আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ, স্যানট্যান্ডারের কর্মসূচিতে মিলতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৮:৮
যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ছোট ব্যবসার জন্য গ্রান্টের সুযোগ I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জুলাই মাসে উন্মুক্ত হয়েছে একাধিক গ্রান্ট কর্মসূচি। ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ এবং আর্থিক সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ মাসে অনুদানের আবেদন গ্রহণ করছে। এর মধ্যে স্যানট্যান্ডার ইউএসের ‘কালটিভেট স্মল বিজনেস’ কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত গ্রান্ট পাওয়ার সুযোগ থাকায় এটি বিশেষভাবে উদ্যোক্তাদের নজর কেড়েছে। 

 

দ্য বিজনেস জার্নালসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে আবেদন গ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য গ্রান্ট কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্যানট্যান্ডার ইউএসের পাশাপাশি স্ট্যানলির একটি বিশেষ অনুদান উদ্যোগও। 

 

স্যানট্যান্ডার ইউএসের ‘কালটিভেট স্মল বিজনেস’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক পর্যায়ের খাদ্য ও খাদ্যসংশ্লিষ্ট ব্যবসা পরিচালনাকারী উদ্যোক্তাদের জন্য পরিচালিত হয়। ১২ সপ্তাহের এই বিনামূল্যের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক পরিকল্পনা ও প্রবৃদ্ধি কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ এবং মেন্টরশিপ পান। কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করা সব অংশগ্রহণকারী ২ হাজার ৫০০ ডলার অনুদান পান এবং নির্বাচিত সেরা উদ্যোক্তারা অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত গ্রান্টের জন্য বিবেচিত হন। 

 

এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে হলে ব্যবসাটি যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত হতে হবে, অন্তত এক বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে, পূর্ণকালীনভাবে ব্যবসায় যুক্ত থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানে ১০ জনের কম পূর্ণকালীন কর্মী থাকতে হবে। এছাড়া গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। চলতি বছরের ফল (Fall) ব্যাচের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ২১ জুলাই। 

 

অন্যদিকে, স্ট্যানলি ১৯১৩ এবং টুগেদারএক্সআর (TOGETHXR)-এর যৌথ ‘চেঞ্জিং দ্য গেম’ গ্রান্ট কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পাঁচটি লাভজনক খাদ্য বা পানীয় ব্যবসাকে ২০ হাজার ডলার করে অনুদান দেওয়া হবে। নারীদের খেলাধুলাকে উৎসাহিত করে এমন ব্যবসাগুলো এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার পাবে। এ গ্রান্টের আবেদন শেষ হবে ৩১ জুলাই। 

 

ব্যবসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের গুরুত্ব বাড়ছে। গ্রান্টের অর্থ ফেরত দিতে হয় না, ফলে নতুন উদ্যোক্তা ও সম্প্রসারণে আগ্রহী ছোট ব্যবসাগুলোর জন্য এসব কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য সহায়তা হতে পারে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, শর্তাবলি এবং সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিতে (বাম থেকে): ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস।
১৯ বছরের পর এবার প্রকাশ পেল ২৫ বছরের মার্কিন সেনার পরিচয়: জর্ডানে ইরানি হামলায় প্রাণ দিলেন টাইলার ফিহান

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনাসদস্যের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। তাদের একজন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, অন্যজন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। দুই তরুণ সেনার মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগনের বিবৃতিতে জানানো হয়, হাওয়াইয়ের ইওয়া বিচের বাসিন্দা ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ক্যারলটনের বাসিন্দা প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস জর্ডানে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী মার্কিন সামরিক মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সপ্তাহান্তে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।    টাইলার জেমস ফিহানের বয়স ছিল মাত্র ২৫। তিনি নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে মাত্র ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গনজালেস জার্মানির আনসবাখে মোতায়েন ১ম ব্যাটালিয়ন, ৫৭তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন।    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার সময় দুই সেনা ঘাঁটির প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন এবং একজন সেনাসদস্যের সন্ধান না পাওয়ার কথাও প্রথমদিকে জানানো হয়েছিল।    এই দুই সেনার মৃত্যু চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মোট নিহতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।    মাত্র ১৯ ও ২৫ বছর—জীবনের শুরুতেই দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই তরুণ সেনাসদস্য। তাদের মৃত্যু শুধু দুটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং চলমান সংঘাতের মানবিক মূল্যও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১৩:১০
আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন শিশুর এই দুর্ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানে স্কোকি পুলিশ। ছবি: গেটি ইমেজেস

যুক্তরাষ্ট্রের স্কোকিতে বহুতল ভবনের জানালা থেকে পড়ে শিশু গুরুতর আহত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভারতে অবিশ্বাস্য কম দামে মিলছে ক্যান্সারের জেনেরিক সংস্করণ। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

মার্কিন নারীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ৯০০ ডলারের ক্যান্সারের ওষুধ ভারতে মাত্র ২৬ রুপিতে

চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণা এবং লাইসেন্স ছাড়া ইনজেকশন দিয়ে তরুণী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার লুইস রোহাস কাবরেরা। ছবি: সংগৃহীত

বয়স কমানোর ইনজেকশন দেওয়ার পর তরুণীর মৃত্যু, নিউ ইয়র্কে ভুয়া ডাক্তার গ্রেপ্তার

জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের নতুন বিমানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাতারের উপহার দেওয়া বিমান সাময়িক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও অত্যাধুনিক করতে কাতার সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়্যান’ বিমানটিকে সাময়িকভাবে সার্ভিসের বাইরে রাখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার সময় তিনি নতুন বিমানটির বদলে পুরনো মডেলের এয়ার ফোর্স ওয়্যানে চড়ে যাত্রা করার পর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে এল।   রোববার নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখে ওয়াশিংটনে ফিরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "এই বিমানটির দারুণ সব ক্ষমতা রয়েছে। তবে আমি যতটুকু জেনেছি, আগামী এক মাসের মতো সময়ের মধ্যে এটিকে পাঠিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।"   গত ৮ জুলাই আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, তিনি নতুন বিমানটির বদলে পুরনো বিমানে চড়ে ইংল্যান্ডের আরএএফ মিলডেনহলে যাবেন। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, যুক্তরাজ্যে ঘাঁটি গড়া মার্কিন সেনাদের নতুন বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ইরানি হুমকির কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই এই শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন, এমন গুঞ্জন বেশ জোরালো হয়ে ওঠে।   উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়্যানের পেছনের অংশের ছবি তোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে আসছেন। ধারণা করা হয়, বিমানটিতে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নস্যাৎ করে দেওয়ার মতো বিশেষ প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তড়িঘড়ি করে কাতারী বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটিকে সার্ভিসে আনার কারণে এতে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত ছিল না।   যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু এবং ইরানি আততায়ী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প পূর্বে জানিয়েছিলেন, তিনি প্রতিপক্ষের এক নম্বর হিটলিস্টে রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জোরদার করতেই বোয়িং বিমানটিকে অতিরিক্ত সুরক্ষাবলয়ে সাজানোর জন্য সাময়িক বিরতিতে পাঠানো হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১২:১৬
ডাটা সেন্টারের কারণে উত্তর ভার্জিনিয়ায় এক বাসিন্দার বিদ্যুৎ বিল ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮১ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ: ভার্জিনিয়ায় এক লাফে বিদ্যুৎ বিল ১০০ থেকে ২৮১ ডলার

২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে আগুন জ্বালানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ফেডারেল ভবনের সামনে আগুন জ্বালানো ডিভাইস, সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের তদন্ত শুরু

মাত্র ১৯ বছরেই থেমে গেল জীবনের পথচলা, ইসাবেলা গনজালেস | ছবি: সংগৃহীত

১৯ বছরেই শেষ হলো জীবনের পথচলা, জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনা ইসাবেলা

মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দেওয়া বাইডেন প্রশাসনের “সবচেয়ে বড় ভুল” ছিল বলে মন্তব্য করলেন হান্টার বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত
জো বাইডেন প্রশাসনের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ প্রকাশ করলেন ছেলে হান্টার বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন তার বাবার প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দেওয়া ছিল বাইডেন প্রশাসনের “সবচেয়ে বড় ভুল”।    সম্প্রতি ‘আই’ভ হ্যাড ইট’ নামের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে হান্টার বাইডেন গারল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন বিচার বিভাগের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।    হান্টার বাইডেন বলেন, তার ব্যক্তিগত বিষয় বাদ দিয়েও তিনি মনে করেন, মেরিক গারল্যান্ডের নেতৃত্বই ছিল তার বাবার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তার দাবি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করতে গিয়ে গারল্যান্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ধীরগতির অবস্থান নিয়েছিলেন।    হান্টার আরও অভিযোগ করেন, একদিকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলেছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় যথেষ্ট কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, ৬ জানুয়ারির ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ ছিল এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। মেরিক গারল্যান্ড ২০২১ সালের  প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার সময় বিচার বিভাগ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, হান্টার বাইডেনসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত তদন্ত পরিচালনা করে। এসব তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।    হান্টার বাইডেনের নিজের বিরুদ্ধেও কর ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে ফেডারেল তদন্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার ছেলেকে ক্ষমা করে দেন, যা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা হয়।    গারল্যান্ডের সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনায় তার পদক্ষেপ ছিল ধীর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১১:৯
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনা ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং টাইলার জেমস ফিহান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল

মিশিগানে গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি বাড়ল ২০ সেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে কিস্তি শুরু হতেই রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে শিক্ষার্থী ঋণ খেলাপি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোন খেলাপিতে নতুন রেকর্ড, বিপাকে ৯৫ লাখ ঋণগ্রহীতা

0 Comments