যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত লাগুনা বিচের একটি পার্কিং লট থেকে প্রায় ২৫ ফুট নিচে ছিটকে পড়ে ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৯ মিনিটের দিকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। লাগুনা বিচ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উল্টে যাওয়া গাড়িটি থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই নারী পার্কিং লট দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর গাড়িটি ফুটপাতের কিনারা (কার্ব) ও ল্যান্ডস্কেপড এলাকা অতিক্রম করে একটি বেড়া ভেঙে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু বাঁধ থেকে নিচে পড়ে যায়। নিচে পড়ার সময় গাড়িটি শূন্যে উল্টে যায় এবং ফুটপাতের ওপর ছাদ বরাবর সজোরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ওই নারী একাই ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মিশন ভিয়েহোর (Mission Viejo) মিশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পুলিশ এখনো ওই নিহতের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
ভয়ংকর ওই একই পার্কিং লটে এক বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে জেমস পলিটোস্কি নামের ৬৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সেখানে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে সময় তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে গাড়ি চালানো শিখছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় কিশোরী মেয়েটি সম্ভবত ভুল প্যাডেলে চাপ দেওয়ার কারণেই সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। একই স্থানে পরপর এমন দুটি প্রাণহানির ঘটনায় পার্কিং লটটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিলাসবহুল উপকূলীয় এলাকা হাম্পটনস-এ বাড়ির দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সীমিত সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে থাকা, ধনীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াল স্ট্রিটের উচ্চ বোনাসের প্রভাবে অঞ্চলটিতে আবাসন বাজারের মূল্য আরও বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক আবাসন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাম্পটনসে একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য এখন প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গড় মূল্য ৪০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনটির প্রস্তুতকারী জনাথন মিলার বলেন, বাজারে কিছু নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য এলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র রয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে। তার ভাষায়, "বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ধারা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।" হাম্পটনসকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এই এলাকায় এখন ১৫ লাখ ডলারের কম দামে কার্যত কোনো বাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন অবস্থান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং নিউইয়র্ক শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় বহু বছর ধরেই ধনী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও হলিউড তারকাদের পছন্দের ঠিকানা এটি। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, চলতি প্রান্তিকে হাম্পটনসের মধ্যম বাড়ির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ প্রান্তিকের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে হাম্পটনসের বাইরে লং আইল্যান্ডের বাকি অংশেও বাড়ির দাম বাড়ছে, যদিও সেই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য গত বছরের ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গড় বিক্রয়মূল্যও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ২২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, হাম্পটনসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে ওয়াল স্ট্রিটের রেকর্ড পরিমাণ বোনাস। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওয়াল স্ট্রিট প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে কর্মীদের গড় বার্ষিক বোনাস বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ফলে উচ্চ আয়ের ক্রেতারা এখন প্রচলিত গৃহঋণের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজারে অর্জিত সম্পদ এবং বোনাসের অর্থ ব্যবহার করে বাড়ি কিনছেন। এতে বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাম্পটনসে গত প্রান্তিকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি বিক্রির হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে লং আইল্যান্ডজুড়ে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটির মধ্যে একটিরও বেশি বাড়ি বিক্রেতার চাওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে শক্তিশালী চাহিদারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন আবাসনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়বে, ততদিন হাম্পটনসের আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যসহ পুরো দেশজুড়ে আবাসন খাতে কর্পোরেট মালিকানা হ্রাসের লক্ষ্যে সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনকের একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল আইনে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার ওয়ারনক ঘোষণা করেন, বৃহৎ প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর একক পরিবারের ব্যবহারের উপযোগী বা 'সিঙ্গেল-ফ্যামিলি' বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার এই বিধানটি কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়াই বৃহত্তর দ্বিদলীয় এই আবাসন প্যাকেজটি আইনে পরিণত হয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে স্বাক্ষর বা ভেটো প্রদান না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনটি '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফেডারেল আবাসন সংস্কার প্যাকেজ বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা। এই আইনে আবাসনের সরবরাহ বৃদ্ধি, মূল্যায়ন বা অ্যাপ্রাইজাল প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ আবাসন কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় সরকারগুলোকে উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক বিবৃতিতে ওয়ারনক বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনের সংকটের সমাধানে জর্জিয়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে আসছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির বদলে যখন সাধারণ মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখনই এ ধরনের ভালো ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা সম্ভব। জর্জিয়ার আবাসন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পটভূমিতেই নতুন এই আইনটি পাস হলো। সিবিএস নিউজ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রো আটলান্টার প্রতি চারটি ভাড়া দেওয়া সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মালিকানা বৃহৎ কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের হাতে। সংখ্যায় যা ৭২ হাজারের বেশি বাড়ি। এর ফলে এই অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানার আধিক্য দেখা যায়। আবাসন অধিকারকর্মীরা দাবি করে আসছিলেন যে, নগদ অর্থের জোরে এসব কোম্পানি সাধারণ পরিবারগুলোকে পেছনে ফেলে বাড়ি কিনে নেয়, যা প্রথমবার ক্রেতাদের জন্য সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ও ভাড়ার দাম বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা তুলে ধরে ওয়ারনক বারবার বলেছেন, কর্পোরেট বিনিয়োগকারীরা বাড়িগুলোকে মানুষের বসবাসের জায়গার বদলে কেবল একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করে আসছেন। প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ভবিষ্যতের বাড়ি ক্রয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি এই আবাসন প্যাকেজে স্থানীয় সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বাড়ি নির্মাণে উৎসাহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো, বাড়ি মেরামত ও আবহাওয়া-উপযোগী করার জন্য অনুদান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ফেডারেল আবাসন কর্মসূচির সংস্কারের বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আইনে ওয়ারনকের 'অ্যাপ্রাইজাল মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট'-ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা বাড়ির মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেট্রো আটলান্টায় ক্রমবর্ধমান দাম ও আবাসনের অপর্যাপ্ততার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার আবাসন বাজারে দীর্ঘমেয়াদে এই আইনের প্রভাব কী হবে, তা এখনো দেখার বিষয়। তবে দেশজুড়ে সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রভাব মোকাবিলায় এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি ফেডারেল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোতে ছুটি কাটাতে গিয়ে রীতিমতো চমকে উঠেছে একটি পরিবার। জীবনে প্রথমবারের মতো একটি 'এয়ারবিএনবি' (Airbnb) ভাড়া করে ভেতরে প্রবেশ করতেই তারা দেখতে পান, বাড়ির দেয়ালে ঝোলানো একটি ফ্রেমে বাঁধানো ছবিতে তাদেরই সমুদ্রসৈকতে কাটানো পুরোনো এক মুহূর্তের দৃশ্য জ্বলজ্বল করছে। প্রায় এক দশক আগের সেই ছবি সম্পূর্ণ অচেনা একটি বাড়িতে দেখতে পেয়ে মুহূর্তেই তাদের আনন্দের ছুটি এক পরাবাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়। পুরো ঘটনাটি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ওই পরিবারের দুই বোন, যা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে। ভিডিওতে তারা জানান, অবকাশ যাপনের জন্য ভাড়া করা ওই বাড়ির দেয়ালে থাকা একটি ছবি হঠাৎ তাদের নজর কাড়ে। কিছুটা কাছে গিয়ে ভালো করে খেয়াল করতেই তারা বুঝতে পারেন, ছবিতে থাকা মানুষগুলো আসলে তারা নিজেরাই। প্রায় ১০ বছর আগে সমুদ্রসৈকতে কাটানো তাদেরই একটি মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছিল সেখানে। ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রথমে নিজেদেরই কিছুটা সন্দেহ হলেও, পরে চেহারার মিল এবং সৈকতে পরা সেসময়ের সাঁতারের পোশাক (বাথিং স্যুট) মিলিয়ে তারা নিশ্চিত হন যে এটি তাদেরই ছবি। জীবনে প্রথমবারের মতো চেক-ইন করা সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি বাড়িতে নিজেদের পুরোনো ছবি এভাবে আবিষ্কার করার বিষয়টি তাদের চরম বিস্ময়ে ফেলে দেয়। ভিডিওতে এক বোন স্বীকার করেন, এমন অবিশ্বাস্য ও কাকতালীয় ঘটনায় তারা আক্ষরিক অর্থেই হতবাক বা 'স্পাইরালিং' অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন। সম্পূর্ণ অচেনা এক জায়গায় নিজেদের অতীত স্মৃতি এভাবে ফিরে পাওয়ার ঘটনাটি ইন্টারনেট দুনিয়াতেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এবং নেটিজেনদের দারুণভাবে অবাক করেছে।