আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে লাখো অভিবাসীর অনিশ্চয়তা, ট্রাম্পকে টিপিএস বাতিলের ক্ষমতা দিল সুপ্রিম কোর্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১২:৪৯
ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা
ছবি: কোলাজ । আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছে।

 

এই রায়ের ফলে প্রায়৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস বাতিল হলে তাদের অনেককেই সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটে থাকা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে।

 

আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, টিপিএস প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতেও প্রশাসন টিপিএস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে।

 

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে জীবন গড়ে তুলেছে। হঠাৎ করে তাদের আইনি সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো শুধু মানবিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

টিপিএস মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে তাদের সুরক্ষা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করা বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

 

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, টিপিএস একটি অস্থায়ী কর্মসূচি এবং এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মর্যাদা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

 

রায়ের পর এখন বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে টিপিএসধারীদের জন্য স্থায়ী আইনি সুরক্ষা বা নাগরিকত্বের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্কও উসকে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আবাসন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত গণশুনানি। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন

নিউইয়র্ক শহরে আবাসন সংকট মোকাবিলা, সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ানো এবং জমির ব্যবহার নিয়ে আগস্ট মাসে একাধিক সভা, গণশুনানি ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম চলছে। এসব আলোচনায় নতুন আবাসন প্রকল্প, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং নগরের আবাসন নীতির বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে।   চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কের আবাসন ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে জনসাধারণের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নগরের কোনো এলাকায় নতুন আবাসন বা বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া এসব প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   নিউইয়র্কে ভূমি ব্যবহারের বড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইউনিফর্ম ল্যান্ড ইউজ রিভিউ প্রসিডিউর বা ইউলুর্প প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড, বরো প্রেসিডেন্ট, নগর পরিকল্পনা কমিশন এবং শেষ পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলের পর্যালোচনা যুক্ত থাকে।   আবাসন সংকটের কারণে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ ও বিদ্যমান আবাসন সংরক্ষণ এখন নগর রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনও আবাসন সংকট মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। একই সময়ে নগরের আবাসন নীতি ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।   বিশেষ করে নতুন আবাসন প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ, ভবনের ঘনত্ব, অবকাঠামোর সক্ষমতা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী ইউনিটের সংখ্যা—এসব বিষয় গণশুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে।   নিউইয়র্কের বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাড়া, নতুন আবাসন নির্মাণ, ভবনের ব্যবহার পরিবর্তন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত সরাসরি অনেক পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   নগর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য এসব শুনানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসন ও ভূমি ব্যবহারের সিদ্ধান্তগুলো নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। 

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৯:৩
কুইন্সের ফ্লাশিং ও অ্যাস্টোরিয়ার বহুজাতিক খাবারের ব্যবসা ও রেস্তোরাঁ এলাকা। ছবি:সংগৃহীত

কুইন্সে বাড়ছে নতুন রেস্তোরাঁ, বৈচিত্র্যময় খাবারে জমে উঠছে অভিবাসী কমিউনিটির ব্যবসা

নিউইয়র্কের ৩১ লাখ অভিবাসী শহরের অর্থনীতি, শ্রমবাজার, ব্যবসা ও সেবাখাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান, গড়ে তুলছেন বহুজাতিক নগর সমাজ।

নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী

বিমান চালানোর প্রশিক্ষণের সময় ককপিটে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি; ছেলের অনুপ্রেরণায় পাইলট হওয়ার গল্পটি নতুন করে আলোচনায়। ছবি:সংগৃহীত

ছেলেকে মুগ্ধ করতে বিমান চালানো শিখেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, দুই দশক পর পাইলট ম্যাডক্সও

বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক হওয়া মিয়ামি ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পোররাইন। ছবি:সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচে দলের সঙ্গে যোগ দিতে যাওয়ার সময় অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) হাতে আটক হয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার মাতিয়াস আলেহান্দ্রো পোররাইন। ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দরে তাকে আটক করা হয়। তার দল মিয়ামি ইউনাইটেড এফসি তখন ক্যালিফোর্নিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছিল।   ঘটনাটি ঘটে ৬ আগস্ট। পোররাইন সতীর্থদের সঙ্গে ফোর্ট লডারডেল বিমানবন্দর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার পর আইসিই কর্মকর্তারা তাকে কয়েকটি প্রশ্ন করার কথা বলে আলাদা করে নেন। তাকে বলা হয়েছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফিরে আসবেন। কিন্তু পরে সতীর্থরা জানতে পারেন, তাকে আর বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং তিনি আইসিইর হেফাজতে রয়েছেন।   পোররাইনের পরিবার ও আইনজীবীর দাবি, তিনি সাত বছর আগে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বৈধ কাজের অনুমতি ছিল, ফ্লোরিডার পরিচয়পত্রও রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় ছিলেন। আইনজীবী রেজিনা বোর্হেস জানিয়েছেন, পোররাইন আটকের ঘটনায় ভীত হলেও শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।   তবে মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের একজন মুখপাত্র নিউজউইককে জানান, পোররাইন ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর আটলান্টা বিমানবন্দর দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাকে ছয় মাস থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সরকারের দাবি অনুযায়ী, তার অনুমোদিত থাকার সময় ২০২০ সালের ১১ মে শেষ হয়ে গেলেও তিনি দেশটিতে থেকে যান। এই অবস্থান থেকেই তাকে অভিবাসন আইনের আওতায় আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।   আইসিইর বক্তব্য অনুযায়ী, পোররাইনকে ৬ আগস্ট ফোর্ট লডারডেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। তাকে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হবে এবং তিনি আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার সুযোগ পাবেন।   পোররাইন বর্তমানে মিয়ামি ইউনাইটেড এফসির মিডফিল্ডার। ক্লাবটির সরকারি তালিকাতেও তাকে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন ছিলেন এবং একাধিক ম্যাচে গোলও করেছেন।   মিয়ামি ইউনাইটেড চলতি মৌসুমে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে। জুলাইয়ে দলটি পিনেলাস কাউন্টি ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফ্লোরিডা স্টেট চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর দলটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়।   ২০২৬ সালের ইউনাইটেড প্রিমিয়ার সকার লিগের বসন্ত মৌসুমের জাতীয় প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল ও ফাইনাল আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মিয়ামি ইউনাইটেড জাতীয় পর্যায়ের শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিযোগিতায় ছিল।   পোররাইনের আটকের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা না করেও অভ্যন্তরীণ একটি বিমানযাত্রার আগে একজন ক্রীড়াবিদকে আটক করার ঘটনা নিয়ে তার পরিবার ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   পোররাইনের পরিবার বিষয়টি নিয়ে আর্জেন্টিনার কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সহায়তা চেয়েছে। আইনজীবীও আদালতে তার মুক্তির আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তার অভিবাসন মামলার চূড়ান্ত পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৭:১৪
পুলিশ কর্মকর্তা হাকিম ফারথিং।

মাতাল চালকের গাড়িচাপায় মৃত্যু, ২৪ বছর পরও হাকিমকে স্মরণ করে পুরস্কার দেয় মার্কিন পুলিশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: সংগৃহীত

ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা আলাদা দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের

ঘরে বসেই দেখছেন সোশ্যাল সিকিউরিটির টেক্সট প্রতিটি। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রে? যেভাবে দেখবেন আপনার নামে কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স জমা হয়েছে

বাংলাদেশি অধ্যাপক জাহিদ হাসান
কোয়ান্টাম ফিজিক্সে ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নোবেলের আলোচনায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জাহিদ হাসান

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান ও টপোলজিক্যাল ম্যাটেরিয়াল গবেষণায় বিশ্বজুড়ে এক প্রভাবশালী নাম ড. এম. জাহিদ হাসান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের 'ইউজিন হিগিন্স অধ্যাপক' হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া এই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের জটিল তত্ত্বগুলোকে বাস্তবে রূপ দিয়ে বিজ্ঞানজগতে এক অনন্য স্থান দখল করে নিয়েছেন। বিশেষ করে তাত্ত্বিক প্রস্তাবনার দীর্ঘ সাড়ে আট দশক পর পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম রহস্যময় কণা 'ওয়েইল ফার্মিয়ন'-এর পরীক্ষামূলক প্রমাণ এনে দিয়ে তিনি বৈশ্বিক সায়েন্স কমিউনিটিতে হইচই ফেলে দেন।   ২০১৫ সালে ড. জাহিদ হাসানের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ওয়েইল ফার্মিয়নের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। ১৯২৯ সালে তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তাবিত এই কণার বাস্তব অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আধুনিক বিজ্ঞানচর্চায় এক বিশাল সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর এই আবিষ্কার কেবল মৌলিক বিজ্ঞানের সীমারেখাই বাড়ায়নি, বরং ভবিষ্যতের অতিদ্রুতগতির কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, উন্নত ইলেকট্রনিক্স এবং নতুন প্রজন্মের বিদ্যুৎ-বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথও উন্মুক্ত করেছে। এই যুগান্তকারী গবেষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক গণমাধ্যম ও প্রখ্যাত গবেষকদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   বিজ্ঞানের মৌলিক শাখায় এই অসামান্য অবদানের কারণে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে ড. জাহিদ হাসানকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নোবেলজয়ী হিসেবে প্রায়ই মূল্যায়ন করা হয়। তবে বিষয়টি অনুমাননির্ভর, কারণ নোবেল কমিটির নিয়মানুযায়ী মনোনয়ন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য টানা ৫০ বছর সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয় এবং কমিটি কখনোই আগাম কোনো প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে না। ফলে তিনি নোবেল পুরস্কারের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী—এমন দাবি করার সুযোগ না থাকলেও, তাঁর আবিষ্কৃত গবেষণার গভীরতা ও বৈপ্লবিক প্রভাবের কারণেই বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ও গবেষকদের আলোচনায় বারবার তাঁর নাম উঠে আসে।   গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ড. জাহিদ হাসান লাভ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মর্যাদাপূর্ণ আর্নেস্ট অরল্যান্ডো লরেন্স অ্যাওয়ার্ড এবং মুসলিম বিশ্বের নোবেল খ্যাত 'মুস্তফা প্রাইজ'-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা। বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী 'নেচার' ও 'সায়েন্স'-এ প্রকাশিত তাঁর একের পর এক মৌলিক গবেষণা পত্র তাঁর বৈশ্বিক প্রভাবেরই জানান দেয়। বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে বিশ্বের শীর্ষ সারির গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, মেধা, সঠিক সুযোগ ও অধ্যবসায় থাকলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানচর্চাতেও বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পারে। নোবেল সম্মাননা শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হয় কি না তা সময়ই বলে দেবে, তবে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে তাঁর স্থান যে ইতোমধ্যেই স্থায়ী হয়ে গেছে, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতার অর্থ সব উপকারভোগী একই দিনে পান না। জন্মতারিখ ও ভাতার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি টাকা সবার ব্যাংকে একই দিনে আসে না

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টড ব্লঁশ; ১০ আগস্ট ২০২৬, ওয়াশিংটন।

ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী টড ব্লঁশ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিলেন আজ

ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া নিয়ে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির (ইনসেটে) অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার অনুদান নিয়ে প্রশ্নের মুখে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল

0 Comments