যুক্তরাষ্ট্রে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের পথ খুলে দেওয়ায় দেশটির প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকট আরও গভীর হতে পারে। এই খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী অভিবাসী হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের অনুমতি হারানোর আশঙ্কা রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি, পরিবার এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান—সবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও প্রবীণসেবা খাতের সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২৫ জুন হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা TPS বাতিলের সিদ্ধান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার আবেদন নাকচ করেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুরক্ষা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যদিও এ নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
TPS এমন একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর অস্থিতিশীলতার কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বসবাস ও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পান।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর হাইতির তিন লাখের বেশি TPS সুবিধাভোগীর বৈধ অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ ১০ জুলাই হাইতিয়ান TPS সুবিধাভোগীদের নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ সাময়িকভাবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতির মেয়াদও স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক সময়সীমা সংকটের স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুরক্ষা হারালে অনেক হাইতিয়ান কর্মীকে কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী এবং হোম কেয়ার কর্মীর চাকরি ছাড়তে হতে পারে। এতে আগে থেকেই জনবলসংকটে থাকা নার্সিং হোম, সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসনকেন্দ্র এবং বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়তে পারে।
স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৩ লাখ সরাসরি পরিচর্যাকর্মী প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি সেবা দিয়ে থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অভিবাসী। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় অভিবাসী কর্মীর হার আরও বেশি—প্রায় ৩৩ শতাংশ। নার্সিং প্রতিষ্ঠানে এ হার ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ শতাংশ।
অভিবাসী সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ হাইতিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ফিলিপাইন, জ্যামাইকা ও চীন থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এই খাতে কাজ করেন। নিউইয়র্কে সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই অভিবাসী, যা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
কেয়ারগিভাররা সাধারণত প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, পোশাক পরানো, চলাফেরায় সহায়তা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক রোগী ও প্রবীণ ব্যক্তির পক্ষে এসব সহায়তা ছাড়া নিজ বাড়িতে স্বাধীনভাবে থাকা সম্ভব হয় না।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার ওপরে। কিন্তু সেই হারে পরিচর্যাকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে কর্মী হারানোর যেকোনো ঘটনা সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় সংগঠন লিডিংএজ বলেছে, বিদেশে জন্ম নেওয়া কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। অভিজ্ঞ কর্মী হারালে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন রোগী ভর্তি সীমিত করা, সেবার পরিধি কমানো অথবা কর্মরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
ডেলাওয়ারে কর্মরত হাইতিয়ান-আমেরিকান লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল নার্স নিক্সন পিয়েরে-লুই দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, একজন কর্মী চলে গেলে তাঁর দায়িত্ব বাকি কর্মীদের বহন করতে হয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, রোগী এবং আগে থেকেই চাপে থাকা সহকর্মীদের ওপরও প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যা সময়মতো না পেলে রোগীর অসুস্থতা, সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
খাতটির সংকটের পেছনে শুধু অভিবাসননীতি নয়, কম বেতন ও কঠিন কর্মপরিবেশও বড় কারণ। কেএফএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বার্ষিক আয় ৩৫ হাজার ডলারের কম। প্রায় ৩৯ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন। অনেক প্রতিষ্ঠান Medicaid ও Medicare Advantage কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বেতন বাড়িয়েও কর্মী ধরে রাখতে পারে না।
সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয় ও আতিথেয়তা খাতের সঙ্গে কর্মীর জন্য প্রতিযোগিতা করতে হলেও প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। ফলে অভিজ্ঞ কেয়ারগিভার হারালে দ্রুত নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে।
হাইতির TPS মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটে এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ কারণে হাইতিয়ান কর্মী, তাঁদের পরিবার এবং নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা কাটেনি।
পরিস্থিতিটির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপরও পড়তে পারে। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা বা নার্সিং সেবার ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে সেবার অপেক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা রাজ্যভিত্তিক সনদধারী বাংলাদেশিদের জন্য কেয়ারগিভিং ও হোম কেয়ার খাতে কর্মীর চাহিদা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা প্রত্যাহারকে নতুন কর্মসংস্থানের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ বিপুলসংখ্যক কর্মী একসঙ্গে কাজ হারালে তাঁদের জায়গা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে সেই সব প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে, যাঁরা প্রতিদিনের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য কেয়ারগিভারদের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের পথ খুলে দেওয়ায় দেশটির প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকট আরও গভীর হতে পারে। এই খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী অভিবাসী হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের অনুমতি হারানোর আশঙ্কা রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি, পরিবার এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান—সবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও প্রবীণসেবা খাতের সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২৫ জুন হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা TPS বাতিলের সিদ্ধান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার আবেদন নাকচ করেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুরক্ষা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যদিও এ নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। TPS এমন একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর অস্থিতিশীলতার কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বসবাস ও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পান। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর হাইতির তিন লাখের বেশি TPS সুবিধাভোগীর বৈধ অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ ১০ জুলাই হাইতিয়ান TPS সুবিধাভোগীদের নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ সাময়িকভাবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতির মেয়াদও স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক সময়সীমা সংকটের স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুরক্ষা হারালে অনেক হাইতিয়ান কর্মীকে কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী এবং হোম কেয়ার কর্মীর চাকরি ছাড়তে হতে পারে। এতে আগে থেকেই জনবলসংকটে থাকা নার্সিং হোম, সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসনকেন্দ্র এবং বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৩ লাখ সরাসরি পরিচর্যাকর্মী প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি সেবা দিয়ে থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অভিবাসী। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় অভিবাসী কর্মীর হার আরও বেশি—প্রায় ৩৩ শতাংশ। নার্সিং প্রতিষ্ঠানে এ হার ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ শতাংশ। অভিবাসী সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ হাইতিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ফিলিপাইন, জ্যামাইকা ও চীন থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এই খাতে কাজ করেন। নিউইয়র্কে সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই অভিবাসী, যা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। কেয়ারগিভাররা সাধারণত প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, পোশাক পরানো, চলাফেরায় সহায়তা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক রোগী ও প্রবীণ ব্যক্তির পক্ষে এসব সহায়তা ছাড়া নিজ বাড়িতে স্বাধীনভাবে থাকা সম্ভব হয় না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার ওপরে। কিন্তু সেই হারে পরিচর্যাকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে কর্মী হারানোর যেকোনো ঘটনা সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় সংগঠন লিডিংএজ বলেছে, বিদেশে জন্ম নেওয়া কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। অভিজ্ঞ কর্মী হারালে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন রোগী ভর্তি সীমিত করা, সেবার পরিধি কমানো অথবা কর্মরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ডেলাওয়ারে কর্মরত হাইতিয়ান-আমেরিকান লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল নার্স নিক্সন পিয়েরে-লুই দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, একজন কর্মী চলে গেলে তাঁর দায়িত্ব বাকি কর্মীদের বহন করতে হয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, রোগী এবং আগে থেকেই চাপে থাকা সহকর্মীদের ওপরও প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যা সময়মতো না পেলে রোগীর অসুস্থতা, সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খাতটির সংকটের পেছনে শুধু অভিবাসননীতি নয়, কম বেতন ও কঠিন কর্মপরিবেশও বড় কারণ। কেএফএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বার্ষিক আয় ৩৫ হাজার ডলারের কম। প্রায় ৩৯ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন। অনেক প্রতিষ্ঠান Medicaid ও Medicare Advantage কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বেতন বাড়িয়েও কর্মী ধরে রাখতে পারে না। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয় ও আতিথেয়তা খাতের সঙ্গে কর্মীর জন্য প্রতিযোগিতা করতে হলেও প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। ফলে অভিজ্ঞ কেয়ারগিভার হারালে দ্রুত নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। হাইতির TPS মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটে এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ কারণে হাইতিয়ান কর্মী, তাঁদের পরিবার এবং নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা কাটেনি। পরিস্থিতিটির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপরও পড়তে পারে। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা বা নার্সিং সেবার ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে সেবার অপেক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা রাজ্যভিত্তিক সনদধারী বাংলাদেশিদের জন্য কেয়ারগিভিং ও হোম কেয়ার খাতে কর্মীর চাহিদা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা প্রত্যাহারকে নতুন কর্মসংস্থানের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ বিপুলসংখ্যক কর্মী একসঙ্গে কাজ হারালে তাঁদের জায়গা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে সেই সব প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে, যাঁরা প্রতিদিনের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য কেয়ারগিভারদের ওপর নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্রে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের পথ খুলে দেওয়ায় দেশটির প্রবীণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকট আরও গভীর হতে পারে। এই খাতের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী অভিবাসী হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের কাজের অনুমতি হারানোর আশঙ্কা রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি, পরিবার এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান—সবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও প্রবীণসেবা খাতের সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২৫ জুন হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা TPS বাতিলের সিদ্ধান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার আবেদন নাকচ করেন। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুরক্ষা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যদিও এ নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। TPS এমন একটি মানবিক কর্মসূচি, যার আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গুরুতর অস্থিতিশীলতার কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে বসবাস ও বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পান। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর হাইতির তিন লাখের বেশি TPS সুবিধাভোগীর বৈধ অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ ১০ জুলাই হাইতিয়ান TPS সুবিধাভোগীদের নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ সাময়িকভাবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছে। সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সংশ্লিষ্ট কাজের অনুমতির মেয়াদও স্বল্প সময়ের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এই সাময়িক সময়সীমা সংকটের স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুরক্ষা হারালে অনেক হাইতিয়ান কর্মীকে কেয়ারগিভার, নার্সিং সহকারী এবং হোম কেয়ার কর্মীর চাকরি ছাড়তে হতে পারে। এতে আগে থেকেই জনবলসংকটে থাকা নার্সিং হোম, সহায়তাপ্রাপ্ত আবাসনকেন্দ্র এবং বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২৩ লাখ সরাসরি পরিচর্যাকর্মী প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি সেবা দিয়ে থাকেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ অভিবাসী। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় অভিবাসী কর্মীর হার আরও বেশি—প্রায় ৩৩ শতাংশ। নার্সিং প্রতিষ্ঠানে এ হার ২৫ শতাংশ এবং অন্যান্য আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ শতাংশ। অভিবাসী সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬ শতাংশ হাইতিতে জন্মগ্রহণ করেছেন। মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ফিলিপাইন, জ্যামাইকা ও চীন থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ এই খাতে কাজ করেন। নিউইয়র্কে সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় ৬০ শতাংশই অভিবাসী, যা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। কেয়ারগিভাররা সাধারণত প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খাবার খাওয়ানো, গোসল করানো, পোশাক পরানো, চলাফেরায় সহায়তা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অনেক রোগী ও প্রবীণ ব্যক্তির পক্ষে এসব সহায়তা ছাড়া নিজ বাড়িতে স্বাধীনভাবে থাকা সম্ভব হয় না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার ওপরে। কিন্তু সেই হারে পরিচর্যাকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে কর্মী হারানোর যেকোনো ঘটনা সেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় সংগঠন লিডিংএজ বলেছে, বিদেশে জন্ম নেওয়া কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ পরিচর্যা ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। অভিজ্ঞ কর্মী হারালে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন রোগী ভর্তি সীমিত করা, সেবার পরিধি কমানো অথবা কর্মরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। ডেলাওয়ারে কর্মরত হাইতিয়ান-আমেরিকান লাইসেন্সধারী প্র্যাকটিক্যাল নার্স নিক্সন পিয়েরে-লুই দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, একজন কর্মী চলে গেলে তাঁর দায়িত্ব বাকি কর্মীদের বহন করতে হয়। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়, রোগী এবং আগে থেকেই চাপে থাকা সহকর্মীদের ওপরও প্রভাব পড়ে। প্রয়োজনীয় পরিচর্যা সময়মতো না পেলে রোগীর অসুস্থতা, সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খাতটির সংকটের পেছনে শুধু অভিবাসননীতি নয়, কম বেতন ও কঠিন কর্মপরিবেশও বড় কারণ। কেএফএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরাসরি পরিচর্যাকর্মীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বার্ষিক আয় ৩৫ হাজার ডলারের কম। প্রায় ৩৯ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজ করেন। অনেক প্রতিষ্ঠান Medicaid ও Medicare Advantage কর্মসূচি থেকে নির্ধারিত হারে অর্থ পাওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বেতন বাড়িয়েও কর্মী ধরে রাখতে পারে না। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য, রেস্তোরাঁ, খুচরা বিক্রয় ও আতিথেয়তা খাতের সঙ্গে কর্মীর জন্য প্রতিযোগিতা করতে হলেও প্রবীণসেবা প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। ফলে অভিজ্ঞ কেয়ারগিভার হারালে দ্রুত নতুন কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ে। হাইতির TPS মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হলেও সিনেটে এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ কারণে হাইতিয়ান কর্মী, তাঁদের পরিবার এবং নিয়োগদাতাদের অনিশ্চয়তা কাটেনি। পরিস্থিতিটির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপরও পড়তে পারে। বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা বা নার্সিং সেবার ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন হলে সেবার অপেক্ষা ও পারিবারিক ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা রাজ্যভিত্তিক সনদধারী বাংলাদেশিদের জন্য কেয়ারগিভিং ও হোম কেয়ার খাতে কর্মীর চাহিদা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষা প্রত্যাহারকে নতুন কর্মসংস্থানের সাধারণ সুযোগ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ বিপুলসংখ্যক কর্মী একসঙ্গে কাজ হারালে তাঁদের জায়গা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে সেই সব প্রবীণ, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে, যাঁরা প্রতিদিনের মৌলিক প্রয়োজনের জন্য কেয়ারগিভারদের ওপর নির্ভরশীল।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে নিউ জার্সির বেলভিল টাউনশিপের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় এসেছেন ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ তৃতীয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং টানা আট বছর ধরে দায়িত্ব পালন করা বর্তমান মেয়র মাইকেল মেলহ্যামকে পরাজিত করে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। গত ১ জুলাই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ১২ মে অনুষ্ঠিত বেলভিলের অদলীয় (নন-পার্টিজান) মেয়র নির্বাচনে ভেলেজ প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। শুধু তাই নয়, টাউনশিপের ২৬টি ভোটকেন্দ্রের প্রতিটিতেই তিনি জয় পান, যা স্থানীয় নির্বাচনে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলকে বেলভিলের ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে স্পষ্ট রায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজের জনসেবার পথচলা শুরু হয় মাত্র ১৯ বছর বয়সে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তার বোনের অভিজ্ঞতা তাকে সমাজসেবামূলক কাজে অনুপ্রাণিত করে। এরপর তিনি বেলভিল বোর্ড অব এডুকেশনের সদস্য হিসেবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের পক্ষে কাজ করেন। পরে দ্বিতীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়ে শিশু ও প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি সম্প্রসারণ, স্থানীয় ব্যবসার উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি প্রয়াত মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিল পাসক্রেলের ফেডারেল স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল চলতি বছরের শুরুতে বেলভিলে ঘটে যাওয়া একটি ভয়াবহ ১৪-অ্যালার্ম গুদাম অগ্নিকাণ্ড। ওই ঘটনায় বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয় এবং স্থানীয় স্কুলগুলো এক সপ্তাহেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনের যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক বাসিন্দা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই পরিস্থিতি নির্বাচনে পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। নির্বাচনী প্রচারণায় ভেলেজ দায়িত্বশীল উন্নয়ন, জননিরাপত্তা জোরদার, স্থানীয় ব্যবসার প্রসার, পার্ক ও জনসেবার উন্নয়ন এবং কর্মজীবী পরিবারের দৈনন্দিন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তার প্রচারণার মূল বার্তা ছিল—স্থানীয় সরকারের সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর নিজ শহরেই জনসেবায় যুক্ত হন ভেলেজ। নির্বাচনে জয়ের পর তিনি বলেন, বেলভিলবাসীর এই আস্থা তার জন্য বড় দায়িত্ব। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে কাজ করবেন। নিউ জার্সির এসেক্স কাউন্টিতে অবস্থিত বেলভিল টাউনশিপের আয়তন প্রায় ৩ বর্গমাইল এবং এটি নিউয়ার্ক শহরের পাশেই অবস্থিত। মাত্র ২৪ বছর বয়সে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে ফ্র্যাঙ্ক ভেলেজ যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, তার এই বিজয় প্রমাণ করে যে বয়স নয়, জনগণের আস্থা, ধারাবাহিক জনসেবা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতাই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি।