আমেরিকা

বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের জন্য কোনটি সেরা? স্যামস ক্লাব, কোস্টকো নাকি বিজেএস: বিশেষ বিশ্লেষণে যা জানা গেল

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২০:৩৭
মূল্য, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং কেনাকাটার সুবিধা বিবেচনায় হোলসেল ক্লাব নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করছেন ভোক্তা বিশ্লেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত
মূল্য, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং কেনাকাটার সুবিধা বিবেচনায় হোলসেল ক্লাব নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করছেন ভোক্তা বিশ্লেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের একটি বড় অংশ এখন মাসিক বাজারের জন্য সদস্যভিত্তিক হোলসেল স্টোরের ওপর নির্ভরশীল। স্যামস ক্লাব, কোস্টকো অথবা বিজেএস এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী, কোথায় হালাল বা মুসলিমবান্ধব পণ্যের বৈচিত্র্য বেশি এবং কোন সদস্যপদ বাংলাদেশি পরিবারের জন্য বেশি উপযোগী এসব প্রশ্ন নিয়েই থাকে নানা আলোচনা।

 

ভোক্তা বিশ্লেষণ, খাদ্যবিজ্ঞানীদের গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মুসলিম পরিবারের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের আলাদা পদ্ধতি রয়েছে। তবে বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় স্যামস ক্লাব অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে।

 

স্যামস ক্লাবের অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এখানে অনেক প্যাকেটজাত খাদ্যে OU, OK, Star-K বা Kof-K-এর মতো কোশের সার্টিফিকেশন স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। পাশাপাশি মেম্বার মার্ক ব্র্যান্ডের অনেক খাদ্যপণ্যের উপাদান তালিকাও পরিষ্কারভাবে দেওয়া হয়। ফলে যারা জেলাটিন, প্রাণীজ উপাদান বা খাদ্যের উৎস সম্পর্কে সচেতন, তাদের জন্য কেনাকাটা তুলনামূলক সহজ হয়।

 

এ ছাড়া অনেক স্যামস ক্লাব শাখায় হালাল সার্টিফায়েড ফ্রোজেন চিকেন, গরুর মাংস, নান, পরোটা, সামোসা, দক্ষিণ এশীয় স্ন্যাকস এবং বিভিন্ন খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। তবে এসব পণ্যের প্রাপ্যতা এলাকাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

স্যামস ক্লাবের আরেকটি জনপ্রিয় সুবিধা হলো স্ক্যান & গো প্রযুক্তি। মোবাইল ফোন দিয়ে পণ্য স্ক্যান করে সরাসরি মূল্য পরিশোধ করা যায়। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা অনেকটাই কমে যায়।

 

অন্যদিকে কোস্টকো দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত মানের পণ্য, কিরকল্যান্ড সিগনেচার ব্র্যান্ড, অর্গানিক খাদ্য, ফলমূল, দুগ্ধজাত পণ্য এবং উচ্চমানের মাংস ও সামুদ্রিক খাবারের জন্য পরিচিত। যারা পণ্যের গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের অনেকের কাছেই কোস্টকো প্রথম পছন্দ।

কোস্টকোর অনেক শাখায় কোশের পণ্যও পাওয়া যায়। তবে কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এসব পণ্যের সংগ্রহ প্রতিটি ওয়্যারহাউসের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অর্থাৎ এক শাখায় যে পণ্য পাওয়া যায়, অন্য শাখায় তা নাও থাকতে পারে।

 

বিজেএস হোলসেল ক্লাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে বেশি জনপ্রিয়। এখানে ম্যানুফ্যাকচারার কুপন ব্যবহার করা যায় এবং অনেক পণ্য তুলনামূলক ছোট প্যাকেজেও কেনা সম্ভব। ছোট পরিবারের জন্য এটি সুবিধাজনক হলেও হালাল বা কোশেরকেন্দ্রিক পণ্যের বৈচিত্র্য সাধারণভাবে স্যামস ক্লাবের তুলনায় সীমিত।

তবে বাংলাদেশি মুসলিম সমাজে একটি বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায় পণ্যে OU বা অন্য কোনো কোশের লোগো থাকলেই কি সেটি হালাল?

 

খাদ্যবিজ্ঞানী এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জো এম. রেগেনস্টেইন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে হালাল ও কোশের খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন, তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে হালাল ও কোশের খাদ্যব্যবস্থার মধ্যে অনেক মিল থাকলেও দুটি এক নয়। উভয় ক্ষেত্রেই খাদ্যের উপাদান, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়, কিন্তু ধর্মীয় বিধান ও সার্টিফিকেশনের মানদণ্ড ভিন্ন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পণ্যে OU, OK বা অন্য কোনো কোশের লোগো থাকলে সেটি নির্দিষ্ট ইহুদি খাদ্যবিধি অনুযায়ী প্রস্তুত হয়েছে এটি বোঝায়। তবে সেটি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালাল এমনটি বলা যায় না। বিশেষ করে মাংস, জেলাটিন, প্রাণীজ এনজাইম এবং অন্যান্য প্রাণীজ উপাদানের ক্ষেত্রে হালাল ও কোশেরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

 

তবে মাংসজাতীয় খাবারের বাইরে চিপস, বিস্কুট, কুকি, ক্যান্ডি, মার্শম্যালো, ডেজার্ট এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস কেনার সময়ও মুসলিম পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এসব পণ্যের কিছুতে জেলাটিন, ইমালসিফায়ার, এনজাইম বা অন্যান্য প্রাণীজ উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে, যার উৎস সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। এ কারণেই অনেক মুসলিম পরিবার কেনাকাটার সময় হালাল সার্টিফিকেশনের পাশাপাশি OU, OK, Star-K-এর মতো কোশের সার্টিফিকেশন এবং উপাদান তালিকাও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

 

অনেক ইসলামী স্কলার আরও মনে করিয়ে দেন, শুধু কোশের লোগো থাকলেই কোনো পণ্য হালাল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। বরং হালাল সার্টিফিকেশন থাকলে সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আর হালাল লোগো না থাকলে উপাদান তালিকা পড়ে জেলাটিন বা অন্যান্য প্রাণীজ উপাদানের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই পণ্য কেনা নিরাপদ।

 

বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য ইসলামী স্কলারদের আরেকটি পরামর্শ হলো, শুধু একটি লোগোর ওপর নির্ভর না করে পণ্যের সম্পূর্ণ উপাদান তালিকা পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। বর্তমানে অনেক খাদ্যপণ্য উদ্ভিজ্জ জেলাটিন বা বিকল্প উপাদান দিয়ে তৈরি হলেও কিছু পণ্যে এখনো প্রাণীজ উৎসের জেলাটিন বা অন্যান্য উপাদান ব্যবহার করা হয়। তাই সচেতনভাবে লেবেল পড়ে কেনাকাটা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান এড়ানো সহজ হয়।

 

সামগ্রিকভাবে মূল্য, আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের বৈচিত্র্য, হালাল বিকল্প, কোশের-চিহ্নিত পণ্যের উপস্থিতি, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের বাস্তব কেনাকাটার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় স্যামস ক্লাব তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। এরপর রয়েছে কোস্টকো এবং তারপর বিজেএস হোলসেল ক্লাব।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শাখায় একই ধরনের পণ্য পাওয়া যায় না। তাই সদস্যপদ নেওয়ার আগে নিজের এলাকার স্টোরে হালাল, দক্ষিণ এশীয় এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো নিয়মিত পাওয়া যায় কি না, সেটি যাচাই করাই সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইস সদর দপ্তরে হামলার চেষ্টা, অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইসসহ আটক সশস্ত্র ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত ফেডারেল সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সামনে সোমবার সকালে হামলার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।       স্থানীয় সময় সোমবার সকাল প্রায় সাড়ে ৮টার দিকে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় অবস্থিত জ্যাকব কে. জাভিটস ফেডারেল বিল্ডিং-এর মূল ফটকের সামনে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তি ভবনের প্রবেশমুখের কাছে অগ্নিসংযোগকারী ডিভাইস ব্যবহার করে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে এবং শক্তিশালী আতশবাজি বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ভবনের সামনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা নিরাপদ স্থানে সরে যান। একই সময় ওই ব্যক্তি নিজের কাছে থাকা দূরপাল্লার এয়ারসফট রাইফেল উঁচিয়ে আশপাশের মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিসের কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এজেন্টরা দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে মাটিতে ফেলে নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেওয়া হয়।পরবর্তীতে সন্দেহভাজনের সঙ্গে থাকা একটি হাতগাড়ি তল্লাশি করে আরও আতশবাজি, একটি নকল রাইফেল এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, হাতগাড়িটির গায়ে “ICE Off Our Streets” লেখা ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমূলক উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। ২৬ ফেডারেল প্লাজা ভবনটি নিউইয়র্কে আইসের ফিল্ড অফিস, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির বিভিন্ন দপ্তর এবং অভিবাসন আদালতের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় ভবনটি বিভিন্ন বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।       প্রাথমিক তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে সরকার ও আইস-বিরোধী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার চেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে হামলাকারীর পরিচয়, মানসিক অবস্থা এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ৫:২৮
ছবি : সংগৃহীত

ম্যানহাটনের আইসিই কার্যালয়ের বাইরে আগুন, সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য আটক

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবার মার্কিন পকেটে, গ্যাসের ছড়াল দাম ৪ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর নতুন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা নিয়ে নতুন বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
মিনেসোটা যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ, তাদেরই আইনজীবীর খরচ দিচ্ছেন করদাতারা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি নিজেদের পক্ষে লড়তে এখন সরকারি খরচে আইনজীবীর সহায়তা পাচ্ছেন। করদাতাদের অর্থে পরিচালিত আইনি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।    কেএসটিপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি সামাজিক সেবা কর্মসূচি থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই অভিযোগ ওঠার আগে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছিলেন।  মিনেসোটার আইন অনুযায়ী, কোনো আসামি নিজ খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিতে অক্ষম বলে আদালত মনে করলে তার জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো, অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক অভিযুক্ত যেন ন্যায্য বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করতে পারেন। তবে আদালত প্রয়োজনে অভিযুক্তের আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি ব্যয়ের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারে।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিনেসোটায় সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক আলোচিত মামলা সামনে এসেছে। এর মধ্যে শিশুদের খাবার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন সামাজিক সেবা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে বহু ব্যক্তি অভিযুক্ত হয়েছেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা এসব ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সরকারি অর্থ জালিয়াতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।     এদিকে, যাদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, তাদের জন্য আবারও করদাতাদের অর্থ ব্যয় করে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন এবং ন্যায্য আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২৩:৫৪
মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ট্রপিক্যাল স্টর্ম ‘বার্থা’র সর্বশেষ অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসের দিকে ধেয়ে আসছে মৌসুমের দ্বিতীয় ঝড় ‘বার্থা’, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার সতর্কতা

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারের পর আইসের হেফাজতে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকারে গিয়ে আটক নারী, যেকোনো মুহূর্তে হতে পারেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত

১৪ বছর পর ইরাসেমা চাভেজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক নারীকে। ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর পর ধরা পড়লো, ১০০ ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার রহস্য

ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ইতালিতে প্রবেশের সময় আটক হন টেক্সাসের এই হত্যা মামলার আসামি। ছবি: সংগৃহীত
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাতে আপাতত বাধা ইতালির আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে বিচার শুরুর আগেই দেশ ছেড়ে ইতালিতে পালিয়ে যাওয়া লি গিলিকে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো হচ্ছে না। ইতালির একটি আপিল আদালত তার প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত আইনি নিশ্চয়তা চেয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইতালির বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, লি গিলিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হলে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর করা হবে না, এ বিষয়ে মার্কিন সরকার কী ধরনের নিশ্চয়তা দিতে পারে। ইতালির আইনে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হওয়ায় এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।   ৩৯ বছর বয়সী লি গিলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেক্সাসের হিউস্টনে নিজের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ক্রিস্টা বাউয়ার গিলিকে হত্যা করেন তিনি। ওই সময় ক্রিস্টা নয় সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।   ঘটনার রাতে লি গিলি পুলিশকে ফোন করে জানান, তার স্ত্রী অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তার মৃত্যু অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে নয়; বরং গলায় চাপ প্রয়োগের কারণে শ্বাসরোধে হয়েছে। এরপরই ঘটনাটি হত্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই গিলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তারের পর ১০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্তি পান গিলি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে এবং ইলেকট্রনিক গোড়ালির নজরদারি যন্ত্র (অ্যাঙ্কল মনিটর) পরতে হয়েছিল।   তবে চলতি বছরের ১ মে তিনি সেই নজরদারি যন্ত্র কেটে ফেলেন এবং হিউস্টন থেকে প্রথমে কানাডা, পরে ইতালির মিলানে যান। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইতালিতে প্রবেশের সময় তিনি ভুয়া বেলজিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন এবং নিজের পরিচয় গোপন করতে অন্য একটি নাম ব্যবহার করেন। সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে আটক করে। পরে তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন এবং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী হত্যা মামলার বিচার এড়িয়ে তিনি ইতালিতে এসেছেন।   ইতালির আদালতে শুনানির সময় গিলি রাজনৈতিক আশ্রয়ও চান। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে ন্যায্য বিচার হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায় তিনি ইতালিতে পালিয়ে এসেছেন। যদিও টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর এখন পর্যন্ত জানায়নি যে তারা এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড চাইবে। তবে ইতালির আদালতের মতে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   আদালতে গিলি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি কাউকে হত্যা করিনি। আমি নির্দোষ। আমি যে অপরাধ করেছি, তা হলো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া।" এদিকে, ক্রিস্টা বাউয়ার গিলির পরিবারের আইনজীবী টিম ব্যালেঞ্জি বলেন, অভিযুক্তের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীরভাবে হতাশ। তাদের প্রত্যাশা ছিল আদালতে বিচার হবে এবং ক্রিস্টা ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যুর জন্য অভিযুক্তকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা যাবে।   হ্যারিস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে গিলিকে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতালির আদালত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও নিশ্চয়তা দিতে একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এরপরই তার প্রত্যর্পণ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: পিপল, কেপিআরসি ২ নিউজ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ২১:৫৮
অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার সমঝোতার আওতায় ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ বিতরণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্টে আজ থেকে জমা হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ডলার

অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে পরিচয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্টিফেন হাকিম। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর ধর্ষণের অভিযোগ, ফ্লোরিডার যুবকের আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারে

যানবাহন তল্লাশি অভিযানে অংশ নেওয়া আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যানবাহন তল্লাশিতে এবার বাধ্যতামূলক বডি ক্যামেরা পরবেন আইসিই কর্মকর্তারা

0 Comments