যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার জেরে ঘটা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ এবং ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালিফোর্নিয়ার মাডেরা কাউন্টির একটি মোড়ে, যেখানে দ্রুতগতির একটি শেভ্রোলেট (শেভি) গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে একটি জিপকে। সামান্য একটি ভুলের কারণে দুটি তরতাজা প্রাণের অকাল প্রয়াণে স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১৮ বছর বয়সী এসমেরালদা মার্সেলা গুতেরেজ তার শেভি মালিবু গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি রাস্তার একটি 'স্টপ সাইন' বা থামার সংকেত অমান্য করে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলে অপর দিক থেকে আসা একটি জিপ গাড়ির সাথে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই চালক গুতেরেজ প্রাণ হারান। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন তার পরিচয় প্রকাশ করে। গুতেরেজের গাড়িতে থাকা ২১ বছর বয়সী আরেক যাত্রী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত জিপটিতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী তরুণ ববি ক্রিয়েডো। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারলিফটের মাধ্যমে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা পরিবারকে আগেই জানিয়েছিলেন যে, তার আঘাত এতটাই গভীর যে সেখান থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
টানা কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ববি। ওই জিপটিতে থাকা ২৫ বছর বয়সী চালক এবং ১০ বছর বয়সী এক শিশুও আহত হয়েছে, যাদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানা গেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দুই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে তীব্র শোক ও হতাশা বিরাজ করছে। ববি ক্রিয়েডো যখন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন গত বৃহস্পতিবার উভয় হতাহতের স্মরণে একটি শোকসভা বা মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়। ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে মুহূর্তের ভুলে ঘটে যাওয়া এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত ও পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেখা মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে এলেন নারায়ণগঞ্জের এই সাবেক দাপুটে নেতা। তার আকস্মিক উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক নেহের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম ওসমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উদাসী ভঙ্গিতে ধূমপান করছেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের আড়ালে থাকা এই নেতার এমন ভিন্ন রূপের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ ছাড়ার পর গত দুই বছর তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা যায়। ওই ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তিনি। পতিত সরকারের একজন পলাতক ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্যের এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জ্যাকসনে মা, খালা এবং দুই বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী এই মামলায় মোট চারজনকে আটক করা হলো। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্যাকসন পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, সর্বশেষ সন্দেহভাজনকে টেক্সাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্যাপিটাল মার্ডার বা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হত্যার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তার পরিচয় প্রকাশ্যে আনছে না পুলিশ। গত শনিবার রাতে জ্যাকসনের একটি বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সী কিয়ানা ওয়েদারসবি, তার দুই বছর বয়সী ছেলে কামারি গিভেন্স এবং ৩০ বছর বয়সী বোন এরিকা ওয়েদারসবির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী মিকাইলা ইয়াং এবং কর্নেলিয়াস কার্টার ও জর্ডান কার্টার নামের আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধেই ক্যাপিটাল মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত কাউকেই জামিন দেয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত দুই পুরুষেরই দীর্ঘ ও ভয়ংকর অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। জর্ডান কার্টারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপহরণ ও গাড়ি ছিনতাইয়ের মামলা ছিল। অন্যদিকে, ঘটনার সময় আদালতের নির্দেশে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল মনিটর পরা অবস্থায় ছিল কর্নেলিয়াস কার্টার। পুলিশ প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন বা এলোমেলো ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলা। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলতে রাজি হয়নি পুলিশ। জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে নিহত দুই বোনের ভাই ডেমার্কো বেইলি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে তার পরিবার ও ছোট্ট ভাগ্নের হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তিনি জানান, তার দুই বোন অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং মিলেমিশে শিশুটিকে বড় করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে ফেডারেল সংস্থা ও এফবিআই। পুলিশ একটি সন্দেহজনক গাড়ির সূত্র ধরে প্রথম দুই সন্দেহভাজনকে আটকের সময় বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে, যা বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও নিহতদের একটি নিখোঁজ গাড়ি পরদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। জ্যাকসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরে সম্প্রতি বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩৮টিই বন্দুক হামলার ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহর কর্তৃপক্ষ বিশেষ দল গঠন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুল অস্ত্রোপচারে এক রোগীর মৃত্যুর পর মেডিকেল লাইসেন্স হারানো এক নারী প্লাস্টিক সার্জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী সারওয়া আলদুরি নামের ওই চিকিৎসকের মৃতদেহ একটি বাড়ির পেছনের সুইমিংপুল থেকে উদ্ধার করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কার্ন কাউন্টি করোনার মৃতদেহটি শনাক্ত করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেজিইটি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেকার্সফিল্ডের পাইনগ্লেন ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়ি থেকে আলদুরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বেকার্সফিল্ড পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এই মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি উদ্ঘাটনে তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে। কীভাবে তিনি সুইমিংপুলে মারা গেলেন বা এটি কোনো দুর্ঘটনা কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সারওয়া আলদুরি প্রায় ৩৫ বছর ধরে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তিনি বেকার্সফিল্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘বেলা হেলথ অ্যান্ড বিউটি’ নামের একটি প্লাস্টিক সার্জারি ক্লিনিকে কর্মরত দুজন চিকিৎসকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। মূলত নারীদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং কসমেটিক সার্জারির বিষয়ে তার বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তবে তার ক্যারিয়ারের শেষ দিকটা ছিল চরম বিতর্কে ঘেরা। ভুল কসমেটিক সার্জারির কারণে এক রোগীর মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়া মেডিকেল বোর্ডের নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর প্রথমে তাকে সাত বছরের জন্য নজরদারিতে (প্রবেশন) রাখা হয়। কিন্তু সেই নজরদারির শর্তগুলো ঠিকমতো পালন না করার অভিযোগ উঠলে অবশেষে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি বাধ্য হয়ে নিজের মেডিকেল লাইসেন্স সমর্পণ করেন। ক্যারিয়ারের এমন চরম পতনের পরপরই তার এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয় জনমনে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।