আমেরিকা

গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে গ্রেপ্তার, মার্কিন সেনার স্ত্রীকে ডিপোর্ট করল আইসিই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:১৪
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকান আর্মি ভেটেরানের লিথুয়ানিয়ান স্ত্রী অ্যারাইডা গুল্ডকে গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে যাওয়ার পর আটক করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। টানা ৬৬ দিন বন্দি রাখার পর শিকাগো ও’হেয়ার বিমানবন্দর থেকে তাকে লিথুয়ানিয়ায় ডিপোর্ট করা হয়। গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে বিয়েটি বৈধ বলে অনুমোদন পাওয়ার পরপরই তাঁকে একই ভবনে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

আমেরিকান সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) তাদের বিয়ে ও পিটিশন অনুমোদন করলেও ২০০৯ সালের একটি পুরনো রিমুভাল অর্ডারের অজুহাতে তাঁকে আটক করা হয়। মূলত রাস্তাঘাটে জ্যাম থাকায় ২০০৯ সালে আদালতের শুনানিতে দেরি করে পৌঁছানোর কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতেই একটি আদেশ জারি হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি না মেনেই আইসিই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবার ও আইনজীবী।

 

লিথুয়ানিয়ার নাগরিক অ্যারাইডা ২০০০ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ৫৩ বছর বয়সী এই নারী গত দুই দশক ধরে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে তিন সন্তানকে লালন-পালন করেছেন। ইউএস আর্মি ভেটেরান মার্ক গুল্ডের সঙ্গে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দাম্পত্য জীবন কাটালেও তাঁদের কোনো সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ এমন কড়া পদক্ষেপ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

 

আটকের পর অ্যারাইডাকে ইলিনয় থেকে কেনটাকি এবং পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে ঘুরিয়ে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে পরিবারের সদস্য বা স্বামীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি। আইসিইর ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অবস্থা চরম অস্বাস্থ্যকর বলে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন। ডিপোর্টেশনের ফ্লাইটের আগে তাঁকে শুধু কিছু নগদ অর্থ ও জরুরি সরঞ্জাম দেওয়ার অনুমতি পান তাঁর স্বামী।

 

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছে, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দেশে না ফেরায় ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিয়ে অনুমোদন পেলেই আইনি নিরাপত্তা পাওয়া নিশ্চিত হয় না বলেও তারা দাবি করে। অ্যারাইডার আইনি দল ইতিমধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডে জরুরি আবেদন দাখিল করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
নিউ ইয়র্কের কুইন্সে অবস্থিত ল্যাগার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করছে একটি বিমান। ছবি: রয়টার্স
নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রকেট লঞ্চার হামলার মিথ্যা সতর্কতায় আতঙ্কিত ডেল্টা পাইলট

নিউ ইয়র্কের ল্যাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে মঙ্গলবার রাতে অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ডেল্টা এয়ারলাইন্সের এক পাইলট সম্ভাব্য রকেট লঞ্চার হামলার একটি ভয়ঙ্কর মধ্য-আকাশের সতর্কতার মুখোমুখি হন। ডেট্রয়েট থেকে ল্যাগার্ডিয়াগামী ডেল্টা ফ্লাইট ২৬০৪-কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে রাত ৮টা ২৭ মিনিটে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা একটি ম্যানপ্যাড সতর্কতা জারি করেন। সিবিএস নিউজের প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডিং অনুযায়ী, এক এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার বলেন, "ল্যাগার্ডিয়া বিমানবন্দরে ম্যানপ্যাড সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চরম সতর্কতা অবলম্বন করুন।"   পোর্ট অথরিটি পুলিশ পরবর্তীতে যেটিকে একটি প্রতারণা বলে অভিহিত করে, সেই বেনামী টিপটি ল্যাগার্ডিয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাওয়া মাত্রই অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া পাইলটকে আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত করে তোলে। পাইলট যখন কন্ট্রোলারকে ম্যানপ্যাড কী তা ব্যাখ্যা করতে বলেন, তখন টাওয়ার থেকে জানানো হয় এটি মানব-বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কন্ট্রোলার আরও যোগ করেন, মূলত এটি একটি রকেট লঞ্চার হামলার রিপোর্ট ছিল।   তবে সতর্কতা জারি করার এক মিনিটের মধ্যেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা হুমকিটি খারিজ করে দেন। পাইলটকে উদ্দেশ্য করে কন্ট্রোলার বলেন, উত্তর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, ডেল্টা ২৬০৪। পোর্ট অথরিটি পুলিশ রিপোর্ট করেছে যে এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন হুমকি। ডেল্টা ফ্লাইটটি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে অবতরণ করে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১২:৩৫
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই শিশু মায়া ও সিগমন্ডের সাথে তাদের বাবা-মা। ছবি: ফেসবুক

নিউ জার্সিতে নৌকা দুর্ঘটনায় একসঙ্গেই প্রাণ গেল দুই ভাই-বোনের, শোকের ছায়া পরিবারে

গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে আটক হওয়া এবং টানা ৬৬ দিন বন্দি থাকার পর নিজ দেশে ডিপোর্ট হওয়া লিথুয়ানিয়ান নারী অ্যারাইডা গুল্ড। ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে গিয়ে গ্রেপ্তার, মার্কিন সেনার স্ত্রীকে ডিপোর্ট করল আইসিই

মাত্র ৮০০ ডলার দিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ বছরে ৩৫ মিলিয়ন ডলার আয় করছেন ডেমি মারচেসে। ছবি: সংগৃহীত

কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই ৮০০ ডলারে শুরু, আজ ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

নিউইয়র্ক-সিলিকন ভ্যালিকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির নতুন শীর্ষে জর্জিয়ার অগাস্টা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির নতুন হটস্পট, নিউইয়র্ক-সিলিকন ভ্যালির বাইরে শীর্ষে যে শহর

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে নতুন প্রবণতার ইঙ্গিত দিয়েছে পেশাজীবীদের নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম লিংকডইন। দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক, সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকোর বাইরেও দ্রুত বিকশিত হচ্ছে নতুন নতুন চাকরির বাজার। এসব উদীয়মান শহরের মধ্যে ২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে জর্জিয়ার অগাস্টা।   ২১ জুলাই প্রকাশিত লিংকডইনের দ্বিতীয় বার্ষিক ‘সিটিজ অন দ্য রাইজ’ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বিকাশমান ২৫টি মেট্রোপলিটন এলাকার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে এমন সব শহরকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উন্নত জীবনমান একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে।   লিংকডইন তাদের নিজস্ব নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন এবং পেশাজীবীদের স্থানান্তরসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তালিকা তৈরি করেছে। পাশাপাশি আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান রিয়েল্টর ডট কম এর তথ্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার অগাস্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাইবার নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি এবং ডেটা সেন্টারে বড় বিনিয়োগ হয়েছে। এর ফলে শহরটিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রুত বেড়েছে এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে দক্ষ কর্মীরা সেখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড। এরপর রয়েছে নেভাডার রেনো, ফ্লোরিডার নর্থ পোর্ট–ব্র্যাডেন্টন–সারাসোটা এবং পেনসিলভানিয়ার হ্যারিসবার্গ।   লিংকডইনের ‘জবস অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট’-এর সম্পাদক অ্যান্ড্রু সিম্যান বলেন, বর্তমানে অনেক পেশাজীবী শুধু বেতন নয়, বরং কোথায় বসবাস করবেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কত হবে এবং কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনের মান কেমন হবে—এসব বিষয়কেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। লিংকডইনের জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, তারা ‘বাঁচার জন্য কাজ করেন, কাজের জন্য বাঁচেন না’।   প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের তালিকায় থাকা ২৫টি শহরের মধ্যে ১৫টিই এবারও স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি ইঙ্গিত করছে, এসব অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মী আকর্ষণের ধারা অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত উৎপাদনশিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ছোট ও মাঝারি শহরগুলো আগামী বছরগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয় ও উন্নত জীবনমানের কারণে এসব শহর নতুন প্রজন্মের চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে ক্রমেই বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ১০:৩৭
কোটি টাকার কনডোতে ধূমপানের দায়ে ৮৭ হাজার ডলার জরিমানার মুখে আন্তর্জাতিক পোকার তারকা। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের লাক্সারি কনডোতে ধূমপান ও গাঁজা সেবন, ৮৭ হাজার ডলার জরিমানার পর অবশেষে মামলা

পারমাণবিক চুক্তির জন্য সৌদি আরবকে ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্ত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তিতে ট্রাম্পের নতুন শর্ত, ইসরায়েলকে দিতে হবে স্বীকৃতি

পরিচয় যাচাইয়ের মারাত্মক ভুলের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তির কারাবরণ নিয়ে আইনি মহলে ব্যাপক প্রশ্ন। ছবি: সংগৃহীত

নামের মিলের কারণে ৪ মাস কারাভোগ, ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেলেন ৩০ লাখ টাকা

ক্যামেরার দৃশ্য। ছবি:সংগৃহীত
বডিক্যামেরায় ধরা পড়ল হৃদয়বিদারক দৃশ্য, বাবাকে পিটিয়ে হত্যার পর ছেলের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ এক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনায় ৬৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের প্রকাশ করা বডিক্যামের ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত তার ছেলেই তাকে বেসবল ব্যাট দিয়ে আঘাত করছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বারবার সতর্ক করার পরও হামলা বন্ধ না করায় গুলি চালানো হয়।    ঘটনাটি ঘটে রোববার সকালে কানেকটিকাটের মেরিডেন শহরের সাগামোর রোডের একটি বাড়ির সামনে। পুলিশ জানায়, জরুরি কল পাওয়ার পর তারা সেখানে পৌঁছে ৩৮ বছর বয়সী রবার্ট লি জেনকিন্স তৃতীয়কে দেখতে পান, যিনি তার বাবাকে বেসবল ব্যাট দিয়ে আঘাত করছিলেন।    পুলিশের প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রথম কর্মকর্তা অ্যান্থনি অফিয়েলি অভিযুক্তকে ব্যাট ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কর্মকর্তার দাবি, তাকে চারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও জেনকিন্স হামলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর ওই কর্মকর্তা তার সার্ভিস অস্ত্র থেকে একাধিক গুলি ছোড়েন।    পুলিশের গুলিতে আহত জেনকিন্সকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একই দিন রাতে তার মৃত্যু হয়। মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে শরীরে একাধিক গুলির আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।    অন্যদিকে হামলার শিকার রবার্ট জেনকিন্স জুনিয়র ঘটনাস্থলেই মারা যান। ময়নাতদন্তে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাথায় ভোঁতা আঘাতজনিত গুরুতর জখমের কথা বলা হয়েছে। উভয় মৃত্যুকেই তদন্তকারীরা হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন।    ঘটনার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটিকে তারা দীর্ঘদিন ধরে চিনতেন এবং প্রকাশ্যে তাদের আচরণ সাধারণত স্বাভাবিক ছিল। তবে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেনকিন্সের আগে সহিংস আচরণের ইতিহাস ছিল।    কানেকটিকাটের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়, রাজ্য পুলিশ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত করছে। পুলিশ কর্মকর্তার গুলি ব্যবহারের বিষয়টিও আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।    তদন্তকারীরা এখন হামলার কারণ, ঘটনার আগে পরিবারের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না এবং পুরো পরিস্থিতি কীভাবে এত ভয়াবহ রূপ নিল এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৩, ২০২৬ ৮:২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ছয় মাসেই ট্রাম্পসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ১০ হাজার হুমকি, রেকর্ড তদন্ত সিক্রেট সার্ভিসের

গ্যাভেল। ছবি:সংগৃহীত

ডিএনএ-তে উন্মোচিত হলো ১৯৯২ সালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য

সুপার শপ।ছবি:সংগৃহীত

৩০% আমেরিকানরা দোকান থেকে পণ্য চুরি করে! বার্ষিক জরিপে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

0 Comments