সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মার্কিন নাগরিক চার সন্তানকে রেখে ৩০ বছর পর চোখের জলে বিদায় নিলেন অভিবাসী মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ১৩:৮
বিমানবন্দরে আবেগঘন বিদায়—মার্কিন নাগরিক সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছেন অভিবাসী মা I ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরে আবেগঘন বিদায়—মার্কিন নাগরিক সন্তানকে জড়িয়ে ধরেছেন অভিবাসী মা I ছবি: সংগৃহীত

প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে হলো গুয়াতেমালার নাগরিক ওলগা পেরেজকে। সোমবার ফ্লোরিডা থেকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে আসা পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিশেষ করে তার চার মার্কিন নাগরিক সন্তানের অশ্রুসিক্ত বিদায়ের দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতির মানবিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওলগা পেরেজ প্রায় ৩০ বছর ধরে দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বসবাস করছিলেন। এই সময়ে তিনি চার সন্তানের জননী হন। তার সন্তানরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়ায় মার্কিন নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় আদিবাসী গুয়াতেমালান সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং ‘মাম’ ভাষার দোভাষী হিসেবে আদালত, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সহায়তা দিয়েছেন।

 

গত বছরের শেষ দিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে অ্যারিজোনার একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়। কয়েক মাস ধরে আইনি লড়াই চললেও শেষ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধ সুযোগ পাননি। পরবর্তীতে জোরপূর্বক বহিষ্কারের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় গুয়াতেমালায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

বিদায়ের আগে বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত কাটান ওলগা পেরেজ। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। উপস্থিত স্বজন ও সহকর্মীরাও তাকে বিদায় জানাতে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়াতেমালায় পৌঁছে প্রথমে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অবস্থান করবেন ওলগা পেরেজ। পরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করবেন। তার সন্তানরা সুযোগ হলে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গুয়াতেমালায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

 

এর আগে চলতি বছর তার স্বামীও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হন। ফলে পরিবারের দুই অভিভাবকই এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর চার সন্তানকে দেশেই থেকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে।

 

অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, ওলগা পেরেজের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো ‘মিশ্র-অভিবাসন’ পরিবারের বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। এসব পরিবারের সন্তানরা মার্কিন নাগরিক হলেও বাবা বা মায়ের অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পাম বিচ পোস্টের প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিদায়ের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে ভার্জিনিয়ার পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ার মেজবানে যোগ দিতে পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান, এয়ারপোর্টে অপেক্ষার ছবি ফেসবুকে

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে যোগ দিতে ভার্জিনিয়ার পথে রয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান ও প্রতীক হাসান। নিউইয়র্কের LaGuardia Airport-এর লবিতে অপেক্ষারত অবস্থায় দুই শিল্পীর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   প্রতীক হাসান তার ফেসবুক পোস্টে নকীব খানের সঙ্গে তোলা ছবিটি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে দুজনকে এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। তারা নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রয়েছেন।   আগামীকাল ২৩ আগস্ট, রোববার, ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার Fort Hunt Park-এর Shelter A-001-এ অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।   আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। তার সঙ্গে মঞ্চে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় নকীব খানের এই লাইভ পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন গেমস এবং র‍্যাফেল ড্র। র‍্যাফেল ড্রতে হীরার আংটি, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   বাইটপোর প্রেসিডেন্ট সামছুদ্দীন মাহমুদ ও ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর স্যাম রিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের আয়োজনকে আগের বছরের তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে এটি একটি বড় কমিউনিটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।   এদিকে শিল্পীদের আগমন উপলক্ষে আজ শনিবার বিকেলে ভার্জিনিয়ার উডব্রিজে একটি বিশেষ মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আয়োজক, স্পন্সর ও শিল্পীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।   চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবারের স্বাদ, দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের সরাসরি সংগীত পরিবেশনা এবং নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলিয়ে এবারের মেজবানকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৩:০
মার্কিন তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে পুনঃএকীভূত হওয়ার পথ সুগম হবে সিরিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর সেখানেই কম খরচে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিলেন এক ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

টাকা বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রেই বাবার শেষকৃত্য, চার বছর পর আফসোস ‘কেন তাকে দেশে নিয়ে যেতে পারলাম না’

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রিই একমাত্র পথ নয়। ছবি: সংগৃহীত

৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে

নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই শুরু হতে পারে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া

ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু আবার শুরু হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। শুক্রবার নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা স্থগিত নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।   ম্যানহাটনের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট জজ জেনেট ভার্গাসের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ক্ষেত্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালত আরও বলেছে, এই নীতি ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা এসব দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রসেসিং কার্যত অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে যায়।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত ‘পাবলিক চার্জ’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছিল। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর কোনো আবেদনকারী সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটিকে নীতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।   এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যাথলিক লিগাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, ইএনসি ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভিসা আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলাটির নাম ক্লিনিক বনাম রুবিও।   শুক্রবারের রায়ে আদালত শুধু ৭৫ দেশের ওপর ভিসা স্থগিতের নীতিই বাতিল করেনি, এই নীতির ভিত্তিতে যেসব ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টকে ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভিসা আবেদনগুলো আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে, অর্থাৎ কেস -বাই-কেস ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে।   তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের অন্যান্য সব ইমিগ্রেশন ও ভিসা সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করবেন।   এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না, অথবা রায় স্থগিত রাখার জন্য উচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে ভিসা ইস্যু কত দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে।   শুক্রবারের রায়ের পর শনিবার সকাল পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্য কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু এখনই শুরু হয়েছে বলা যাচ্ছে না।   মামলাটির বাদীপক্ষের আইনজীবী ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল জানিয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের জন্য আবার আইন অনুযায়ী পৃথকভাবে ভিসা আবেদন পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্যও এই রায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ইন্টারভিউ দিয়েছেন, ভিসা ইস্যুর অপেক্ষায় রয়েছেন অথবা শুধুমাত্র ৭৫ দেশের স্থগিত নীতির কারণে ভিসা পাননি, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   তবে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের এখনই নতুন করে আবেদন করার আগে বা কোনো অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে নিজেদের কেসের সর্বশেষ স্ট্যাটাস এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের রায় কার্যকর করার বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে তখন স্পষ্ট হবে কোন আবেদন কীভাবে আবার প্রসেস করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ১১:১০
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পেয়েছেন এক বাংলাদেশি তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসে ডিগ্রি বা দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা ছাড়াও কিছু নির্দিষ্ট পেশায় প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য তুলনামূলক সহজে শুরু করা যায় ১০টি চাকরি

আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কামালকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রেখেছে এফবিআই। ছবি: সংগৃহীত

এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় কামাল, চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ইসরায়েল ডেল তোরো জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত
৮০ শতাংশ শরীর পুড়ে ১৫ শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা, তবুও হাল ছাড়েননি মার্কিন সেনা

২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য ইসরায়েল ‘ডিটি’ ডেল তোরো জুনিয়র। তার গাড়ি একটি পুঁতে রাখা বিস্ফোরক ডিভাইসের ওপর উঠে বিস্ফোরিত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৮০ শতাংশের বেশি তৃতীয় মাত্রার দগ্ধ হয় এবং দুই হাতও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ বলে জানিয়েছিলেন।    বিস্ফোরণের পর প্রায় তিন মাস কোমায় ছিলেন ডেল তোরো। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে তাকে সুস্থ হতে হয়। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তার চিকিৎসায় ১০০টির বেশি অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে বা নিজে শ্বাস নিতে পারবেন না বলেও আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেন।    শারীরিকভাবে গুরুতরভাবে অক্ষম হয়ে পড়ার পরও ডেল তোরোর লড়াই সেখানেই শেষ হয়নি। তাকে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পথে যেতে বলা হলেও তিনি আবার দায়িত্বে ফিরতে চেয়েছিলেন। প্রায় চার বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি মার্কিন বিমানবাহিনীতে পুনরায় যোগ দেন।   এর মাধ্যমে ডেল তোরো মার্কিন বিমানবাহিনীর ইতিহাসে ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হিসেবে পুনরায় সক্রিয় দায়িত্বে যোগ দেওয়া প্রথম সদস্য হন। এরপর তিনি তরুণ বিমানসেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করেন এবং পরে বিমানবাহিনীর প্যারাশুট দলের সঙ্গেও যুক্ত হন।    সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন তিনি। ২০১৬ সালের ইনভিক্টাস গেমসে শটপুটে স্বর্ণপদক জেতেন ডেল তোরো। আহত ও অসুস্থ সাবেক সেনাদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার অংশগ্রহণ পুনর্বাসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে।    ২০১৭ সালে তার অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইএসপিওয়াই অ্যাওয়ার্ডসে প্যাট টিলম্যান অ্যাওয়ার্ড ফর সার্ভিস লাভ করেন।    ২০১৯ সালে সিনিয়র মাস্টার সার্জেন্ট পদে মার্কিন বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেন ডেল তোরো। আফগানিস্তানের সেই বিস্ফোরণের পর চিকিৎসকেরা যেখানে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১৫ শতাংশ বলেছিলেন, সেখান থেকে তিনি শুধু জীবন ফিরে পাননি, আবার সামরিক দায়িত্বে ফিরেও ইতিহাস তৈরি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৯:৫৭
ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে অ্যালবিউটেরল ইনহেলার দেওয়ার উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি স্কুলে বিনামূল্যে ইনহেলার দেবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির হজকিন লিম্ফোমায় আক্রান্ত তরুণী আলায়না রিওজি-বোডাইন। ছবি: সংগৃহীত

পর পর দুইবার ক্যানসার জয় করে দুই বছর ধরে সুস্থ কিশোরী, এখন হতে চান শিশু ক্যানসার নার্স

টেক্সাসে বিরল জুভেনাইল মায়েলোমোনোসাইটিক লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু জাহস বোগান। ছবি: সংগৃহীত

লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত ভাইকে বাঁচাতে অস্থিমজ্জা দিল ৫ বছরের শিশু

0 Comments