একই এলাকায় বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত ৬ শিশু, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগে তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহর
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টির একটি সমৃদ্ধ আবাসিক এলাকায় বিরল ধরনের অস্থি ও নরম টিস্যুর ক্যানসার ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত হয়েছে অন্তত ছয়জন শিশু। এলাকাটির নাম লাদেরা র্যাঞ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবছর এ ধরনের ক্যানসারে মাত্র ২০০ থেকে ২৪০ জন শিশু আক্রান্ত হয়। তাই একই এলাকায় এতগুলো শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকাজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক মাত্রায় কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের নিজস্ব অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শুধু চলতি বছরের জুন মাসেই এলাকায় ১৭ ধরনের কীটনাশক ও আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই এসব রাসায়নিক ছিটানো হয়েছে।
একজন বাসিন্দা ও আইনজীবী জ্যাকি ফ্রেঞ্চ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্তদের তথ্য জানতে চাওয়ার পর ৬০টিরও বেশি পরিবার বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের তথ্য জানিয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং এটিকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ক্যানসারের অস্বাভাবিক প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
ফ্রেঞ্চ বলেন, “আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না কী কারণে এমন হচ্ছে। তবে আমাদের এলাকায় বিরল ক্যানসারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে মনে হচ্ছে।”
অতীতে শিশুদের কিছু ক্যানসারের সঙ্গে কীটনাশকের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে ইউইং সারকোমার সঙ্গে কীটনাশকের সরাসরি সম্পর্ক এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ক্যানসার রেজিস্ট্রি এবং অরেঞ্জ কাউন্টি স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, লাদেরা র্যাঞ্চের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ব্যবহৃত কীটনাশকের সঙ্গে ক্যানসারের কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই। তবে বাসিন্দাদের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে কীটনাশক ব্যবহারের নীতিমালা পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
পরিবেশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ব্রুস ব্লামবার্গের মতে, “আমি যদি ওই এলাকায় একজন অভিভাবক হতাম, তাহলে কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধের দাবি জানাতাম। শুধু সৌন্দর্য রক্ষার জন্য মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিতে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা খাতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ গবেষকদের কানাডায় নিয়ে যাচ্ছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কানাডার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে ৬৪ জন গবেষক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কানাডায় যাচ্ছেন। এ তালিকায় হার্ভার্ড, ইয়েল ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষকরাও রয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা খাতে সরকারি অর্থায়ন কমে যাওয়া, অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরোধ। এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক অঙ্গনে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিকে নিজেদের গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছে কানাডা। নতুন নিয়োগ পাওয়া ৬৪ গবেষকের মধ্যে বাকি ১৬ জন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আরও ১২টি দেশ থেকে কানাডায় যাচ্ছেন। তাদের গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান, জীবচিকিৎসা, প্রোটিনবিজ্ঞান, জলবায়ু ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এই গবেষকদের কানাডায় আনার জন্য দেশটির সরকার প্রথম ধাপে প্রায় ৫০ কোটি ৪০ লাখ কানাডিয়ান ডলার অর্থায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সরকার গত বছর ১২ বছরে ১৭০ কোটি কানাডিয়ান ডলার ব্যয়ে এক হাজারের বেশি গবেষক নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। এবারের নিয়োগ সেই বৃহৎ উদ্যোগের প্রথম ধাপ। কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জলি ভ্যানকুভারে নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, কিছু দেশ যখন গবেষণায় অর্থ কমাচ্ছে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা থেকে সরে যাচ্ছে, তখন কানাডা বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও বিনিয়োগ করছে। কানাডায় যাওয়া গবেষকদের মধ্যে কয়েকজন নিজ দেশের নাগরিকও রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার পর দেশে ফিরছেন। ফলে এই উদ্যোগ শুধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে গবেষক সরিয়ে নেওয়া নয়, বিদেশে থাকা কানাডীয় গবেষকদের দেশে ফেরানোরও একটি বড় প্রচেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক খাতে সাম্প্রতিক সময়ে গবেষণা অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, সরকারি অর্থায়ন ও নীতিগত স্থিতিশীলতা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জীবপ্রযুক্তি, জলবায়ু গবেষণা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে দক্ষ গবেষক হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, কানাডা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। নতুন গবেষকদের সঙ্গে তাদের গবেষণাগার, গবেষণা দল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এই নিয়োগের প্রভাব শুধু কয়েক ডজন গবেষকের চাকরি পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কানাডার গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্পের আমলে আইসিইর রেকর্ড গ্রেপ্তার, অর্ধেকের বেশি অভিবাসীর নেই অপরাধের রেকর্ড
মিস ইউএসএ জিতে ইতিহাস গড়লেন ভার্জিনিয়ার ৩১ বছরের দুই সন্তানের মা
গোপন তথ্য পাচারের দায় স্বীকার সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার
ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের মালিকানায় অংশীদারত্ব নিতে দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র থাকতে পারে, যেখানে প্রমাণিত মজুত রয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়টি ভেনেজুয়েলার পুরো প্রমাণিত তেল মজুত নিয়ে নয়। দেশটির মোট প্রমাণিত তেল মজুত প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল হলেও সম্ভাব্য চুক্তিতে এক ডজনের বেশি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্ভাব্য ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র এসব তেলক্ষেত্রে মালিকানার অংশ পাবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত তেল রাজস্ব তৈরি হবে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের আয় বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারও আলোচনায় যুক্ত রয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার জনগণ উপকৃত হবে, এমন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দেশটির ভেতরে সমালোচনার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ কারণে সম্ভাব্য ব্যবস্থাটির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে রাখতে চাইছে মার্কিন প্রশাসন। তবে চূড়ান্ত চুক্তি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানা যায়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলা সফর করতে পারেন। সেখানে দেশটির তেল উৎপাদন বাড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে নানা কারণে চাপ তৈরি হওয়ার সময়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুতও চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দেশটির তেল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে জ্বালানি ও পররাষ্ট্রনীতির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মগুলোর জন্য পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের যুদ্ধের কারণে তৈরি মূল্যচাপ কমানো। এরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে পুনর্গঠনে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো যুক্ত হয়েছে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির তেল খাত নিয়ে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে এবং দেশটির জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার জন্য কাজ করছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নিখোঁজ টেক্সাসের দম্পতি, উৎকণ্ঠায় দুই মেয়ে
নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে
যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য
মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একজনের মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুল সম্পদের মালিক জাকারবার্গ কেন এমন একজন নারীকে বিয়ে করেছেন, যাকে তার কাছে ‘সাধারণ চেহারার’ মনে হয়েছে। তবে মন্তব্যটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যানের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অনেক আগেই। তাদের সম্পর্কের শুরুতে দুজনই ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জাকারবার্গ ও চ্যানের পরিচয় ২০০৩ সালে। তখন দুজনেই হার্ভার্ডে পড়াশোনা করছিলেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সে সময় ফেসবুকও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ জাকারবার্গের বর্তমান বিপুল সম্পদ, খ্যাতি কিংবা প্রযুক্তি ব্যবসার বিশাল সাফল্য তাদের সম্পর্কের শুরুতে কোনো বাস্তবতা ছিল না। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১২ সালের মে মাসে তারা বিয়ে করেন। এরপর তাদের পরিবারে তিন কন্যাসন্তান আসে। ২০২৩ সালে তাদের তৃতীয় কন্যা অরেলিয়া জন্ম নেয়। প্রিসিলা চ্যান নিজেও নিজের পেশাগত পরিচয় তৈরি করেছেন। তিনি একজন শিশু চিকিৎসক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক করার পর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ফ্রান্সিসকো থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় ডিগ্রি নেন এবং শিশু চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি জাকারবার্গের সঙ্গে চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহপ্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন। শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিনিয়োগ করা তাদের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। প্রিসিলা দীর্ঘদিন ধরেই শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে আসছেন। তিনি নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, কোনো মানুষের জীবনসঙ্গী বাছাইকে শুধু চেহারা বা সম্পদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা কতটা যুক্তিসঙ্গত। তাদের যুক্তি, জাকারবার্গ যখন প্রিসিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, তখন তিনি আজকের বিলিয়নিয়ার ছিলেন না। দুজনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, যখন ভবিষ্যৎ জীবন কেমন হবে, সেটিও তারা জানতেন না। অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী মন্তব্যটির জবাবে বলেন, মানুষের প্রতি আকর্ষণ বা ভালোবাসার মূল্যায়ন শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে করা যায় না। কারও জীবনসঙ্গীকে তার চেহারা দিয়ে বিচার করাও সম্পর্কের বাস্তবতাকে বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়। জাকারবার্গ ও চ্যানের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনও বিষয়টিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। ২০২২ সালে তাদের বিয়ের ১০ বছর পূর্তিতে জাকারবার্গ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রায় একই ভঙ্গিতে তোলা পুরোনো ও নতুন ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সেই সময়ও তাদের দীর্ঘ সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রিসিলার চেহারা নিয়ে মন্তব্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালে জাকারবার্গ তার স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তৈরি শিল্পী ড্যানিয়েল আরশামের একটি ভাস্কর্যের ছবি প্রকাশ করার পরও সেটি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও রসিকতা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনাতেও অনেকে প্রিসিলাকে শুধু ‘জাকারবার্গের স্ত্রী’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পেশাগত পরিচয় ও কাজের কথা সামনে আনেন। সব মিলিয়ে জাকারবার্গ ও প্রিসিলার সম্পর্কের গল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল সম্পদের শীর্ষে পৌঁছানোর আগে। সময়ের সঙ্গে জাকারবার্গের সম্পদ ও পরিচিতি ব্যাপকভাবে বদলেছে, কিন্তু তাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে রয়েছে। সূত্র: চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
গ্যারাজে রান্নার ব্যবস্থা করার আগে জানুন, পারমিট ছাড়া জরিমানার মুখে পড়তে পারেন মালিকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা