আমেরিকা

পল শহরে ২০২৬ সালের অষ্টম হত্যাকাণ্ড, ভোরের গুলিতে কাঁপল পুরো এলাকা

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ৭:৫১
ঘটনার স্থান। ছবি:সংগৃহীত
ঘটনার স্থান। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পল শহরের ফ্রগটাউন এলাকায় শনিবার ভোরে বন্দুকধারীর গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে সেন্ট পল পুলিশ। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। 

 

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার কিছু আগে এডমন্ড অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং নর্থ কেন্ট স্ট্রিট এলাকার কাছে গুলি ও হামলার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে বড় ধরনের জনসমাগমের মধ্যে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা নিলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। 

 

ঘটনাস্থল তল্লাশির সময় পুলিশ ৫০০ ব্লকের নর্থ কেন্ট স্ট্রিটে একটি বাড়িতে গুলির চিহ্ন দেখতে পায়। একই সময়ে জানা যায়, আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে রিজিয়ন্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন। আহতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আঘাত প্রাণঘাতী নয়। 

 

সেন্ট পল পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে এ গুলির ঘটনা ঘটেছে এবং কারা জড়িত, তা জানতে হত্যাকাণ্ড তদন্ত ইউনিট কাজ করছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় র‍্যামসি কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে। 

 

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালে সেন্ট পল শহরে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে আটে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় প্রত্যক্ষদর্শী বা তথ্য জানা ব্যক্তিদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিসে ১৩ বছরের মেয়ের খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মেমফিসে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিছানার নিচে এক যুবককে লুকিয়ে থাকতে দেখে তাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। কেন্ড্রা স্কট নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারীকে ফার্স্ট-ডিগ্রি বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ২টার কিছু আগে মেমফিসে কেন্ড্রার বাড়ির বাইরে থেকে রডেরিয়াস মর্টন নামের ২০ বছর বয়সী ওই যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।   আদালতের নথি ও আইনজীবীর তথ্যমতে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ওই কিশোরী রাত ১টার দিকে মর্টনকে তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায়। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর কেন্ড্রা স্কট বাড়ি ফিরে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন এবং ক্ষুব্ধ হয়ে জানতে চান ঘরের ভেতর কে আছে। মায়ের হাতে বন্দুক দেখে কিশোরী মেয়েটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।   পুলিশকে সে জানায়, তার মা আগেই হুমকি দিয়েছিলেন যে ঘরের ভেতর কোনো ছেলেকে দেখলে তিনি তাকে গুলি করবেন। একপর্যায়ে মেয়ে দরজা খুলে দিলে কেন্ড্রা ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন এবং মেয়ের বিছানার নিচে মর্টনকে লুকিয়ে থাকতে দেখেন। ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মর্টনকে গালিগালাজ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন এবং তাকে অনুসরণ করে সদর দরজা পর্যন্ত যান।   ঠিক তখনই একটি গুলির শব্দ শুনতে পান ওই কিশোরী এবং তাদের এক প্রতিবেশী। ওই প্রতিবেশী পুলিশকে জানান, তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কেন্ড্রাকে মৃতদেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তখনো তার হাতে বন্দুক ছিল এবং তিনি স্বীকার করছিলেন যে, "আমি তাকে গুলি করেছি, আমি তাকে গুলি করেছি।" ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন ব্ল্যাক হ্যান্ডগান এবং গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। কেন্ড্রাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর মেমফিস পুলিশ তাকে প্রথম মাত্রার হত্যা এবং বিপজ্জনক অপরাধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।   কেন্ড্রার আইনজীবী ব্লেক ব্যালিন এই ঘটনাকে "যেকোনো ১৩ বছর বয়সী মেয়ের অভিভাবকের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো মানুষ যৌক্তিকভাবে আচরণ করতে পারে কি না। তবে অবসরপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা এবং আত্মরক্ষা প্রশিক্ষক বাডি স্মিথ জানিয়েছেন, কেন্ড্রা স্কটের এই মামলাটি টেনেসির 'ক্যাসল ডকট্রিন' বা আত্মরক্ষা আইনের আওতায় পড়বে না। কারণ ওই যুবক জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করেনি বা অনুপ্রবেশকারী ছিল না, এবং হলফনামায় এমন কোনো অভিযোগ নেই যে সে মা বা অন্য কাউকে হুমকি দিয়েছিল। আদালতের কাছে এবং জুরির সামনে এই তথ্যগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   এদিকে, এই ঘটনাটি অনলাইনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় মায়ের এই পদক্ষেপ হয়তো যৌক্তিক ছিল; আবার অনেকের মতে, তিনি চরম বাড়াবাড়ি করে ফেলেছেন। এমনকি কেন্ড্রার প্রতিবেশীরাও এই ইস্যুতে সম্পূর্ণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৮:৫৫
যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ, স্যানট্যান্ডারের কর্মসূচিতে মিলতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগ, অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

মেটলাইফের বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্প

কড়া নিরাপত্তায় মেটলাইফের বুলেটপ্রুফ গ্যালারিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে ডোনাল্ড ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে কঠিন হচ্ছে হাজারো মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিতে কঠিন হচ্ছে হাজারো মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর লাখো মানুষ শিক্ষার্থী ভিসা, কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড কিংবা অন্যান্য বৈধ অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটিতে আসার চেষ্টা করেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে একের পর এক কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর ও প্রস্তাবিত হওয়ায় বৈধ উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পথ আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।    ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে এর প্রভাব শুধু অবৈধ অভিবাসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষার্থী, দক্ষ পেশাজীবী, গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী এবং পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম ও বাড়তি যাচাইয়ের প্রভাব পড়ছে।    সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, পারিবারিক অবস্থা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়ন করা হবে। প্রশাসনের দাবি, এই নীতির উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্বনির্ভর অভিবাসীদের উৎসাহিত করা।    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করা কিছু গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীর জন্য ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য বন্ড চালুর একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও এটি বাস্তবায়িত হলে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।    অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভিসা আবেদনকারীর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম আরও বিস্তৃতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশনা দিয়েছে। এফ, এম ও জে ক্যাটাগরির শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, এইচ-১বি এবং আরও কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল উন্মুক্ত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোরভাবে করা যায়।    এছাড়া সাম্প্রতিক এক চূড়ান্ত নিয়মে এফ, জে এবং আই ভিসাধারীদের দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিত্তিতে অবস্থানের নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।    অভিবাসন আইনজীবীদের জাতীয় সংগঠন আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (AILA) নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, এই পরিবর্তনের ফলে অভিবাসন ব্যবস্থায় বিভ্রান্তি বাড়তে পারে, একই সঙ্গে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হবে, যা অভিবাসী পরিবার ও কমিউনিটির জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।    AILA-এর প্রেসিডেন্ট জেফ জোসেফ এক বিবৃতিতে বলেন, বহু বছর ধরে কংগ্রেস নির্ধারিত সুস্পষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে পাবলিক চার্জ মূল্যায়ন করা হতো। নতুন নীতিতে সেই স্বচ্ছ কাঠামো থেকে সরে এসে কর্মকর্তাদের বিবেচনাধীন ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে, যা আবেদনকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।    অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ভিসা, কর্মভিত্তিক ভিসা, গ্রিন কার্ড বা পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের আবেদন করার আগে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুত করা উচিত। তাদের মতে, বর্তমান নীতিগত পরিবেশে ছোট একটি অসঙ্গতিও অতিরিক্ত যাচাই, বিলম্ব বা আবেদন জটিল হওয়ার কারণ হতে পারে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৭:৫
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২০ বছর বয়সী বাস্কেটবল খেলোয়াড়

ফ্লোরিডার নতুন নাম পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ট্রাম্পের নামে বিমানবন্দরে যেতে আপত্তি জানালে ফ্রি ফ্লাইট পরিবর্তন ? যা জানাল ইউনাইটেড

ছবি: ইরান যুদ্ধে প্রাণ হারানো ১৬ মার্কিন সেনাসদস্য; দুজনের পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি

ইরানের হামলায় বাড়ছে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা, নিহত ১৬, আহত ৪২৭; সর্বশেষ হামলায় নিখোঁজ ১

আইস ডিটেনশন সেন্টারে অমানবিক পরিবেশ: চিকিৎসা সংকটে ধুঁকছেন হাজারো অভিবাসী
আইস ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের বাস্তবতা: চিকিৎসা সংকট, অমানবিক পরিবেশে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হাজারো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের মধ্যেই দেশটির বৃহত্তম ICE (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। প্রতিবেদনে আটক অভিবাসীদের বর্ণনায় চিকিৎসা সংকট, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, আইনি সহায়তার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।    দ্য নিউ ইয়র্কারের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে টেক্সাসের এল পাসোতে অবস্থিত ক্যাম্প ইস্ট মন্টানা ডিটেনশন সেন্টারের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে দ্রুত সম্প্রসারিত এই কেন্দ্রটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রটি পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে রাখা শুরু হয়।    প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেককে সপ্তাহের পর সপ্তাহ সূর্যের আলো ছাড়াই ভবনের ভেতরে থাকতে হয়েছে। কোথাও কোথাও নষ্ট টয়লেট, দূষিত পানি, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কথাও উঠে এসেছে। কয়েকজন বন্দি অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রী না থাকায় তারা নিজেদের পোশাক ব্যবহার করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছেন।    প্রতিবেদনে কিউবার বংশোদ্ভূত রে নামের এক অভিবাসীর অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়েছে। বহু বছর ধরে তিনি নিয়মিতভাবে ICE-এর বিকল্প তদারকি কর্মসূচির আওতায় কর্মকর্তাদের কাছে হাজিরা দিতেন। কিন্তু একদিন নিয়মিত রিপোর্ট করতে গিয়েই তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। তার স্ত্রী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, জানান—একটি স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন মুহূর্তেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়।    অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, অনেক অভিবাসীর জন্য আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে জামিনের সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি এমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হয়েছিল, যার আগে বড় আকারের অভিবাসী ডিটেনশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। এ বিষয়েও ব্যবস্থাপনা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।    অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, আটক ব্যক্তিদের মানবিক ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত এবং কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অবস্থান হলো, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার কার্যক্রম কার্যকর করতে ডিটেনশন ব্যবস্থা আইনানুগভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ICE-এর অভিযান বৃদ্ধি, নতুন ডিটেনশন সেন্টার চালু এবং আটক ধারণক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:৫৩
সম্পর্ক ভাঙার কথা বলায় প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ I ছবি: সংগৃহীত

সম্পর্ক ভাঙার কথা বলায় প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, হিউস্টনে যুবক গ্রেপ্তার

জর্জিয়ায় মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পরিবারগুলোর বার্ষিক আয় সর্বনিম্ন ৫৩,৩২৭ ডলার প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ায় কত টাকা আয় করলে নিজেকে মধ্যবিত্ত বলা যাবে? প্রকাশ হলো নতুন হিসাব

বিদেশি সন্ত্রাসীদের নির্বাসনে ৩০ বছরের পুরোনো গোপন আদালতে প্রথমবারের মতো আবেদন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। ছবি: এপি

বিদেশি সন্ত্রাসী তাড়াতে ৩০ বছরের পুরনো গোপন আদালত সচল করল মার্কিন বিচার বিভাগ

0 Comments