আমেরিকা

ফেসিয়াল রিকগনিশন থেকে ড্রোন, অভিবাসী নজরদারিতে নজিরবিহীন বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের

Unknown প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৬:১৪
ছবি: গেটি ইমেজেস
ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে মার্কিন সরকারের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের খরচ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর নজরদারি সরঞ্জামের এই বিশাল ও আশঙ্কাজনক বিস্তৃতির তথ্য সামনে এসেছে।

 

অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'মিহেন্তে' (Mijente), আইনি সহায়তাকারী সংস্থা 'জাস্ট ফিউচারস ল' এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'সার্ভেইল্যান্স রেজিস্ট্যান্স ল্যাব'-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রধান ১১টি কোম্পানির পেছনে মার্কিন সরকারের ব্যয় ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৩১ কোটি ডলারে পৌঁছায়। আর বর্তমান ২০২৬ সালে সেই ব্যয়ের পরিমাণ রেকর্ড ভেঙে এক লাফে প্রায় ৫১ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

 

গবেষকদের মতে, মার্কিন সরকারের এই বিশাল খরচের বড় অংশই যাচ্ছে ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি 'প্যালান্টির' এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অ্যান্ডুরিল'-এর পকেটে। অ্যান্ডুরিল মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নজরদারি ব্যবস্থা, প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ সীমান্ত টাওয়ার, ড্রোন এবং বিশেষ সেন্সর তৈরি করে থাকে।

 

করদাতাদের কোটি কোটি ডলারের এই অর্থ দিয়ে আইসিই এবং সিবিপি ডেটা ব্রোকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্র্যাপার, ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, মোবাইল হ্যাকিং ডিভাইস এবং স্পাইওয়্যারের মতো অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি কিনছে। এর মাধ্যমে অভিবাসীদের পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উন্মোচন করা হয়েছে যে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) কেবল এসব প্রযুক্তি কিনছেই না, বরং বিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়ে বিভিন্ন স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এসব স্বৈরাচারী নজরদারি ডিভাইস তৈরিতে অর্থায়ন করছে। ডিএইচএস-এর 'স্মল বিজনেস ইনোভেশন রিসার্চ' (এসবিআইআর) কর্মসূচির মাধ্যমে ২০০৪ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টি কোম্পানিকে প্রায় ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই তহবিলের আওতায় এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে যা দিয়ে মার্কিন এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন থেকে বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ করতে পারে এবং এআই ব্যবহার করে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য তালিকাভুক্ত করতে পারে।

 

এই প্রযুক্তিগত নজরদারির বিস্তৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। 'জাস্ট ফিউচারস ল'-এর নির্বাহী পরিচালক পারমিতা শাহ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কংগ্রেসের জবাবদিহিতার বাইরে গিয়ে আইসিই যেভাবে বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। 'মোবাইল ফোর্টিফাই'-এর মতো ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যাপের মাধ্যমে হাজার হাজার অভিবাসী এবং আন্দোলনকারীদের মুখ স্ক্যান করা হচ্ছে, যা কার্যত ভিন্নমতাবলম্বীদের একটি ডাটাবেজ তৈরির শামিল।

 

এছাড়া 'বার্লা আইভি' (গাড়ির ডিভাইস থেকে তথ্য চুরির প্রযুক্তি), 'ভেরিওয়াচ' (স্মার্টওয়াচের মতো ট্র্যাকিং ডিভাইস) এবং 'ট্যাঙ্গেলস' (সোশ্যাল মিডিয়া ও আর্থিক রেকর্ড ঘেঁটে মানুষের প্রোফাইল তৈরির এআই) এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার আমেরিকাকে একটি ডিস্টোপিয়ান বা অন্ধকার শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে টেক জায়ান্ট ও ধনকুবেররা নিজেদের স্বার্থে মার্কিন বাজেট কব্জা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেছেন আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। ছবি: সংগৃহীত
ইনস্টাগ্রাম লাইভে হরমোনের ইনজেকশন নিলেন মার্কিন নারী, জানালেন ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময় তিনি হরমোনের ইনজেকশন নেওয়ার দৃশ্যও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন।   ওকাসিও-কর্টেজ জানান, দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে ভাবার পর তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত গোপন রাখলেও নারীদের শরীর ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা ও তথ্যের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি জানান, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাকে হরমোনের ইনজেকশন নিতে হচ্ছে। প্রথমবার ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতা তেমন খারাপ ছিল না বলেও জানান তিনি। এবিসির একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আগে আরও কয়েকটি ইনজেকশন নেওয়ার কথা ছিল তাঁর।   নারীদের শরীর সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন ওকাসিও-কর্টেজ। বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণের আগের সময় এবং মেনোপজসহ নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও প্রস্তুতি ও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশেও নারীদের প্রজননসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, নারীদের নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।   ওকাসিও-কর্টেজ জানান, ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সী নারী ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বিষয়ও জনসম্মুখে চলে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   নারীদের পরিবার পরিকল্পনা ও বয়স নিয়ে যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ রাজনীতিক বা চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না।   ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করেছেন। তবে এ কারণে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।   প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ নারীদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ এবং সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, আবার কেউ তাঁর প্রকাশ্যে ইনজেকশন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন।   রোববার এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জোনাথন কার্লের সঙ্গে আলোচনাতেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলেন ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এসব প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।   নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসা ওকাসিও-কর্টেজ মনে করেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে নারীরা নিজেদের শরীর ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১১:৫৮
ভুল করে অ্যালকোহলযুক্ত একটি পানীয় পান করার পর নিজের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পান হান্নাহ সিদ্দিকি। ছবি: সংগৃহীত

যে ভুল পানীয় পান করেই দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণ খুঁজে পেলেন তরুণী

১৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা পাওয়ার পর অবশেষে ৮৮ বছর বয়সে অবসরের সুযোগ পেলেন মার্কিন সেনাসদস্য এড বামবাস। ছবি: সংগৃহীত

৮৮ বছরেও কাজ করছিলেন মার্কিন সেনা, ১৭ লাখ ডলার সহায়তায় মিলল অবসর

ডিয়ারবর্ন হাইটসে নিজের গাড়ি ও বাড়ির মাঝে চাপা পড়ে প্রাণ হারানো পাঁচ সন্তানের একক মা নাদা শুকেইয়ার। ছবি: সংগৃহীত

গাড়ি থামাতে গিয়ে নিজের গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল পাঁচ সন্তানের মায়ের

অ্যারিজোনায় হত্যার শিকার হওয়া ১৯ বছর বয়সী জুলিসা রুবি সালাজার এবং অভিযুক্ত প্রেমিক ভারতীয় শিক্ষার্থী ভারুন ব্যাচিগারি (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেমিকাকে হত্যা করে পালানোর পথে জার্মানিতে গ্রেপ্তার ভারতীয় শিক্ষার্থী, ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে

অ্যারিজোনার টাকসনে ১৯ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে জার্মানিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় জার্মানিতে আটক হন ভারুন ব্যাচিগারি। তাকে অ্যারিজোনায় ফিরিয়ে এনে মামলার কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি চলছে।    নিহত তরুণীর নাম জুলিসা রুবি সালাজার। গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনার কাছাকাছি টাকসনের একটি অ্যাপার্টমেন্টে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের অনুরোধে পুলিশ সেখানে ওয়েলফেয়ার চেক করতে গেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টাকসন পুলিশ জানিয়েছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তদন্তে গলা টিপে হত্যার আলামত পাওয়া যায়।    পুলিশের তদন্তে সালাজারের প্রেমিক ব্যাচিগারিকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।   তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাচিগারি সালাজারের মোবাইল ফোন ও ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যান এবং তার মায়ের কাছে সালাজারের পরিচয়ে একাধিক বার্তা পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পরিবারের সন্দেহ হলে তারা পুলিশের কাছে ওয়েলফেয়ার চেকের অনুরোধ করেন।    হত্যাকাণ্ডের দিনই ব্যাচিগারি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনি টাকসন থেকে হিউস্টন হয়ে জার্মানির বার্লিনে যান এবং সেখান থেকে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে জার্মানিতে পৌঁছানোর পর এফবিআই ও টাকসন পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জার্মান হেফাজতে রয়েছেন এবং তাকে অ্যারিজোনায় ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাচিগারি ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনায় পড়াশোনা করতেন। পরে একটি মারামারির ঘটনার পর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আগের সহিংস আচরণ এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।    তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সালাজার তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার পরিকল্পনা করছিলেন এবং ব্যাচিগারির আচরণ নিয়ে তিনি ভয় পেতেন। তার মৃত্যুর আগের দিন সালাজারের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চিৎকার শোনার কথাও এক রুমমেট তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।    এদিকে ব্যাচিগারির যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান এবং তার ভিসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তার অভিবাসন স্ট্যাটাস বা ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট তথ্য এখনো সরকারি সূত্রে প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।   জার্মানিতে গ্রেপ্তার ব্যাচিগারিকে অ্যারিজোনায় ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে পিমা কাউন্টিতে হেফাজতে নেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাচিগারিকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১০:৩১
ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারীদের হামলার মুখে পড়েন এক ডেলিভারি কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

বন্দুক দেখিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, নিজের অস্ত্রেই হামলাকারীকে হত্যা করল ফুড ডেলিভারিম্যান

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব

নায়ক থেকে গায়ক, অপূর্বর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ নিউইয়র্কের দর্শক

জন্মের পরপরই পরিত্যক্ত হওয়া ফ্রেডি ফিগার্স আজ একজন সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং ইনসেটে তাঁর দত্তক বাবা-মা। ছবি: সংগৃহীত

জন্মের পর মা ফেলে গিয়েছিলেন, সেই শিশুই একদিন গড়ে তুললেন কোটি ডলারের ব্যবসা

নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত সমস্যা সামনে এসেছে। ছবি: এপি নিউজ
নিউইয়র্কে গৃহহীনদের করুণ পরিণতি, প্রায় অর্ধেক মৃত্যুর পেছনে মাদক ও অ্যালকোহল

নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মাদক ও অ্যালকোহলজনিত সমস্যা সামনে এসেছে। শহরের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গৃহহীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৩৪ জনের মধ্যে ২৮৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহারের সম্পর্ক ছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে মাদকজনিত কারণে ২৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ৪০ শতাংশ। অ্যালকোহলের অপব্যবহার বা নির্ভরতার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও ৩৪টি মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দুই কারণে মৃত্যু হয়েছে ২৮৫ জনের, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫ শতাংশ।    তবে আগের বছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ অর্থবছরে ৭৭০ জনের মৃত্যুর বিপরীতে ২০২৫ অর্থবছরে মৃত্যু হয়েছে ৬৩৪ জনের, অর্থাৎ প্রায় ১৮ শতাংশ কম। একই সময়ে মাদকজনিত মৃত্যুও ৩৪৮ থেকে কমে ২৫১ হয়েছে। মাদক ও অ্যালকোহলের পর মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল হৃদরোগ, দুর্ঘটনা এবং ক্যানসার। হৃদরোগে ৭৮ জন, মাদকজনিত ওভারডোজ বাদে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৬০ জন, অ্যালকোহলজনিত সমস্যায় ৩৪ জন এবং ক্যানসারে ২৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া আত্মহত্যায় ১৮ জন, ঠান্ডাজনিত হাইপোথার্মিয়ায় ১৫ জন, সাবওয়ে দুর্ঘটনায় ১৫ জন এবং হত্যাকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।    মৃতদের ৫২ শতাংশ ছিলেন আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা গৃহহীন মানুষ। তাদের মধ্যে ২২ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে বাইরে। অন্যদিকে মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ ঘটেছে হাসপাতালে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে মাদকজনিত মৃত্যুর হারও বেশি ছিল।    তবে প্রতিবেদনের তথ্য পুরো চিত্র তুলে নাও ধরতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অভিবাসীদের মৃত্যুর সব তথ্য সংশ্লিষ্ট ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।    নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহহীন মানুষেরা স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি জনগোষ্ঠী। দারিদ্র্য, আবাসন অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের মতো সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   মাদকজনিত মৃত্যু কমাতে শহরটি ওভারডোজ প্রতিরোধ কর্মসূচি, নালোক্সোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা করছে। শহরের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট গবেষণাতেও গৃহহীন মানুষের মধ্যে ওভারডোজকে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটিতে গৃহহীন মানুষের মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক বার্ষিক প্রতিবেদনের ২০তম সংস্করণ। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব তথ্য গৃহহীন মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য কার্যকর সেবা ও নীতিমালা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৯:১২
জাকারবার্গের বিলাসবহুল ইয়ট।ছবি:সংগৃহীত

আলাস্কায় বিপদে পড়া নৌকাকে সাহায্য করেনি জাকারবার্গের ৩০ কোটি ডলারের বিলাসবহুল ইয়ট

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প আব্দুল এল-সায়েদ এবং তার স্ত্রী সারা জুকাকুক। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাম্প-মেলানিয়ার ছবির সাথে নিজেদের ছবি তুলনা করে এল সায়েদ বলেন, আমরা একে অপরকে সত্যি ভালোবাসি"

যুদ্ধকালীন সময়ে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা এক দম্পতির আবেগঘন পুনর্মিলন। ছবি:সংগৃহীত

যুদ্ধ থেকে স্বামীর ফেরার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা! শেষে জানলেন তিনি নতুন সংসার গড়েছেন

0 Comments