নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন, মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের উত্থান এখন আলোচনায়
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের উপস্থিতি ও প্রভাব গত দুই দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। একসময় স্থানীয় সরকার ও স্কুল বোর্ডের নির্বাচনে সীমাবদ্ধ থাকা মুসলিম প্রার্থীরা এখন সিটি কাউন্সিল, অঙ্গরাজ্যের আইনসভা, কংগ্রেস এবং বড় শহরের নির্বাহী নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থীর বিজয় এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জোহরান মামদানির নির্বাচিত হওয়ার পর বিষয়টি আবারও জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে।
মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এবং এর রাজনৈতিক শাখা সিএআইআর অ্যাকশন এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নির্বাচনে অন্তত ৭৬ জন মুসলিম-আমেরিকান বিভিন্ন পদে প্রার্থী হন। এর মধ্যে অন্তত ৩৮ জন নির্বাচিত হন, যা সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য। পরবর্তীতে আরও কয়েকটি নির্বাচনের ফল যুক্ত হওয়ায় এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির বিজয়। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিজয় শুধু একটি শহরের নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে মুসলিম-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতীক।
একই নির্বাচনী চক্রে ভার্জিনিয়ায় গাজালা হাশমি রাজ্যব্যাপী নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন। এছাড়া মিশিগান, মিনেসোটা, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, টেক্সাস, ওয়াশিংটন ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মুসলিম প্রার্থীরা স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন।
মার্কিন কংগ্রেসেও ধীরে ধীরে বাড়ছে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব। ২০০৬ সালে মিনেসোটা থেকে কিথ এলিসন প্রথম মুসলিম হিসেবে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। এরপর আন্দ্রে কারসন, ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব এবং সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লেটিফাহ সাইমন কংগ্রেসে যোগ দেন। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে চারজন মুসলিম সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোনো মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি।
স্থানীয় পর্যায়ে মুসলিম জনপ্রতিনিধির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সিএআইআর ও জেটপ্যাক-এর যৌথভাবে প্রকাশিত জাতীয় ডিরেক্টরি অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাধিক মুসলিম নির্বাচিত কর্মকর্তা ও বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মেয়র, সিটি কাউন্সিল সদস্য, স্কুল বোর্ড সদস্য, কাউন্টি কমিশনার, অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা এবং বিচারক।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গত দুই দশকে মুসলিম অভিবাসী পরিবারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, ব্যবসা এবং জনসেবামূলক পেশায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ভোটার নিবন্ধন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পাশাপাশি বড় রাজনৈতিক পদেও মুসলিম প্রার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও মিশিগান, মিনেসোটা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া ও টেক্সাসের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে তাদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। একই গবেষণায় দেখা যায়, মুসলিম ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থানও আগের তুলনায় আরও বৈচিত্র্যময় হয়েছে। যদিও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি, তবে রিপাবলিকান পার্টির প্রতিও সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গাজা যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি, অর্থনীতি, নাগরিক অধিকার এবং বৈদেশিক নীতির মতো বিভিন্ন ইস্যুতে মুসলিম ভোটারদের অবস্থান সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলই এখন মুসলিম ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল আরও জোরদার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
একই সঙ্গে মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থানকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএন নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কিছু রক্ষণশীল বিশ্লেষক মুসলিম রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধিকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এসব মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতামত এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্নমতও রয়েছে।
অন্যদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোহরান মামদানির নির্বাচনী বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী পোস্টের সংখ্যা বেড়েছে বলে মুসলিম অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো দাবি করেছে। তাদের মতে, মুসলিমদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্বেষমূলক প্রচারণাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থান কেবল একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির বিষয় নয়। এটি দেশটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্য, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং মূলধারার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের বিকাশেরও প্রতিফলন। আগামী কংগ্রেস নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে এই প্রবণতা আরও কতটা বিস্তৃত হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইস) আটক করেছে। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি, কর্মকর্তারা আসলে তাঁকে আটক করতে যাননি। অন্য একজনকে খুঁজতে গিয়ে ভুল পরিচয়ের কারণে তাঁকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। ৪৬ বছর বয়সী হুয়ান জেরার্দো আলাতোরে মার্তিনেজকে গত ৩০ জুলাই ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কনওয়ে শহরের একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় আটক করা হয়। আইনজীবী লিসা সেইফার্ট নিউজউইককে জানান, মার্তিনেজ সেখানে পূর্ণকালীন কাজ করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। সেইফার্টের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্তিনেজ ২০০০ সালের বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তাঁর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন করেন। আটকের আগের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে মার্তিনেজ ওই গ্যাস স্টেশনের বাইরে আইসের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের কর্মকর্তাদের দেখতে পান। পরে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা স্বীকার করেন যে ওই সময় কর্মকর্তারা অন্য একজনকে খুঁজছিলেন বলে আইনজীবী দাবি করেছেন। মার্তিনেজের আইনজীবীর ধারণা, এর সঙ্গে তাঁর সম্প্রতি কেনা একটি রুপালি রঙের হোন্ডা গাড়ির বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। গাড়িটি তিনি আগের মালিকের কাছ থেকে কিনেছিলেন, কিন্তু তখনও গাড়িটির নিবন্ধন নিজের নামে পরিবর্তন করেননি। সেইফার্টের মতে, আইস কর্মকর্তারা গাড়িটির খোঁজ করতে গিয়ে সেটির বর্তমান মালিক মার্তিনেজের কাছে পৌঁছে থাকতে পারেন। তবে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি শুক্রবার জানায়, ৩০ জুলাই কনওয়েতে মার্তিনেজকে আটকের জন্য আইস একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। বিভাগটি তাঁকে অপরাধে দণ্ডিত অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্তিনেজ ২০১৬ সালে স্থগিত বা বাতিল হওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ২০২০ সালে একই অভিযোগে আবারও তাঁর সাজা হয়। ওই মামলায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মদ পান করতে দেওয়া বা সরবরাহ করার অভিযোগেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তবে মার্তিনেজের আইনজীবী বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং বর্তমানে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আদালতে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসের হেফাজতে রয়েছেন। বর্তমানে মার্তিনেজ ওয়াশিংটনের টাকোমায় অবস্থিত নর্থওয়েস্ট আইস প্রসেসিং সেন্টারে আটক আছেন। আগামী ৮ অক্টোবর তাঁর পরবর্তী আদালত শুনানির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। আইনজীবী আশা করছেন, আদালত তাঁর গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনা করে তাঁকে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ দেবে। মার্তিনেজের সহায়তায় অনলাইনে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযানও শুরু হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে ৯ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি অর্থ জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগে মার্তিনেজকে কনওয়ের পরিচিত ও প্রিয় একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে তাঁকে মজা করে ‘কনওয়ের মেয়র’ বলে ডাকতেন, কারণ তিনি এলাকার অনেক মানুষকে চিনতেন এবং গ্যাস স্টেশনে কাজ করার সময় নিয়মিত গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলতেন। প্রায় নয় বছর আগে মার্তিনেজের সঙ্গে পরিচয় হয় ওয়াশিংটনের বিগ লেকের বাসিন্দা টিম ফেরেলের। তিনি তাঁর বাড়িতে বাগানের কাজসহ বিভিন্ন কাজে মার্তিনেজকে নিয়োগ করেছিলেন। ফেরেল মার্তিনেজকে বুদ্ধিমান, বন্ধুবৎসল ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আটকের পর তাঁকে আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতেও ভূমিকা রাখেন। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লিন্ডসে ব্রুকস জানান, গ্যাস স্টেশনে মার্তিনেজের অনুপস্থিতি স্থানীয়দের চোখে পড়ছে। তাঁর ছেলে মার্তিনেজকে আটকের খবর শুনে কষ্ট পেয়েছিল বলেও তিনি জানান। এদিকে আটকের পরও মার্তিনেজ মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। আটক কেন্দ্রে তিনি ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং সেখানে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব তৈরি করেছেন বলে আইনজীবী জানান। মার্তিনেজের মামলায় একদিকে তাঁর অতীতের ফৌজদারি দণ্ডের বিষয়টি সামনে এসেছে, অন্যদিকে তিনি যে বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন এবং স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর পরবর্তী শুনানিতে এসব বিষয় কীভাবে সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রবীণদের স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়া, ভারতীয় শিক্ষার্থীর ৩০ মাসের কারাদণ্ড
নিউইয়র্কে বিলাসবহুল মার্সিডিজ পোড়ানোর চেষ্টা, হোমলেসদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই আকর্ষণীয় চাকরির সুযোগ দিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। যারা অপেক্ষাকৃত কম যোগ্যতায় ভালো কাজের সন্ধান করছেন, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির অফিশিয়াল ক্যারিয়ার ওয়েবসাইট ‘জবসএনওয়াইসি’ (JobsNYC) পোর্টালে বেশ কিছু এন্ট্রি-লেভেল পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। কেবল ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং সাধারণ নির্দেশনা বুঝে কাজ করার সক্ষমতা থাকলেই এই পদগুলোর জন্য আবেদন করা যাবে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডিপার্টমেন্ট অব প্রোবেশন তাদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার জন্য ছয়জন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের মূল কাজ হবে সাধারণ দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা এবং ফ্রন্ট ডেস্ক সামলানো। অন্যদিকে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমলেস সার্ভিসেসও একই পদে দুজন কর্মী খুঁজছে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মালামাল ওঠানো-নামানো ও গুদামজাত করা এবং ক্লায়েন্টদের কার্যক্রম তদারকিতে সহায়তা করা। এই পদের কর্মীদের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা অথবা মঙ্গলবার থেকে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত শিফটে কাজ করতে হবে। উভয় বিভাগের এই পদগুলোর জন্যই বার্ষিক বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৯৭০ ডলার থেকে ৪৯ হাজার ৩০ ডলার পর্যন্ত। এছাড়াও, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) হিউম্যান রিসোর্সেস ডিভিশন তাদের প্রি-এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস ইউনিটের জন্য দুজন ‘কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নিয়োগ দিচ্ছে। এই পদে কর্মরতদের প্রধান দায়িত্ব হবে সম্ভাব্য চাকরিপ্রার্থীদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করা, নিয়োগ সংক্রান্ত ইভেন্টের ক্যালেন্ডার পরিচালনা করা এবং সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারণ করা। নির্বাচিত কর্মীদের সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার শিফটে কাজ করতে হবে।
সেনাসদস্য থেকে মার্কিন নাগরিক, ‘এবার আমি আমেরিকা উপভোগ করতে চাই’
নিউজার্সিতে টিন্ডারে ‘হিটম্যান’ ভাড়া করে সাবেক প্রেমিক ও তার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা, ২৮ বছরের তরুণী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশই অন্য ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, ১৩ দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউইয়র্কের শৈশবের বাড়িটি আবারও হাতবদল হয়েছে। আট মাসের ব্যাপক সংস্কারকাজের পর জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকায় অবস্থিত টিউডর-শৈলীর এই ঐতিহাসিক বাড়িটি সম্প্রতি ১.৯৩ মিলিয়ন বা ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ‘রি/ম্যাক্স এজ’-এর লিস্টিং এজেন্ট জো ঝু আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছর ডেভেলপার টমি লিন যখন জরাজীর্ণ অবস্থায় বাড়িটি কিনেছিলেন, তখন এর দাম ছিল ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এরপর তিনি পাঁচ লাখ ডলারের বেশি খরচ করে আট মাস ধরে বাড়িটির পুরো ভোল পালটে ফেলেন। সংস্কারের পর বাড়িটির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা এর খুব কাছাকাছি দামেই বাড়িটি কিনে নেন। জো ঝু জানান, বাড়িটির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অনেকেই কেবল একটি সুন্দর বাড়ির চেয়ে এর ঐতিহাসিক মূল্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৪০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। ট্রাম্পের বয়স যখন চার বছর, তখন তাদের পরিবার জ্যামাইকা এস্টেটসের অন্য একটি বড় বাড়িতে চলে যায়। তবে ৮৫-১৫ ওয়্যারহ্যাম প্লেসের এই বাড়িটি দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর টমি লিনের হাতে নতুন জীবন পেয়েছে। পুরোনো স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ভাঙা পাইপলাইন আর ভবঘুরে বিড়ালের আড্ডাস্থল থেকে বাড়িটিতে এখন যুক্ত হয়েছে বিলাসবহুল কিচেন, আধুনিক বাথরুম এবং নজরকাড়া মেঝে। তবে এর বাইরের ঐতিহাসিক টিউডর-শৈলীটি অবিকৃত রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল এবং পরে এটি পর্যটকদের জন্য এয়ারবিএনবিতেও (Airbnb) ভাড়া দেওয়া হতো।
নিউইয়র্কে ৯/১১ স্মরণসভায় ‘সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো’ স্লোগান, উগ্র ডানপন্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ
চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে ৯৩ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতি, ভারতীয় নাগরিককে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র