আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধিকার সংগঠন CAIR সহ দুটি মুসলিম সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তির উদ্যোগ ফ্লোরিডার গভর্নরের

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ৯:৩০
ছবি: ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি-স্যান্টিস (সংগৃহীত)
ছবি: ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি-স্যান্টিস (সংগৃহীত)

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি-স্যান্টিস অঙ্গরাজ্যের নতুন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR), মুসলিম ব্রাদারহুড এবং অ্যান্টিফাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে ৯০টিরও বেশি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন ও বিভিন্ন মাদক কার্টেলকে ফ্লোরিডার আইনের আওতায় তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

 

গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি মাসে কার্যকর হওয়া ফ্লোরিডার নতুন আইন এইচবি-১৪৭১ রাজ্য সরকারকে প্রথমবারের মতো দেশীয় ও বিদেশি সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ক্ষমতা দিয়েছে। এ আইনের আওতায় ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল’ এনফোর্সমেন্টের সুপারিশের ভিত্তিতে গভর্নর ও রাজ্যের ক্যাবিনেট যৌথভাবে কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

 

ডি-স্যান্টিস বলেন, নতুন আইনটি ফ্লোরিডাকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আরও কার্যকর আইনি ভিত্তি দিয়েছে। তার ভাষায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবিধানিক অধিকারও সংরক্ষণ করা হবে।

 

গভর্নরের প্রস্তাবিত তালিকায় থাকা CAIR যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পরিচিত মুসলিম নাগরিক অধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্যবিরোধী আইনি সহায়তা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে মুসলিম ব্রাদারহুড মিসরে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ইসলামপন্থী আন্দোলন, যার বিভিন্ন দেশে অনুসারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠন রয়েছে। এছাড়া বামপন্থী বিকেন্দ্রীভূত আন্দোলন অ্যান্টিফাকেও তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে ফ্লোরিডার গভর্নরের এই ঘোষণা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, CAIR বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় নেই। তাদের মতে, কোনো সংগঠনকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকা জরুরি।

 

অন্যদিকে ডি-স্যান্টিস প্রশাসন বলছে, নতুন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আগে ফ্লোরিডা ক্যাবিনেটের অনুমোদনসহ আইনে নির্ধারিত অন্যান্য ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোরিডার এই উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম অধিকার সংগঠন CAIR-কে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
বন্যা পরিস্থিতি। ছবি:সংগৃহীত
ইন্ডিয়ানায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া দুই বছরের শিশুকে বাঁচাতে মায়ের মরিয়া লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রাশ কাউন্টিতে ভয়াবহ বন্যার মধ্যে দুই বছরের শিশু আলায়না পরিবারের বাড়ির বেসমেন্টে পানিতে ডুবে যায়। ঘটনাটি ঘটে ১২ আগস্ট সন্ধ্যায়, যখন প্রবল বৃষ্টিতে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়।   শিশুটিকে বেসমেন্টে ডুবে থাকতে দেখে তার ১৩ বছরের ভাই দ্রুত জরুরি নম্বরে ফোন করে। একই সময়ে মা শিশুটিকে উদ্ধারের পর জীবন বাঁচানোর জন্য সিপিআর দিতে শুরু করেন।   কিন্তু বন্যার পানিতে বাড়িটির চারপাশের রাস্তা এতটাই ডুবে গিয়েছিল যে উদ্ধারকারী দলের ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক কৃষক ট্রাক্টর নিয়ে উদ্ধারকারীদের বাড়িতে পৌঁছাতে সহায়তা করেন এবং পরে পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন।   উদ্ধারকারীরা শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইন্ডিয়ানাপোলিসের একটি হাসপাতালে আকাশপথে পাঠান। গুরুতর অবস্থায় তাকে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রের সহায়তা দেওয়া হয়।   তবে ১৬ আগস্ট পরিবারের জন্য আসে আশার খবর। শিশুটি যন্ত্রের সহায়তা ছাড়াই নিজে থেকে শ্বাস নিতে শুরু করেছে। পরিবার জানিয়েছে, সামনে এখনও দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার পথ রয়েছে, তবে শিশুটির এই উন্নতিকে তারা বড় জয় হিসেবে দেখছেন।   রাশ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মায়ের দ্রুত পদক্ষেপ, কিশোর ভাইয়ের জরুরি ফোন এবং স্থানীয় কৃষকের সহায়তা শিশুটিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৩:১৫
ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৯২ বছর বয়সী দম্পতি অ্যান্থনি ও হেলেন স্পলডিং। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক ব্রেন্ট জিনড্রা এবং ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক হওয়া তার রুশ বংশোদ্ভূত স্ত্রী গালিনা বোব্রেনেভা। ছবি: সংগৃহীত

টানা তিনবার ট্রাম্পকে ভোট, এবার ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক নিজেরই স্ত্রী

কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে আয়োজিত ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি মেম্বার জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসবে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ‘এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না’

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি কুইন্সের ফ্লোরাল পার্কে অনুষ্ঠিত কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে নিজের সংযোগের কথা তুলে ধরেছেন। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ ও স্মরণীয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করে মামদানি লিখেছেন, তিনি এই সপ্তাহান্তে আবারও ফ্লোরাল পার্কে ফিরেছিলেন কুইন্স ইন্ডিয়া ডে প্যারেডে অংশ নিতে। তবে এবার তাঁর পরিচয় ছিল ভিন্ন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে এবং নিজের ভাষায়, শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র হিসেবে তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।   মামদানি লিখেছেন, ‘এটি এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা আমি কখনো ভুলব না।’   প্যারেডে ভারতীয় সংস্কৃতির নানা রঙের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ভারতের স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। মামদানিকেও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কমিউনিটি সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিতে দেখা যায়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মামদানি নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র ডেভিড ডিনকিন্সের একটি পরিচিত বর্ণনার কথাও স্মরণ করেন। ডিনকিন্স নিউইয়র্ককে একসময় ‘গর্জিয়াস মোজাইক’ বা অসংখ্য সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অপূর্ব সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।   ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজনে মামদানি বলেন, তিনি সেই বৈচিত্র্যেরই প্রতিচ্ছবি দেখেছেন ভারতীয় ডায়াস্পোরার মধ্যে। সেখানে হিন্দু, খ্রিস্টান, মুসলিম, জৈন, বৌদ্ধ ও শিখসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা উদযাপন করতে দেখা গেছে।   তাঁদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, নিউইয়র্ককে আজকের শহরে পরিণত করার ক্ষেত্রে ভারতীয় ডায়াস্পোরার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের সঙ্গে পাশাপাশি কাজ করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের।   মামদানির নিজের পারিবারিক পরিচয়ের সঙ্গেও ভারতীয় সংস্কৃতির একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাহমুদ মামদানি ভারতীয় বংশোদ্ভূত গুজরাটি মুসলিম এবং তাঁর মা মীরা নায়ার ভারতীয় বংশোদ্ভূত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারের সন্তান। ছোটবেলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে আসেন।   এর আগে মেয়র নির্বাচনের সময়ও মামদানি তাঁর মায়ের পরিবারের হিন্দু ঐতিহ্য এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দীপাবলি, হোলি ও রাখিবন্ধনের মতো ভারতীয় ঐতিহ্য তাঁর বেড়ে ওঠার অংশ ছিল। একই সঙ্গে তিনি নিজের মুসলিম পরিচয়কেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।   ফলে ফ্লোরাল পার্কের এই আয়োজন মামদানির জন্য কেবল একজন মেয়র হিসেবে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিল না। নিজের পারিবারিক শিকড়, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং নিউইয়র্কের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে একই মঞ্চে উদযাপনের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেও এটি সামনে এসেছে।   পোস্টের শেষদিকে ভারতীয় কমিউনিটির উদ্দেশে মামদানি লিখেছেন, ‘হ্যাপি ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেনডেন্স ডে।’   তাঁর শেয়ার করা ছবিগুলোতেও সেই উদযাপনের আবহ স্পষ্ট। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা মানুষ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উচ্ছ্বসিত কমিউনিটি সদস্যদের মাঝে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির উপস্থিতি যেন শহরটির বৈচিত্র্যময় পরিচয়েরই একটি প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১২:১
মানসিক চাপ সামলাতে অতিরিক্ত কেনাকাটার অভ্যাসে পড়ে আর্থিক সংকটে ভোগা মার্কিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ম্যাডি বেকার। ছবি: সংগৃহীত

কাজ শেষে ক্লান্তি কমাতে শপিং ছিল অভ্যাস, পে চেক টু পে চেক জীবন থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বা ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার বড় প্রস্তাব দিয়েছে ইউএসসিআইএস। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিকত্বের পথে বাড়ছে খরচ, আবেদন ফি ১,৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব

সন্তানদের সাথে থাকার পরও নিউইয়র্কে কিছু প্রবীণ বাংলাদেশি বাবা-মার একাকী ও বিষণ্ণ জীবন কাটানোর বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক খরচে সাশ্রয় আনতে ক্যাশব্যাক অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
বাজার খরচ কমান এই ৪ অ্যাপে, ওয়ালমার্টে মিলতে পারে ক্যাশব্যাক

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রোসারির দাম বাড়তে থাকায় পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপও বাড়ছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে বাসায় খাওয়ার জন্য কেনা খাবারের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন গ্রোসারি স্টোরে ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট পাওয়ার কয়েকটি অ্যাপ কাজে আসতে পারে। তবে কোনো অ্যাপ ব্যবহার করলেই বাজারের মোট খরচে নিশ্চিতভাবে ৩০ শতাংশ বা মাসে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হবে, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে পণ্য, অফার, স্টোর ও লোকেশনের ওপর।   আইবটা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত ক্যাশব্যাক প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি আইবটা। ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন রিটেইলারে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ক্যাশব্যাক অফার পাওয়া যায়।   ব্যবহারকারী প্রথমে অ্যাপে নিজের পছন্দের স্টোর নির্বাচন করে কেনাকাটার আগে যোগ্য অফারগুলো অ্যাকাউন্টে যোগ করতে পারেন। এরপর নির্ধারিত পণ্য কিনলে রিসিট সাবমিট করে ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়। কিছু স্টোরে লয়্যালটি অ্যাকাউন্ট যুক্ত থাকলে রিসিট আপলোডের প্রয়োজনও হয় না।   ওয়ালমার্টের ক্ষেত্রেও আইবটা অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ওয়ালমার্ট অ্যাকাউন্ট যুক্ত করা যায়। ইন স্টোর, পিকআপ ও ডেলিভারির যোগ্য কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।   তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম রয়েছে। একই পণ্যের একই অফার আইবটা ও ওয়ালমার্ট ক্যাশ উভয় জায়গায় যোগ করলে দ্বিগুণ ক্যাশব্যাক পাওয়া যায় না। একই অফার একবারই রিডিম করা যায়।   ফ্ল্যাশফুড খাবারের খরচ কমানোর আরেকটি উপায় ফ্ল্যাশফুড। এটি প্রচলিত রিসিট ক্যাশব্যাক অ্যাপের চেয়ে কিছুটা আলাদা। অংশগ্রহণকারী গ্রোসারি স্টোরগুলো যেসব খাবার দ্রুত বিক্রি করতে চায়, বিশেষ করে মেয়াদ ঘনিয়ে আসা বা অতিরিক্ত মজুত থাকা খাবার, সেগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ডিসকাউন্টে বিক্রি করা হয়।   ব্যবহারকারী অ্যাপে কাছের অংশগ্রহণকারী স্টোরের পণ্য দেখতে পারেন, অ্যাপেই পেমেন্ট করে পরে নির্ধারিত স্টোর থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত দামের তুলনায় বড় ছাড় পাওয়া যায়।   এ ব্যবস্থার আরেকটি উদ্দেশ্য খাবারের অপচয় কমানো। তবে কোন স্টোরে কী পণ্য এবং কত শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে, তা প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে এটিকে নির্দিষ্ট মাসিক সাশ্রয়ের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   চেকআউট ৫১ চেকআউট ৫১ মূলত রিসিটভিত্তিক ক্যাশব্যাক অ্যাপ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সপ্তাহে গ্রোসারি, দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে গ্যাসের নতুন অফার প্রকাশ করা হয়।   ব্যবহারকারী কেনাকাটার আগে অ্যাপে অফার নির্বাচন করেন। পণ্য কেনার পর রিসিটের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হয়। রিসিট যাচাই হওয়ার পর যোগ্য অফারের ক্যাশব্যাক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।   বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অফার সাধারণত রোববার থেকে শুরু হয় এবং পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত থাকে। অফার সীমিত সংখ্যায় থাকতে পারে। তাই বাজারে যাওয়ার আগে অফারটি তখনো চালু আছে কি না দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   চেকআউট ৫১ অ্যাকাউন্টে ক্যাশব্যাক ২০ ডলারে পৌঁছালে তা তোলার সুযোগ রয়েছে।   ওয়ালমার্ট ক্যাশ ওয়ালমার্টের নিজস্ব ওয়ালমার্ট ক্যাশ ব্যবস্থাও সরাসরি ব্যবহার করা যায়। এটি সাধারণ ক্যাশব্যাক ক্রেডিট কার্ড নয়। নির্দিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারার অফার নির্বাচন করে যোগ্য পণ্য কিনলে ওয়ালমার্ট ক্যাশ পাওয়া যায়।   ওয়ালমার্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্টের ভেতর থেকে যোগ্য পণ্য ও অফার দেখা যায়। অফার নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট পণ্য কিনলে সেই অর্থ ওয়ালমার্ট ক্যাশ ব্যালেন্সে যোগ হয়।   জমা হওয়া ওয়ালমার্ট ক্যাশ পরবর্তী ইন স্টোর বা অনলাইন কেনাকাটায় ব্যবহার করা যায়। ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, কমপক্ষে ২৫ ডলার জমলে নির্দিষ্ট শর্তে ওয়ালমার্ট স্টোরের মানিসেন্টার বা কাস্টমার সার্ভিস ডেস্ক থেকে নগদ অর্থ হিসেবেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তবে একটি প্রচলিত তথ্য এখানে সংশোধন করা প্রয়োজন। ওয়ালমার্টের স্পার্ক ড্রাইভার প্ল্যাটফর্মকে সাধারণ ক্রেতাদের ক্যাশব্যাক প্রোগ্রাম হিসেবে ধরা ঠিক নয়। সাধারণ ক্রেতাদের জন্য প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা হলো ওয়ালমার্ট ক্যাশ ও সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারার অফার।   অ্যালডি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। অ্যালডির যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি সাধারণভাবে অনলাইন বা ডিজিটাল কুপন দেয় না। অনলাইনে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া তথাকথিত অ্যালডি কুপনকে প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কুপন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। বিশেষ কোনো স্টোর উদ্বোধন বা আঞ্চলিক প্রচারণায় সীমিত কুপন দেওয়া হতে পারে।   তাই অ্যালডির নিজস্ব অ্যাপে নিয়মিত ডিজিটাল কুপন পাওয়া যায় এমন ধারণা সঠিক নয়। অ্যালডিতে সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে মূলত তাদের সাপ্তাহিক অফার, কমদামের পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপলব্ধ বৈধ তৃতীয় পক্ষের সেবা বিবেচনা করতে হবে।   একই কেনাকাটায় একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সব ক্যাশব্যাক অফার একসঙ্গে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষ করে আইবটা ও ওয়ালমার্ট ক্যাশে একই ম্যানুফ্যাকচারার অফার দুবার নেওয়ার সুযোগ নেই। চেকআউট ৫১-ও প্রতিটি রিসিট একবার ব্যবহারের নিয়ম দিয়েছে।   সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বাজারে যাওয়ার আগে অ্যাপগুলোতে সেই সপ্তাহের অফার দেখা, প্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে অফার মিলিয়ে নেওয়া এবং শুধু ক্যাশব্যাক পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় পণ্য না কেনা।   কোনো একটি অ্যাপ বা পদ্ধতিতে সবার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের সাশ্রয় নিশ্চিত নয়। তবে নিয়মিত কেনা পণ্যের সঙ্গে ক্যাশব্যাক বা ডিসকাউন্ট মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারলে বছরজুড়ে গ্রোসারি খরচের একটি অংশ কমানো সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১১:১
রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া সাবেক মার্কিন মেরিন জো বেলজিও। ছবি: সংগৃহীত

রেস্তোরাঁয় ঝিনুক খেয়ে গুরুতর অসুস্থ সাবেক মার্কিন মেরিন, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি

কলোরাডোর পাহাড়ে পথ হারিয়েও অচেনা নম্বর মনে করে উদ্ধারকারীদের ফোনকল ধরেননি এক হাইকার। ছবি: সংগৃহীত

হারানো হাইকারকে খুঁজতে চলল রাতভর অভিযান, অচেনা নম্বর ভেবে ধরেননি রেসকিউ টিমের ফোন

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা খাত ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির শঙ্কা, ঝুঁকিতে ৪০ হাজার চাকরি

0 Comments