সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইলিনয়

তুন আইনের কারণে ইলিনয়ে মেডিকেইড সুবিধা হারিয়েছেন হাজারো বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের নতুন আইনে ইলিনয়ে মেডিকেইড হারালেন ৯ হাজার ৩০০ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে।   নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন।   এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে।   ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন।   মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে।   কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন।   ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন।   কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস।   ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন।   সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করল ইলিনয়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন।   ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে।   আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।   প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না।   চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।   আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি।   তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।   আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।   শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।   এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে।   আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন।   সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইলিনয়ের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। ছবি: সংগৃহীত
সহকর্মীর মৃত্যুর পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ, ক্ষোভে কারখানা ছাড়লেন শতাধিক শ্রমিক

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনমাউথে স্মিথফিল্ড ফুডসের মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় এক কর্মীর মৃত্যুর পর কাজ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন প্রায় ১০০ শ্রমিক। কর্মীদের দাবি, মৃত্যুর ঘটনা জানার পরও সেদিন উৎপাদন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে। স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানায় কর্মরত এক ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রের একটি ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান। কোম্পানি পরে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নিরাপত্তাকর্মীরা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মিলে ঘটনার তদন্ত করছেন। নিহত কর্মীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউকিউসি জানিয়েছে, সোমবার ভোরে প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে কর্মীদের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে কারখানায় সেদিন কাজ শুরুতে দেরি হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্মীরা কারখানায় পৌঁছে জানতে পারেন, সেখানে একজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।   কারখানার এক কর্মী কেডব্লিউকিউসিকে জানান, কর্মীরা তখন স্বাভাবিকভাবে কাজে না গিয়ে মধ্যাহ্নভোজের কক্ষে জড়ো হন। সেখানে কয়েকজনকে কাঁদতে এবং অন্যদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলে তিনি জানান।   ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মীদের একাংশ কারখানার ব্যবস্থাপকের কাছে প্রশ্ন তোলেন, মৃত্যুর ঘটনার পরও কেন তাঁদের কাজে থাকতে হবে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কাজ বন্ধ রাখার দাবিও জানান। ব্যবস্থাপক কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান বলে ওই কর্মী দাবি করেন।   তবে কর্মীদের দাবি, এরপরও সেদিন উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক কর্মী জানান, তিনি তাঁর তত্ত্বাবধায়ককে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে বলা হয়, ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে। এরপর তিনি মানবসম্পদ বিভাগে যোগাযোগ করে কারখানা থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে আরও অনেক কর্মী কারখানা থেকে বেরিয়ে যান এবং পরে সেটি বড় আকারের কর্মী ওয়াকআউটে পরিণত হয়। ওই কর্মীর হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১০০ জন সেদিন কাজ ছেড়ে কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   কর্মীদের একজন বলেন, তাঁদের কাছে ঘটনাটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সহকর্মীর পাশাপাশি তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অন্যান্য কর্মীদের প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি বলে তাঁদের মনে হয়েছে। তবে এটি কর্মীদের ব্যক্তিগত বক্তব্য এবং কোম্পানি এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।   স্মিথফিল্ড ফুডস পরে জানায়, কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া কিংবা চলে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেন, একজন সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীরভাবে শোকাহত এবং ঘটনার তদন্তে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে তদন্তে অংশ নিচ্ছেন।   প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, সোমবারের ঘটনাটি একটি কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও যুক্তরাষ্ট্রের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য প্রশাসন, ওএসএইচএ, ঘটনার কারণ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে ওই কর্মী আহত হন এবং মৃত্যুর জন্য ঠিক কী কারণে দায়ী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   ওই কারখানার এক কর্মী দাবি করেন, মনমাউথ কারখানায় এটি তাঁর জানা মতে চতুর্থ কর্মীর মৃত্যু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের তিনটি মৃত্যু স্বাস্থ্যগত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। এবারের ঘটনাটিই যন্ত্রপাতির সঙ্গে সম্পর্কিত প্রথম মৃত্যু বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।   স্মিথফিল্ড ফুডসের মনমাউথ কারখানাটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র। বিভিন্ন সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটিকে মনমাউথ এলাকার অন্যতম বড় নিয়োগদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারখানাটি শূকরের মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি শূকরের অন্ত্র বা আবরণজাত পণ্য সরবরাহ করে।   ঘটনার পর কর্মীদের ওয়াকআউট এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ, কারখানায় নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং উৎপাদন চালুর সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহত কর্মীর নামও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: কেডব্লিউকিউসি, গ্রে নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছেলেকে উদ্ধারের পর নদীতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান অ্যাঞ্জেলিনা খালিমেনডিক। ছবি: সংগৃহীত
ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের লিবার্টিভিলে নদীতে ডুবে এক মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ছেলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে ডেস প্লেইনস নদীতে ঝাঁপ দেন ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিনা খলিমেন্দিক। ছেলেকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও নিজে আর ফিরতে পারেননি তিনি।   লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ ও লিবার্টিভিলের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্ডিপেনডেন্স গ্রোভ ফরেস্ট প্রিজার্ভের কাছের নদীতে উদ্ধারকাজের জন্য তাদের ডাকা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তখন তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না। দ্রুত তাকে অ্যাডভোকেট কন্ডেল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   লেক কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত ওই নারী ইলিনয়ের হিনসডেল এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেলেকে সাহায্য করতেই তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিরাপদে তীরে তুলে দেওয়ার পর তিনি নিজেই পানির নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় এক আত্মীয় ও উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পানিতে নেমে অ্যাঞ্জেলিনাকে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন।   সোমবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। করোনার অফিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ এবং লেক কাউন্টি করোনার অফিস যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া সাবেক মার্কিন মেরিন জো বেলজিও। ছবি: সংগৃহীত
রেস্তোরাঁয় ঝিনুক খেয়ে গুরুতর অসুস্থ সাবেক মার্কিন মেরিন, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে একটি রেস্তোরাঁয় কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৪ বছর বয়সী সাবেক মার্কিন মেরিন ও অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার জো বেলজিও। পরে তার হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেন না পৌঁছানোয় স্থায়ী ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় শিকাগো এলাকার গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ অবশ্য খাবারের কারণে বেলজিও অসুস্থ হয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছে।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে বাগদত্তা মেলানি স্টেয়ার ও মেয়েকে নিয়ে ইলিনয়ের ওক ব্রুকের গিবসনস বার অ্যান্ড স্টেকহাউসে খেতে গিয়েছিলেন বেলজিও। সেখানে তিনি কাঁচা ঝিনুক খান। এর কিছুদিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।   বেলজিওর আইনজীবীদের দাবি, ঝিনুক খাওয়ার পর তার শরীরে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণ ধরা পড়ে। মামলায় বলা হয়েছে, চিকিৎসকেরা মনে করছেন ওই ঝিনুক থেকেই তার অসুস্থতার কারণ হওয়া জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করেছিল।   পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয় গত বছরের ৩ জুলাই। ওই দিন বেলজিওর হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। তার আইনজীবী স্কট ও'সালিভানের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তাকে পুনরুজ্জীবিত করার আগে প্রায় আট মিনিট তার মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছায়নি।   এর ফলে বেলজিও অ্যানক্সিক ব্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হন। অর্থাৎ অক্সিজেনের ঘাটতিতে তার মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হয়। এরপর কয়েক মাস তিনি কোমায় ছিলেন। বর্তমানে তার জ্ঞানীয় ও শারীরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন হচ্ছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   বেলজিও সাবেক মার্কিন মেরিন এবং অবসরপ্রাপ্ত ফায়ারফাইটার। তিনি ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘদিন অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করা এই ব্যক্তির জীবন এখন অন্যের সার্বক্ষণিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।   তবে গিবসনস রেস্টুরেন্ট গ্রুপ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেলজিওর শারীরিক অবস্থার জন্য তাদের রেস্তোরাঁ দায়ী এমন কোনো প্রমাণ তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। একই সময়ে রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া অন্য কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেও একই ধরনের অসুস্থতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলেছে, বেলজিওর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তারা তার সুস্থতা কামনা করে। একই সঙ্গে তারা খাদ্য নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে বিশ্বাস করে।   মামলায় রেস্তোরাঁর পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম লবস্টার অ্যান্ড সিফুড কোম্পানিকেও বিবাদী করা হয়েছে। তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   কাঁচা ঝিনুক খাওয়ার ক্ষেত্রে খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুকে বিভিন্ন ধরনের ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। শুধু দেখে, গন্ধ নিয়ে বা স্বাদ পরীক্ষা করে ঝিনুক জীবাণুমুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।   বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, লিভারের রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা ঝিনুক থেকে হওয়া সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিতে পারে। এফডিএ তাই ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কাঁচা ঝিনুক এড়িয়ে সম্পূর্ণ রান্না করা সামুদ্রিক খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেয়।   বেলজিও বর্তমানে শিকাগোর শার্লি রায়ান অ্যাবিলিটিল্যাবে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিচ্ছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয় সামলাতে পরিবার ও পরিচিতজনেরা আর্থিক সহায়তাও সংগ্রহ করছেন।   এখন আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বেলজিওর অসুস্থতার সঙ্গে রেস্তোরাঁয় পরিবেশন করা ঝিনুকের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না এবং এ ঘটনায় রেস্তোরাঁ বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো আইনি দায় রয়েছে কি না।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব হালাল ফেস্টে উপচে পড়া ভিড়, অংশ নিলেন ২৮ হাজার দর্শনার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বড় উৎসব হালাল ফেস্টে উপচে পড়া ভিড়, অংশ নিলেন ২৮ হাজার দর্শনার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেন্ট চার্লসে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চতুর্থ বার্ষিক 'শিকাগোল্যান্ড হালাল ফেস্ট'। এই অঞ্চলের মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম বৃহৎ এই উদযাপনে ২৮ হাজারেরও বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। ইলিনয় মুসলিম চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে ধর্ম ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।   বিস্তৃত এই উৎসব প্রাঙ্গণে ১৪০টিরও বেশি স্টল বা ভেন্ডর অংশ নেয়। সেখানে দর্শনার্থীদের জন্য পরিবেশন করা হয় নানা স্বাদের সুস্বাদু হালাল খাবার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, দৃষ্টিনন্দন অলংকার এবং চমৎকার সব হস্তশিল্প। কেনাকাটা ও ভোজনবিলাসের পাশাপাশি এই আয়োজনে ছিল মনমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পরিবারের সবার জন্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম এবং সরাসরি লাইভ ইভেন্ট।   আয়োজকদের মতে, উৎসবের মূল উদ্দেশ্য কেবল হালাল খাবারের প্রচারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি মুসলিম এবং অমুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সম্প্রীতি স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের একটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সমাজে মেলবন্ধন তৈরিতে এ ধরনের উৎসব কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
শনিবার দুপুরে ইলিনয়ের ম্যাকহেনরি থেকে নিখোঁজ হন টড সাবাতিনি ও তাঁর শিশুপুত্র থিও। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও বাবা ও শিশুপুত্র, হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই অঙ্গরাজ্যের পুলিশ

শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ম্যাকহেনরি শহরে ২২ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বাভাবিক হাঁটার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই এই বাবা ও ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ এই দুজনকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।   ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ এবং পিপল ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিখোঁজ ওই বাবার নাম টড সাবাতিনি (৩৬) এবং তাঁর ছেলের নাম থিও। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইলিনয়ের ম্যাকহেনরির নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হন।   পরিবার জানিয়েছে, বাবা ও ছেলের এভাবে হাঁটতে বের হওয়াটা ছিল নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পিপল ম্যাগাজিনকে জানায়, টডের এমন আচরণ একেবারেই অস্বাভাবিক। তাছাড়া থিওকে নিয়ে লম্বা সময় বাইরে থাকার মতো কোনো প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও টডের সঙ্গে ছিল না, যা পরিবার ও পুলিশকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।   তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে থিওর স্ট্রলারটি (শিশুদের গাড়ি) পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুপারমার্কেটের কাছে জিওন লুথেরান চার্চের ভেতর কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন সাবাতিনি। এছাড়া স্থানীয় একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁতেও তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।   এরপরের ঘটনাটি আরও রহস্যজনক। পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে একটি রাইডশেয়ারিং গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের গ্রিনফিল্ড পুলিশ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে সাবাতিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি থিওকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই ওই থানা থেকে বেরিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।   শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক আপডেটে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে টড ও থিও বর্তমানে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের সন্ধানে ইলিনয় ও উইসকনসিনের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নিখোঁজ হওয়ার সময় শিশু থিওর পরনে ছিল নীল শার্ট ও গাঢ় রঙের শর্টস। অন্যদিকে টড সাবাতিনির পরনে ছিল নীল-কালো রঙের ফ্লানেল শার্ট, ধূসর ট্যাংক টপ, জিন্স এবং কনভার্স জুতো। আগের ছবিগুলোতে তাঁর মুখে ঘন দাড়ি দেখা গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে বর্তমানে তিনি ক্লিন-শেভড।   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে টড এবং থিওর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের নির্দিষ্ট নম্বরে (৮১৫-৩৬৩-২১৩০) যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইলিনয়ের মহাসড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সেই দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ইলিনয়ের মহাসড়কে আগুনে পুড়ে ছাই গাড়ি, নিভে গেল এক দম্পতির জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের অরোরা এলাকায় আন্তঃরাজ্য মহাসড়ক আই-৮৮ এ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের পূর্বমুখী লেন দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।   ইলিনয় অঙ্গরাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর চারটার কিছু পর অরোরা এলাকার আই-৮৮ মহাসড়কে দুইটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি গাড়ি ভুল পথে চলতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।    দুর্ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।    ঘটনার পর তদন্ত ও উদ্ধারকাজের স্বার্থে অরচার্ড রোড থেকে রুট ৪৭ পর্যন্ত মহাসড়কের অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়।    ইলিনয় অঙ্গরাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে চালক ভুল পথে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
ইলিনয়ে ফেডারেল খাদ্য সহায়তা হারানো পরিবারকে এককালীন ৪০০ ডলার দেবে রাজ্য সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে খাদ্য সহায়তা হারানো পরিবারকে ৪০০ ডলার দেবে রাজ্য সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা হারানো পরিবারগুলোর জন্য নতুন ‘ফ্রেশ’ (ফ্যামিলিজ রিসিভিং এমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর হাঙ্গার) কর্মসূচি চালু হয়েছে। ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ৪০০ ডলার করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।   ইলিনয়ের ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ কর্মসূচির জন্য ৭ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যেসব পরিবার চলতি বছরের শুরুতে ফেডারেল খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির নতুন নিয়মের কারণে সুবিধা হারিয়েছে, তাদের আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। যোগ্য পরিবারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচির আওতায় আসবে এবং অর্থ তাদের ইলিনয় লিংক কার্ডে জমা হবে। এই অর্থ শুধুমাত্র খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে।   ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার বলেছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকলেও ফেডারেল সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে হাজারো মানুষ খাদ্য সহায়তা হারিয়েছেন। রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তিনি বলেন, ফেডারেল পর্যায়ে যে পরিমাণ সহায়তা কমানো হয়েছে, তা কোনো অঙ্গরাজ্যের পক্ষেই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।   ফেডারেল সরকারের নতুন নীতির ফলে খাদ্য সহায়তা পেতে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। এর প্রভাবে গত ১ মে থেকে ইলিনয়ের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন। জুন মাসে অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তা পেলেও, এপ্রিলের তুলনায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি কমেছে।   শুধু ইলিনয় নয়, নতুন ফেডারেল নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে খাদ্য সহায়তা হারানোর ঘটনা বেড়েছে। এর ফলে খাদ্য ব্যাংক ও দাতব্য সংস্থাগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।   এদিকে নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ইলিনয় সরকার মানবসেবা বিভাগে ৪৫০ জন নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য আরও ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফেডারেল সরকারের পরিবর্তিত নীতির কারণে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির পরিচালনায় রাজ্য সরকারের আর্থিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
টর্নেডো ও প্রবল ঝড়ে শিকাগো অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে একদিনে ৪টি টর্নেডোর আঘাত, প্রবল ঝড়ে প্লাবিত শত শত বাড়ি, ৫ লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুৎহীন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় আঘাত হানা প্রবল বজ্রঝড়ের সময় অন্তত চারটি টর্নেডো আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ (ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস)। ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি শত শত বাড়ির বেসমেন্ট প্লাবিত হয়েছে, হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়েছে এবং ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহক সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। (Chicago Sun-Times ও National Weather Service) মঙ্গলবার জাতীয় আবহাওয়া বিভাগের জরিপকারী দল জানায়, চারটি টর্নেডো শিকাগোর দক্ষিণ ও পশ্চিম উপশহর এলাকায় আঘাত হানে। এর মধ্যে ল্যান্সিং, কান্ট্রি ক্লাব হিলস, হ্যাজেল ক্রেস্ট, হার্ভি ও হোমউড এলাকায় আঘাত হানা দুটি টর্নেডোতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ মাইলেরও বেশি গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। অপর দুটি টর্নেডো আঘাত হানে গ্লেন এলিন ও অরল্যান্ড পার্ক এলাকায়, যেখানে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৮৫ মাইল। (National Weather Service) ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে শিকাগো হাইটস, মেওউড, ক্রেস্টউড, বোলিংব্রুক, ইউনিভার্সিটি পার্ক, লিবার্টিভিল এবং শিকাগোর দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকা। এছাড়া ওয়াকিগানে ঘণ্টায় ৮২ মাইল, মিডওয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৭৩ মাইল এবং ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৬৫ মাইল গতির দমকা বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শিকাগো সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত ৫৯৯টি বাড়ি প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের অষ্টম ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি বেসমেন্টে পানি ঢোকার অভিযোগ এসেছে। মেট্রোপলিটন ওয়াটার রিক্লেমেশন ডিস্ট্রিক্টের তথ্য অনুযায়ী, কুক কাউন্টির কিছু এলাকায় মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় দুই ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে। ও'হেয়ার বিমানবন্দরে ১ দশমিক ৭৬ ইঞ্চি এবং মিডওয়েতে ২ দশমিক ৯৪ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শিকাগো অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় মোট ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির কারণে শহরের জলাধারগুলোর ওপরও চাপ বেড়েছে। ম্যাককুক রিজার্ভয়ার প্রায় ৯৩ শতাংশ পূর্ণ হয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন গ্যালন পানি ধারণ করছে। অন্যদিকে থর্নটন রিজার্ভয়ার ৪২ শতাংশ পূর্ণ হয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন গ্যালন পানি সংরক্ষণ করছে। ঝড়ের সময় ডাউনার্স গ্রোভ এলাকায় একটি পয়োনিষ্কাশন লাইনে কাজ করা এক ঠিকাদার নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে থাকা আরেক কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশ, দমকল ও জরুরি উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের পর ২ হাজার ৩২২টি গাছ উপড়ে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এবং ৯৭৩টি গাছের ডালপালা সড়কে পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ৬২৩টি সড়কে জলাবদ্ধতা, ৪৭টি আন্ডারপাস প্লাবিত হওয়া, ৩১০টি ট্রাফিক সিগন্যাল বিকল হওয়া, ২২০টি সড়কবাতি নিভে যাওয়া, ১৬০টি বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং ১১৬টি সড়কবাতির খুঁটি ভেঙে পড়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কমএড জানিয়েছে, ঝড়ে ৫ লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ হারান। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, বুধবার দুপুরের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহকের সংযোগ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে এবং বাকি গ্রাহকদের শুক্রবার রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ঝড়ের প্রভাব শুধু বিদ্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটি জানিয়েছে, কুক ও ডুপেজ কাউন্টির কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আমেরিকান রেড ক্রস স্টেগার ও গার্নিতে দুটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে। সেখানে মানুষ বিদ্যুৎ, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় না যাওয়া, ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকা এবং জলাবদ্ধ সড়কে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনও চলমান বলে জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৮, ২০২৬ ১৪:০
মায়ের মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বিটার দুই মেয়ে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ২২ বছর ধরে গ্রিনকার্ড থাকা নারীকে আটক করল আইসিই, মায়ের মুক্তির জন্য লড়ছেন দুই মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈধভাবে বসবাসকারী এক গ্রিনকার্ডধারী নারীকে গত এক বছর ধরে কারাগারে আটকে রেখেছে মার্কিন অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ ধরে নিয়ে যাওয়া ওই নারীর মুক্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার দুই কন্যা। প্রায় ১২ মাস ধরে বন্দি থাকা এই নারীর মুক্তি ও ডিপোর্টেশন (দেশত্যাগ) ঠেকানোর চেষ্টায় এখন আন্তর্জাতিক মহলেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শিকাগো ট্রিব্রিউন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   আটক ওই নারীর নাম বেয়াটা সিমিওনকোভিক। তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক হলেও ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে বসবাস করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি দেশটির স্থায়ী বাসিন্দার অনুমোদন বা গ্রিনকার্ড অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করেছিলেন তিনি। পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও প্রবীণদের সেবিকা বেয়াটা তার দুই মেয়েকে নিয়ে রাউন্ড লেক এলাকায় বসবাস করতেন।   ঘটনাবলির সূত্রপাত ২০২৫ সালের আগস্টে। শিকাগোর শহরতলি ডেস প্লেইনসে নিজ মেয়ের বাড়ির বাগানে গাছপালার পরিচর্যা করছিলেন বেয়াটা। সে সময় হঠাৎ সাধারণ পোশাকে মুখে মাস্ক পরা দুই আইসিই কর্মকর্তা সেখানে হাজির হয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। সেদিনের স্মৃতির কথা তুলে ধরে তার মেয়ে ক্লাউদিয়া (২৫) জানান, খবরটি প্রথম তারা জানতে পারেন তাদের সত্-বাবা জনের ফোনের মাধ্যমে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের জানিয়েছিলেন, চোখের সামনে থেকে মুহূর্তের মধ্যে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তার কিছুই করার ছিল না।   গ্রেপ্তারের পর তাকে কেন্টাকির ক্যাম্পবেল কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। সেখানে প্রায় ৬০ জন নারীর সঙ্গে গাদাগাদি করে তাকে রাখা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসী। নোংরা পরিবেশ, অপরিস্কার সেল এবং এমনকি মারাত্মক অপরাধীদের সঙ্গে রাখা হয়েছিল তাকে।   আইসিই সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ২০০৫ এবং ২০১১ সালে দোকানে ছোটখাটো চুরির অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বেয়াটার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০১ সালে অভিবাসন সুবিধার জন্য ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তার পরিবার ও আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, বহু বছর আগেই জরিমানা এবং আদালতের নজরদারির মেয়াদ শেষ করে সেই পুরনো আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছিল। কঠিন সময়ে সন্তানদের জন্য ছোটখাটো চুরির ভুলের এত বছর পর এমন কঠোর পদক্ষেপকে অন্যায় বলে দাবি করছেন তার পরিবার।   তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র শিকাগো ট্রিব্রিউনকে বলেছেন, "গ্রিনকার্ড থাকা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ। দেশের আইন লঙ্ঘন বা অপব্যবহার করা হলে সেই অনুমোদন বাতিল করার পূর্ণ অধিকার সরকারের রয়েছে।" গত বছরের ডিসেম্বরে অভিবাসন আদালত তার ডিপোর্টেশনের নির্দেশ দিলেও তার পরিবার এর বিরুদ্ধে আপিল করেছে।   এদিকে বেয়াটার মতোই একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন ডোনা হিউজ-ব্রাউন নামের এক আইরিশ নাগরিক। তবে সম্প্রতি তার ওপর থেকে ডিপোর্টেশনের আদেশ বাতিল করে আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে। ডোনা এখন বেয়াটার মুক্তির জন্য জোর দাবি তুলছেন এবং আশা করছেন যে তার মামলার আইনি নজির ব্যবহার করেই বেয়াটাকে আইসিই-এর বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।   মায়ের আইনি লড়াইয়ের খরচ চালানো এবং ঘরের বন্দক পরিশোধ করতে গিয়ে ছোট মেয়ে গ্যাবি (২১) তার নার্সিং পড়াশোনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। দুই বোন মিলে মায়ের আইনি লড়াই ও ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইলিনয়ের প্রভাবশালী সিনেটর ডিক ডারবিনের কার্যালয়ও এই পরিবারটিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।   নিজের জন্মভূমি পোল্যান্ডে এখন আর বেয়াটার চেনা কেউ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার, সন্তান ও জীবন ছেড়ে তাকে আবারও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে পড়াশোনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রেমিককে নিয়ে দাদীসহ ৫ স্বজনকে হত্যা করল ১৫ বছরের কিশোরী

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্ট সেন্ট লুইসে পড়াশোনা নিয়ে সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে নিজের পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং তার ১৬ বছর বয়সী প্রেমিক জা’ইমিয়ার ডেভিসের বিরুদ্ধে। পুলিশ এই ঘটনাকে একটি ‘পরিকল্পিত গণগুলিবর্ষণ’ (টার্গেটেড মাস শুটিং) হিসেবে বর্ণনা করেছে।   গত রবিবার তিনটি ভিন্ন স্থানে চালানো এই ভয়াবহ হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত কিশোরীর মামলাটি বর্তমানে জুভেনাইল আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।   শোকার্ত বাবা মার্কাস মে অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এক নিমেষেই তিনি তার পুরো পরিবারকে হারিয়েছেন। নিহতরা সবাই ওই কিশোরীর আপন রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মার্কাসের ৭৪ বছর বয়সী মা প্যাট্রিসিয়া মে, ৪৯ বছর বয়সী বোন চেরি মে, ২৪ বছর বয়সী ভাগ্নে ডেভিন মে এবং দুই সৎ সন্তান কোয়েন্টিন থম্পসন (২১) ও শানিয়া থম্পসন (২৫)। প্রসিকিউটরদের দায়ের করা ১২টি অভিযোগের নথিতে জানা গেছে, নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়; অভিযুক্ত কিশোরীর প্রেমিক ডেভিস হত্যার পর বৃদ্ধা প্যাট্রিসিয়ার হাতের বুড়ো আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।   হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ হিসেবে মার্কাস মে জানান, স্কুলে নানা ঝামেলা করায় কিশোরীটিকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে বাড়িতেই পড়াশোনা (হোমস্কুলিং) করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অভিভাবকেরা। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মা-বাবার সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়ায় সে। এর আগেও কয়েকবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং মায়ের ডেবিট কার্ড চুরির রেকর্ড ছিল তার।   ঘটনার কয়েকদিন আগে সে তার মায়ের একটি আগ্নেয়াস্ত্র চুরি করে আবারও বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, যা নিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছিল। এমনকি মেয়েটি আগে একবার এমন গণগুলিবর্ষণের পরিকল্পনা করছে বলে আভাস দিলেও পরিবারের কেউ তা তখন গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি।   রবিবার সকালে রক্তাক্ত এই তাণ্ডব চালানোর পর পুলিশ ইস্ট সেন্ট লুইসের বিভিন্ন স্থান থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে। শানিয়ার মরদেহ একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে রাখা গাড়ি থেকে এবং কোয়েন্টিনের মরদেহ স্থানীয় জোনস পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই পার্কটি থেকেই আরও দুজনকে গুরুতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   এছাড়া কয়েক মাইল দূরের একটি আবাসন এলাকা থেকে অন্য দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর ইলিনয় স্টেট পুলিশ ধাওয়া করে দুই অভিযুক্ত কিশোর-কিশোরীর গাড়িটি থামায় এবং একটি পার্কের কাছ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার প্রভাবে ধোঁয়াটে হয়ে উঠতে পারে শিকাগোর আকাশ। ছবি: সংগৃহীত
ধোঁয়ায় হারিয়ে যেতে পারে শিকাগোর আকাশ, জারি হতে পারে বায়ুদূষণ সতর্কতা

কানাডার দক্ষিণাঞ্চলে চলমান বড় বড় দাবানলের ধোঁয়া এবার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বুধবার রাত থেকে উত্তর-পূর্ব দিকের বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় দাবানলের ধোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া বৃহস্পতিবার উত্তর ইলিনয়, বিশেষ করে শিকাগো মহানগর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।   আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধোঁয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করবে এবং বিকেলের দিকে আকাশ আরও ধোঁয়াটে হয়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি শুক্রবার পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ধোঁয়ার কারণে সূর্যালোক কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম থাকতে পারে। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এখনও ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচের দিকে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।   আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বুধবার রাত ১০টার পর থেকেই ধোঁয়া ধীরে ধীরে অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার পর শিকাগো এলাকায় এর প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   পরিস্থিতির অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বায়ুর মান নিয়ে সতর্কতা (এয়ার কোয়ালিটি অ্যালার্ট) জারি করতে পারে। যদিও ধোঁয়ার বড় অংশ বায়ুমণ্ডলের উঁচু স্তরে থাকার কথা, তবুও এর একটি অংশ নিচের স্তরে নেমে এলে সাধারণ মানুষ ধোঁয়ার গন্ধ অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে হাঁপানি, সিওপিডি বা অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।   আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডার ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী দাবানলের কারণে গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ধোঁয়ার প্রভাব প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাতাসের দিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই ধোঁয়া পুরোপুরি সরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তের আগে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।   স্থানীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হালনাগাদ সতর্কতা প্রকাশ করা হবে। এ সময় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
দুর্ঘটনার আগে ছোট বিমানে বাবা জিমি ডন লুইস ও ছেলে ব্রেইডেন লুইস। ছবি: সংগৃহীত
প্রিয় দলের খেলা দেখে আর বাড়ি ফেরা হলো না, বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-ছেলে

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে বেসবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের সিলোম স্প্রিংসের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী জিমি ডন লুইস এবং তার ২২ বছর বয়সী ছেলে ব্রেইডেন লুইস।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং স্থানীয় টেলিভিশন কেএসডিকে (KSDK News)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা সেন্ট লুইসের বুশ স্টেডিয়ামে সেন্ট লুইস কার্ডিনালস ও মিলওয়াকি ব্রিউয়ার্সের মধ্যকার বেসবল ম্যাচ দেখে নিজ শহরে ফিরছিলেন। পথে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের মনরো কাউন্টির একটি মাঠে তাদের ছোট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জিমি ডন লুইস নিজেই বিচক্রাফট ৯৫-বি৫৫ (Beech 95-B55) মডেলের বিমানটি চালাচ্ছিলেন। বিমানটি ইলিনয়ের সেন্ট লুইস রিজিওনাল বিমানবন্দর থেকে আরকানসাসের সিলোম স্প্রিংস মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল। ওই সময় এলাকাজুড়ে বৈরী আবহাওয়া এবং বজ্রঝড় বিরাজ করছিল।   মনরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার কিছু আগে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক ফ্লাইট তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমানটি সম্ভবত ঝড় এড়ানোর চেষ্টা করে দিক পরিবর্তন করেছিল। এরপর এটি নিচের দিকে সর্পিলভাবে নামতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   বিমানটির খোঁজে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দমকল, জরুরি চিকিৎসা সেবা (ইএমএস) সদস্য এবং ড্রোন অপারেটররা অংশ নেন। তবে প্রবল বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতার কারণে উদ্ধারকারীরা সঙ্গে সঙ্গে বিমানটি শনাক্ত করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মনরো কাউন্টির একটি মাঠে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়।   মনরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "এই কঠিন সময়ে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা রইল। আমাদের চিন্তা ও প্রার্থনা তাদের সঙ্গে রয়েছে।"   দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
বজ্রপাতে প্রাণ হারানো ৮ বছরের শিশু কিন্সলি চিডা। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় হঠাৎ বজ্রপাত, আট বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু!

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের সেরেনা এলাকায় বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশু। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝড় শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল কিন্সলি চিডা (Kinslee Tschida)। দোলনা থেকে নামার ঠিক সেই মুহূর্তেই বজ্রপাত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর দিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম People, WGN এবং ABC7 Chicago (WLS)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় ইলিনয়ের লাসাল কাউন্টির সেরেনা এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সেদিন সন্ধ্যায় কিন্সলি তার চাচাতো বোনদের সঙ্গে বাড়ির পেছনের উঠোনে খেলছিল। এ সময় আকাশে ঝড়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে পরিবারের বড়রা শিশুদের ঘরের ভেতরে চলে আসতে বলেন। দূরে বজ্রধ্বনিও শোনা যাচ্ছিল।   কিন্সলির দাদা ক্রিস শেইব স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল WGN-কে বলেন, তার ছেলে কিন্সলি এবং নিজের মেয়েকে দোলনা থেকে নেমে আসতে বলেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা কার্যকর হওয়ার আগেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তার ভাষায়, "কিন্সলি দোলনা থেকে নামছিল। হঠাৎ এক মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কোনো আগাম সংকেত ছিল না। চোখে পড়ার মতো বজ্রপাতও দেখা যায়নি। মুহূর্তেই বজ্রপাত এসে গাছের মাঝখানে আঘাত হানে।"   ঘটনার সময় কিন্সলির পাশে থাকা আরেকটি শিশু অক্ষত থাকে। তবে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয় কিন্সলি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তার কাছে ছুটে যান। কিন্সলির মা, যিনি পেশায় একজন নার্স, ঘটনাস্থলেই অন্য স্বজনদের সহায়তায় শিশুটিকে সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   নাতনির মৃত্যুর খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন দাদা ক্রিস শেইব। তিনি বলেন, "জীবনে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। এই ঘটনা আমাকে বদলে দিয়েছে। মনে হচ্ছে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি।" এদিকে, People জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে লাসাল কাউন্টির করোনার কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে লাসাল কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ও এ ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য দেয়নি।   শিশুটির মৃত্যুর পর পরিবারকে সহায়তা করতে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর মাধ্যমে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তহবিল সংগ্রহের আয়োজক সামান্থা ওয়ালেস কিন্সলিকে প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও সবার প্রিয় একটি শিশু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, কিন্সলি গান গাইতে, নাচতে এবং অন্যদের হাসিখুশি রাখতে ভালোবাসত। তার প্রাণখোলা হাসি যে কোনো ঘরকে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারত। ছোট্ট শরীর হলেও তার হৃদয় ছিল অনেক বড়, আর তাকে যারা চিনতেন, তারা সবাই তার ভালোবাসা, উদারতা ও প্রাণচাঞ্চল্যে মুগ্ধ ছিলেন।   বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, বজ্রধ্বনি শোনা মাত্রই খোলা জায়গা, মাঠ, গাছের নিচে কিংবা ধাতব খেলাধুলার সরঞ্জামের কাছ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। কারণ বজ্রপাত অনেক সময় দৃশ্যমান বিদ্যুৎ চমক দেখা দেওয়ার আগেই আঘাত হানতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

হাতে ১০ হাজার ডলার? এখন কোথায় বিনিয়োগে সুযোগ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ১৪:০