আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগ, অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৭:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইম চালুর উদ্যোগ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বছরজুড়ে স্থায়ী ‘ডেলাইট সেভিং টাইম’ (ডিএসটি) চালুর জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে 'সানশাইন প্রটেকশন অ্যাক্ট' পাস হওয়ার পর বিলটি এখন সিনেট ও পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হলে মার্কিন নাগরিকদের আর বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা সামনে বা পেছনে সরাতে হবে না।

 

তবে বছরজুড়ে ডেলাইট সেভিং টাইম পালন করা শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বলে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা বেশ জটিল। এর আগে ১৯৭০-এর দশকে ঠিক একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও চরম বিপত্তি ও জনরোষের মুখে অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাতিল করতে হয়েছিল।

 

জ্বালানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডেলাইট সেভিং টাইম চালু করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে এটি পুনরায় চালু হলেও সময় পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ১৯৬৬ সালে ‘ইউনিফর্ম টাইম অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের নিয়মটি সুনির্দিষ্ট করা হয়।

 

কিন্তু ১৯৭৩ সালে জাতীয় জ্বালানি সংকটের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন বছরজুড়ে স্থায়ী ডিএসটি কার্যকর করার বিশেষ বিলে স্বাক্ষর করেন। শুরুতে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিক এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে এর সমর্থন কমে ৪২ শতাংশে নেমে আসে।

 

বছরজুড়ে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখার মূল বিপত্তি দেখা দেয় শীতকালে। সূর্য দেরিতে ওঠায় দেশের অনেক স্থানে সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত চারপাশ অন্ধকার থাকত। ফলে কোমলমতি শিশুদের টর্চলাইট হাতে নিয়ে ঘোর অন্ধকারে স্কুলে যেতে হতো, যা মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে যানবাহনের ধাক্কায় শিশু হতাহতের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে কেবল ফ্লোরিডাতেই আটজন শিশুর মৃত্যু হয়।

 

অন্যদিকে মার্কিন পরিবহন দপ্তর থেকে জানানো হয়, স্থায়ী এই ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪ থেকে ১.৫ শতাংশ, যা প্রত্যাশার তুলনায় অতি সামান্য। ফলে সার্বিক নিরাপত্তা ও অচলাবস্থা বিবেচনায় ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড নতুন বিলে স্বাক্ষর করে স্থায়ী ডিএসটি বাতিল করেন এবং দেশকে আগের নিয়মে ফিরিয়ে আনেন।

 

বর্তমানে মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠন স্থায়ী ডেলাইট সেভিং টাইমের পরিবর্তে ‘স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম’ চালুর জোর দাবি জানাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পাওয়া মানুষের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা ‘সারকাডিয়ান রিদম’-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, মানসিক স্বাস্থ্য ও ঘুমের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

 

অন্যদিকে অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায় মনে করে, সকালে সূর্য দেরিতে উঠলে তাদের নির্ধারিত সময়ের সকালের ধর্মীয় প্রার্থনা শেষ করে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। ফলে ইউএস কংগ্রেসে এখন স্থায়ী ডিএসটি ও স্থায়ী স্ট্যান্ডার্ড টাইম উভয় ধরনের একাধিক বিল বিবেচনাধীন থাকলেও, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে সিনেট শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের স্কোকিতে বহুতল ভবনের জানালা থেকে পড়ে শিশু গুরুতর আহত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের স্কোকিতে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টের ওপরতলা থেকে নিচে পড়ে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। গত রোববার ওকটন স্ট্রিটের ৫২০০ ব্লকের এক বহুতল ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা ডেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।   দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্যমতে, বহুতল ভবনের তিন বা চার তলার একটি খোলা জানালা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায় শিশুটি। উদ্ধারকাজ চলাকালে ভবনের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের উপস্থিতি এবং এক ভুক্তভোগীকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যেতে দেখে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আহত শিশুর বয়স আনুমানিক পাঁচ বছর হতে পারে। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছেন।   স্কোকি পুলিশ বিভাগ পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তবে রোগীর ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ কর্তৃপক্ষ শিশুটির শারীরিক অবস্থা বা পরিচয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। দুর্ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ভবনের বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন। তারা জানিয়েছেন যে, অ্যাপার্টমেন্টের জানালাগুলোতে কেবল সাধারণ স্লাইডিং স্ক্রিন বা মশার জালি ছিল। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কোনো শক্ত গ্রিল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, যার ফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১২:৫৬
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভারতে অবিশ্বাস্য কম দামে মিলছে ক্যান্সারের জেনেরিক সংস্করণ। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

মার্কিন নারীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ৯০০ ডলারের ক্যান্সারের ওষুধ ভারতে মাত্র ২৬ রুপিতে

চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণা এবং লাইসেন্স ছাড়া ইনজেকশন দিয়ে তরুণী হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার লুইস রোহাস কাবরেরা। ছবি: সংগৃহীত

বয়স কমানোর ইনজেকশন দেওয়ার পর তরুণীর মৃত্যু, নিউ ইয়র্কে ভুয়া ডাক্তার গ্রেপ্তার

জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের নতুন বিমানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানালেন ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাতারের উপহার দেওয়া বিমান সাময়িক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

ডাটা সেন্টারের কারণে উত্তর ভার্জিনিয়ায় এক বাসিন্দার বিদ্যুৎ বিল ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮১ ডলার। ছবি: সংগৃহীত
ডাটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ: ভার্জিনিয়ায় এক লাফে বিদ্যুৎ বিল ১০০ থেকে ২৮১ ডলার

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ডাটা সেন্টার হাব হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার "ডাটা সেন্টার অ্যালির" কাছাকাছি বসবাসকারী এক বাসিন্দার মাসিক বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ এক ধাক্কায় ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২৮১ ডলারে পৌঁছেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুতের যে তীব্র সংকট ও চাহিদা তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তা নতুন করে সামনে নিয়ে এল।   উত্তর ভার্জিনিয়ায় বর্তমানে ৩০০টিরও বেশি ডাটা সেন্টার রয়েছে, যা সারা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করে। এসব এআই ও প্রযুক্তিগত স্থাপনার বিশাল বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নতুন পাওয়ার লাইন, সাবস্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।   ভোক্তা অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ডাটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুৎ খাতের এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গ্রাহকের বিলে হঠাৎ এত বড় পরিবর্তনের পেছনে কেবল ডাটা সেন্টার নয়—পরিবর্তিত আবহাওয়া, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং নির্ধারিত বিদ্যুৎ মাশুলের পরিবর্তনসহ একাধিক কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১১:৫৯
২৬ ফেডারেল প্লাজার সামনে আগুন জ্বালানোর ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের ফেডারেল ভবনের সামনে আগুন জ্বালানো ডিভাইস, সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের তদন্ত শুরু

মাত্র ১৯ বছরেই থেমে গেল জীবনের পথচলা, ইসাবেলা গনজালেস | ছবি: সংগৃহীত

১৯ বছরেই শেষ হলো জীবনের পথচলা, জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত মার্কিন সেনা ইসাবেলা

মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দেওয়া বাইডেন প্রশাসনের “সবচেয়ে বড় ভুল” ছিল বলে মন্তব্য করলেন হান্টার বাইডেন। ছবি: সংগৃহীত

জো বাইডেন প্রশাসনের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’ প্রকাশ করলেন ছেলে হান্টার বাইডেন

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনা ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং টাইলার জেমস ফিহান। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করল পেন্টাগন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবারের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও তীব্র করেছে।   নিহত সেনারা হলেন ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হওয়া হামলায় তারা নিহত হন।    মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসাবেলা গঞ্জালেস টেক্সাসের ক্যারলটন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে টাইলার ফিহানের বাড়ি হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ইওয়া বিচ এলাকায়। তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।    পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।    মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান এই হামলার সঙ্গে জড়িত। ইরানের পক্ষ থেকে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।  এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।    মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনাদের স্মরণে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ১০:৩৪
মিশিগানে গ্যাসের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি বাড়ল ২০ সেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে কিস্তি শুরু হতেই রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে শিক্ষার্থী ঋণ খেলাপি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট লোন খেলাপিতে নতুন রেকর্ড, বিপাকে ৯৫ লাখ ঋণগ্রহীতা

বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার 'পোস্টপার্টাম অ্যাওয়ারনেস মান্থ'। ছবি: সংগৃহীত

সন্তান জন্মের পর মায়েদের মানসিক কষ্ট দূর করতে আটলান্টার নারীর বিশেষ উদ্যোগ

0 Comments