যুক্তরাষ্ট্রে সৎমায়ের নির্যাতনে ১৪ বছরের কিশোরীর ওজন নেমে আসে ১৬ কেজিতে, কিশোরীর বক্তব্যে কেঁদে ওঠে আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে সৎমায়ের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, অনাহার ও অবহেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর ওজন নেমে আসে মাত্র ১৬ কেজিতে। আদালতে সেই কিশোরীর হৃদয়বিদারক বক্তব্য শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই। পরে সৎমা মেলিসা গুডম্যানকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার সময় তার ওজন ছিল মাত্র ৩৫ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ১৬ কেজি। দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে তার শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে পড়েছিল যে জীবন রক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
রায় ঘোষণার আগে আদালতে কিশোরীর রেকর্ড করা বক্তব্য শোনানো হয়। সেখানে তিনি সৎমাকে উদ্দেশ করে বলেন, “তুমি আমার শৈশব ধ্বংস করে দিয়েছ। আমাকে সেই পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন করেছিলে, যারা সত্যিই আমার যত্ন নিত। যখন আমার সাহায্যের প্রয়োজন ছিল, তখন তুমি সাহায্য করার সুযোগ পেয়েও তা করোনি। বরং নির্যাতন ও অবহেলায় অংশ নিয়েছিলে। আশা করি জেলেই ভালো থাকবে, কারণ তোমার থাকার জায়গা সেখানেই।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিশোরীর বক্তব্য চলাকালে আদালতের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
তদন্তে উঠে এসেছে, বছরের পর বছর কিশোরীকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হতো এবং বাইরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও সীমিত করে রাখা হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের দাবি, পরিকল্পিত অবহেলা ও নির্যাতনের কারণেই শিশুটির ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় এবং সে মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়।
যদিও আসামিপক্ষ দাবি করেছিল, কিশোরীর অটিজম থাকায় সে স্বাভাবিকভাবে খাবার খেতে চাইত না। তবে চিকিৎসকেরা আদালতকে জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সে স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার ওজন বাড়তে থাকে। এতে তদন্তকারীদের ধারণা আরও জোরালো হয় যে, শিশুটি দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত খাবার থেকে বঞ্চিত ছিল।
শিশু নির্যাতন, গুরুতর অবহেলা এবং অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগে মেলিসা গুডম্যানকে ১৫ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি কারাভোগ শেষে আরও ১০ বছর আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা ওয়াল্টার গুডম্যান, মেলিসা গুডম্যানের মেয়ে সাভানা লেফেভার এবং লেফেভারের সঙ্গী কায়লা স্টেমলারের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মামলার বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েও জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী। শুক্রবারের ওই ধারাবাহিক হামলায় সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত কিশোরীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে মিশিগানের মিসককি কাউন্টিতে। স্থানীয় সময় ১৪ আগস্ট বেলা প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে লেক টাউনশিপের সাউথ ল্যাচ্যান্স রোডের একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে মিশিগান স্টেট পুলিশের সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পুলিশ গিয়ে তিনজনকে মৃত এবং ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি চারবার গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থাতেও সে নিজেই ৯১১-এ ফোন করে জানায় যে তাকে গুলি করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে তদন্তকারীরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হন। পরিবারের সদস্যরাও তার সাহসিকতাকে প্রশংসা করে তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রথম ঘটনাস্থলে নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, ৪০ বছর বয়সী এক নারী এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ৪০ বছর বয়সী আমান্ডা এভারিট ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে এরিকের পরিচয় সামনে আসে। কিশোরীটি ওই পরিবারের সদস্য বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলে পুলিশ বড় ধরনের অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে। পরে মিসককি কাউন্টির আরেকটি বাড়ি থেকে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর তদন্তকারীরা হোয়াইটলেক লেকের কাছে বনাঞ্চলে সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়ির সন্ধান পান। সেখানে ৩৯ বছর বয়সী চ্যাড হিকম্যান এবং ২৯ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়।পুলিশের হিসাবে, তিনটি পৃথক স্থানে পাওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন হামলার শিকার এবং একজন ছিলেন সন্দেহভাজন হামলাকারী। নিহত পাঁচ ভুক্তভোগীর বয়স ছিল ১৬, ২৯, ৪০, ৪৫ ও ৫৩ বছর। সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত চ্যাড হিকম্যানের বয়স ছিল ৩৯ বছর। পুলিশ তাকে শনাক্ত করার পর তিনি ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হতে পারেন বলে সতর্ক করেছিল এবং তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। পরে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন কি না, নাকি অন্য কোনোভাবে মারা গেছেন—এ বিষয়ে তদন্তের সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এই হামলার উদ্দেশ্য বা নিহত ব্যক্তিদের সঙ্গে সন্দেহভাজন হামলাকারীর সম্পর্ক কী ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মিশিগান স্টেট পুলিশ তিনটি ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। হিকম্যানের অতীত নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিশু নির্যাতনের একটি মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং এক বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। তবে বর্তমান হামলার সঙ্গে ওই পুরোনো মামলার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেননি। এদিকে ভয়াবহ এই ঘটনায় মিসককি কাউন্টির ছোট কমিউনিটিতে শোক ও আতঙ্ক নেমে এসেছে। মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে ১৩ বছরের কিশোরীর সাহসিকতা। চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে জরুরি নম্বরে ফোন করা এবং পুলিশকে সন্দেহভাজন সম্পর্কে তথ্য দেওয়া তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। তিনটি ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, নিহতদের সঙ্গে সন্দেহভাজনের সম্পর্ক এবং হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাই ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ইন্ডিয়ানায় বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া দুই বছরের শিশুকে বাঁচাতে মায়ের মরিয়া লড়াই
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৭৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি, আগুনে প্রাণ গেল বৃদ্ধ দম্পতির
মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনবার ভোট দিয়েছেন ব্রেন্ট জিনড্রা। ট্রাম্পের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতিও ছিল তার সমর্থনের অন্যতম কারণ। কিন্তু যে অভিযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ভেবেছিলেন, সেই অভিযানে নিজের স্ত্রী গালিনা বোব্রেনেভা আটক হওয়ার পর বদলে গেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৮ বছর বয়সী জিনড্রা পেশায় টেক সেলসম্যান। তার স্ত্রী বোব্রেনেভা রাশিয়ার নাগরিক। ২০২১ সালের শেষ দিকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তিনি। পরে দুবার তার থাকার মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং ২০২২ সালে তিনি অ্যাসাইলামের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের মার্চে জিনড্রার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করেন। এরপর ২০২৬ সালের এপ্রিলে স্ত্রীর জন্য ম্যারেজ বেসড গ্রিন কার্ডের আবেদন করেন জিনড্রা। আবেদন গ্রহণের আনুষ্ঠানিক নোটিশও পেয়েছিলেন তারা এবং বোব্রেনেভার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত ১৩ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার বারব্যাঙ্কে ফ্লাইটে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিমানবন্দরে সাদা পোশাকের ফেডারেল এজেন্টরা বোব্রেনেভাকে থামান। প্রায় ১৫ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এজেন্টরা তাকে জানান, তিনি ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। বোব্রেনেভা তখন নিজের চলমান গ্রিন কার্ড আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখান। তার দাবি, তিনি নিশ্চিত ছিলেন কোথাও ভুল হচ্ছে। এরপর শুরু হয় ১৬ দিনের ডিটেনশন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হোল্ডিং সেলে রাখা হয়। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার মোহাভি মরুভূমি এলাকার অ্যাডেলান্টো ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৩৫ হাজার ডলারের বন্ডে তাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং তার পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটর লাগানো হয়। তবে বোব্রেনেভার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদা। তার আইনজীবীর দাবি, তিনি কখনোই আইনগত স্ট্যাটাসের বাইরে ছিলেন না। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বলেছে, বোব্রেনেভা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করেছেন। সংস্থাটি আরও স্পষ্ট করেছে, ওয়ার্ক অথরাইজেশন বা কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস দেয় না। স্ত্রীর আটক হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছেন জিনড্রা। তিনি বলেন, ম্যাগা ক্যাম্পেইনের আকর্ষণ ছিল অপরাধী হিসেবে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে। কিন্তু বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও এমন অভিযান চালানো হবে, এমন কোনো ম্যান্ডেট তিনি দেখেননি। স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি তুলে ধরে জিনড্রা বলেন, তিনি দেয়াল টপকে কিংবা নদী সাঁতরে যুক্তরাষ্ট্রে আসেননি, বরং বৈধ পথেই দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনে বৈধভাবে প্রবেশ করা এবং পরবর্তী সময়ে বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখা দুটি আলাদা বিষয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে অ্যাসাইলাম, গ্রিন কার্ড বা অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের আবেদন পেন্ডিং থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ স্ট্যাটাস তৈরি হয় না। বোব্রেনেভার ক্ষেত্রে ঠিক কোন আইনি অবস্থান প্রযোজ্য, সেটিই এখন তার চলমান ইমিগ্রেশন মামলার অন্যতম বিরোধের বিষয়। বোব্রেনেভা বর্তমানে মুক্ত থাকলেও তার মামলা শেষ হয়নি। তাকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করতে হচ্ছে। তার প্রথম কোর্ট হিয়ারিং ২২ অক্টোবর নির্ধারিত রয়েছে। তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া জিনড্রার জন্য ঘটনাটি এখন ব্যক্তিগত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। স্ত্রীর আটক হওয়ার পর তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, নিজের দেশেই এখন তারা ভয় নিয়ে বসবাস করছেন।
ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসবে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি, ‘এই অভিজ্ঞতা কখনো ভুলব না’
কাজ শেষে ক্লান্তি কমাতে শপিং ছিল অভ্যাস, পে চেক টু পে চেক জীবন থেকে যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন শিক্ষিকা
মার্কিন নাগরিকত্বের পথে বাড়ছে খরচ, আবেদন ফি ১,৩৩০ ডলার করার প্রস্তাব
সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম। নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।” তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন। আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই। লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না। লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।” নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে। লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন। এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে। তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে - বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব? এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।
বাজার খরচ কমান এই ৪ অ্যাপে, ওয়ালমার্টে মিলতে পারে ক্যাশব্যাক
রেস্তোরাঁয় ঝিনুক খেয়ে গুরুতর অসুস্থ সাবেক মার্কিন মেরিন, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি