে উড়ে যান। ম্যানুয়েল ক্যান্ডেলেরিয়া নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রাফিক সিগন্যালের আলো পরিবর্তনের ঠিক আগমুহূর্তে ঘাতক চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দিয়ে ক্রসওয়াক অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না তা নিশ্চিত না হলেও, অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এই প্রত্যক্ষদর্শী। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই নারীকে উদ্ধার করে দ্রুত নেওয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যুতে নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্বজনরা মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিহত বেলট্রানের চাচাতো ভাই জেফরি চ্যাকন জানান, ইকুয়েডরে থাকা তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই দুঃসংবাদ জানাতে গিয়ে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে, প্রাণঘাতী এই ঘটনার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার ঘাতক চালক জাপাতা-ভেরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি ভেহিকুলার হোমিসাইড, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং আহতদের বিপদে ফেলে যাওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে বিনা জামিনে এসেক্স কাউন্টি কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।