আমেরিকা

ট্রাম্পের নামে বিমানবন্দরে যেতে আপত্তি জানালে ফ্রি ফ্লাইট পরিবর্তন ? যা জানাল ইউনাইটেড

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৫:৩৮
ফ্লোরিডার নতুন নাম পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
ফ্লোরিডার নতুন নাম পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

ফ্লোরিডার নতুন নাম পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেতে অনিচ্ছুক যাত্রীদের বিনা খরচে অন্য গন্তব্যে পাঠানোর কোনো বিশেষ নীতি চালু হয়নি বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। যাত্রীসেবা কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ বার্তাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার এ অবস্থান স্পষ্ট করে মার্কিন বিমান সংস্থাটি। 

 

ভ্রমণবিষয়ক প্রকাশনা লাইভ অ্যান্ড লেটস ফ্লাইয়ের হাতে আসা ওই বার্তায় ইউনাইটেডের রিজার্ভেশন কর্মীদের বলা হয়েছিল, কোনো যাত্রী নতুন নামের বিমানবন্দরে যেতে না চাইলে কাছাকাছি ফোর্ট লডারডেল বা মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার বিকল্প দেওয়া যেতে পারে। নির্দেশনায় টিকিট পরিবর্তনটি সমমূল্যের বিনিময় হিসেবে সম্পন্ন করার কথাও ছিল, যাতে যাত্রীকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হয়।

 

তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস বলেছে, বার্তাটির ভাষা যথাযথ ছিল না এবং এতে প্রতিষ্ঠানের নীতি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, বিভিন্ন কারণে যাত্রীরা কোনো ফি ছাড়াই টিকিটে পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু শুধু কোনো বিমানবন্দরের নাম বা তিন অক্ষরের কোড পছন্দ না হওয়ার কারণে গন্তব্য পরিবর্তনের অনুমতি ইউনাইটেডের নীতিতে নেই। 

 

এর ফলে ট্রাম্পের নামে বিমানবন্দরটির নামকরণের বিরোধিতা করা কোনো যাত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে ফোর্ট লডারডেল কিংবা মিয়ামির ফ্লাইটে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন না। সাধারণ টিকিটের শর্ত, আসন খালি থাকা এবং এয়ারলাইনসের প্রচলিত পরিবর্তন নীতির ভিত্তিতেই প্রতিটি অনুরোধ বিবেচিত হবে।

 

ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে ৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়। ফ্লোরিডার আইনসভায় পাস হওয়া সংশ্লিষ্ট বিলে গভর্নর রন ডেস্যান্টিস ৩০ মার্চ অনুমোদন দেন। আইনটি ১ জুলাই কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন নাম চালু করা হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বিমানবন্দরটির নতুন নাম অনুযায়ী তাদের চার্ট ও তথ্যভান্ডারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের টিকিট, বোর্ডিং পাস ও লাগেজ ট্যাগে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোড ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পিবিআই থাকবে। এরপর আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার ব্যবহৃত কোড পরিবর্তিত হয়ে ডিজেটি হবে। 

 

নাম ও কোড পরিবর্তনের কারণে বিমানবন্দরের মালিকানা, পরিচালনা ব্যবস্থা, ফ্লাইট কিংবা যাত্রীসেবায় কোনো পরিবর্তন হবে না। পাম বিচ কাউন্টিই আগের মতো বিমানবন্দরটির নীতি, অর্থায়ন ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় সৎ বাবার ধর্ষণে গর্ভবতী ১১ বছরের শিশু, সন্তান জন্ম দিতেও বাধ্য করল মা

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় এক অমানবিক ও ভয়ংকর শিশু নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার সৎ বাবার ক্রমাগত শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়ার অপরাধে ৩৪ বছর বয়সী মা চেরি ওয়াকারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। শুধু নির্যাতন সহ্য করতে দেওয়াই নয়, ওই কিশোরীকে তাদের মলমূত্রে ভরা অত্যন্ত নোংরা একটি বাড়িতে চিকিৎসকের কোনো সাহায্য ছাড়াই সন্তান প্রসবে বাধ্য করেছিলেন ওই পাষণ্ড মা।   গত বছরের আগস্ট মাসে ওই কিশোরী সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের দেখা আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনার শিকার ওই ১১ বছরের কিশোরী এবং তার পাঁচ ছোট ভাইবোনকে (যাদের বয়স যথাক্রমে ২, ৪, ৬, ৭ এবং ৯ বছর) অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, উদ্ধারের সময় শিশুদের গায়ে কোনো কাপড় ছিল না এবং তারা কুকুরের মলমূত্রে পূর্ণ একটি অস্বাস্থ্যকর ঘরে বসবাস করছিল। পরবর্তীতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ১১ বছরের কিশোরীর জন্ম দেওয়া শিশুটির বাবা আসলে তারই সৎ বাবা ডাস্টিন ওয়াকার।   এই জঘন্য অপরাধের প্রমাণ মেলার পর ডাস্টিন ওয়াকারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আরও কঠোর করা হয়। গত মার্চ মাসে ডাস্টিন শিশু যৌন নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নেন এবং আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। স্বামীর শাস্তির মাত্র দুই সপ্তাহ পর মা চেরি ওয়াকারকেও শিশু অবহেলা ও যৌন নির্যাতনে সহায়তা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জুরি বোর্ড তার জন্যও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছে।   মাসকোগি কাউন্টির সহকারী জেলা অ্যাটর্নি জ্যানেট হাটসন আবেগাপ্লুত হয়ে এটিকে তার কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুতর শিশু নির্যাতন ও অবহেলার মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, মাত্র ১০-১১ বছর বয়সেই সৎ বাবার দ্বারা নির্যাতিত হয়ে গর্ভধারণ এবং কোনো চিকিৎসাসেবা ছাড়া নোংরা পরিবেশে সন্তান প্রসবের এই ঘটনাটি ওই শিশুর জন্য আজীবন এক গভীর ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। রাতের বেলা সামান্য এক গ্লাস পানি খাওয়ারও উপায় ছিল না যে বাড়িতে, সেখানেই দিনের পর দিন এমন পাশবিকতা চলেছে যা সভ্য সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৩:১৯
মার্কিন সিদ্ধান্ত ও সামরিক পদক্ষেপের কারণেই মূলত ইসরায়েল টিকে রয়েছে বলে বড় দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে মানচিত্র থেকে মুছে যেত ইসরায়েল: ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট নেত্রী আয়ানা প্রেসলির স্বামীর মালিকানাধীন বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তরুণী মার্তে। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আয়ানা প্রেসলির স্বামীর বাড়িতে ১৮ বছরের তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ট্রাম্পের কাছে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা কারাবন্দি ব্র্যান্ডন অর্টিজ-ভিটে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল খুনের আসামি, চাইল ৭৫ মিলিয়ন ডলার ও মার্কিন নাগরিকত্ব

স্থানীয় সরকার ও স্কুল বোর্ড পেরিয়ে এখন মার্কিন কংগ্রেস এবং বড় শহরের শীর্ষ নির্বাহী নেতৃত্বে আসছেন মুসলিম প্রার্থীরা। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন, মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের উত্থান এখন আলোচনায়

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের উপস্থিতি ও প্রভাব গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। একসময় স্থানীয় সরকার ও স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকা মুসলিম প্রার্থীরা এখন সিটি কাউন্সিল, অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কংগ্রেস এবং বড় শহরের নির্বাহী নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থীর বিজয় এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচিত হওয়ার পর বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।   মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এবং এর রাজনৈতিক শাখা সিএআইআর অ্যাকশন এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নির্বাচনে অন্তত ৭৬ জন মুসলিম-আমেরিকান বিভিন্ন পদে প্রার্থী হন। এর মধ্যে অন্তত ৩৮ জন নির্বাচিত হন, যা সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নির্বাচনের ফল যুক্ত হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়।   সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় শুধু একটি শহরের নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতীক।   একই নির্বাচনী চক্রে ভার্জিনিয়ায় গাজালা হাশমি রাজ্যব্যাপী নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এছাড়া মিশিগান, মিনেসোটা, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মুসলিম প্রার্থীরা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।   মার্কিন কংগ্রেসেও ধীরে ধীরে বাড়ছে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব। ২০০৬ সালে মিনেসোটা থেকে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। এরপর আন্দ্রে কারসন, ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব এবং সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লেটিফাহ সাইমন কংগ্রেসে যোগ দেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে চারজন মুসলিম সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি।   স্থানীয় পর্যায়ে মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএআইআর ও জেটপ্যাক-এর যৌথভাবে প্রকাশিত জাতীয় ডিরেক্টরি অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাধিক মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা ও বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মেয়র, সিটি কাউন্সিল সদস্য, স্কুল বোর্ড সদস্য, কাউন্টি কমিশনার, অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা এবং বিচারক।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গত দুই দশকে মুসলিম অভিবাসী পরিবারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, ব্যবসা এবং জনসেবামূলক পেশায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ভোটার নিবন্ধন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পাশাপাশি বড় রাজনৈতিক পদেও মুসলিম প্রার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও মিশিগান, মিনেসোটা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাসের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে তাদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একই গবেষণায় দেখা যায়, মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানও আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। যদিও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি, তবে রিপাবলিকান পার্টির প্রতিও সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে।   গাজা যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি, অর্থনীতি, নাগরিক অধিকার এবং বৈদেশিক নীতির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলিম ভোটারদের অবস্থান সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই এখন মুসলিম ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   একই সঙ্গে মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থানকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএন নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কিছু রক্ষণশীল বিশ্লেষক মুসলিম রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এসব মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতামত এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্নমতও রয়েছে।   অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোহরান মামদানির নির্বাচনী বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে বলে মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো দাবি করেছে। তাদের মতে, মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্বেষমূলক প্রচারণাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থান কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির বিষয় নয়। এটি দেশটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং মূলধারার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের বিকাশেরও প্রতিফলন। আগামী কংগ্রেস নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে এই প্রবণতা আরও কতটা বিস্তৃত হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১১:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত

চীনা বৃত্তিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, হার্ভার্ডে তদন্ত শুরু

গবেষণার বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন দায়িত্বে নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশি নাহিয়ান বিন খালেদ

ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে ইরানি ড্রোন ধ্বংসের অভিযানে নিহত মার্কিন সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ১৭তম মার্কিন সেনার মৃত্যু, নিহত সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটনের পরিচয় প্রকাশ

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে আরও এক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পেন্টাগন মঙ্গলবার জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল এয়ার বেসে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিরাপদে ধ্বংস করার অভিযানে নিহত হওয়া সেনাসদস্য হলেন নর্থ ক্যারোলিনার ফায়েটভিলের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইনটন। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর নিহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।    পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জুলাই এরবিল এয়ার বেসে একটি ভূপাতিত একমুখী আক্রমণকারী ড্রোনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই বিস্ফোরণে সার্জেন্ট সুইনটন নিহত হন এবং আরেক সেনাসদস্য সামান্য আহত হন। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।    সার্জেন্ট সুইনটন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ১০৮তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি ব্রিগেডের ডি ব্যাটারি, ২য় ব্যাটালিয়ন, ৫৫তম এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারি রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি এয়ার ডিফেন্স আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম অপারেটর হিসেবে কাজ শুরু করেন।    আর্মি এয়ার অ্যান্ড মিসাইল ডিফেন্স কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল জন এল. র্যাফার্টি বলেন, সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সার্জেন্ট সুইনটন জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না এবং তাঁর সাহস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সেনাসদস্যদের অনুপ্রাণিত করবে।    সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাঁর বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্জেন্ট সুইনটনকে মরণোত্তর ব্রোঞ্জ স্টার, পার্পল হার্ট এবং কমব্যাট অ্যাকশন ব্যাজ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তাঁকে মরণোত্তর স্টাফ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতিও দেওয়া হবে।    মাইকেল সুইনটনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। তিনি স্ত্রী মিয়া গনজালেজ-সুইনটন, ছয় বছর বয়সী এক ছেলে, চার বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ভাইবোনদের রেখে গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী লিখেছেন, শেষবারের মতো বিদায় জানানোই যে তাঁদের শেষ দেখা হবে, তা কখনো ভাবেননি। সুইনটনের মা ক্রিস্টেল সুইনটন আন্দুজার বলেন, তাঁর ছেলে দেশকে ভালোবাসতেন, নিজের দায়িত্বকে সম্মান করতেন এবং পরিবারের প্রতি ছিলেন নিবেদিত।    এর আগে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস ও ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান নিহত হন। সর্বশেষ সার্জেন্ট সুইনটনের মৃত্যুর পর চলমান ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাণহানির সংখ্যা ১৭-তে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১০:১২
মাত্র এক বছর আগে টেক্সাসের হেব্রন হাই স্কুলের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে সহপাঠীদের সাথে উল্লাসরত ইসাবেলা গনজালেস। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

গ্র্যাজুয়েশনের এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরছে ১৯ বছরের ইসাবেলার মরদেহ, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বন্ধুরা

Trump and mark rubio ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

২ লাখ ৫০ হাজার চীনা শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের দাবি ট্রাম্পের, বাড়ছে উদ্বেগ

একই রাস্তায় পাশাপাশি থাকা ও সমমূল্যের দুটি বাড়ির হোম ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামে শত শত ডলারের নজিরবিহীন পার্থক্য। ছবি: সংগৃহীত

একই বাড়ি, কিন্তু ইন্সুরেন্স খরচ দ্বিগুণ! কেন আপনার প্রতিবেশী কম প্রিমিয়াম দিচ্ছেন?

0 Comments