সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

১৫ বছরের ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৯:৩৫
ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক
ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্ট মিয়ামি-ডেডের একটি চার্টার স্কুলের সাবেক ব্যান্ড শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার হেইহাচিরো নাকশিমা (৩৩) নামের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিস। তদন্তের ভিত্তিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অশ্লীল ও কামুক কার্যকলাপে জড়িত থাকার তিনটি পৃথক অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

সিবিএস নিউজ মিয়ামির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা জেসুস ল্যানেসের নেতৃত্বাধীন একটি তদন্তে জানা গেছে, গত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ডেডল্যান্ড মলের কাছে নাকশিমার অ্যাপার্টমেন্টে এই আপত্তিকর ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি প্রথম শেরিফ অফিসকে অবহিত করেন।

 

গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মিন্ডি গ্লেজার অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ৪৫ হাজার ডলারের জামিন নির্ধারণ করে জিপিএস মনিটরসহ তাকে গৃহবন্দী (হাউস অ্যারেস্ট) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

 

গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত নাকশিমা পাম গ্লেডস প্রিপারেটরি একাডেমি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ল্যানেস জানান, শিক্ষক-ছাত্রী সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই এই অনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং প্রেমের মিথ্যা জালে ফাঁসিয়েছিলেন। এমনকি তিনি নিজের বিভিন্ন মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের টিকিটও ওই ছাত্রীকে দিতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গোয়েন্দা ল্যানেস। তিনি বলেন, সন্তানরা হঠাৎ করে দামি বা অজানা কোনো জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। যদি তাদের কোনো আয়ের উৎস না থাকে, তবে তারা কীভাবে এসব জিনিস পাচ্ছে তা অভিভাবকদের গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপেও নিয়মিত নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করছে যে, এই শিক্ষকের দ্বারা আরও কেউ হয়রানির শিকার হয়ে থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুনানিকালে নাকশিমার আইনজীবী দাবি করেন যে, তার মক্কেল পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই বা সমাজের জন্য তিনি হুমকিস্বরূপ নন।

 

কারণ তার আগের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় গোয়েন্দাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে চার্টার স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মেরিল্যান্ডের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার
মেরিল্যান্ডের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার

মেরিল্যান্ডের আই-২৭০ মহাসড়কে শনিবারের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও মেয়ের জানাজা আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। নিহতরা হলেন ৪৬ বছর বয়সী মুসাম্মাত শামিমা বেগম ও তার ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আরিবাহ জাহিন। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা ভার্জিনিয়ার বার্ক ও আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।    আগামীকাল সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জোহরের নামাজের পর গেইথার্সবার্গের ইসলামিক সেন্টার অব মেরিল্যান্ডে মা ও মেয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হবে ফ্রেডেরিকের আল-ফিরদাউস মেমোরিয়াল গার্ডেনসে।   ২৯ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে বেথেসডায় ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের দক্ষিণে আই-২৭০-এর দক্ষিণমুখী লেনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, একটি ফোর্ড মুস্তাং ভুল পথে উত্তরমুখী হয়ে দক্ষিণমুখী লেনে ঢুকে পড়ে। পরে সেটি একটি টয়োটা ক্যামরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।    শামিমা বেগম ও আরিবাহ জাহিন ওই টয়োটা ক্যামরির যাত্রী ছিলেন। গাড়িটিতে আরও ছিলেন ৬২ বছর বয়সী ওই পরিবারের কর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, যিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন, এবং ৮ বছর বয়সী তাদের ছোট মেয়ে। দুর্ঘটনার পর তাদের দুজনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।    অন্যদিকে ফোর্ড মুস্তাংয়ের চালক হিসেবে ৩২ বছর বয়সী জার্মানটাউনের বাসিন্দা হোসে কাবায়েরো নোলাসকোকে শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।    পুলিশের তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের শারীরিক বা মানসিক সক্ষমতা ব্যাহত হওয়া দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। নোলাসকোর বিরুদ্ধে দুইটি গ্রস নেগলিজেন্ট ম্যানস্লটার, অ্যালকোহলের প্রভাবে মোটরযান চালিয়ে মৃত্যুর অভিযোগে দুইটি মামলা এবং জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে এমন আঘাতের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কোর্ট কমিশনারের সামনে হাজিরার অপেক্ষায় রয়েছেন।    মা ও মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হওয়ায় তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য কমিউনিটির সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২০:১২
আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’

আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ

ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ

ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ

ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও
ফিলাডেলফিয়ার ‘হাউস অব হররস’ নামের সেই বাড়িতে মিলল নারীকে শ্বাসরোধে হ ত্যার ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি, যা ইতোমধ্যে একাধিক নারী নিখোঁজের ঘটনায় 'হাউস অব হররস' বা আতঙ্কের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, সেখান থেকে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার একটি রোমহর্ষক ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রেমন্ড 'আরসি' হর্স নামের প্রয়াত এক পর্নোগ্রাফারের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে জব্দ করা একটি হার্ড ড্রাইভে এই 'স্ন্যাফ মুভি' (বাস্তব হত্যার দৃশ্য সংবলিত ভিডিও) পাওয়া গেছে।   ভিডিওটিতে রেমন্ডকে তার ওই বাড়িতে এক নারীকে শ্বাসরোধ করতে দেখা যায়। নিহত ওই নারীর পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও পুলিশ তার এক আত্মীয়কে বিষয়টি অবহিত করেছে। তবে, এই বাড়িটির সাথে সংশ্লিষ্ট যে পাঁচজন নিখোঁজ নারীর নাম উঠে এসেছে, তাদের কারও দেহাংশ এখন পর্যন্ত সেখানে পাওয়া যায়নি।   রেমন্ড হর্স তার ছেলে ইউজিন হর্সের (৪৪) সাথে ফিলাডেলফিয়ার ওলনি এলাকার এই বাড়িতে থাকতেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ৮২ বছর বয়সে রেমন্ড মারা যান। গত জুনে ইউজিনকে তার এক নারী সঙ্গীসহ গ্রেপ্তার করার পরই মূলত এই বাড়ির বীভৎস সব ইতিহাস সামনে আসতে শুরু করে।   গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ভুয়া ডিইএ ব্যাজ এবং ব্লেয়ার টনজেল্লি নামক ২০২৩ সাল থেকে নিখোঁজ এক নারীর পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচটি ভস্মীভূত দেহাবশেষের পাত্র (আর্ন), ২০টির বেশি রাসায়নিক পদার্থ ভর্তি কনটেইনার এবং অন্তত ৫০টি হার্ড ড্রাইভ জব্দ করে।   এসব হার্ড ড্রাইভে সিরিয়াল কিলার ও লাশ গুমের বর্ণনা লেখা প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি, ৬ লাখ ছবি এবং ৭০ হাজারেরও বেশি ভিডিও পাওয়া যায়, যার মধ্যে এই স্ন্যাফ মুভিটিও ছিল। পুলিশের ধারণা, এই বিপুল ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে নিখোঁজ ওই পাঁচ নারীর মধ্যে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।   গত আগস্ট মাসে পুলিশ নিশ্চিত করেছিল যে, হার্ড ড্রাইভে মারিবেল ফ্রেসেস (২০১৮ সাল থেকে নিখোঁজ) এবং গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো (২০১২ সাল থেকে নিখোঁজ) নামের দুই নারীর মৃতদেহ ও তাদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য পাওয়া গেছে।   রেমন্ড হর্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি শহরের মাদকাসক্ত ও দুর্বল নারীদের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে আনতেন এবং সিরিয়াল কিলারের মতো তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ধারণ করতেন।   প্রাক্তন এফবিআই প্রোফাইলার জেমস আর. ফিটজেরাল্ড জানিয়েছেন, রেমন্ডের প্রাক্তন স্ত্রী অ্যামি ম্যাকহেলও ২০১৬ সাল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ছেলে ইউজিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ভুয়া পরিচয়পত্রের ফেডারেল মামলা চললেও, বাবা বা ছেলে কারও বিরুদ্ধেই এখন পর্যন্ত সরাসরি হত্যার কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৮:১৮
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত অভিবাসীদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার

এইচ-৪ ভিসাধারীদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় প্রবাসী পরিবার

মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ

মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের খোঁজে নাসার ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘রোমান’ টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণ

মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে
মেরিল্যান্ডে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বাংলাদেশি পরিবারের স্ত্রী ও বড় মেয়ে নিহত, স্বামী ও ছোট মেয়ে হাসপাতালে

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি মা ও তাঁর বড় মেয়ে নিহত হয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বেথেসডায় ইন্টারস্টেট ২৭০ (আই-২৭০) হাইওয়েতে এই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্যমতে, নিহতরা হলেন মুসাম্মাত শামীমা বেগম (৪৬) এবং তাঁর মেয়ে আরিবা জাহিন (২৩)।   তাঁরা ভার্জিনিয়ার বার্ক এবং আলেকজান্দ্রিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের টয়োটা ক্যামরি গাড়ির চালকের আসনে থাকা শামীমা বেগমের স্বামী ফারুক (৬২) এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছোট মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   স্থানীয় ভার্জিনিয়া কমিউনিটি জানিয়েছে, আহত বাবা ও মেয়ের অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   মেরিল্যান্ড স্টেট পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেসি বুলেভার্ডের ঠিক দক্ষিণে হাইওয়ের দক্ষিণমুখী অংশে একটি ফোর্ড মুস্তাং গাড়ি ভুল পথে (উত্তর দিকে) তীব্র বেগে ছুটছিল।   একপর্যায়ে সেটি বিপরীত দিক থেকে আসা বাংলাদেশি ওই পরিবারের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা ও আরিবা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।   ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও প্রাথমিক তদন্তের জন্য হাইওয়েটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল।   তদন্ত শেষে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ঘাতক ফোর্ড মুস্তাং গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। অভিযুক্ত ওই চালককে শনাক্ত করা হয়েছে, যার নাম জোসে ক্যাবালেরো নোলাস্কো (৩২)।   মন্টগোমেরি কাউন্টির জার্মেনটাউনের এই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে চরম অবহেলাজনিত জোড়া নরহত্যা এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বর্তমানে তাকে রকভিলের মন্টগোমেরি কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী রাখা হয়েছে। এদিকে, মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে থাকা ফারুক ও তাঁর ছোট মেয়ের দ্রুত আরোগ্য কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছে শোকাচ্ছন্ন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:২১
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, গ্রেপ্তারের পর ঘাতকের মুখে ঈশ্বরের প্রশংসা

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দুজনকে গুলি করে হ ত্যা, গ্রেপ্তারের পর ঘাতকের মুখে ঈশ্বরের প্রশংসা

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘায়িত সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা শীর্ষ সামরিক নেতাদের। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করতে হেগসেথকে সতর্ক করলেন মার্কিন সামরিক নেতারা

যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস বিক্রি হওয়ার গুজবের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটে গরুর মাংসের নামে ঘোড়ার মাংস? সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

0 Comments