অভিবাসীদের জামিন ছাড়াই আটক রাখতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা অভিবাসীদেরও গ্রেপ্তার করার পর জামিনের কোনো সুযোগ না দিয়ে আটকে রাখার অনুমতি চেয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার প্রকাশ্যে আসা এক আইনি নথিতে দেখা যায়, প্রশাসন একটি ফেডারেল আপিল আদালতের গত মে মাসের সিদ্ধান্ত বাতিল করার আবেদন জানিয়েছে। মে মাসের ওই রায়ে কয়েক দশকের পুরোনো অভিবাসন আইনের যে নতুন ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমান প্রশাসনের 'গণ-আটক নীতি' পরিচালিত হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ বেঞ্চ অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে দুটি বড় আইনি জয় এনে দেয়। এর মধ্যে লাখ লাখ হাইতিয়ান ও সিরীয় অভিবাসীর নির্বাসন ঠেকানোর সুরক্ষা প্রত্যাহার করার অনুমতিও ছিল। ওই রায়ের ঠিক আগেই চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টে এই আপিলটি দায়ের করেছিল প্রশাসন। সিনসিনাটি-ভিত্তিক ষষ্ঠ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর ২-১ প্যানেলের দেওয়া রায় পর্যালোচনার জন্যই এই আবেদন জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, শত শত নিম্ন আদালতের বিচারকদের পাশাপাশি যে তিনটি আপিল আদালত প্রশাসনের এই বিনা জামিনে আটক রাখার নীতির বিরোধিতা করেছে, ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট তার মধ্যে অন্যতম।
তবে আরও দুটি আপিল আদালত প্রশাসনের এই নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সয়ার এই বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি জানান, 'অভিবাসন আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটির' কারণে আটকে থাকা ব্যক্তিরা হাজার হাজার মামলা দায়ের করছেন, যার দ্রুত মীমাংসা প্রয়োজন। এক পিটিশনে সয়ার যুক্তি দিয়ে বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশের পর যেসব বিদেশি নাগরিক দেশে বসবাস করছেন, তাদের অপসারণ প্রক্রিয়ার সময় আটকে রাখলে তারা শুনানির সময় পালাতে পারবেন না এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের অপসারণ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন আইনের ব্যাখ্যার বাইরে গিয়ে গত বছর মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট (ডিএইচএস) একটি নতুন অবস্থান গ্রহণ করে। তারা জানায়, কেবল সীমান্তে পৌঁছানো ব্যক্তিরাই নন, বরং আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনাগরিকরাও 'প্রবেশের আবেদনকারী' (applicants for admission) হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং বাধ্যতামূলক আটকের আওতাধীন থাকবেন। কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে 'প্রবেশের আবেদনকারী' ব্যক্তিরা অভিবাসন আদালতে তাদের মামলার কার্যক্রম চলাকালীন বাধ্যতামূলকভাবে আটক থাকবেন এবং তারা জামিন শুনানির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। বিচার বিভাগের অধীনস্থ 'বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলস' গত সেপ্টেম্বরে একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এই ব্যাখ্যাটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে, যার ফলে দেশজুড়ে অভিবাসন বিচারকরা বাধ্যতামূলক আটকের নির্দেশ দেওয়া শুরু করেন।
ষষ্ঠ সার্কিট কোর্টের রায়টি মূলত মিশিগানের কিছু মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছিল। মেক্সিকো, এল সালভাদর, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া এবং গুয়াতেমালার ওই নাগরিকরা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)-এর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। ষষ্ঠ সার্কিট কোর্ট তাদের রায়ে জানায়, প্রশাসন ১৯৯৬ সালের 'ইলিগ্যাল ইমিগ্রেশন রিফর্ম অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্ট রেসপনসিবিলিটি অ্যাক্ট'-এর একটি ধারার অপব্যাখ্যা করেছে। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, জামিন শুনানি থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে ওই অভিবাসীদের মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে থাকা আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার বা 'ডিউ প্রসেস' চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি 'ভুল বার্তা' ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন বাঁচিয়েছে। ভাঙা পা নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাদায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ভুল বার্তার সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছান বিদ্যুৎকর্মীরা এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। আইওয়ার বুন কাউন্টির একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন পেনি লামার। গত ১০ জুন রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তিনি তার পোষা কুকুরগুলোকে বাইরে বের করতে এবং ঝড়ে বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা দেখতে বাইরে যান। ডায়াবেটিসের রোগী পেনি বাইরে যাওয়ার ঠিক আগেই ইনসুলিন নিয়েছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিসিআই এবং সিএনএন নিউজসোর্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনি লামার বলেন, বাড়ির সামনের রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে বিশাল এক কাদার স্তূপ ছিল। সেখানে পা পিছলে তিনি মারাত্মকভাবে পড়ে যান। পতন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তার পা শরীরের নিচে বেঁকে যায় এবং তিনি আর উঠতে পারেননি। পেনি লামারের স্বামী সে সময় কানাডায় ভ্রমণ করছিলেন। আর যেহেতু তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, তাই আশেপাশে এমন কোনো প্রতিবেশীও ছিলেন না, যিনি তাকে দেখতে পাবেন বা তার আর্তনাদ শুনতে পাবেন। উঠে দাঁড়াতে বা একটু নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না তিনি। এভাবেই কাদায় শুয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। পেনি বলেন, "সত্যি বলতে কী, আমি তখন ভাবছিলাম যে এভাবেই এখানে পড়ে থেকে আমাকে মরতে হবে।" কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভের একটি ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে তার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে থামে। মূলত, কোম্পানির সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ড্রাইভওয়েতে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। পেনি লামারের উরুর হাড় (ফিমার) মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় তার রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। বিদ্যুৎকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন এবং উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত তার পাশেই অবস্থান করেন। বর্তমানে পেনি লামার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে স্ক্রু ও রড বসিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি ওই বিদ্যুৎকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিজের বেঁচে যাওয়াকে এক অলৌকিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে পেনি বলেন, "আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন। এটি ছিল তার তেমনই এক রহস্যময় উপায় তিনিই মূলত বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে ওই ভুল বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।" এদিকে, মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কর্মীরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছেন, তাদের এই মহান কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে।
ক্যানসারের রোগী সেজে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিলেন ফ্লোরিডার এক নারী
সাগরে বিপদে নারী ও শিশু, কাছে থেকেও সাহায্যে এগিয়ে আসেনি জাকারবার্গের প্রমোদতরি!
১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি
অনলাইনে চাকরি খুঁজতে বা আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন? কম্পিউটার ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, কিংবা নতুন করে চাকরি খোঁজা শুরু করেছেন? নিউইয়র্কে এমন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সরাসরি গিয়ে চাকরি খোঁজা, আবেদন প্রস্তুত করা এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টার। এখানকার সেবাগুলো বিনামূল্যে। নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বরো বা এলাকায় মোট ১৮টি ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টার রয়েছে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি রয়েছে এমন ব্যক্তিরা এসব সেন্টারের সেবা নিতে পারেন। সেখানে গিয়ে নিজের কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সম্পর্কে জানিয়ে উপযুক্ত চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি ক্যারিয়ার পরামর্শ, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের তথ্য পাওয়া যায়। যারা অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে জানেন না, তাদের জন্যও এই সেন্টারগুলো কাজে আসতে পারে। ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারে বায়োডাটা তৈরি বা আপডেট করা, ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং চাকরি খোঁজার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কর্মশালা আয়োজন করা হয়। সেন্টারভেদে কর্মশালার সময়সূচি আলাদা হতে পারে। ইংরেজির পাশাপাশি আরও ২৫টি ভাষায় সেবা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন হলে ফোনে অনুবাদ সেবাও রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো নিউইয়র্ক সিটি জবস। নিউইয়র্ক সিটির এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চাকরির মেলা, নিয়োগ আয়োজন এবং তথ্য সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলা, বিভিন্ন চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং ক্যারিয়ার ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে। জবস এনওয়াইসির (jobs NYC) ওয়েবসাইটে গিয়ে এসব আয়োজনের সময়সূচিও দেখা যায়। সেখানে কোন দিন, কোন এলাকায়, কখন চাকরির মেলা বা নিয়োগ আয়োজন হবে, তার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া থাকে। সরকারি চাকরিতে আগ্রহীদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ও আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তথ্য সেশনও তালিকাভুক্ত থাকে। ফলে যারা অনলাইনে নিয়মিত চাকরির খবর খুঁজে পান না, তারাও ওয়েবসাইটটি দেখে নিজেদের সুবিধামতো আয়োজন বেছে নিতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে, আগস্ট ২০২৬-এর তালিকায় কুইন্সে ২৫ আগস্ট একটি জবস এনওয়াইসি হায়ারিং হল এবং ২৬ আগস্ট ফার রকাওয়েতে একটি নিয়োগ আয়োজন রয়েছে। এসব আয়োজনে চাকরিপ্রার্থীরা সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কিছু অনুষ্ঠানে আগাম নিবন্ধন করা ভালো হলেও, আসন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও ওয়াক-ইন করার সুযোগ রাখা হয়। তবে ওয়াক-ইন সুবিধা প্রতিটি অনুষ্ঠানে এক রকম নয়, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আয়োজনের তথ্য দেখে নেওয়া জরুরি। এসব চাকরির মেলা বা নিয়োগ আয়োজনে গেলে সঙ্গে কয়েক কপি বায়োডাটা এবং একটি ফটো আইডি রাখা ভালো। অনেক অনুষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে এবং কোনো কোনো নিয়োগদাতা ঘটনাস্থলেই ইন্টারভিউ নিতে পারেন। তবে সেখানে গেলেই চাকরি বা ইন্টারভিউ নিশ্চিত হবে না। শুধু বেসরকারি চাকরি নয়, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের চাকরির বিষয়েও জবস এনওয়াইসির মাধ্যমে তথ্য পাওয়া যায়। সিভিল সার্ভিস ১০১ ধরনের তথ্য সেশনে সিটি সরকারের চাকরি, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। তাই নিউইয়র্কে যারা নতুন এসেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজ শুরু করতে চান, কিংবা অনলাইনে চাকরির আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ নন, তাদের শুধু অনলাইনে চাকরি খোঁজার ওপর নির্ভর করতে হবে না। কাছের ওয়ার্কফোর্স১ ক্যারিয়ার সেন্টারে গিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেওয়া যায়। পাশাপাশি জবস এনওয়াইসির ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখলে নিজের এলাকার কাছাকাছি চাকরির মেলা, নিয়োগ আয়োজন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য সেশনের সময়সূচিও জানা যাবে।
নিউইয়র্কের যে শহরে মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে মিলছে বাড়ি, তবু কেন মানুষ ছেড়ে যাচ্ছে শহরটি?
ক্যালিফোর্নিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকারে ভয়াবহ আগুন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ হাইওয়ে
নিউইয়র্কে আবাসন ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে একাধিক গণশুনানি, নজরে সাশ্রয়ী আবাসন
নিউইয়র্কের কুইন্সে নতুন নতুন রেস্তোরাঁ ও খাবারের ব্যবসা চালুর মধ্য দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে। বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র্যময় এই বরোতে বিভিন্ন দেশের খাবার ও সংস্কৃতিকে ঘিরে নতুন উদ্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। আগস্ট ২০২৬-এর সাম্প্রতিক খাবারবিষয়ক তালিকাতেও কুইন্সের একাধিক নতুন রেস্তোরাঁ জায়গা করে নিয়েছে। নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে অ্যাস্টোরিয়ায় থাই নিয়োম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি থাই খাবারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি নতুন রেস্তোরাঁ। কলেজ পয়েন্টে চালু হয়েছে গুয়াক এন বাবল, যেখানে মেক্সিকান খাবারের সঙ্গে বাবল চায়ের সমন্বয় করা হয়েছে। এসব নতুন উদ্যোগ কুইন্সের খাদ্যসংস্কৃতিতে আন্তর্জাতিক স্বাদের বৈচিত্র্য আরও বাড়াচ্ছে। কুইন্সের রেস্তোরাঁ ব্যবসার শক্তির বড় কারণ হলো এর বহুজাতিক জনসংখ্যা। বিভিন্ন দেশের অভিবাসী পরিবার, দীর্ঘদিনের স্থানীয় বাসিন্দা এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা নিজেদের খাবার ও সংস্কৃতিকে ব্যবসার মাধ্যমে তুলে ধরছেন। ফলে একটি এলাকায় একই সঙ্গে দক্ষিণ এশীয়, পূর্ব এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকান, আফ্রিকান ও ইউরোপীয় খাবারের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। এই বৈচিত্র্যের আরেকটি উদাহরণ মাকিনা। সানিসাইডে চালু হওয়া এই প্রতিষ্ঠান ইরিত্রীয় ও ইথিওপীয় খাবার নিয়ে কুইন্সের খাদ্যজগতে নতুন পরিচয় তৈরি করেছে। উদ্যোক্তা এডেন এগজিয়াবহার ইরিত্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন, ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবিতে বেড়ে ওঠেন এবং ২০০৮ সালে কুইন্সে আসেন। তিনি ২০১৭ সালে খাবারের গাড়ির মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করার পর পরে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কুইন্সের খাবারের ব্যবসা শুধু স্থায়ী রেস্তোরাঁয় সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় খাবারের বাজার ও বিভিন্ন কমিউনিটি আয়োজনে ছোট উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। ফ্লাশিং মেডোজ-করোনা পার্কে কুইন্স নাইট মার্কেটের সাম্প্রতিক আয়োজনে জার্ক চিকেন, কলম্বিয়ান মিষ্টি, বাবল চা, কাজাখ খাবার এবং ক্যামেরুনের জোলোফ রাইসসহ বিভিন্ন দেশের খাবার বিক্রি হয়েছে। এ ধরনের আয়োজন ছোট ও পারিবারিক ব্যবসার জন্য নতুন ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে অভিবাসী উদ্যোক্তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবারকে বৃহত্তর নিউইয়র্কবাসীর কাছে পরিচিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। আগস্টের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো নিউইয়র্ক রেস্তোরাঁ সপ্তাহে কুইন্সের ৩১টি খাবারের প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে জাপানি, সিচুয়ান, জাপানি বারবিকিউসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যের খাবারের আয়োজনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের মধ্যেও এসব প্রতিষ্ঠানে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কুইন্সের এই ব্যবসায়িক পরিবেশের সঙ্গে অভিবাসী কমিউনিটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতারও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ এবং তারা শহরের কর্মশক্তির ৪৩ শতাংশ। এই বিশাল জনগোষ্ঠী খাদ্য, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসাও পরিচালনা করছেন। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ব্যবসা অনেক অভিবাসী পরিবারের জন্য কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে কাজ করছে। পরিবারের সদস্যরা রান্না, ব্যবস্থাপনা, পরিবেশন, হিসাবরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়ে ব্যবসাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি ছোট খাবারের উদ্যোগ ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রেস্তোরাঁয় পরিণত হচ্ছে। কুইন্সের নতুন খাবারের ব্যবসাগুলো তাই শুধু নতুন রেস্তোরাঁ খোলার খবর নয়। এর মাধ্যমে অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের একটি চিত্রও পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনও এই ব্যবসাগুলোর প্রসারে ভূমিকা রাখছে। মানুষ এখন নিজেদের পরিচিত খাবারের পাশাপাশি অন্য দেশের খাবারও আগ্রহ নিয়ে গ্রহণ করছে। ফলে কুইন্সে খাবার ব্যবসা একই সঙ্গে ব্যবসা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। নতুন রেস্তোরাঁ ও খাবারের উদ্যোগের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে কুইন্সের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে আরও বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবসা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এর মাধ্যমে অভিবাসী উদ্যোক্তারা শুধু নিজেদের পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করছেন না, বরং কুইন্সের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কেও আরও দৃঢ় করছেন।
নিউইয়র্কের অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে ৩১ লাখ অভিবাসী
ছেলেকে মুগ্ধ করতে বিমান চালানো শিখেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, দুই দশক পর পাইলট ম্যাডক্সও