যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩৪ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির সহায়তায় ১৯৯২ সালের ‘কোল্ড কেস’-এর সঙ্গে ৬৫ বছর বয়সী রিকি ডসনকে যুক্ত করার পর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা, ধর্ষণ ও সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সান ফ্রান্সিসকো জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, নিহত নারী ন্যান্সি হার্নান্দেজ (৪৫) ১৯৯২ সালের ২ মে শহরের চায়নাটাউনের হ্যাং আহ অ্যালির একটি ইউটিলিটি করিডোরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। তিনি গৃহহীন ছিলেন এবং ওই এলাকাতেই আশ্রয় নিয়ে বসবাস করতেন। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, তাকে নির্মমভাবে মারধর, যৌন নির্যাতন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় মামলাটি অমীমাংসিত থাকলেও ২০২৩ সালে সান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগের কোল্ড কেস ইউনিট পুনরায় তদন্ত শুরু করে। পরে সংরক্ষিত আলামত থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনা জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেস (CODIS)-এর সঙ্গে মিলিয়ে রিকি ডসনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ডসন ইতোমধ্যে কলোরাডোতে ১৯৯৬ সালের এক নারীকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। এছাড়া ফ্লোরিডা ও ওয়াশিংটনের আরও কয়েকটি নারী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তার ডিএনএ মিলেছে। তবে সব ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
গত ২০ জুলাই সান ফ্রান্সিসকো আদালতে হাজির হয়ে রিকি ডসন নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সান ফ্রান্সিসকো পুলিশের প্রধান বিল স্কট বলেন, “কোনো মামলা যত পুরোনোই হোক, আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত থামব না।” তিনি জানান, তদন্ত এখনও চলমান এবং এ ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ১০ হাজার হুমকির তদন্ত করেছে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটির পরিচালক শন কারান জানান, তাঁর ২৪ বছরের কর্মজীবনে এত বড় পরিসরের হুমকির পরিস্থিতি তিনি আগে কখনো দেখেননি। কারানের ভাষায়, “পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি অস্থির। হুমকির পরিধি ও মাত্রা আমার দেখা সবচেয়ে বড়।” সিক্রেট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে তদন্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার। সেই তুলনায় চলতি বছরে হুমকির তদন্ত বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বর্তমানে সংস্থাটি প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, তাঁদের পরিবারের সদস্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রেসিডেন্টের উত্তরাধিকার তালিকায় থাকা কর্মকর্তাসহ প্রায় তিন ডজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ হুমকিই আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ই-মেইল ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে। প্রতিটি অভিযোগকেই শুরুতে সম্ভাব্য বাস্তব হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হামলার উদ্দেশ্য, সক্ষমতা এবং বাস্তবে তা কার্যকর করার সামর্থ্য আছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে অন্যান্য ফেডারেল ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে সহিংস হুমকি ও অনলাইন উসকানি বাড়তে থাকায় সিক্রেট সার্ভিস এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি চাপের মধ্যে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার এক হাজারের বেশি গবেষণা অনুদান বাতিলের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে ফেডারেল সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে, গবেষণা প্রকল্প বাছাই ও বাতিলের ক্ষেত্রে তারা বৈচিত্র্য, লিঙ্গ, টিকা-সংক্রান্ত দ্বিধা এবং কোভিড–১৯–সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট কিছু কীওয়ার্ড ব্যবহার করেছিল। এই স্বীকারোক্তির পর চলমান মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে। মামলাটি করেছেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একদল গবেষক। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের গবেষণা অনুদান বেআইনিভাবে বাতিল করা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া নতুন নথিকে তারা নিজেদের দাবির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং বিচারকের কাছে পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়াই তাদের পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২০ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন সংস্থা প্রতিটি গবেষণা প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন না করে সাধারণ কিছু মানদণ্ড ও কীওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুদান বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। গবেষকদের আইনজীবীদের দাবি, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের একাধিক সুরক্ষা লঙ্ঘনের শামিল। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) স্বীকার করেছে, তারা অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘হেলথ ইকুইটি’, ‘ওয়ার্কফোর্স ডাইভারসিটি’, ‘স্ট্রাকচারাল রেসিজম’ এবং ‘সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন’–এর মতো শব্দ থাকা গবেষণা প্রকল্পগুলো শনাক্ত করেছিল। একইভাবে পরিবহন বিভাগও ‘ট্রান্সপোর্টেশন ইকুইটি’ ও ‘ডিসঅ্যাডভান্টেজড কমিউনিটিজ’–সংক্রান্ত প্রকল্প চিহ্নিত করে কয়েকটি অনুদান বাতিল করে। গবেষকদের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, এসব সিদ্ধান্তের ফলে বহু গবেষণা প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাজ ব্যাহত হয় এবং অনেক গবেষণা সহকারীকে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাদের দাবি, অনুদান বাতিলের ক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোর বৈজ্ঞানিক মান বা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি নয়, বরং নির্দিষ্ট শব্দ ও নীতিগত অবস্থানকে ভিত্তি করা হয়েছিল। এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগ, যা ফেডারেল সংস্থাগুলোর পক্ষে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছে, আদালতে উত্থাপিত সাংবিধানিক অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। তবে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত পৃথক এক মামলায় রায় দিয়ে জানিয়েছিল, শুধু সংস্থার অগ্রাধিকার পরিবর্তনের অজুহাতে ব্যাপক আকারে অনুদান বাতিলের ক্ষমতা সরকারের নেই। সেই রায়ও গবেষণা অনুদানসংক্রান্ত চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় মুষলধারে বৃষ্টির পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে সেতু, বন্ধ হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে শত শত ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর প্যাট্রিক মরিসি। মঙ্গলবার রাতে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ৫৫টি কাউন্টিতেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর। বুধবারও কয়েকজন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও যাচাই ছাড়া কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে গভর্নরের দপ্তর। প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের উদ্ধারকারী দল অন্তত ৮৫টি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। ন্যাশনাল গার্ড ও অঙ্গরাজ্য পুলিশের ১৯টি হেলিকপ্টার সরাসরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে অথবা জরুরি প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হওয়া মানুষের জন্য তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে একশর বেশি বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যাকবলিত অনেক এলাকায় পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকারীরা সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো এলাকায় সাত ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। গভর্নর মরিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি স্থানে মাত্র ৩৭ মিনিটে সাড়ে চার ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আগে থেকেই মাটি পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নদী, খাল ও নিচু এলাকায় জমে যায়। লুইস ও আপশার কাউন্টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে। ওয়েস্টনের একটি বিপণিবিতানের পার্কিংয়ে রাখা গাড়ি পানিতে ডুবে যায় এবং কাদামিশ্রিত পানি ভবনের অনেক ভেতর পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। কাছের একটি হোটেলের নিচতলাও প্লাবিত হয়। বাকহ্যানন শহরের মেয়র রবি স্কিনার ক্ষয়ক্ষতিকে হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন। দুর্গতদের সহায়তার জন্য ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ওয়েসলিয়ান কলেজে ত্রাণসামগ্রী গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বন্যার কারণে ইন্টারস্টেট ৭৯, ইউএস রুট ৪৮ এবং বহু স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফায়েটভিল শহরে বৃষ্টির কারণে তৈরি একটি গর্তে একটি গাড়ি তলিয়ে যায়। প্লাবিত সড়কে আটকা পড়া বহু মানুষকে উদ্ধার করেছে জরুরি বিভাগ। মঙ্গলবারের ঝড়ের সময় ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কাও দেখা দেয়। সেন্ট মেরিস ও বেলমন্ট এলাকায় সম্ভাব্য টর্নেডোর কারণে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বুধবার বৃষ্টি কমে এলেও নদী ও খালের আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে বন্যা সতর্কতা বহাল ছিল। বাকহ্যাননের কাছে স্যান্ড রান নামের একটি খালের পানি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এর আগে ১৯৮৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় ওই খালের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতার রেকর্ড হয়েছিল। সেই দুর্যোগে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াজুড়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গভর্নর মরিসি জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হবে। দুর্গত জনপদগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে ব্যাপক সহায়তার প্রয়োজন হবে।