প্রায় ৪০০ বছর পরও শেষ হয়নি সেই খোঁজ, ফ্লোরিডার সাগর থেকে মিলল ২২.৫ পাউন্ডের রূপার বার
চার শতাব্দী আগে ঝড়ে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ ধনরত্নবাহী জাহাজের সন্ধান এখনো শেষ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে ডুবুরি দল সম্প্রতি উদ্ধার করেছে ২২.৫ পাউন্ড ওজনের একটি রূপার বার, যা প্রায় তিন দশকের মধ্যে এ ধরনের প্রথম বড় আবিষ্কার বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মেল ফিশার’স শিপরেক এক্সপেডিশনসের ডুবুরিরা ‘ডেয়ার’ নামের উদ্ধার জাহাজ থেকে অভিযান চালিয়ে ফ্লোরিডার কি ওয়েস্টের কাছে সমুদ্রের প্রায় ৫০ ফুট গভীর থেকে রূপার বারটি উদ্ধার করেন। এটি পাওয়া গেছে কিংবদন্তি স্প্যানিশ জাহাজ ‘নুয়েস্ত্রা সেনিওরা দে আতোচা’র ধ্বংসাবশেষ থেকে।
আতোচা ছিল ১৭শ শতাব্দীর একটি স্প্যানিশ ধনরত্নবাহী গ্যালিয়ন, যা ১৬২২ সালে ফ্লোরিডা কিজ অঞ্চলের কাছে এক বিধ্বংসী হারিকেনে ডুবে যায়। জাহাজটিতে বিপুল পরিমাণ রূপা, সোনা ও পান্না বহন করা হচ্ছিল।
মেল ফিশারের নেতৃত্বাধীন দল ১৯৮৫ সালে জাহাজটির প্রধান ধনভান্ডার বা ‘মাদার লোড’ আবিষ্কার করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। সেই আবিষ্কারের চার দশক পরও সমুদ্রতল থেকে নতুন নতুন মূল্যবান নিদর্শন মিলছে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রধান শন ব্রাউন জানান, শক্তিশালী ধাতব সংকেত শনাক্ত করার পর ডুবুরিরা বালু ও পলির স্তর সরাতে এয়ারলিফট ব্যবহার করেন। ধীরে ধীরে বস্তুটি উন্মুক্ত হলে বোঝা যায়, এটি একটি রূপার বার।
তার ভাষ্য, রূপার বারটির গায়ে ঘন সামুদ্রিক আস্তরণ জমে থাকলেও মূল কাঠামো আশ্চর্যজনকভাবে অক্ষত রয়েছে। বর্তমানে সংরক্ষণ ও পরিষ্কারের কাজ চলছে। বারটির উপরের অংশে একটি ছোট খাঁজ দেখা গেছে, যেখানে জাহাজে তোলার আগে রূপার বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রাউন আরও জানান, ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম আতোচা ধ্বংসাবশেষ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপার বার উদ্ধার হলো। তবে ১৯৮৫ সালের পর থেকে শত শত রূপার বার, সোনার ও রূপার মুদ্রা, পান্না, তলোয়ার, চাবি, মৃৎপাত্র ও নৌ-যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমান বাজারদরে উদ্ধার হওয়া রূপার বারটির মূল্য প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও গবেষকদের মতে, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্থমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।
তাদের বিশ্বাস, আতোচা ও পাশের সান্তা মার্গারিতা ধ্বংসাবশেষে এখনো শত শত রূপার বার, হাজার হাজার মুদ্রা, পান্না ও অন্যান্য নিদর্শন চাপা পড়ে আছে। সম্প্রতি জুন মাসের শেষ দিকে একই এলাকায় একদিনেই তিনটি রূপার মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে ইতিহাসের অন্যতম বড় ধন অনুসন্ধান এখনো চলমান, আর ফ্লোরিডা কিজের পানির নিচে এখনো বহু অমূল্য নিদর্শন লুকিয়ে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনায় বস্টন ডায়নামিকসের তৈরি রোবট কুকুর ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য সংস্থাটি ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, আইসিই বস্টন ডায়নামিকসের ‘স্পট’ নামে পরিচিত চার পায়ের রোবট কিনতে চায়। এসব রোবট এমন জায়গায় ব্যবহার করা হবে, যেখানে কর্মকর্তাদের প্রবেশ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিপজ্জনক বা দুর্গম এলাকায় পরিদর্শন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকি শনাক্ত করাই হবে এর প্রধান কাজ। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, রোবটগুলো বিপজ্জনক, সংকীর্ণ, অস্থিতিশীল কিংবা সহজে প্রবেশ করা যায় না এমন জায়গায় কর্মকর্তাদের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। সন্দেহজনক প্যাকেজ পরীক্ষা, বিপজ্জনক গ্যাস শনাক্তকরণ, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মূল্যায়নেও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আইসিই ঠিক কতগুলো রোবট কিনবে এবং কবে থেকে এগুলো মাঠে নামানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির পরিকল্পিত ক্রয়ের মূল্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার হতে পারে। বস্টন ডায়নামিকস জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পাবলিক সেফটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রোবট বিক্রি করে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মানুষকে ঝুঁকির বাইরে রেখে জরুরি সাড়া দেওয়ার কাজে এসব রোবট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। একই সঙ্গে রোবটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা তাদের নীতিমালায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। স্পট রোবট আগে থেকেই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পুলিশের কিছু অভিযানে বিপজ্জনক বস্তু পরীক্ষা, বোমা সংক্রান্ত তদন্ত এবং জটিল পরিস্থিতিতে নিরাপদ দূরত্ব থেকে তথ্য সংগ্রহে রোবটটি ব্যবহার করা হয়েছে। আইসিইর নতুন এই ক্রয় পরিকল্পনা সামনে এসেছে সংস্থাটির দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান জোরদারের সময়। একই সময়ে আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য ইলেকট্রিক শক দিতে সক্ষম গ্লাভস কেনার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। ফলে অভিবাসন enforcement-এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও এ ধরনের সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বস্টন ডায়নামিকসের রোবটকে অস্ত্রায়ন না করার নীতির কারণে আইসিই এগুলোকে কী ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে ব্যবহার করবে, সেটিও নজরে রয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে রোবটগুলোর নির্দিষ্ট সংযুক্ত সরঞ্জাম বা অ্যাড-অন সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
নিউ ইয়র্কে মসজিদে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় নাবিল খুঁজছে এনওয়াইপিডি
নিউইয়র্কে মেট্রো ভাড়া অর্ধেক, ফেয়ার ফেয়ারসে মিলছে $১.৪৫ ভাড়া
মুসলিম সহকর্মী সেনার অনুপ্রেরণায় শাহাদা পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ মার্কিন নারী সেনা কর্মকর্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করায় ব্রিটিশ ডানপন্থী ভাষ্যকার ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মিলো ইয়ান্নোপোলোসকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নিউ অরলিন্সের লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তারের একদিন পর ২৮ আগস্ট তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইয়ান্নোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। চলতি বছরের ২২ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন জাজ তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেন। নির্ধারিত ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় ওই আদেশ দেওয়া হয়। আইসিই বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে। পরদিনই তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। ইয়ান্নোপোলোসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে তার দীর্ঘদিনের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি কঠোর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন। এমনকি চলতি বছরের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার সুপারমার্কেট, গ্যাস স্টেশন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলের প্রবেশপথে আইসিই চেকপয়েন্ট বসানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইয়ান্নোপোলোস একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রথম দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় তিনি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টের সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ক্যাম্পাসে বক্তা হিসেবেও আলোচনায় আসেন। পরে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব কমে যায়। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় র্যাপার ইয়ে, যিনি আগে কানিয়ে ওয়েস্ট নামে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে কাজ করেন। এর আগে জর্জিয়ার সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিনের অফিসেও ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন। ইয়ান্নোপোলোসের বহিষ্কার নিয়ে ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমারও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইয়ান্নোপোলোসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা লুমার দাবি করেছেন, তিনিই তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তার অভিযোগই ইয়ান্নোপোলোসকে আটকের সরাসরি কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএস কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। ইয়ান্নোপোলোসের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট জোরদার করছে। তার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধভাবে প্রবেশের পর অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে অনুপস্থিতির কারণেই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
যৌনকর্মীর কাছে যাওয়ার ইতিহাস থাকলেও এফবিআইয়ে মিলবে চাকরির সুযোগ
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান
ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে আরএসএসের আদর্শ এবং ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংগঠনটির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়। মোহন ভাগবত শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে ‘সার্বজনীন একাত্মতা উদযাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আড়াই শতাধিক হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন যুক্ত ছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা। তবে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে এর বিরোধিতা করে আসছিল বিভিন্ন আন্তধর্মীয়, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আরএসএসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মোহন ভাগবতের সফরকে আরএসএসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আরএসএসের আদর্শকে বর্জনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ভেন্যুতে হওয়ায় সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বাতিল করার এখতিয়ার নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মোহন ভাগবতের ভিসা প্রত্যাহার এবং আরএসএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং মার্কিন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে। মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফরের অংশ। তাঁর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আরএসএসের আদর্শ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংগঠনটির আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
চাকরি হারালেই দ্রুত ছাড়তে হবে যুক্তরাষ্ট্র, H-1B ভিসাধারীদের জন্য ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা
ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী