দ্রুতগতির গাড়ি আর এক মুহূর্তের ভুল, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাণ গেল ২ জনের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার জেরে ঘটা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার মাডেরা কাউন্টির একটি মোড়ে, যেখানে দ্রুতগতির একটি শেভ্রোলেট (শেভি) গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে একটি জিপকে। সামান্য একটি ভুলের কারণে দুটি তরতাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণে স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১৮ বছর বয়সী এসমেরালদা মার্সেলা গুতেরেজ তার শেভি মালিবু গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি রাস্তার একটি 'স্টপ সাইন' বা থামার সংকেত অমান্য করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলে অপর দিক থেকে আসা একটি জিপ গাড়ির সাথে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই চালক গুতেরেজ প্রাণ হারান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন তার পরিচয় প্রকাশ করে। গুতেরেজের গাড়িতে থাকা ২১ বছর বয়সী আরেক যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত জিপটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ ববি ক্রিয়েডো। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারলিফটের মাধ্যমে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা পরিবারকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, তার আঘাত এতটাই গভীর যে সেখান থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
টানা কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ববি। ওই জিপটিতে থাকা ২৫ বছর বয়সী চালক এবং ১০ বছর বয়সী এক শিশুও আহত হয়েছে, যাদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তীব্র শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। ববি ক্রিয়েডো যখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন গত বৃহস্পতিবার উভয় হতাহতের স্মরণে একটি শোকসভা বা মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়। ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে মুহূর্তের ভুলে ঘটে যাওয়া এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার। নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে। এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন। তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে। ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর
নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ
মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা
যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সমর্থনে এগিয়ে নেওয়া একটি প্রস্তাবিত নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম বা এসএসআই পাওয়া প্রায় ৪ লাখ নিম্নআয়ের প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাসিক সহায়তা কমে যেতে পারে, এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ডাউন সিনড্রোম, ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী মানুষও রয়েছেন। বিষয়টি সামনে এসেছে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক প্রতিবেদনে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে পরিবারের কেউ সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম বা স্ন্যাপ সুবিধা পান কি না, সেই বিষয়টি। এসএসআই মূলত বয়স্ক, অন্ধ ও প্রতিবন্ধী নিম্নআয়ের মানুষকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি ফেডারেল কর্মসূচি। বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ পাওয়া পরিবারের সদস্যের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাসকারী এসএসআই গ্রহীতারা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা পাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া নিয়মে স্ন্যাপকে ‘পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ড’ নির্ধারণের তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই পরিবারের অন্তত একজন এসএসআই আবেদনকারী বা গ্রহীতা এবং অন্য একজন সদস্য নির্দিষ্ট সরকারি সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শ্রেণির আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা খাবার বা থাকার খরচে সহায়তা করলেও সেই সহায়তাকে আগের মতো এসএসআই গ্রহীতার আয় হিসেবে গণনা করার প্রয়োজন হয় না। এসএসএ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল নিয়ম সহজ করা, নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং কিছু ক্ষেত্রে এসএসআই সুবিধা বাড়ানো। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই পরিবর্তনটি উল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এসএসএ স্ন্যাপকে পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার এবং পুরোনো নিয়মে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছে। পুরোনো ব্যবস্থায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে নির্দিষ্ট সরকারি আয় সহায়তা পেতে হতো, তবেই পরিবারটি এই বিশেষ শ্রেণিতে পড়ত। এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে এমন পরিবারে পড়তে পারে, যেখানে প্রতিবন্ধী কোনো সন্তান বা বয়স্ক স্বজন এসএসআই পান, কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা স্ন্যাপ সুবিধার ওপর নির্ভরশীল। প্রোপাবলিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের এসএসআই সুবিধা কমে যেতে বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এসএসআইয়ের নিয়মে পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া খাবার বা থাকার সহায়তা সাধারণত ‘ইন কাইন্ড সাপোর্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং তা সুবিধার পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ২০২৪ সালের সংস্কারের পর খাবার আর এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসএসএর বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, অন্য কেউ ভাড়া, মর্টগেজ বা ইউটিলিটি বিলের মতো থাকার খরচে সহায়তা করলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসএসআই পেমেন্ট কমতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সমালোচকেরা বলছেন, একই পরিবারের সদস্যরা যখন নিজেদের জীবনযাপন চালাতেই সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তখন তাদের সহায়তাকে এসএসআই গ্রহীতার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী তরুণ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। এসএসএর নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনায় এটিকে প্রস্তাবিত নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি কীভাবে চূড়ান্ত হবে এবং শেষ পর্যন্ত এসএসআই গ্রহীতাদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এদিকে এসএসএর বর্তমান নিয়মে স্ন্যাপ সুবিধা এখনও পাবলিক অ্যাসিস্ট্যান্স হাউসহোল্ডের একটি স্বীকৃত কর্মসূচি হিসেবে রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য এসএসআই গ্রহীতারা এই সুরক্ষা পেতে থাকবেন।
ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্র নাগরিকত্ব নীতিতে কোন কোন দেশের মানুষ বেশি চাপে? বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ডালাস বিমানবন্দরে ওজু নিয়ে বিতর্ক, মুসলিম রিপোর্টারকে সাধারণ বেসিনেই পা ধোয়ার নির্দেশ কর্মীদের
অবৈধ অভিবাসীদের কর সুবিধা দাবি ঠেকাতে আইআরএসের নতুন পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলোতে শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক সহকারী, স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ থাকে। বেশিরভাগ ডিস্ট্রিক্টের নিজস্ব চাকরির পেজ বা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলেও স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, অভিভাবক সমন্বয়কসহ বিভিন্ন স্কুলভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরি খুঁজতে প্রথমে যে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে কাজ করতে চান, সেটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। গুগলে শহর বা কাউন্টির নামের সঙ্গে ‘স্কুল ডিস্ট্রিক্ট চাকরি’ অথবা ডিস্ট্রিক্টের নামের সঙ্গে ‘চাকরি’ লিখে খুঁজলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির পেজ পাওয়া যায়। তবে আবেদন করার আগে ওয়েবসাইটটি যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘চাকরি’, ‘নিয়োগ’, ‘মানবসম্পদ’ বা ‘চাকরির সুযোগ’ ধরনের বিভাগ খুঁজতে হবে। এরপর ‘বর্তমান শূন্যপদ’, ‘চাকরি খুঁজুন’ বা ‘আবেদন করুন’ অপশনে গিয়ে খালি পদগুলো দেখা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু শিক্ষক পদে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতার লাইসেন্স না থাকলেও অনেক ডিস্ট্রিক্টে বিভিন্ন সহায়ক পদে আবেদন করা যায়। যেমন স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, বিকল্প শিক্ষক, অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী, ক্যাফেটেরিয়া কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মীর পদ থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলের চাকরির তালিকায় শিক্ষক ও স্কুল প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য স্কুলভিত্তিক চাকরির আলাদা বিভাগও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে স্কুল সহকারী, পরিবারবিষয়ক কর্মী ও অভিভাবক সমন্বয়কের মতো পদও পাওয়া যায়। চাকরির বিজ্ঞপ্তি খোলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যোগ্যতার শর্ত পড়া। সেখানে সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স বা সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকে। কিছু পদে বিশেষ পেশাগত লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হলেও সব স্কুলের চাকরিতে শিক্ষকতার লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না। যোগ্যতা মিলে গেলে ‘আবেদন করুন’ অপশনে ক্লিক করে অনলাইন আবেদন শুরু করতে হবে। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্ট নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, আবার কেউ অন্য নিয়োগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদন করার সময় সাধারণত একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয় এবং নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। জীবনবৃত্তান্ত বা রেজুমে আপলোড করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পদে আবেদনকারীর কাছ থেকে কভার লেটার, শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। শুধু রেজুমে জমা দিলেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক ডিস্ট্রিক্টে অনলাইন ফর্মের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শেষে আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন করার আগে কাজের অভিজ্ঞতার তথ্য রেজুমের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, অফিস পরিচালনা, কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা বা সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। আবেদনের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের প্রকৃত কর্মসংস্থান ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য অনুমান করে বা ভুলভাবে দেওয়া উচিত নয়। স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরির ক্ষেত্রে অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাইও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করা পদে নিয়োগের আগে অতিরিক্ত যাচাই বা আঙুলের ছাপ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। নির্দিষ্ট পদে কী ধরনের যাচাই লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের চাকরির বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ নির্দেশনায় উল্লেখ থাকে। কিছু ডিস্ট্রিক্টে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পর একই প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিক চাকরিতে আবেদন করা যায়। ফলে প্রথমবার আবেদন করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা ও রেজুমে ভালোভাবে প্রস্তুত করে রাখলে পরবর্তী পদগুলোতে আবেদন করা তুলনামূলক সহজ হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সেখানেই শেষ নয়। অনেক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের অনলাইন পোর্টালে আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। কোথাও আবার ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের খবর দেওয়া হয়। তাই আবেদন করার পর নিয়মিত ই-মেইল এবং অপ্রয়োজনীয় মেইলের ফোল্ডারও দেখা জরুরি। ডালাসের মতো বড় স্কুল ডিস্ট্রিক্টে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি চাকরির মেলা ও নিয়োগ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। সেখানে চাকরিপ্রার্থীরা রেজুমে ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার প্রমাণ নিয়ে সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেতে পারেন। যারা শিক্ষক নন বা যাদের শিক্ষকতার লাইসেন্স নেই, তাদের জন্য স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সহায়ক কর্মী, অশিক্ষক পদ, স্কুলভিত্তিক পদ, প্রশাসনিক পদ, শ্রেণিকক্ষ সহকারী বা অন্যান্য কর্মী বিভাগের চাকরিগুলো বিশেষভাবে দেখা যেতে পারে। এসব বিভাগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী, অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদ থাকতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। সব স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিয়োগের নিয়ম এক নয়। শিক্ষক, কাউন্সেলর, নার্স বা বিশেষায়িত পেশার ক্ষেত্রে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স বা সনদ প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট পদের যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ডিস্ট্রিক্টে চাকরি খোঁজার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের এলাকার পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সরকারি ওয়েবসাইট খুঁজে বের করা, চাকরির বিভাগে গিয়ে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল আছে এমন পদ বেছে নেওয়া, যোগ্যতার শর্ত পড়া, রেজুমে ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইনে আবেদন সম্পূর্ণভাবে জমা দেওয়া। শুধু শিক্ষক পদ খুঁজলে অনেক চাকরির সুযোগ চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী স্কুল সহকারী, শ্রেণিকক্ষ সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, অফিস কর্মী, বিকল্প শিক্ষক, পরিবারবিষয়ক কর্মী এবং অন্যান্য সহায়ক পদও খুঁজে দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরের সাশ্রয়ী মূল্যের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকি? গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ির চাহিদা থাকলেও কমছে নির্মাণ, আবাসন সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা