আমেরিকা

চীনা বৃত্তিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, হার্ভার্ডে তদন্ত শুরু

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১১:১১
চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত
চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি কর্মসূচি মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। সোমবার বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন এ তদন্তের ঘোষণা দেয়। 

 

বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো হার্ভার্ডের কিছু চীন-সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন ও বৃত্তি কর্মসূচিতে মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না এবং তা ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্স লঙ্ঘন করছে কি না, তা নির্ধারণ করা। এই আইনে ফেডারেল অর্থায়নপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ।

 

বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিট কে. ধিলন বলেন, প্রতিটি মার্কিন শিক্ষার্থীর বৃত্তি, অনুদান ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার জন্য সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ থাকা উচিত। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেডারেল অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের এমন অর্থ গ্রহণ করতে পারে না, যার শর্ত অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা থেকে বাদ দেওয়া হয়। 

 

বিচার বিভাগ জানায়, ১৯৬৫ সালের উচ্চশিক্ষা আইনের ১১৭ ধারার আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বছরে আড়াই লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের বিদেশি অনুদান ও চুক্তির তথ্য সরকারকে জানাতে হয়। হার্ভার্ডের জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি উৎস থেকে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ঘোষিত বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে চীনভিত্তিক উৎস থেকেই এসেছে ৬৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। 

 

বিচার বিভাগের দাবি, হার্ভার্ডের বিদেশি অর্থায়নের নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চীনভিত্তিক কিছু দাতা তাদের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্ত আরোপ করেছেন। এসব শর্ত অনুসরণ করে হার্ভার্ড যদি নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দিয়ে থাকে, তাহলে তা অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের জন্য বৈষম্যের কারণ হতে পারে। 

 

তবে তদন্তের এই পর্যায়ে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এটি একটি কমপ্লায়েন্স রিভিউ বা আইন মেনে চলা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।

 

অন্যদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আর্থিক সহায়তা বণ্টনের ক্ষেত্রে তারা জাতি, জাতিগত পরিচয় বা জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো বেআইনি বৈষম্য করে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা বিচার বিভাগের পাঠানো নোটিশ পর্যালোচনা করছে এবং সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে। 

 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হার্ভার্ডের একাধিক ইস্যুতে বিরোধ তৈরি হয়েছে। ভর্তি নীতি, বিদেশি অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের বাড়তি নজরদারির মুখে রয়েছে। নতুন এই তদন্ত সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে ৫ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্প, গড়ে উঠছে আমেরিকার বৃহত্তম ক্যাসিনো রিসোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় গেমিং ও ক্যাসিনো রিসোর্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের এক বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কুইন্সের অ্যাকুয়াডাক্ট রেস ট্র্যাকিং গ্রাউন্ডের পাশে অবস্থিত শহরের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক সিটি'কে এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাস ভেগাস স্টাইলের আন্তর্জাতিক মানের এক আধুনিক সমন্বিত রিসোর্টে রূপান্তর করা হচ্ছে। সম্প্রসারণের নতুন ধাপ শুরু হওয়ার পর ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাদের এই বিশ্বমানের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নকশা প্রকাশ করেছে।   এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ক্যাসিনো কমপ্লেক্সে ৪০০ রুমের একটি নতুন হায়াত হোটেল টাওয়ার এবং আরেকটি নতুন বিলাসবহুল 'ক্রকফোর্ডস' হোটেল নির্মাণ করা হবে। এতে করে পরবর্তীতে মোট ২ হাজার রুমের বিশাল হোটেল সুবিধায় রূপ নেবে ক্যাসিনোটি। এ ছাড়া ৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি সর্বাধুনিক মাল্টিপারপাস কনসার্ট অ্যারেনা, সৌর প্যানেল সংবলিত বহুতল পার্কিং গ্যারেজ এবং এনবিএ (NBA) কিংবদন্তি কেনি "দ্য জেট" স্মিথের নামে একটি স্পোর্টস ও মিডিয়া কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে যা নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রথম তলার কাজের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ১,৪০০টি স্লট মেশিন চালু করা হয়েছে।   মালয়েশিয়াভিত্তিক গেন্টিং গ্রুপের মালিকানাধীন 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড' ২০১১ সাল থেকে চালুর পর চলতি বছরেই নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো পরিচালনার লাইসেন্স লাভ করে। বর্তমানে ক্যাসিনোটিতে প্রায় ৪ হাজার স্লট মেশিনের পাশাপাশি ২৪০টি টেবিলে ব্ল্যাকজ্যাক, ক্র্যাপস, ব্যাকারেট ও রুলেটের মতো লাইভ গেমিং খেলার সুযোগ রয়েছে। এই বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফলে কুইন্সে নতুন কাজের সুযোগ ব্যাপক বাড়বে। ক্যাসিনোটিতে বর্তমানে ২,২০০ কর্মী কর্মরত থাকলেও চলতি গ্রীষ্মের শেষের মধ্যেই আরও ৫০০ থেকে ২,৭০০ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে।   উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশন মোট তিনটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো লাইসেন্স অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক মেটস দলের মালিক স্টিভ কোহেন ও হার্ড রক মিলে ফ্লাশিংয়ে 'মেট্রোপলিটন পার্ক' এবং ব্যালিস ডটকম ব্রঙ্কসের একটি সাবেক গলফ কোর্সে নতুন ক্যাসিনো নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে আগের থেকে অবকাঠামো চালু থাকায় দৌড়ে বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড। কেবল ক্যাসিনো সম্প্রসারণই নয়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি সামাজিক ফান্ড এবং ৫০ হাজার আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা ছাড়া আগামী ১০ বছরে এই ক্যাসিনো থেকে রাজ্য ও স্থানীয় সরকার প্রায় ১০.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:১৬
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী শামসুল হক

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রাইমারিতে মাত্র ৭ ভোটে হেরেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শামসুল হক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের পোর্টল্যান্ডে ২৮৭ ডলারের বিল আদায় করতে গিয়ে উল্টো ৩২ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ গুনলেন বাড়িওয়ালা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় সৎ বাবার ধর্ষণে গর্ভবতী ১১ বছরের শিশু, সন্তান জন্ম দিতেও বাধ্য করল মা

মার্কিন সিদ্ধান্ত ও সামরিক পদক্ষেপের কারণেই মূলত ইসরায়েল টিকে রয়েছে বলে বড় দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ না করলে মানচিত্র থেকে মুছে যেত ইসরায়েল: ট্রাম্প

মার্কিন সিদ্ধান্ত ও সামরিক পদক্ষেপের কারণেই মূলত ইসরায়েল টিকে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সঠিক সময়ে পদক্ষেপে না নিত এবং ইরানে হামলা না চালাত, তবে বিশ্বের মানচিত্র থেকে ইসরায়েল দেশটির নামই মুছে যেত।   সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তার নেওয়া সেই সিদ্ধান্তের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারেনি। চুক্তিটি বহাল থাকলে বহু বছর আগেই তেহরান পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতো, যা ইসরায়েলের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিত।   তিনি আরও জানান, তার প্রশাসনের সময়ে তৎকালীন বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সফল আঘাত হানা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সে সময় সামরিক পদক্ষেপ না নিলে ইরান পারমাণবিক শক্তি অর্জন করত এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে খুঁজে পাওয়া যেত না। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের এই পারমাণবিক শক্তির হুমকিতে কেবল ইসরায়েলই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১২:৫৭
ডেমোক্র্যাট নেত্রী আয়ানা প্রেসলির স্বামীর মালিকানাধীন বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তরুণী মার্তে। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য আয়ানা প্রেসলির স্বামীর বাড়িতে ১৮ বছরের তরুণীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ট্রাম্পের কাছে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা কারাবন্দি ব্র্যান্ডন অর্টিজ-ভিটে। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করল খুনের আসামি, চাইল ৭৫ মিলিয়ন ডলার ও মার্কিন নাগরিকত্ব

স্থানীয় সরকার ও স্কুল বোর্ড পেরিয়ে এখন মার্কিন কংগ্রেস এবং বড় শহরের শীর্ষ নির্বাহী নেতৃত্বে আসছেন মুসলিম প্রার্থীরা। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন, মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের উত্থান এখন আলোচনায়

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১১:৩০
চীনভিত্তিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার বিভাগের তদন্ত শুরু। ছবি: সংগৃহীত

চীনা বৃত্তিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ, হার্ভার্ডে তদন্ত শুরু

গবেষণার বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন দায়িত্বে নাহিয়ান বিন খালেদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বাংলাদেশি নাহিয়ান বিন খালেদ

ইরাকের এরবিল এয়ার বেসে ইরানি ড্রোন ধ্বংসের অভিযানে নিহত মার্কিন সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটন। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে ১৭তম মার্কিন সেনার মৃত্যু, নিহত সার্জেন্ট মাইকেল সুইনটনের পরিচয় প্রকাশ

0 Comments